গুম
বিএনপি গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা সমর্থন করবে না: ডা. জাহেদ
বিএনপি গত ১৭ বছর গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে এবং সরকার গঠনের পরও সেই অবস্থান থেকে সরে আসবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জাহেদ বলেন, কোনো রাষ্ট্র বা সরকার যদি কাউকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করে, তাহলে সেটি আর রাষ্ট্রের ভূমিকা পালন করে না। এটি খুন, যা যেকোনো মানুষই করতে পারে। একটি রাষ্ট্র প্রকৃত অর্থে রাষ্ট্র হয়ে ওঠে তখনই, যখন সে বিচার করার ক্ষমতা প্রয়োগ করে।
কোনো গণতান্ত্রিক সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থন করতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। কিন্তু কাউকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা রাষ্ট্রের কাজ হতে পারে না। রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে বিচারব্যবস্থার হাতে তুলে দেওয়া যায়। প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করা যেতে পারে, কিন্তু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সুযোগ নেই।
বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে উপদেষ্টা বলেন, পাঁচ বছর পর রাতের ভোট বা ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখার কোনো উদ্দেশ্য এই সরকারের নেই। তাই সরকার এমন কোনো কাজ করবে না, যাতে তার ক্ষতি হয়। বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো ঘটনায় মানুষের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সরকারের অনুমতি পেলে ক্রসফায়ার করা হবে বলে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইজিপি তার পরবর্তী বক্তব্যে আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন বলে মনে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আইজিপি তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং আগের অবস্থানে অনড় থাকেননি। এছাড়া সাংবাদিকদের বিষয়ে তার বক্তব্যে যে সাধারণীকরণ ও গুরুতর অভিযোগ ছিল, সেখান থেকেও তিনি সরে এসেছেন। তাই তার মতে এটা নিয়ে আর কথা বলা উচিত হবে না।
আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার কারণে তাকে পদে থাকার সুযোগ দেওয়া যায় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, বিষয়টি সাংবাদিকদের বিবেচনার। তবে তার মতে, আইজিপি আগের বক্তব্যে অনড় থাকলে সমস্যা হতো।
তিনি আরও বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে বেআইনি কাজের নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা করতে বাধ্য নন। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের আইন মেনেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।
আইজিপির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী বিবেচনা করবেন বলেও জানান জাহেদ উর রহমান। তিনি দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরে আসতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ময়মনসিংহের ভালুকায় বিএনপিকে ভোট দিয়ে ভুক্তভোগী হওয়ার কথা জানিয়ে ফেসবুক লাইভ করায় এক নারী উদ্যোক্তাকে ১৫১ ধারায় আদালতে পাঠানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ওই নারী উদ্যোক্তার বক্তব্যের কারণে যারা প্রতিবাদ করেছেন, তাদের অবস্থান সঠিক বলে তিনি মনে করেন না।
তবে মানুষের এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আরও অনেক ব্যক্তি, এমনকি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়েও আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এই ধরনের বক্তব্য আসলে দেওয়া যেতেই পারে।
আদালতে পাঠানোর পরের বিষয়গুলো বিচার বিভাগের এখতিয়ার উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, আদালত সরকার নয়। আদালত যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার জবাবদিহি সরকার করবে না। তবে সরকারের দায়িত্ব হলো, পুলিশের তদন্ত যেন নিরপেক্ষ ও প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে হয়, তা নিশ্চিত করা।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, তদন্তে ওই নারীর বক্তব্যকে অপরাধ হিসেবে দেখা হবে না। কারণ ওই বক্তব্যে অপরাধের উপাদান পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য থেকে তিনি ইঙ্গিত পেয়েছেন।
রংপুরের পীরগঞ্জে তিনটি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জাহেদ উর রহমান জানান, ঘটনাটি তার নজরে আসেনি। তবে সেখানে পুলিশ মোতায়েন ও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তিনি শুনেছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে উগ্রপন্থি কিছু মানুষের আস্ফালনের প্রবণতা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ প্রবণতা বেড়েছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে এসব ঘটনার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে বর্তমান সরকার এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘এই সরকারের অধীনে থেকে বিচারের বাইরে থাকবেন, এটা হতে পারে না। আমি আপনাকে এটা নিশ্চিত করছি।’
