হার্ডিঞ্জ ব্রিজ
হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারে নৌকার ধাক্কা, ছাত্রদল নেতা নিখোঁজ
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে নৌকা ভ্রমণের সময় হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কা লেগে ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাকিবুজ্জামান রকি নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় নদীতে পড়ে যাওয়া আরও দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে ১২৩ জন যাত্রী বহনকারী বাল্কহেডটি হার্ডিঞ্জ ব্রিজের চার নম্বর পিলারে ধাক্কা দিলে রকি, লিটন ও ওহাব নদীতে পড়ে যান। লিটন ও ওহাবকে উদ্ধার করা হলেও রাত ১টা পর্যন্ত রকির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নৌকায় থাকা যাত্রীদের কাছ থেকে জানা যায়, ঝিনাইদহের শৈলকুপার কাতলাগাড়ি ঘাট থেকে একটি ব্যবসায়িক গ্রুপের ১২৩ জন ভ্রমণকারী নিয়ে বাল্কহেডটি ভেড়ামারা উপজেলার সোলেমান শাহ মাজারে যায়। নৌকায় মাঝিসহ আরও কয়েকজন ছিলেন।
মাজারে বেড়ানো শেষে রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছে পৌঁছালে নদীর প্রবল স্রোতের ধাক্কায় বাল্কহেডটির পেছনের অংশ ব্রিজের চার নম্বর পিলারে আঘাত করে। এতে রকি, লিটন ও ওহাব নদীতে পড়ে যান।
লিটন ও ওহাবকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রকির সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাকে উদ্ধারে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিস, ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে।
রকির বন্ধু আনিসুজ্জামান বলেন, ‘সে যখন নৌকা থেকে পড়ে গেল, আমি তাকে ধরতে গিয়েছিলাম কিন্তু পারিনি। সে যথেষ্ট শক্ত-সামর্থ্যবান ছেলে, সাঁতারে যথেষ্ট দক্ষতা আছে। আশা করছি ফিরে আসবে।’
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, রকিকে উদ্ধারে নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বেশ কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে। বিষয়টি তারা নজরদারিতে রেখেছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিরুল আরাফাত বলেন, এটি শৈলকুপার কবিরপুর এলাকার একটি ব্যবসায়িক দলের পিকনিকের নৌকা। তারা ভেড়ামারার সোলেমান শাহ মাজারে এসেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে নিখোঁজ দুজন লিটন ও ওহাবকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে রকিকে এখনও উদ্ধার করা যায়নি। রাত হওয়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন হচ্ছে। রকিকে উদ্ধারের জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বিভিন্ন ইউনিট। আমরা প্রশাসনের সব ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছি।’
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসেন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোলিং অফিসার ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। পদ্মা নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় রাতে নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, নৌকাটিতে প্রায় ১২৩ জন বা তার চেয়ে কয়েকজন বেশি যাত্রী ছিলেন। রাতে উদ্ধার অভিযান সম্ভব না হলে খুলনা থেকে বিভাগীয় ডুবুরি দল এনে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
৭ দিন আগে