নদীভাঙন
সুরমার ভাঙনে বিলীন ছাতকের স্কুল-মসজিদ, আতঙ্কে বাউসা-কেশবপুরের হাজারো মানুষ
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাউসা-কেশবপুর গ্রামে সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙন যেন থামছেই না। একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে শতবর্ষী পূর্ব বাউসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এবং বাউসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। প্রতিদিনই নতুন করে ভাঙছে নদীর পাড়, আর সেই সঙ্গে ভেঙে পড়ছে মানুষের স্বপ্ন, স্মৃতি ও ভবিষ্যৎ।
স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধু নদীভাঙন নয়—এ যেন একটি জনপদের ধীরে ধীরে মৃত্যুর গল্প। বর্ষা এলেই সুরমা নদী ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। প্রবল স্রোত আর তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে নদীতীরের মাটি ধসে পড়ে নদীর বুকে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই ভাঙনে বাউসা ও কেশবপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। অথচ স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, যে স্থানে আজ নদীর উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে, কয়েক বছর আগেও সেখানে ছিল সবুজ ধানের ক্ষেত, ফলের বাগান, শিশুদের খেলার মাঠ, মানুষের বসতঘর এবং গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। এখন সেখানে শুধু অথৈ পানি আর নদীর গর্জন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, একসময় নিজেদের জমিতে চাষাবাদ করে স্বচ্ছলভাবে সংসার চালাতেন। কিন্তু নদী তাদের সব কেড়ে নিয়েছে। জমি হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে কেউ দিনমজুর, কেউ রিকশাচালক, আবার কেউ শহরে গিয়ে শ্রম বিক্রি করে পরিবার চালাচ্ছেন। পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
১০ ঘণ্টা আগে
ঝুঁকিতে খুলনা আতাই নদীর বাঁধ, ১০ গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার আতাই নদীর কূল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া কামারগাতি-পথের বাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সড়কটিতে একসময় ভ্যান, রিকশা, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, নসিমন, করিমনের পাশাপাশি বাসও চলাচল করত। কালিয়া, তেরোখাদা, গাজীরহাট, কোলা, আড়ুয়া আমবাড়ীয়া, কামারগাতী, লাখোয়াটি, মাধবপুর, রাধামাধবপুর, নন্দনপ্রতাপ, বারাকপুর, মোমিনপুর এলাকার মানুষের দৌলতপুর হয়ে শহরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম সড়ক ছিল এটি। তবে গত এক যুগ ধরে আতাই নদীর করাল গ্রাসে ভাঙতে ভাঙতে সড়কটির দুই তৃতীয়াংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে; রূপান্তরিত হয়েছে বেড়িবাঁধে। বিকল্প সড়ক দিয়ে এখন যাতায়াত করছে মানুষ।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মোমিনপুর-হাজীগ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে সড়কের ওই অংশের বাঁধটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বাঁধের উপর দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। এতে তৈরি হয়েছে বড় বড় ফাটলের। ভেঙে যাওয়ার মারাত্মক আশঙ্কা দেখে গতকাল (শুক্রবার) তাৎক্ষণিকভাবে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে জোয়ারের পানি কমলে সন্ধ্যার পর থেকে রাত অবধি আলো জ্বালিয়ে বাঁশ এবং মাটি দিয়ে সংস্কার করে প্রাথমিকভাবে ভেঙে পড়া থামিয়েছে। তবে এখনও কাটেনি ঝুঁকি।
তারা আরও বলেন, বাঁধটি ভেঙে গেলে দশটিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হবে। শত শত ঘরবাড়ি, মাছের ঘের, ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাবে। কোটি কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে।
তাদের দাবি, সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবছর আতাই নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় এ এলাকায় সরকারিভাবে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও কোনো সুফল মিলছে না।
১৮ দিন আগে
