রায়
ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় মঙ্গলবার
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামীকাল মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদসহ অন্য প্রসিকিউটররা।
মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন: আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।
এর আগে, গত ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত ২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।
এরপর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন একই ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে আসামিদের ভূমিকা ছিল। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয় যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।
৫ দিন আগে
আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল-ধর্মঘট অবৈধ: হাইকোর্ট
আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল বা ধর্মঘট আহ্বানকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মসূচি ডাকলে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি শশাঙ্ক কুমার সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
রায়ে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুসারে আদালতের রায় সবার জন্য বাধ্যতামূলক। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকলেও রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল বা ধর্মঘট আহ্বান করা অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থি।
সেই সঙ্গে আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রসচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনকে (বিআরটিসি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
২০১১ সালের আগস্টে মানিকগঞ্জের ঘিওরে সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ, সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন। ওই ঘটনায় বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা হলে ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বাসচালককে সাজা দেন।
সাজার প্রতিবাদে সে সময় বাসমালিকরা পরিবহন ধর্মঘট ও হরতাল পালন করেন বলে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) রিট করে।
এইচআরপিবির রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল আহ্বান কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।
সেই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্মঘট বা হরতাল প্রত্যাহার এবং গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ওই নির্দেশের পরদিন পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।
ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ (রবিবার) রায় দিলেন হাইকোর্ট।
আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আহসান হাবীব। বিআরটিসির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আসিবুল হক। বিআরটিএর পক্ষে ছিলেন মো. রাফিউল ইসলাম।
মনজিল মোরসেদ বলেন, দুর্ঘটনার কারণে চালককে সাজা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মালিকরা পরিবহন ধর্মঘট ডেকে আদালতের আদেশের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, সব নাগরিকের চলাচলের স্বাধীনতা ধর্মঘটের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে।
৬ দিন আগে
বাড়িঘরে আগুন দিয়ে আমাদের শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে: নুসরাতের মা
ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার মা শিরিন আক্তার। তবে তিনি বিভিন্ন হুমকি, অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেছেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে রায়-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় শিরিন আক্তার এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নুসরাত হত্যাকাণ্ডের পর অনেকে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেছিল। কিন্তু আজকের রায়ের মধ্য দিয়ে এটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে আবারও প্রমাণিত হয়েছে। ‘আমি এ রায়ে সন্তুষ্ট, আলহামদুলিল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাড়িঘরে আগুন দিয়ে আমাদের শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা চাই।’
নিরাপত্তায় নিয়োজিত ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ চন্দ্র রায় জানান, রায় ঘিরে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বহুল আলোচিত এ মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। তারা হলেন: সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।
এছাড়া চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: নূর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ও জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন।
খালাস প্রাপ্তরা হলেন: সোনাগাজীর সাবেক পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদরাসার গভর্নিং বডির তৎকালীন সহ-সভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।
২৬ দিন আগে