তিনি আরও বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও একটি উদার গণতান্ত্রিক দেশে নিরাপদে বসবাস করতে চান। রাজনৈতিক দলের হাতে দেশের দায়িত্ব থাকলে তাদের কাছেও মানুষের প্রত্যাশা থাকে। বিএনপিকে সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।
৪ ঘণ্টা আগে
ছয় মাসে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা প্রায় শূন্যের কোঠায়: আইনমন্ত্রী
বর্তমান সরকারের প্রথম ছয় মাসে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, প্রথম ছয় মাসে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স দেখিয়েছি। এটি প্রায় শূন্যের কোঠায়। এছাড়া পুলিশ কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে—এমন অভিযোগও নেই।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে মার্কিন সংবিধান দিবস ও যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ ও ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আইনমন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে আগের ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের সময়কার পরিস্থিতির তুলনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময়ে বিএনপির সাড়ে চার হাজারের বেশি নেতাকর্মী বিচারবহির্ভূত হত্যা ও প্রায় ৭০০ জন গুমের শিকার হয়েছেন।
এছাড়া রাজনৈতিক নিপীড়নের অংশ হিসেবে প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, যার অধিকাংশই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের মধ্যে সাদৃশ্য তুলে ধরে মার্কিন সংবিধানের প্রতিষ্ঠাকালীন নীতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের জনগণকে বিশ্বের অন্যতম সেরা সংবিধান প্রণয়নের পথ দেখানোর জন্য তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
দুই দেশের সংবিধানেই গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তিগুলো রয়েছে উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান বলেন, মার্কিন সংবিধান গণতন্ত্র ও স্বাধীনতাকে মৌলিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মাধ্যমে গৃহীত, অনুমোদিত ও কার্যকর করা হয়েছিল। আমাদের সংবিধানও কিছু মৌলিক ভিত্তি ও কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার কিছু মার্কিন সংবিধান থেকে নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন সংবিধান দিবসে উপলক্ষে ঢাবির সিনেট হলে উন্মুক্ত অনুষ্ঠান, প্যানেল আলোচনা, রচনা প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং আমেরিকান ফাউন্ডার্স মিউজিয়াম প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি তার বক্তব্যে তুলে ধরেন, কীভাবে অব্যাহত বিতর্ক, ঐকমত্যে পৌঁছানোর নিরন্তর প্রচেষ্টা এবং ক্ষমতার পৃথকীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংবিধানে নতুন সংশোধনী যুক্ত করার অধিকারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান একটি দৃঢ় ও টেকসই ভিত্তি পেয়েছে, যা ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অনুপ্রাণিত করে আসছে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ একরামুল হক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
৪০ দিন আগে
স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ থাকতে দেওয়া হবে না এবং প্রতিটি গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের, তারা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি আজ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো “আয়নাঘর” থাকবে না। আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না।’
তিনি বলেন, প্রতিটি গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের এ দেশে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। ‘তারা যত বড়ই প্রভাবশালী হোক না কেন, আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি তাদের পেতেই হবে।’
গুম কোনো সাধারণ অপরাধ নয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন। গুম শুধু একজন মানুষকে কেড়ে নেয় না, তার পরিবারের হাসি, শান্তি, স্বপ্ন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বস্তিও কেড়ে নেয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, ব্যক্তি স্বাধীনতা, আইনের সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা দিয়েছে। কিন্তু গুম ও হত্যার মাধ্যমে এসব অধিকার একসঙ্গে ধূলিসাৎ করা হয়েছে।