লালমনিরহাটে তিস্তার পানি নামলেও কাটেনি দুর্ভোগ, নদীভাঙনের আশঙ্কা
উজানের ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। বরং পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে নতুন করে নদীভাঙনের আশঙ্কা। তিস্তার তীব্র স্রোতে নদীতীরের বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক শূন্য ৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচে। গতকাল রাত ১০টায় এই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
রাতভর ধীরে ধীরে পানি কমলেও বন্যার ক্ষত তেমন কোথাও দেখা যায়নি।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদীর পানি নেমেছে। তবে পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক নয়। উজানে আবার ভারী বৃষ্টি হলে নতুন করে পানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বাড়ায় পাটগ্রাম উপজেলা এবং কালীগঞ্জে উপজেলার ভোটমারী ও কাকিনা ইউনিয়নের নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী চরে বাদামখেত, ধানের বীজতলা, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
তিস্তায় পানি বাড়ায় নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে অন্তত হাজারখানেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। অনেক বাড়িঘরে এখনও পানি রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট, রান্নার সমস্যা এবং গবাদিপশু নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন দুর্গতরা।
এদিকে, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তার তীব্র স্রোতে বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানি দ্রুত নেমে গেলে ভাঙনের তীব্রতায় বসতভিটা, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় তিস্তার পানি কমছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে উজানে আবার ভারী বৃষ্টি হলে পানি বাড়তে পারে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অনেক পরিবার এখনও পানিবন্দি। শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদিপশু নিয়ে মানুষ চরম দুর্ভোগে আছে। যদি আবারও পরিস্থিতি খারাপ হয়, তখন তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আদীতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, তিস্তা তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও নতুন করে পানি বৃদ্ধি বা নদীভাঙনের মতো ঘটনা ঘটলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২২ দিন আগে
তিস্তার তীররক্ষা বাঁধের শতাধিক স্থানে ধস, আতঙ্কে গাইবান্ধার লক্ষাধিক মানুষ
ভারী বর্ষণে গাইবান্ধার কামারজানি থেকে সুন্দরগঞ্জ পর্যন্ত তিস্তানদীর তীররক্ষা বাঁধের প্রায় ১৮ কিলোমিটার এলাকায় শতাধিক স্থানে বড় ধরনের ধস শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীতে ভাঙনও বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৩ সালে ৯৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁধে মাটির পরিবর্তে বালু ব্যবহার করায় বর্তমানে বাঁধের বিভিন্ন অংশে নতুন করে ধস শুরু হয়েছে। এতে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় তিস্তা তীরবর্তী লক্ষাধিক মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
কামারজানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকারের সময়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল ইসলাম বাঁধ রক্ষায় কংক্রিট ব্লক বসানোর কাজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেন। নিয়ম অনুযায়ী দূর থেকে মাটি এনে বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু দলীয় প্রভাব খাটিয়ে পাউবো কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম বাঁধের পাশ থেকেই ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণের সুযোগ করে দেন।
তিনি বলেন, সে কারণে ঠিকাদার যেনতেনভাবে বাঁধ নির্মাণ করে জুলাই আন্দোলনের আগে হাজার কোটি টাকার বিল তুলে চলে যান। নির্মাণের বছরই তিস্তা নদীতীর রক্ষা প্রকল্পের কংক্রিট ব্লক নদীতে ধসে যেতে শুরু করে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর চাপে পাউবো তড়িঘড়ি করে বাঁধের ভাঙন প্রতিরোধে প্রায় ৪০ লাখ টাকার আলাদা বিল করেন। পরে সেই বিল অন্য ঠিকাদারের নামে তুলে তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজুল ইসলাম রংপুরে বদলি হয়ে চলে যান।