জুলাই হত্যা মামলা: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শেষ, রায় যেকোনো দিন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। যেকোনো দিন মামলার রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (১৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে পাল্টাপাল্টি যুক্তি উপস্থাপন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ।
এদিন, প্রথমে আইন নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন ঘিরে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বৈঠকে মানুষ মারার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা হয়। এ মামলায় দাখিল করা বিভিন্ন অডিও-ভিডিওতে এসবের প্রমাণ উঠে এসেছে। এছাড়া আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। যার ফলশ্রুতিতে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়।
প্রসিকিউশনের এসব কথার জবাব দেন ওবায়দুল কাদের, নাছিম ও আরাফাতের পক্ষে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী এম হাসান ইমাম।
তিনি দাবি করেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় শুট অ্যাট সাইট বা দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আমার তিন মক্কেল কোনো ‘কমান্ডিং পজিশনে’ ছিলেন না। নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে একজনকেই আমি দায়ী করি। অতএব আমার মক্কেলরা কাউকে মারেননি বা মারার নির্দেশও দেননি।
এরপর ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক ও যুবলীগ সভাপতি-সম্পাদকের পক্ষে যুক্তি খণ্ডন করেন ইশরাত জাহান।
এই আইনজীবীর দাবি, চব্বিশের জুলাই আন্দোলন দমনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে তার চার মক্কেল তথা সাদ্দাম, ইনান, পরশ ও নিখিলের নাম আসেনি; নেতৃত্ব দিয়েছেন অন্যরা। এছাড়া অধীনস্ত নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ব্যর্থ হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এ সময় কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। জবাবে আইনজীবী ইশরাত জাহান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শুরু থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত বিশৃঙ্খলা চলছিল। ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল না।
তিনি বলেন, বারবার নারীদের আহত হওয়ার কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু এ মামলায় কোনো নারী সাক্ষী আনা হয়নি। সাক্ষ্যপ্রমাণেও এমন কিছু দেখাতে পারেনি। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা সন্দেহ রয়েছে।
নিজের চার মক্কেলের খালাস চেয়ে ইশরাত বলেন, শুধুমাত্র রাজনীতি করার কারণে আন্দোলন ঘিরে কিছু কথা উচ্চারণ করেছেন আমার মক্কেলরা। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। এছাড়া প্রসিকিউশনের দাখিলকৃত কোনো ভিডিওতেই তাদের হাতে লাঠিসোঁটা ছিল না। এককথায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রমাণ দেখাতে পারেনি প্রসিকিউশন। এজন্য আমি চারজনেরই খালাস প্রার্থনা করছি।
আসামিপক্ষের যুক্তি শেষে পাল্টা যুক্তি খণ্ডন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজের’ ব্যাখ্যা দিয়ে এ মামলার আসামিদের অপরাধ তুলে ধরেন। আন্দোলন দমনে নেমে একজন লোক মারা গেলেও আসামিরা অপরাধী বলে গণ্য হবেন বলে আইনি যুক্তি দেখান তিনি।
এর আগে, ১২ আগস্ট সাত আসামিরই সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তিতর্ক শেষ করেন প্রসিকিউশন। এ মামলায় সব আসামির অপরাধ গুরুতর বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, তাদের বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগই প্রমাণ করতে পেরেছে প্রসিকিউশন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষকে হত্যা ও আহত করার জন্য তারা দায়ী। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। কোনো অনুকম্পা না দেখিয়ে সাত আসামির সর্বোচ্চ সাজা চান তারা।
গত ৪ আগস্ট এ মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। প্রথম দিন মামলার সামগ্রিক পটভূমি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এরপর টানা পাঁচ কার্যদিবসে সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তি উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।
গত ২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেন মোট ২৯ জন সাক্ষী।
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন একই আদালত।
৩৩ দিন আগে
রায় কার্যকর নিয়ে সংশয়ে শহিদ আবু সাঈদের বাবা-মা ও সহযোদ্ধারা
আজ ইতিহাসের অনন্য অধ্যায় রচনার ১৬ জুলাই। ২০২৪ সালের আজকের এই দিনে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন ইংরেজি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ।
এই দিনে দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দেওয়া সাঈদের সেই ভিডিও ও ছবি দেশ-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়। পতন হয় এ দেশে ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের । এর মধ্যে দিয়ে দেশ ফিরে পায় এক গণতান্ত্রিক ধারা । সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যেন মুক্তির আনন্দে মেতে উঠে ।
তবে দেশ গণতন্ত্র ফিরে পেলেও আজও শহিদ আবু সাঈদ হত্যার প্রধান আসামিগুলোকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি সরকার। আর এজন্য সাঈদের বাবা-মা ও সহযোদ্ধার এখন হতাশ। তাদের প্রশ্ন—বিচার কি আদৌ বাস্তবায়ন হবে?
