ড. আবদুল মঈন খান
ক্ষমতার জন্য নয়, রাজনীতি হতে হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
রাজনীতি শুধু ক্ষমতা অর্জনের জন্য নয়, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য হতে হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনের অফিসকক্ষে ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির শিক্ষকদের সঙ্গে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা জানান তিনি। সভায় বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় খান ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট উদ্বোধন করা হয়।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হতে পারা অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। প্রায় ৩৫ বছর ধরে তিনি একই আদর্শে রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন। জনপ্রতিনিধির যেমন জনগণের কাছে জবাবদিহি রয়েছে, তেমনি সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচনের দায়িত্বও জনগণের।
মঈন খান বলেন, নির্বাচনে জয়ী হতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রবণতা পরিবর্তন করতে হবে। জনগণের সেবা করার আদর্শ ছাড়া রাজনীতি সঠিক পথে পরিচালিত হতে পারে না।
স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে জাতীয় পর্যায়েও গণতন্ত্র কার্যকর করা সম্ভব নয়। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, জনগণের সেবা নিশ্চিত করা এবং পাঁচটি স্তরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন তার সামনে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। মানুষ যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় ভিত্তিতে আয়োজনের পক্ষে মত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এতে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় বিভাজন ও পারস্পরিক বিদ্বেষ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে সবাইকে দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে।
সমাজ গঠনে এনজিওগুলোর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও বিভিন্ন সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এনজিওগুলোর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে হবে।
আলোচনা সভায় দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও খান ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট রোখসানা খন্দকার, দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. অভিনয় চন্দ্র সাহা, খান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা খাতুন, বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং খান ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
১ ঘণ্টা আগে
নিরাপদ পানি নিশ্চিতে ২৫ হাজার কোটি টাকার সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা
দেশজুড়ে নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে ইউনিসেফের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আজকে ইউনিসেফের সঙ্গে একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। সেটি হচ্ছে কীভাবে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের কাছে আমরা নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
উজানে পানি প্রত্যাহারের কারণে উত্তরাঞ্চলে মরুকরণ এবং দক্ষিণাঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট তৈরি হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, নদীতে পানির প্রবাহ কমে গেলে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি উজানের দিকে উঠে আসে, ফলে দক্ষিণাঞ্চলে পানীয় জলের সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘সব বিষয় বিবেচনা করে আমাদের দায়িত্ব মানুষের কাছে সুপেয় পানি পৌঁছে দেওয়া। সেই উদ্দেশ্যে আমরা কীভাবে জাতিসংঘের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করতে পারি—তার অর্থায়ন কীভাবে হবে, এই বিশেষ দিকটিই আজকে সভায় আলোচনার বিষয় ছিল।’
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে নিয়ে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা করার চেষ্টা চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বৈঠকে শুধু জাতিসংঘ নয়, বিশ্বব্যাংক, ওয়াটারএইড ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনিসেফের প্রধানও উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
নির্বাচিত সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে: ড. মঈন
জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ করার পাশাপাশি নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলরুমে স্থানীয় সরকার বিভাগ আয়োজিত ‘সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধিরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। পাঁচ বছর পর আবার তাদের জনগণের কাছে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হবে। তাই জনগণের সেবা নিশ্চিত করা এবং নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করা নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি—উভয়ের লক্ষ্যই জনগণের সেবা করা।
সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দ্রুততার সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে বলেও মত দেন তিনি।
বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে ড. মঈন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ে বাড়ির ছাদেও সৌর প্যানেল স্থাপনে উৎসাহিত করতে হবে। দিনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করে রাতে ব্যবহার করা গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি সেবা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সততা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পদায়ন ও পদোন্নতিতে সততা ও কর্মদক্ষতাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিজ কর্মস্থলকে নিজের এলাকা মনে করে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
আরেক বিশেষ অতিথি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আগামী চার বছরে ধাপে ধাপে সব পরিবার ও কৃষকের কাছে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে এবং সার ডিলারের তালিকা যাচাই শেষে দ্রুত লাইসেন্স ইস্যু করা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবকাঠামো খাতে গ্রামীণ ছোট সড়কে ইটের বদলে সিসি ও ইউনি ব্লক ব্যবহার, হাটবাজার ও বন্দর এলাকার সড়কে ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সড়কের পাশে পুকুর খননে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
ইজিবাইক নিবন্ধনের জন্য আইন ও বিধিমালার কাজ চলছে বলেও জানান মীর শাহে আলম। এছাড়া বর্জ্য থেকে জৈবসার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনে উৎসাহ দেন তিনি।
এ সময় তিনি দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে প্রশাসন, পূজা কমিটি ও সামাজিক নিরাপত্তা কমিটিকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
আগামী জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ইউএনওদের আন্তরিক হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।
এছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতি হ্রাসে সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী প্রতিবছর ইউএনওদের সম্মেলন আয়োজনেরও প্রস্তাব দেন।
সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া সভায় সব সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলার উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ পৌরসভার প্রশাসকরা উপস্থিত ছিলেন।
৬ দিন আগে
স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করতে নরওয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ
স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে নরওয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে কারিগরি সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত আরাল্ড গুলব্রান্ডসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করা, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা এবং স্থানীয় সরকারে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও কারিগরি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে নরওয়ের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হতে পারে।
স্থানীয় সরকারে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠকে নরওয়ের বাংলাদেশ মিশনের ডেপুটি হেড আলেকজান্ডার ফাল্ক-বিল্ডেন, রাজনৈতিক উপদেষ্টা সারোয়ার জাহান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২২ দিন আগে
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার বিকল্প নেই: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং জনগণের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রের ভিত্তি তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী না হলে রাষ্ট্রের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক কাঠামোও সুদৃঢ় করা সম্ভব নয়।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে শক্তিশালী ও কার্যকর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকারকে কার্যকরভাবে শক্তিশালী করতে প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জনগণের অংশগ্রহণ ও স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করা সম্ভব।
একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে বদ্ধপরিকর বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার, গণতন্ত্র ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়া, গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, জনগণের কাছে জবাবদিহি আরও বাড়ানো এবং নারী ক্ষমতায়নের মতো ক্ষেত্রে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বৈঠকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও সুদৃঢ় করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করা, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও কার্যকর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২৬ দিন আগে
যথাসময়ে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরেই নির্বাচন হবে: মঈন খান
সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুন মেনে যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরেই নির্বাচন হবে এবং সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হবেন—এটাই সরকারের প্রত্যাশা।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে শুরু হবে এবং কতদিনের মধ্যে নির্বাচন শেষ হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া রয়েছে। তাই নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করে এখনই কিছু বলা যুক্তিসংগত হবে না।
তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নিয়মকানুন অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘোষণা করা হবে।’
এক বছরের মধ্যে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার কোনো পরিকল্পনা বা লক্ষ্য রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার কোনো আলাদা টার্গেট নেই। আমাদের জনগণের সরকার, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা এই সরকার গঠন করেছি এবং এটাই আমাদের সরকারের টার্গেট।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু সিটি করপোরেশনকে কেন্দ্র করে নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে নির্বাচন রয়েছে এবং প্রত্যেকটি স্তরেই নির্বাচন হবে।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়নি। ‘দীর্ঘদিন পরে আমরা সৌভাগ্যবান যে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা আজকে আপনাদের সামনে এসেছি।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের নিয়মকানুন মেনে, আমাদের সরকারের নীতি অনুযায়ী এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানোর জন্যই আমরা এ দেশে নির্বাচন করব।
তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরে নির্বাচন রয়েছে। প্রত্যেকটি স্তরে নির্বাচন হবে এবং সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিরা সেই নির্বাচনে নির্বাচিত হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
জনগণের সেবা হবে প্রধান অগ্রাধিকার
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকার সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমার অগ্রাধিকার হচ্ছে জনগণ।’ তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় অন্য অনেক মন্ত্রণালয়ের তুলনায় ব্যতিক্রমধর্মী। কারণ এই মন্ত্রণালয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল উদ্দেশ্য জনগণের সেবা করা। বাংলাদেশের মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অগ্রগণ্য এবং এটি জনগণের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে।
স্থানীয় সরকারকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যদি সঠিকভাবে কাজ করে এবং জনগণকে সঠিকভাবে সেবা দিতে পারে, তাহলে পুরো বাংলাদেশ ও সরকার সঠিকভাবে চলবে। সেই উদ্দেশ্য নিয়েই আমরা এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেছি।
তৃণমূলের মানুষের কাছে সেবা পৌঁছানোর অঙ্গীকার
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাজ তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত উল্লেখ করে মঈন খান বলেন, সরকারের নীতি ও কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে জনগণের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে চান তিনি।
তিনি বলেন, এই মন্ত্রণালয় তৃণমূলের সঙ্গে কাজ করে। আমরা এই মন্ত্রণালয়কে জনগণের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে পারলে এবং আমাদের সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে আমরা সফল হব। আমাদের সরকারও সফল হবে।
মন্ত্রী জানান, তার সঙ্গে থাকা প্রতিমন্ত্রীর স্থানীয় সরকারে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি একসঙ্গে কাজ করতে চান। তার অভিজ্ঞতা থেকে নিজে অনেক কিছু শিখতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন।
দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিতরা অগ্রাধিকার পাবে
মন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের সব মানুষের সেবা করবে। তবে সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সরকার দেশের কোটি কোটি মানুষের সেবা করে, সবার প্রতিনিধিত্ব করে। তবে সরকারের মূল লক্ষ্য থাকবে সমাজের ভাগ্যাহত, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি। তারা হবে অগ্রাধিকার।
এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, সচ্ছল ও ধনী মানুষ নিজেদের অনেক প্রয়োজন নিজেরাই মেটাতে পারেন। কিন্তু দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারের সহায়তা বেশি প্রয়োজন।
মন্ত্রীর ভাষ্যে, ‘যারা সচ্ছল ও ধনী, তারা নিজেদের প্রয়োজন ও কার্যক্রম নিজেরাই পরিচালনা করতে পারে। কিন্তু যারা দরিদ্র, তাদের সরকারের সহায়তা বেশি প্রয়োজন। বাংলাদেশে কাগজে-কলমে হিসাব করলে শতকরা ৪০ শতাংশ মানুষ এখনও কোনো না কোনোভাবে দরিদ্র।’
বিগত সরকারের সময়ে দরিদ্র মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী।
ড. মঈন খান বলেন, ‘জনাব তারেক রহমান দরিদ্র মানুষের পক্ষ হয়ে কথা বলছেন। তাদের উন্নয়নের জন্য তিনি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের প্রথা প্রবর্তন করেছেন।’
তিনি বলেন, আমার মূল লক্ষ্য হলো দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন মেটাতে সেবা দেওয়া। অতীতে সরকারের পক্ষ থেকে আমি এ বিষয়ে কাজ করেছি এবং ভবিষ্যতেও জনগণের সঙ্গে মিলেমিশে, জনগণের কাতারে দাঁড়িয়ে এ দেশের সেবা করতে চাই।
৪৭ দিন আগে