বিষমুক্ত সবজি
বিষমুক্ত সবজি চাষ: ফলনে খুশি হলেও দামে মলিন কৃষক
জমির আলের চারপাশে নীল জালের বেড়া। ভেতরে বাঁশ ও জালের মাচা। মাচার ওপরে সবুজ লতা, আর নিচে থোকায় থোকায় ঝুলছে তরতাজা করলা। কিন্তু এই করলায় নেই কোনো কীটনাশক বা রাসায়নিক বিষ।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় প্রথমবারের মতো উত্তম কৃষি চর্চা বা গ্যাপ পদ্ধতিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ করে সাড়া ফেলেছেন দুই কৃষক। তবে ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম কম পাওয়ায় হাসি নেই তাদের মুখে।
উত্তম কৃষি চর্চা বা গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেসস হলো এমন কিছু পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক কৃষি পদ্ধতি, যার মূল লক্ষ্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা। পরিবেশের ভারসাম্য ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করা। কৃষকদের কাজের নিরাপদ পরিবেশ ও সুঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি করা।
এর একটি পদ্ধতি ‘মালচিং’। এটি এমন একটি কৃষি পদ্ধতি যার মাধ্যমে গাছের গোড়ায় বা মাটির উপরিভাগে খড়, পাতা, কচুরিপানা বা প্লাস্টিকের শিট দিয়ে একটি সুরক্ষা স্তর বা ঢাকনা তৈরি করা হয়, যা আর্দ্রতা রক্ষা, আগাছা দমন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মাটির ক্ষয়রোধ ও পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করে।
উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ধলনগর গ্রামের জমারত আলীর ছেলে দবির উদ্দিন ফারাজী ও মৃত তোয়াজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল বারী তিন বিঘা জমিতে আলিসা জাতের করলা চাষ করেছেন। গত ১০ দিনে তারা ২ হাজার ২০০ কেজি করলা বিক্রি করেছেন। স্থানীয় বাজারে পাইকারি দর ছিল কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৫৫ টাকা। এতে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় হয়েছে তাদের।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দেড় মাসে আরও ৪ হাজার কেজির বেশি করলা বিক্রির আশা করছেন তারা, যার বাজার মূল্য প্রায় আড়াই লক্ষাধিক টাকা।
কিন্তু তাদের অভিযোগ, বাজারে বিষমুক্ত এবং বিষযুক্ত সবজির আলাদা বাজার বা হাট নেই। ফলে সমান দামে বিক্রি হওয়ায় লাভবান হতে পারছেন না তারা। তাদের ভাষ্য, গতবছর এই সময়ে প্রতি কেজি করলা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে বর্তমান দাম তার অর্ধেক। গতবারের মতো দাম থাকলে কয়েক লাখ টাকা লাভবান হতেন তারা।
বাড়তি খরচ, কিন্তু দাম কম
শহর থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার দুরের ধলনগর মাঠে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো জমি নীল রঙের জাল দিয়ে ঘেরা। পোকামাকড় দমনে ব্যবহার করা হয়েছে ফেরোমন ফাঁদ ও জৈব বালাইনাশক। মাটিতে দেওয়া হয়েছে জৈব সার। একজন খেতের পরিচর্যা করছেন, অপরজন তুলছেন করলা।
এ সময় উদ্যোক্তা দবির উদ্দিন বলেন, ‘গ্যাপ পদ্ধতিতে চাষ করতে খরচ বেশি। জাল, ফাঁদ, জৈব সার—সবই কিনতে হয়। ফলন ভালো এবং সবজিও স্বাস্থ্যকর। তবে ক্রেতারা এখনও বিষমুক্ত সবজির দাম দিতে চান না।’
৩ ঘণ্টা আগে