গত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে বাংলাদেশে গুম ও গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’-এর দুঃসহ সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ভিন্নমত পোষণকারী এবং গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষদের স্তব্ধ করে দিতে তুলে নিয়ে যাওয়া, গুম ও গোপনে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলামসহ গুম হওয়া অগণিত মানুষের কথা স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। এছাড়া ব্যারিস্টার আরমান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীসহ বিভিন্ন মতের রাজনৈতিক কর্মী, কর্মকর্তা, লেখক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও সাধারণ নাগরিককে গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও গুম করে ভিন্ন দেশে ফেলে আসা হয়েছিল। গুম হওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ ফিরে এলেও বহু মানুষ আজও নিখোঁজ রয়েছেন।
গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলন করার জন্য এ সময় সংসদ সদস্য সানজিদা তুলির ভূয়সী প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, গুম হওয়া পরিবারগুলোকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সাহসিকতা ও নির্ভীকতার সঙ্গে লড়াই করেছেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। এখন প্রতিশোধ নয়, বরং প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
তবে শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, বছরের পর বছর প্রিয়জনের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলো সীমাহীন অনিশ্চয়তা, আর্থিক সংকট ও মানসিক যন্ত্রণা বহন করেছে। তাদের মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকবে না; মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না। রাষ্ট্রের ক্ষমতার ওপর সংবিধান ও আইনের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী এবং নাগরিকরা কতটা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করছেন, সেটিই দেশের প্রকৃত উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে।
তিনি বলেন, দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ চিরতরে বন্ধ করা হবে এবং গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের অন্যতম পবিত্র দায়িত্ব।
গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সাম্য ও মর্যাদাকে রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সুশাসন হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, জবাবদিহিতা ও বাকস্বাধীনতা হবে গণতন্ত্রের শক্তি এবং ইনসাফ হবে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার।
গুম ও বিচারহীনতার অন্ধকার পেরিয়ে বাংলাদেশ সত্য, ন্যায় ও মানবতার আলোকিত পথে এগিয়ে যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার হওয়া পরিবারের সদস্যরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন এবং গুমের ঘটনাসমূহের যথাযথ বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।
৫৮ দিন আগে
গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, অধ্যাদেশ জারি
গুমের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজার বিধান রেখে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে সরকার।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশের গেজেট জারি করা হয়েছে।
এর আগে, গত ৬ নভেম্বর এই অধ্যাদেশের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইবুনাল গঠনের করা হবে। এই অধ্যাদেশের অধীনে অপরাধ হবে জামিন ও আপসের অযোগ্য।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য যদি কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, আটক, অপহরণ বা স্বাধীনতা হরণ করার পর বিষয়টি অস্বীকার করে অথবা ওই ব্যক্তির অবস্থান, অবস্থা বা পরিণতি গোপন রাখে এবং এ কাজের ফলে ওই ব্যক্তি আইনগত সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন, তাহলে কাজটি গুম বা শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য হবে। এই অপরাধে দায়ী ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
আর গুমের ফলে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে বা গুমের পাঁচ বছর পরও তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে দায়ী ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
যদি কোনো ব্যক্তি গুমের স্বাক্ষ্য-প্রমাণ নষ্ট করেন বা গুমের উদ্দেশ্যে গোপন আটককেন্দ্র নির্মাণ, স্থাপন বা ব্যবহার করেন, তাহলে ৭ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা কমান্ডারদের জন্যও সাজার বিধান রয়েছে অধ্যাদেশে। এ বিষয়ে বলা হয়েছে, যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কমান্ডার বা দলনেতা এ ধরনের অপরাধ সংঘটনে অধস্তনদের আদেশ, অনুমতি, সম্মতি, অনুমোদন বা প্ররোচনা দেন, কিংবা নিজেই অংশ নেন, তাহলেও তিনি মূল অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা কমান্ডারের অবহেলা বা অদক্ষতার কারণে অধস্তনরা এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ালেও সাজা পাবেন সেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অধস্তনদের নিয়ন্ত্রণ বা তত্ত্বাবধান করার ব্যর্থতার ফলে অধস্তনরা যদি এ ধরনের অপরাধ করে, তাহলেও তিনি মূল অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হবেন বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার আগ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির অবস্থান ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে’ গোপন রাখা যাবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক হলেও তার অনুপস্থিতিতে বিচার সম্পন্ন করা যাবে।