এ বছর বর্ষার শুরুতে ভারী বর্ষণে তিস্তা ও যমুনার তীররক্ষা বাঁধের কামারজানি থেকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর মওলানা ভাসানী ব্রিজ পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার বাঁধের শতাধিক স্থানে ছোটবড় গর্ত ও খাদের সৃষ্টি হয়েছে। এসব খাদ ও গর্ত দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। তাতে বাঁধ আরও ভাঙনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বাঁধের এই ১৮ কিলোমিটার এলাকায় পশ্চিম পাশে খুব কাছে অন্তত লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করে। ইতোমধ্যে বাঁধের খুব কাছে গর্ত করে বালু উত্তোলন করে সেই বালু বাঁধে ব্যবহার করায় তিস্তা নদী তীর রক্ষার বাঁধে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া, শ্রীপুর, হরিপুর, চণ্ডীপুর, বেলকা, কছিমবাহার, বাবুর বাজার, লাল চামার, পুটিমারী, দত্তের খামার, গাছুর বাজার, জয়বাংলা ও বটতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় তিস্তা নদীর ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ভাঙন যত প্রবল হচ্ছে, বাঁধের পাশের বাসিন্দারা আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। নদী ভাঙনের পাশাপাশি নদী তীররক্ষা প্রকল্পের বাঁধ ধসের কারলে আতঙ্কিত স্থানীয়রা দিনরাত বাঁধ এলাকায় পাহারা বসিয়েছেন।
পোড়ার চরের বাসিন্দা রেজাউল মেম্বার জানান, অনেক পরিবার নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাঁধের ওপর এসে বসে থাকছেন।
কাপাসিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনজু মিয়ার অভিযোগ, তিস্তায় নদীরক্ষা বাঁধ যখন নির্মাণ করা হয় তখন আমরা বাধা দিয়েছি, কারণ কাজ হয়েছে নিম্নমানের। যেখানে মাটি দেওয়ার কথা, সেখানে বালু দেওয়া হয়েছে। মোটকথা, বালু দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করে ওপর দিয়ে শুধু মাটি ছিটিয়ে দিয়ে হাজার কোটি টাকা বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। এলাকার লোকজন ও জনপ্রতিনিধিরা কোনো কথা বলতে গেলেই পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল ও ঠিকাদারের মাস্তান বাহিনী সাধারণ মানুষকে কোনো পাত্তা দেয়নি।
আক্ষেপ করে তিনি বলেন, তখন যদি বালু না দিয়ে মাটি দিয়ে বাঁধ তৈরি করা হতো, তাহলে আর ধসের মুখে পড়তে হতো না। নদীর তীররক্ষা বাঁধের কংক্রিট ব্লকের বিভিন্ন অংশে ভাঙন শুরু হতো না। কিন্তু কাজটি করা হয়েছে শুধু লুটপাটের জন্য; পেট ভরেছে ঠিাকাদার আর কর্মকর্তাদের। এখন ভুগতে হচ্ছে আশে পাশের লাখ লাখ মানুষের। সারা রাত মানুষ বাঁধে বসে থাকে, কখন বালুর বাঁধ নদীর প্রবল স্রোতে ধসে যায়, সেই আতঙ্কে।
এ ব্যাপারে গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের ৬০টি পয়েন্টে ভাঙন শুরু হয়েছে। এছাড়া ১৮ কিলোমিটার নদীতীর রক্ষা বাঁধে রেইন কাট হয়েছে। তবে ভাঙন প্রতিরোধ ও ধসে যাওয়া অংশে মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে।’
২২ দিন আগে
পাঁচ নদীর তাণ্ডবে ভয়াবহ বিপর্যয়ে কুড়িগ্রাম, ৩৬ পয়েন্টে ভাঙন, ঘরছাড়া ৫ শতাধিক পরিবার
বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই একদিকে আকস্মিক বন্যা, অন্যদিকে তীব্র নদীভাঙনের দ্বিমুখী আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রাম জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ। জেলার প্রধান পাঁচটি নদ-নদী—ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার ও কালজানী নদীতে একযোগে শুরু হওয়া আগ্রাসী ভাঙনে প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি, গ্রামীণ সড়ক ও গাছপালা। জনপ্রতিনিধিদের তথ্যমতে ইতোমধ্যে জেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার তাদের শেষ সম্বল হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৩৬টি পয়েন্টে মোট ১১ দশমিক ২৪৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বর্তমানে তীব্র ভাঙন চলছে। ভাঙন আতঙ্কে নদীপাড়ের বাসিন্দারা রাত জেগে ঘরবাড়ি পাহারা দিচ্ছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, জেলার পাঁচটি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙনের চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ:
