ভুয়া জন্মনিবন্ধন
জাল নথিতে যৌতুক মামলা, বাদীর কারাদণ্ড
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জাল জন্মনিবন্ধন ও কাবিননামা তৈরি করে এক যুবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করায় বাদীকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস এম গালিব হাসান এ দণ্ডাদেশ দেন।
গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি মো. সাজ্জাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কৌঁসুলি জানান, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পুনতাইড় আমবাড়ি গ্রামের হামিদুর হক সরকারের মেয়ে মোছা. নুরহাত জাহান লিজা (১৮) ভুয়া জন্মনিবন্ধন ও কাবিননামা তৈরি করে তৌফিক হাসানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেছিলেন। শুনানির সময় জন্মনিবন্ধন ও কাবিননামা ভুয়া প্রমাণিত হয়।
কাবিননামার ১৫ নম্বর কলামে তাৎক্ষণিক দেনমোহর পরিশোধের পরিমাণ অঙ্কে দুই হাজার টাকা এবং কথায় ২০ হাজার টাকা লেখা ছিল।
এছাড়া কাবিননামায় বিতর্কিত কথা উল্লেখ এবং কাজীর স্বাক্ষর না থাকায় দাখিল করা সব প্রমাণাদি ভুয়া প্রমাণিত হয়।
পরে মামলাটি বাতিল করে আসামি তৌফিক হাসান (২১), মো. আনোয়ার হোসেন (৫০) ও মোছা. টপি বেগমকে (৪৫) বেকসুর খালাস দেন আদালত। তাদের সবার বাড়ি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাখালবুরুজ মিয়াপাড়া গ্রামে।
অন্যদিকে জাল নথি তৈরি করে প্রতারণামূলকভাবে মিথ্যা মামলা দায়ের করায় বাদী লিজাকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এছাড়া বাদীপক্ষের আইনজীবী ক্ষমা প্রার্থনা করায় তাকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
১৮ ঘণ্টা আগে
বগুড়ায় সিল-স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরি, আটক ১
বগুড়ায় সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে ভুয়া জন্মনিবন্ধন এবং সনদ তৈরির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে আটক করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শহরের খান্দার এলাকায় বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে এ অভিযান চালানো হয়।
আটক ব্যক্তি মো. সাইফুল ইসলাম‘পাসপোর্ট কর্নার’ নামের প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং গত তিন বছর ধরে সেখানে কম্পিউটার ডট পি প্রসেসিংয়ের ব্যবসার আড়ালে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন বলে জানা গেছে।
অভিযান পরিচালনা করেন বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বগুড়া মহানগরীর খান্দার এলাকার পাসপোর্ট কর্নারে ভুয়া জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), সিটি করপোরেশনের প্রত্যয়নপত্র ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নানাবিধ সনদ তৈরির কাজ করা হতো।
সুনির্দিষ্ট সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেখানে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানকালে দেখা যায়, জেলা সিভিল সার্জন, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও সিটি প্রশাসকের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের স্বাক্ষর ও সিল স্ক্যান করে কম্পিউটারে হুবহু বসিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ফাইল ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছিল ভুয়া জন্মনিবন্ধন। কোনো কোনো নথিতে দেখা যায়, স্বাক্ষর একজনের হলেও সিল দেওয়া হয়েছে অন্য আরেক কর্মকর্তার।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের অপকর্মের কথা শুনলেও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাচ্ছিলাম না। সিভিল সার্জন এবং ইন্সপেক্টরসহ বিভিন্ন উপজেলার সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর নিখুঁতভাবে স্ক্যান করে জাল করা হয়েছে।
সাধারণ একটা ফাইলে কর্মকর্তাদের নাম-স্বাক্ষর বসিয়ে এসব সনদ প্রিন্ট করা হত। তিনি আরও জানান, জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত দোকানটির দুটি কম্পিউটারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোকানমালিক সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সাইফুল জালিয়াতির সত্যতা স্বীকার করে কম্পিউটার পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও দুজনের নাম প্রকাশ করেছেন।
৪৬ দিন আগে