সার বরাদ্দ
আমন উৎপাদন বাড়াতে কুড়িগ্রামে ৫০০ টন ইউরিয়া সারের বিশেষ বরাদ্দ
চলতি আমন মৌসুমে কুড়িগ্রাম জেলায় সার সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে অতিরিক্ত আরও ৫০০ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) থেকে এই বিশেষ বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত এই সার প্রান্তিক কৃষকদের কাছে দ্রুত ও সুষমভাবে পৌঁছে দিতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণ দেবনাথ ইউএনবিকে বলেন, ‘চলতি আমন মৌসুমে জেলার কৃষকদের সারের চাহিদা পূরণ ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেপ্টেম্বরের নিয়মিত বরাদ্দের বাইরেও নতুন করে ৫০০ টন ইউরিয়া সার পাওয়া গেছে। বিসিআইসি ও বিএডিসির অনুমোদিত ডিলারদের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের হাত অবধি সার পৌঁছানো নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর জেলায় সারের মোট বরাদ্দ লক্ষণীয়ভাবে বাড়ানো হয়েছে। সার্বিক প্রস্তুতি ও পর্যাপ্ত মজুত থাকায় কুড়িগ্রামে কোনো ধরনের সারসংকটের সুযোগ নেই। কোথাও যাতে সার নিয়ে অসাধু চক্র কোনো সুযোগ নিতে না পারে, সে জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কঠোর তদারকি চালু রেখেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে কুড়িগ্রাম জেলার জন্য মোট ১২ হাজার ৪৮৩ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই ৪ হাজার ৬৪৪ টন সার বরাদ্দ করা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের (৩,৮৯৪ টন) তুলনায় প্রায় সাড়ে ৭০০ টন বেশি। অতিরিক্ত ৫০০ টন যুক্ত হওয়ায় চলতি মাসে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় হলো।
প্রশাসনের এমন সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের মাঝে। নির্ধারিত সরকারি মূল্যে পর্যাপ্ত সার মেলায় তারা আমন ধানের সুষম বৃদ্ধি ও ভালো ফলনের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন তারা।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে মাঠে ধানের যে বৃদ্ধিপর্যায় রয়েছে, তাতে পরিমিত পরিমাণ সারই যথেষ্ট। অতিরিক্ত সার ব্যবহার রোধ এবং সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘জেলায় সারের সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক। কৃষকদের চাহিদা বিবেচনা করে পর্যাপ্ত সার মজুত করা হয়েছে। পরিমিত ও সঠিক নিয়মে ইউরিয়া ও ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার ব্যবহারের জন্য আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি, যাতে ফসলের মান উন্নত হয় এবং উৎপাদন খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকে।’
জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে সুষ্ঠু বিতরণ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকায় চলতি আমন মৌসুমে কুড়িগ্রামে বাম্পার ফলনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
৩ দিন আগে