দুধকুমার নদী: এই নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তীব্র স্রোতে সদর উপজেলার খাড়ুয়ারপাড় ও বানিয়াপাড়া; নাগেশ্বরীর বেপারীর চর, সাপখাওয়া, মাঝিপাড়া, কুটিরচর, মণ্ডলপাড়া, বলরামপুর ও দামালগ্রাম এলাকায় প্রতিনিয়ত ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে।
ধরলা নদী: সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সাটকালুয়া ও জগমনের চর, ফুলবাড়ী উপজেলার গোরকমণ্ডপ এবং বড়ভিটার পশ্চিম ধনিরাম এলাকায় তীব্র ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র নদ: সদর উপজেলার গোয়াইলপরী ও পার্বতীপুর; নাগেশ্বরীর ঝাউকুটি, পাগলার বাজার ও বালারহাট; উলিপুরের দইখাওয়ার চর, রসুলপুর ও জলঙ্গারকুটি; চিলমারীর কাচকোল; রৌমারীর সোনাপুর, গেন্দার আলগা, খেদাইমারী ও সুখেরবাতি এবং রাজিবপুর উপজেলার সাজাই, পাইকানটারী ও বল্লবপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ভাঙন চলছে।
তিস্তা নদী: রাজারহাট উপজেলার হাঁসারপাড়, রামহরি, চর বিদ্যানন্দ এবং উলিপুর উপজেলার হোকডাঙ্গা ও গোড়াইপিয়ার এলাকায় নদীর আগ্রাসন দিন দিন বাড়ছে।
কালজানী নদী: ভূরুঙ্গামারী উপজেলার উত্তর ধলডাঙ্গা ও বউবাজার এলাকায় নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এছাড়া সদরের সারোডোব ও ভূরুঙ্গামারীর পাইকডাঙ্গাসহ বেশ কিছু নতুন এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ভাঙনের মুখে পড়া মানুষের মাঝে চরম হাহাকার দেখা দিয়েছে। সদর উপজেলার সাটকালুয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, ‘প্রতিদিন নদী কয়েক হাত করে এগিয়ে আসছে। ঘরের টিন খুলে রেখেছি। কখন বাড়িটা নদীতে চলে যায়, সেই ভয়ে পরিবার নিয়ে রাত জেগে থাকি।’
একইভাবে নিজের ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন উলিপুরের গোড়াইপিয়ার এলাকার কৃষক নুর ইসলাম। তিনি বলেন, ‘জমি নদীতে গেছে, এখন বাড়িও যাবে। আমাদের মতো মানুষের বাঁচার আর কোনো উপায় নেই।’
কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ভাঙন প্রতিরোধে ইতোমধ্যে ৩ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ লাখ বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার এলাকায় জরুরি প্রতিরক্ষামূলক কাজ চালানো হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও জরুরি বরাদ্দের প্রয়োজন।
কুড়িগ্রামের চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, ‘একদিকে বন্যা, অন্যদিকে নদীভাঙন—এই দুই দুর্যোগে চরাঞ্চলের মানুষ চরম মানবিক সংকটে পড়েছে। উন্নত দেশগুলোতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশে মানুষ সর্বস্ব হারানোর পরও অনেক সময় কোনো খোঁজ নেওয়া হয় না।’
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজির রহমান জানিয়েছেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য ইতোমধ্যে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক জরুরি সহায়তা হিসেবে জেলায় নদী ভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২৭৫ টন চাল, ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার (যার মধ্যে চাল, ডাল, সয়াবিন তেল ও বিভিন্ন ধরণের মশলা রয়েছে) বরাদ্দ করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, ‘শুধু সাময়িক জিওব্যাগ ফেলে এই স্থায়ী সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ভাঙন থেকে কুড়িগ্রামকে বাঁচাতে স্থায়ী নদীশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হোক।’
৩৭ দিন আগে
নদীভাঙনে ১০ বছরে গৃহহীন এক লাখ মানুষ, পৃথক মন্ত্রণালয় ও বাজেট চায় চরাঞ্চলের মানুষ