৩২৯ দিন আগে
ফ্যাসিবাদ আমলে গুম হওয়া অনেককে এখনো ফেরত পাওয়া যায়নি: আবদুল হালিম
ফ্যাসিবাদ আমলে গুম হওয়া অনেককে এখনো ফেরত পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম।
তিনি বলেন, ‘পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার সারাদেশে গুম-খুনের রাজনীতি কায়েম করেছিল। ফ্যাসিবাদ আমলে গুম হওয়া অনেককে এখনো ফেরত পাওয়া যায়নি।’
সোমবার (৪ আগস্ট) দিনাজপুরের বিরামপুর কমিউনিটি সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, সারা দেশে লাখ লাখ নেতাকর্মী জেল-জুলুমের শিকার হয়েছিল। বাংলাদেশ কর্তৃত্ববাদী শাসকের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছিল। জুলাই’২৪ এর ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে।
তিনি বলেন, জামায়াতের শীর্ষ ১১ জন নেতার কয়েকজনকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক ন্যায়ভ্রষ্ট রায়ের মাধ্যমে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে এবং কয়েকজনকে কারাগারে রেখে হত্যা করা হয়েছে।
পড়ুন: নাটোরে দোকানে তালা লাগিয়ে চাঁদা দাবির বিষয় অস্বীকার জেলা জামায়াতের
তিনি আরও বলেন, বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণে জামায়াতে ইসলামী নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী ইতিবাচক রাজনীতি ও গঠনমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশবাসীর আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
দিনাজপুর জেলা আমির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও দিনাজপুর জেলা সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হক এর সঞ্চালনা করেন। সম্মেলনে জেলা ইউনিট সদস্য উপজেলা আমির ও সেক্রেটারিরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও দিনাজপুর শহর, সদর উপজেলা, বিরল, কাহারোল ও বীরগঞ্জ উপজেলায় পৃথক পৃথক মহিলা রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
৪৪৮ দিন আগে
গুমের সঙ্গে সেনা সদস্যদের জড়িতের প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা: সেনা সদর দপ্তর
সেনাবাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে গুমের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন মিলিটারি অপারেশনস ডিরেক্টরেটের কর্নেল স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘যখন সেনা সদস্যরা ডেপুটেশনে(অন্য বিভাগে ন্যস্ত) থাকেন, তখন তাদের উপর আমাদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তবে তদন্ত চলছে। যদি কেউ গুমের সঙ্গে জড়িত থাকেন এবং তা প্রমাণিত হয়—তাহলে সেনাবাহিনী ব্যবস্থা নেবে।’
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে সেনাবাহিনী দেশে স্থিতিশীল পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
পড়ুন: ভারতীয় গণমাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ, সেনাবাহিনীর কড়া জবাব
কর্নেল শফিকুল বলেন, লুট হওয়া অস্ত্রের ৮০ শতাংশ ইতোমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে। বাকী অস্ত্রগুলোও শিগগিরই উদ্ধার করা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, লুট হওয়া প্রায় ১২ হাজার অস্ত্রের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার উদ্ধার করা হয়েছে।
সেনা কর্মকর্তা আরও জানান, গত বছরের জুলাই মাসের আন্দোলনে আহত ৪ হাজার ৭৯০ জন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা নিয়েছেন। এখনো ঢাকার সিএমএইচে ২২ জন রোগী চিকিৎসাধীন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আগের সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। শান্তি বজায় রাখার প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে বলে জানান তিনি।
৪৮১ দিন আগে
গুমে জড়িতদের বিচার অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই হবে: তথ্য উপদেষ্টা
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বিকালে ঢাকার তেজগাঁওয়ে মানবাধিকার সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর উদ্যোগে গুমের শিকার মানুষের স্বজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এমন প্রতিশ্রুতির কথা জানান।
‘পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার’ সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তিনি গুম-খুন করে তার বাবা-মায়ের হত্যার প্রতিশোধ নিয়েছেন। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে মানুষ যখন ভোটাধিকারের জন্য লড়াই করছিলেন, তখনই সবচেয়ে বেশি গুম করা হয়েছিল। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করা।’
মাহফুজ আলম বলেন, ‘সরকার এরইমধ্যে গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন গঠন করেছে। এই কমিশনের প্রস্তাবনা অনুযায়ী গুমের সঙ্গে জড়িত অনেকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান।’
