সেকশন অফিসার
শাকিলের সংগ্রামের গল্প শুনে ৭ দিনেই চাকরি দিলেন প্রধানমন্ত্রী
চোখে আলো না থাকলে কী হয়েছে, মনের জোর আর অদম্য ইচ্ছেশক্তি থাকলে যে সব বাধা জয় করা যায়—তারই এক দারুণ প্রমাণ দিলেন নওগাঁর শাকিল হোসেন। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে বার বার ভাইভা বোর্ড থেকে খালি হাতে ফিরে আসার পর শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কৃষিবিষয়ক প্রকল্পে ‘সেকশন অফিসার’ (নবম গ্রেড) পদে চাকরি পেলেন আজন্ম দৃষ্টিহীন এই তরুণ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকার গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলামের হাত থেকে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন শাকিল।
নওগাঁ সদর উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের হরিহরপুর গ্রামের একটি সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা শাকিলের জীবনে লড়াই ছিল অবিরত। মুরাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বদলগাছীর বালুভরা উচ্চবিদ্যালয় ও বদলগাছী সরকারি কলেজের পড়াশোনা শেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সফলতার সঙ্গে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন তিনি।
পড়াশোনার দীর্ঘ এই পথচলায় শাকিলকে সহযোগিতা করেন তার ছোট ভাই সাব্বির ও বন্ধু গৌতম। তারা নিয়মিত শ্রুতিলেখক হিসেবে তার পড়াশোনায় সহযোগিতা করেছেন।
পড়াশোনা শেষে অন্যদের মতো শাকিলও কর্মসংস্থানের সন্ধানে নামেন। কিন্তু যোগ্যতা থাকার পরেও এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার লিখিত ধাপে উত্তীর্ণ হলেও ভাইভা বোর্ডে পৌঁছানোর পর কেবল দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতার কারণে তাকে বারবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এই চরম হতাশা যখন তার চারপাশ ঘিরে ধরেছিল, ঠিক তখনই জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো এক সুযোগ আসে।
৩ দিন আগে