বর্ষা এলেই নদীর পাড়ে বসবাসকারী হাজারো মানুষের জীবনে ফিরে আসে পুরোনো আতঙ্ক। এক রাতে নদী গিলে নেয় বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা; কখনও আবার পুরো একটি গ্রাম। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো নতুন আশ্রয়ের খোঁজে ছুটে বেড়ায়, আবার কেউ কেউ বাধ্য হয় শহরমুখী হতে। কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে এমন বাস্তুচ্যুতি ও অনিশ্চয়তার গল্প বহু বছরের।
এই প্রেক্ষাপটে চরাঞ্চলের মানুষের টেকসই উন্নয়ন, পুনর্বাসন ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে চর বিষয়ক পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন এবং জাতীয় বাজেটে চরাঞ্চলের জন্য আলাদা ও স্থায়ী বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ। একই সঙ্গে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কুড়িগ্রাম দেশের অন্যতম বৃহৎ চরাঞ্চল অধ্যুষিত জেলা। জেলায় প্রায় ৪০০টি চর রয়েছে, যার মধ্যে আড়াই শতাধিক চরে মানুষের বসবাস। এসব চরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, দারিদ্র্য, যোগাযোগ সংকট এবং মৌলিক নাগরিক সুবিধার অভাবে অবহেলিত ও বঞ্চিত জীবনযাপন করছে।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে কুড়িগ্রামে প্রায় এক লাখ মানুষ নদীভাঙনের কারণে গৃহহীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো শুধু বসতভিটাই হারায়নি, হারিয়েছে জীবিকা, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তাও। প্রতিবছর নতুন নতুন পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়ে অনিশ্চিত জীবনের মুখোমুখি হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে কুড়িগ্রাম জেলার অন্তত পাঁচ হাজার পরিবার অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের শিকার হয়। এছাড়া গত পাঁচ বছরে নদীভাঙনের কারণে প্রায় দুই হাজার পরিবার স্থায়ীভাবে ঢাকা, ঠাকুরগাঁও ও পার্বতীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে গেছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, শুধু কুড়িগ্রাম নয়, দেশের ৩২টি জেলার প্রায় ১০০টি উপজেলার চর ও নদীতীরবর্তী এলাকায় প্রায় দুই কোটি মানুষের বসবাস। এই বিপুল জনগোষ্ঠী কৃষি উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও উন্নয়নের মূলধারা থেকে এখনও অনেকটাই বিচ্ছিন্ন।
৬০ দিন আগে
কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন, এক সপ্তাহে গৃহহীন ৫০ পরিবার, ঝুঁকিতে শতাধিক
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের সুখেরবাতি ও ঘুঘুমারী এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙনে গত এক সপ্তাহে অন্তত ৫০টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙনের ফলে প্রায় ৪০০ মিটার এলাকাজুড়ে বসতভিটা ও শত শত বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা ঘরবাড়ি সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। তবে নতুন করে আরও শতাধিক পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম (৪৫) বলেন, নদীভাঙনে আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। কোথায় যাব, কী করব বুঝতে পারছি না।
স্থানীয় বাসিন্দা কাশেম আলী (৫৫) বলেন, এক এক করে সব জমি-ঘর নদীতে চলে যাচ্ছে, আমরা এখন নিঃস্ব।
কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন সংস্থার সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, শুষ্ক মৌসুমে ব্রহ্মপুত্রের পানির স্তর কমে গেলে ভাঙনের প্রবণতা বেড়ে যায়। নদীর চ্যানেল সরু হয়ে যাওয়া এবং পাড়ের মাটির গঠন দুর্বল থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি ভাঙনকবলিতদের পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
রৌমারী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইমান আলী বলেন, ইতোমধ্যে ৫০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে এবং আরও শতাধিক পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে বিষয়টি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদকে জানানো হয়েছে।
১৩১ দিন আগে
নদীভাঙন ও বেকারত্বে জর্জরিত কুড়িগ্রাম, নতুন সরকারের কাছে দৃশ্যমান পরিবর্তনের প্রত্যাশা