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যারা রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরোধিতা করেছেন, তাদের সন্ত্রাসী ও জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে গুম করা হয়েছে এবং তাদের স্বজনদের আতঙ্কগ্রস্ত করা হয়েছে। গুমের কাজে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকেও ব্যবহার করা হয়েছিল।’
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে তথ্য উপদেষ্টার বাবার ওপর হামলার অভিযোগ
উপদেষ্টা বলেন, ‘শেখ হাসিনা এখনো ভারতে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। যা খুবই দুঃখজনক।’
৫৭৩ দিন আগে
গুম তদন্ত কমিশনের মেয়াদ বাড়ল আরও সাড়ে ৩ মাস
আওয়ামী লীগ শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিশনের মেয়াদ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
১৫ মার্চ থেকে কমিশনের মেয়াদ আরও সাড়ে ৩ মাস বাড়িয়ে সোমবার (১৭ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
'কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট, ১৯৫৬' অনুযায়ী ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে গত বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে গুমের ঘটনা তদন্তে গত ২৭ আগস্ট কমিশন গঠন করেছিল সরকার। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর কমিশনের দায়িত্বে ও প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমায় পরিবর্তন আনা হয়।
পাঁচ সদস্যের এ কমিশনের সভাপতি হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী।
আরও পড়ুন: রবিবারের মধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যাবে
তদন্ত সম্পন্ন করে তিন মাসের মধ্যে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করার কথা ছিল কমিশনের। পরে সময় বাড়ানো হয়। বাড়ানো সেই সময় গত ১৪ মার্চ শেষ হয়।
তদন্ত কমিশন ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, তদন্তকারী সংস্থা ও অনুরূপ যেকোনো বাহিনী বা সংস্থার কোনো সদস্য বা সরকারের মদদে, সহায়তায় বা সম্মতিতে কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তি-সমষ্টির 'আয়না ঘর' বা যেকোনো জ্ঞাত বা অজ্ঞাত স্থানে গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান, তাদের শনাক্ত করা ও কোনো পরিস্থিতিতে গুম হয়েছিল— তা নির্ধারণ করা এবং সেই উদ্দেশ্যে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যসহ যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ করছে।
৫৮৮ দিন আগে
গুমের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সম্পৃক্ততা পেয়েছে কমিশন, র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ
গুমের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন।
শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দিয়েছে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্যারা (দ্য কমিশন অব এনকোয়ারি অন এনফোর্সড ডিসাপিয়ারেন্স)।
‘আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ’ শিরোনামে জমা দেওয়া রিপোর্টে কমিশন সদস্যরা এ পর্যন্ত প্রাপ্ত ১ হাজার ৬৭৬টি অভিযোগের মধ্যে ৭৫৮ জনের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করেন বলে জানান।
প্রতিবেদনে বলা উল্লেখ করা হয়, গুমের ঘটনায় নির্দেশদাতা হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। এছাড়াও হাসিনা প্রশাসনের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং পুলিশ কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ অন্যতম।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুসহ র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশও করেছে কমিশন।
আরও পড়ুন: ইরানে ভয়েস অব আমেরিকার সাবেক সাংবাদিকের ১০ বছরের কারাদণ্ড
কমিশন প্রধান মইনুল ইসলাম চৌধুরী জানান, গুমের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা কাজটি এমনভাবে করেছে যাতে এগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যায়। বিভিন্ন ফোর্স নিজেদের মধ্যে ভিকটিম বিনিময় করেছে এবং পরিকল্পনা ভিন্ন ভিন্নভাবে বাস্তবায়ন করেছে।
তিনি আরও জানান, গুমের শিকার অনেকে এখনো শঙ্কামুক্ত হতে পারছেন না। তাদের ওপর এতটাই ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছিল যে তারা এখনো ট্রমায় ভুগছেন।
প্রধান উপদেষ্টা তার সর্বশেষ বক্তব্যে গুমের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও সঠিক বিচারের আশ্বাস দেওয়ার পর রিপোর্টের সংখ্যা অনেক বেড়েছে উল্লেখ করে কমিশনের সদস্যরা অধ্যাপক ইউনূসকে আয়নাঘর পরিদর্শনের অনুরোধ জানান।
তারা বলেন, ‘আপনি আয়নাঘর পরিদর্শন করলে ভিক্টিমরা (ভুক্তভোগী) অভয় পেতে পারেন।’
প্রধান উপদেষ্টা তাদের এ অনুরোধে সম্মতি দিয়ে জানান, স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল যা আয়নাঘর নামে পরিচিতি পেয়েছে- সেগুলো দেখতে যাবেন।