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। এই রায় দ্রুত কার্যকর চান শহিদ আবু সাঈদের বাবা-মা ও সহযোদ্ধারা।
আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, ‘ছেলেটা নাই। খুব দেখতে ইচ্ছে করছে, আজ ওর কথা খুব মনে পড়ছে।’ এভাবেই বলেই হু হু করে কেঁদে ওঠেন তিনি।
চোখের পানি মুছতে মুছতে তিনি বলেন, ‘ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না। ওর হত্যার ঘটনায় আদালত যে রায় দিয়েছে, সেই রায় যদি বেঁচে থাকতে দেখতে পেতাম, তাহলে একটু হলেও মনটা সান্ত্বনা পেত।’ এ সময় তিনি মামলার সকল আসামির দ্রুত ফাঁসি দাবি করে রায় কার্যকর চান।
আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘প্রত্যেকদিন বাবাটার কবরের কাছে যাই, বাবাটার মুখটা খালি ভাসি ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় গেইলে যে কয়দিন আইসে (আসত) না, সেই কয়দিন সকাল-সন্ধ্যা ফোন দিত। এখন আর কেউ ফোন করে বলে না, “মা কেমন আছো।” আদরের ছাওয়া (ছেলে) নাই, বুকে কষ্ট চাপা দিয়া আছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাবাটা সংসারের হাল ধরার কথা ছিল, মোর (আমার) বাবাটা অনেক বড় চিন্তা থাকি (থেকে) দেশের জন্য জান দিছে। বাবাটাকে যারা মারি (মেরে) ফেলাইছে, সবার ফাঁসি চাই।
গুলিবিদ্ধ আবু সাঈদকে বাঁচাতে সর্বপ্রথম এগিয়ে আসা সিয়াম আহসান আয়ান আক্ষেপ করে বলেন, তিনি সংসারের কথা, বাবা-মা, ভাই-বোনের কথা চিন্তা না করে, নিজের জীবনের কথা চিন্তা না করে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করলেন। অথচ তার মামলার রায় হতে অনেক সময় লাগল। সেই রায় দ্রুত কার্যকর করতে কোনো পদক্ষেপ দেখছি না। রায়টা দ্রুত কার্যকর হোক—এই প্রত্যাশা করি সরকারের কাছে।
শহিদ আবু সাঈদের সহযোদ্ধা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন অভিযোগ করেন, জুলাই বিপ্লবের দুই বছরপূর্তিতে এসেও প্রথম শহিদের মামলার রায় কার্যকর হয় না। রায় হয়েছে, রায়টা দ্রুত কার্যকর হোক—এই কামনা করি।
মিছিলের সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন আবু সাঈদ। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে এতে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে।
রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে পুলিশ। এ সময় আবু সাঈদ একাই অবিচল দাঁড়িয়ে তা মোকাবিলার চেষ্টা করেন।
পুলিশের সামনে বুক উঁচিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে দেওয়া আবু সাঈদকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে পুলিশ। একসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন সকালে রংপুরের পীরগঞ্জে বাবনপুর গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়।
৬৫ দিন আগে
সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার রায় মঙ্গলবার
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছর বয়সী শিশু ইরা মনিকে শ্বাসনালী কেটে আলোচিত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামীকাল মঙ্গলবার। ঘটনার মাত্র চার মাসের মাথায় মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিন ধার্য করেছেন।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন বলেন, যুক্তিতর্ক শেষে আদালত মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করেছেন।
মামলার একমাত্র আসামি ৪৫ বছর বয়সী বাবু শেখ গত ৩০ জুন আদালতে সাফাই সাক্ষ্য দেন। এর আগে, মাত্র ছয় কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ১০ কার্যদিবসেই মামলাটি রায়ের পর্যায়ে এসেছে।
নিহত জান্নাতুল নেসা ওরফে ইরা মনির বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ায়। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় একজন টমটমচালক। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল ইরা।
ঘটনার পর গত ৩ মার্চ কুমিরা এলাকা থেকে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্যম পুলুপাড়ায়। তিনি সীতাকুণ্ডে ইরা মনির পরিবারের পাশের একটি ঘরে ভাড়া থাকতেন।
ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের তৎকালীন পুলিশ সুপার জানিয়েছিলেন, ইরা মনির বাবা মনিরুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধের জেরে বাবু শেখ শিশুটিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে প্রথমে ধর্ষণের চেষ্টা এবং পরে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালান।