নতুন সরকারকে ঘিরে কুড়িগ্রাম জেলার মানুষের প্রত্যাশা এবার অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে পিছিয়ে পড়া এ জনপদের মানুষ প্রতিশ্রুতি নয়, চান বাস্তব ও টেকসই পরিবর্তন।
উত্তরাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা এই জেলা প্রতি বছর ভয়াবহ নদীভাঙনের মুখে পড়ে। ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারসহ অন্তত ১৬টি নদী জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত। এসব নদীর ভাঙনে প্রতি বছর শত শত পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। বসতভিটা, আবাদি জমি, স্কুল-কলেজ ও রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী শাসনের নামে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও তার সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না। অস্থায়ী বাঁধ ও প্রকল্পে কাজ চালিয়ে গেলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না বলে মনে করেন তারা। তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার আওতায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, নিয়মিত নদী খনন ও বিজ্ঞানসম্মত নদী শাসন কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
একইসঙ্গে কর্মসংস্থানের অভাব কুড়িগ্রামের আরেক বড় সংকট। শিল্পকারখানা না থাকায় শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত যুবকদের বড় একটি অংশ কাজের সন্ধানে ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে পাড়ি জমাতে বাধ্য হচ্ছে। এতে পরিবার ভেঙে পড়ছে, সামাজিক সমস্যাও বাড়ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, কৃষিভিত্তিক শিল্প, হিমাগার, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপন এবং উদ্যোক্তা সহায়তা কর্মসূচি জোরদার করা গেলে এই জেলার কর্মসংস্থানের চিত্র বদলে যেতে পারে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা কাজের অভাব। পরিবার রেখে দূরে যেতে চাই না। নতুন সরকারের কাছে একটাই দাবি, কুড়িগ্রামে কাজের ব্যবস্থা করুন।’
যাত্রাপুর ইউনিয়নের ঝুনকার চরের যুবক সাহিনুর রহমান বলেন, ‘পড়াশোনা শেষ করেও বসে আছি। এখানে যদি কারখানা থাকত, এখানেই চাকরি করা যেত। বাধ্য হয়ে ঢাকায় যেতে হয়।’
একই উপজেলার বদলী পাড়ার শাজাহান আলী বলেন, ‘নদীভাঙনে সব হারিয়েছি। প্রতি বছর নদীর সঙ্গে যুদ্ধ করে বাঁচি। আমরা স্থায়ী সমাধান চাই।’
চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন সংস্থার এক নেতার মতে, জেলার প্রায় ২৩ লাখ মানুষের মধ্যে সাড়ে ১৬ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। ১৯৫০ সাল থেকে অব্যাহত নদীভাঙনে মানুষ বারবার ঠিকানা বদলাতে বাধ্য হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনের নামে বহু এনজিও কাজ করলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের তেমন পরিবর্তন হয়নি। বরাদ্দ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে দারিদ্র্য পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, ‘অবহেলিত কুড়িগ্রামের উন্নয়নে নদীভাঙন রোধ, চরাঞ্চলের জীবনমান উন্নয়ন এবং শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি জরুরি। জাতীয় সংসদ উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু; সুষম বণ্টন নিশ্চিত হলেই কুড়িগ্রামের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।’
তাই এবার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নতুন সরকার যেন কাগুজে পরিকল্পনার গণ্ডি পেরিয়ে মাঠপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়। নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলে বদলে যাবে কুড়িগ্রাম জেলার চিত্র। দূর হবে হতাশা, জাগবে নতুন স্বপ্ন।
১৬৬ দিন আগে
ডিমলায় নদীভাঙনে ঘরহারা শতাধিক পরিবার
তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করায় নীলফামারীর ডিমলায় নদীভাঙন শুরু হয়েছে। গত দু’দিনে উপজেলার খগা খড়িবাড়ী ইউনিয়নের কিসামত ছাতনাই, বাইশপুকুর ও পূর্বখড়িবাড়ী এলাকায় শতাধিক পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