তিনি কমিশন সদস্যদের তাদের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং কাজটি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
কমিশন প্রধান মইনুল ইসলাম চৌধুরী জানান, তারা তিন মাস পর মার্চে আরও একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্ট দেবেন। কাজটি শেষ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে কমপক্ষে আরও এক বছর সময় প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
কমিশনের সদস্য হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, মানবাধিকারকর্মী নূর খান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাবিলা ইদ্রিস ও মানবাধিকার কর্মী সাজ্জাদ হোসেন এসময় উপস্থিত ছিলেন।
আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ।
আরও পড়ুন: বিএনপির লক্ষ্য গণতান্ত্রিক, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়া: তারেক রহমান
৬৮২ দিন আগে
গুম: দায়ীদের শনাক্তে কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রধান উপদেষ্টার
২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গুমের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত এবং তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে 'গুম বিষয়ক তদন্ত কমিশন'কে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার (৯ নভেম্বর) বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তার কার্যালয়ে কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, 'আপনাদের যা প্রয়োজন আমরা তা সরবরাহ করব এবং সব ধরনের সহায়তা দেব ‘
কমিশনের সদস্যরা জানান, এ বিষয়ে আরও কাজ করার আগে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সরকারকে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন দেবেন তারা।
আরও পড়ুন: বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যানে তরুণদের আত্মবিশ্বাসের ওপর জোর দেন ড. ইউনূস
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, প্রয়োজনে হলেও কমিশনের মেয়াদ দুই বছর বাড়ানো হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের রক্ষায় আইনি বিধান তৈরিসহ প্রয়োজনীয় আদেশ জারি করা হবে।
কমিশনের চেয়ারম্যান হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী সভায় বলেন, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তারা প্রায় ১ হাজার ৬০০ অভিযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে ৪০০ অভিযোগ যাচাই-বাছাই করেছেন এবং ১৪০ জন অভিযোগকারীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন।
কমিশনের একজন সদস্য বলেন, 'অভিযোগের সংখ্যা দেখে আমরা অভিভূত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাল্টা শাস্তির ভয়ে এখনো অনেকে কমিশনে আসছেন না। এ থেকে বোঝা যায়, এখনও পর্যন্ত যা রিপোর্ট করা হয়েছে, তার থেকে ঘটনার সংখ্যা অনেক বেশি।’
কমিশনের এই সদস্য বলেন, জোরপূর্বক নিখোঁজের সংখ্যা কমপক্ষে সাড়ে তিন হাজার হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। কারা এই অপরাধ করেছে এবং কারা তাদের নির্দেশ দিয়েছে তা চিহ্নিত করতে তারা কাজ করছেন বলে জানা তিনি।
কমিশনের এই আরও সদস্য বলেন, ভিকটিমদের অনেকে কারাগারে আছেন, কারও কারও মৃত্যুদণ্ডও হচ্ছে, কারণ তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
নিখোঁজের শিকার কয়েকজনকে প্রতিবেশী ভারতের কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভিকটিমদের যেসব গোপন স্থানে গুম করে রাখা হয়, সেখানে আলামত রক্ষায় কমিশনের সদস্যরা সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
কমিশনের এক সদস্য জানান, ‘অনেক ভুক্তভোগী আমাদের বলেছেন যে তারা বছরের পর বছর ধরে সূর্যের আলো দেখেননি। সকালের নাস্তা পরিবেশন করা হলেই তাঁরা বুঝতে পেরেছেন, এটি একটি নতুন দিন।’
ওই সদস্য অভিযুক্ত ব্যক্তির বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং সম্ভব হলে তাদের পাসপোর্ট বাতিল করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।
বৈঠকে উপস্থিত স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, কমিশন থেকে আসামিদের তালিকা দেওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে তারা এ ব্যবস্থা নেবেন।
কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ এবং গুমের ঘটনা তদারকি করেছেন এমন ব্যক্তিদের মুখোশ উন্মোচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহায়তাকারী মনফুজ আলম।
বৈঠকে কমিটির উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ, নূরজাহান বেগম, আদিলুর রহমান খান, এম সাখাওয়াত হোসেন, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবদুল হাফিজ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদ, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য প্রেস সচিব, মো. সিরাজ উদ্দিন মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ইউরোপীয় ইউনিয়ন আপনাদের সঙ্গে আছে: অধ্যাপক ইউনূসকে পাম্পালোনি
৭১৬ দিন আগে