রবিবার (১৭ আগস্ট) ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ডিমলার পাঁচটি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। এ সময় প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। ১৫ আগস্ট থেকে নদীর পানি কমতে শুরু করলে সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙনও শুরু হয়।
ভাঙনের শিকার জয়নাল, কোরবান আলী, মজিবর রহমান, আবুল কাসেম, রায়হান, দুদু মন্ডল, আব্দুল কাদের, সিরাজুল, জাহিদুলসহ অনেকে জানান, গত দু’দিনে তাদের মতো অনেকের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বাড়িঘর হারিয়ে সবাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গ্রোয়েন ও স্পার বাঁধসহ অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছে।
আরও পড়ুন: চাঁপাইয়ে পদ্মার পানি সরলেও দুর্ভোগ কমেনি
খগা খড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘ভাঙন কবলিত এলাকায় ত্রাণ হিসেবে চাল, ডাল ও শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে।’
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘ভাঙন কবলিতদের তালিকা করা হচ্ছে। যে কোনো সরকারি সহায়তা পেলে তা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেওয়া হবে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া বিভাগীয় প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ‘ভাঙন ঠেকাতে ইতোমধ্যে কিছু কাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়াও যদি কোথাও তীব্র ভাঙন দেখা দেয়, তাহলে জরুরি ভিত্তিতে মোকাবিলা করার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’
৩৫৩ দিন আগে
ভাঙন ঝুঁকিতে দৌলতদিয়ার সবগুলো ফেরিঘাট
জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে ভাঙন। ভাঙন বেড়ে যাওয়ায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার তিনটি ফেরিঘাটের সবকটি ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে। জরুরি মেরামতের অংশ হিসেবে বিআইডব্লিউটিএ ফেরিঘাট রক্ষায় বালুভর্তি বস্তা ফেললেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। এ ছাড়া ঘাটসংলগ্ন তিনটি গ্রাম, বাজার, মসজিদ, স্কুল, মাদরাসাসহ বহু স্থাপনাও ঝুঁকিতে পড়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) আরিচা কার্যালয় জানায়, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় ৭টি ফেরিঘাট রয়েছে। এর মধ্যে ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ঘাট তিনটি সচল রয়েছে। ৬ নম্বর ঘাট থাকলেও সেটি এখনো সচল হয়নি। ঘাটটি পানি উঁচু স্তরের হওয়ায় ভরা বর্ষায় সেটি সচল হবে। এ ছাড়া কয়েক বছর আগে ১, ২ ও ৫ নম্বর ঘাটগুলো নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।
এদিকে দৌলতদিয়া ঘাটের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দেওয়ায় সবকটি (৩, ৪ ও ৭ নম্বর) ফেরিঘাট এখন ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ৪ ও ৭ নম্বর ফেরিঘাট রয়েছে অধিক ঝুঁকিতে। ঘাটসংলগ্ন বাহির চর ছাত্তার মেম্বার পাড়া, মজিদ মাতুব্বর পাড়া ও শাহাদত মেম্বার পাড়াসহ স্থানীয় বাজার, মসজিদ, স্কুলসহ একাধিক স্থাপনাও রয়েছে ঝুঁকিতে।
দৌলতদিয়া ঘাটের সর্বশেষ পরিস্থিতি দেখতে শনিবার (২ আগস্ট) ভাঙনকবলিত এলাকায় আসেন বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। তারা ঘাটের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান।
আরও পড়ুন: ধরলার ভাঙনে নিঃস্ব অর্ধশতাধিক, ঝুঁকিতে আরও পাঁচ শতাধিক পরিবার
সরেজমিন দেখা যায়, দৌলতদিয়ার ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ফেরিঘাটসহ মধ্যবর্তী এলাকার সর্বত্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ভাঙন বাড়ায় ৭ নম্বর ঘাটে ফেরির পন্টুন ধরে রাখা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। ৪ ও ৭নম্বর ফেরিঘাটে কিছু বালুর বস্তা ফেলা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। আতঙ্কে অনেকে আশপাশের স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছেন। ছাত্তার মেম্বার পাড়ার চারটি পরিবার তাদের ঘরও সরিয়ে নিয়েছে।
৩৬৬ দিন আগে