তদন্তে জানা যায়, গত ১ মার্চ সকালে চকলেট কিনে দেওয়া ও ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ইরা মনিকে বাড়ি থেকে বের করে আনেন বাবু শেখ। পরে বাসে করে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডে গিয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেন-সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যান।
সেদিন দুপুরে সড়ক সংস্কারকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা পাহাড়ে গলাকাটা অবস্থায় ইরা মনিকে দেখতে পান। জঙ্গল থেকে হেঁটে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছায় শিশুটি। পরে তাকে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে বাবু শেখ স্বীকার করেন, ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হলে এবং শিশুটি বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার ভয় দেখালে তিনি চাকু দিয়ে তার গলা কেটে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় ইরা মনির মা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে গত ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। ১৮ জুন অভিযোগ গঠন করা হয় এবং ২১ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
৭৫ দিন আগে
জামালপুরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৭ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: বকশীগঞ্জ উপজেলার রাশেদুর রহমান, বিজু মিয়া, বাদশা মিয়া, জসিম মিয়া, আজমত আলী, মনিরুজ্জামান ও আশরাফুল ইসলাম। তাদের বাড়ি বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৫ মে রাতে অটোরিকশায় চড়ে ঝগড়ারচর বাজার থেকে জানকীপুর মাজালিয়ায় বাড়ি ফিরছিলেন ওই গৃহবধূ। পথে নিলক্ষিয়া বাজারের কাছে অটোরিকশাচালকের সহায়তায় কয়েকজন তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তারা ভুক্তভোগীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন।
পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত সাড়ে ৪টার দিকে তার স্বামী নিলক্ষিয়া বাজার এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় বকশীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করা হয়।
তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিজ্ঞ বিচারক ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই মামলায় ইদ্রিস আলী নামে এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ফজলুল হক। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মোকাম্মেল হক।
৭৫ দিন আগে
আর্থিক জালিয়াতির দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা ধনকুবেরের ৩০ বছরের কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আর্থিক জালিয়াতির দায়ে স্বেচ্ছানির্বাসিত চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচক গুও ওয়েংগুইকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। আদালতের তথ্যমতে, তিনি গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের সমর্থকদের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্পের মাধ্যমে শত শত মিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩০ জুন) ম্যানহাটনের একটি আদালতকক্ষে বিচারক আনালিসা টরেস এ রায় ঘোষণা করেন।
আনালিসা টরেস বলেন, চীনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে যেসব মানুষ গুওকে সমর্থন করে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি তাদেরই শিকার বানিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সেই অর্থে তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছেন।
এদিকে, রায় ঘোষণার আগে গুও কারাগারে নিজের সঙ্গে হওয়া আচরণের প্রতিবাদ করেছেন। সে সময় তিনি জানান, সোমবার ভোরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। এ সময় প্রসিকিউশনের দাবি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, আদালতে তাকে অসুস্থতার ভান করা ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তাকে আদালতে নিয়ে আসার সময় তিনি বারবার বমি করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
আদালতে গুওর বিরুদ্ধে হওয়া ফৌজদারি মামলার বিষয়ে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। এ সময় চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি চীনা কমিউনিস্ট পার্টিকে (সিসিপি) ধ্বংস করার জন্য।’
গুওর সাজা ঘোষণার সময় বিচারক টরেস ভুক্তভোগীদের পাঠানো কয়েকটি চিঠির অংশ পড়ে শোনান। চিঠিতে ভুক্তভোগীরা লিখেছেন, গুওর প্রতারণায় তারা আজীবনের সঞ্চয় হারিয়েছেন। এতে তারা চরম মানসিক চাপ ও লজ্জার মধ্যে পড়েছেন। ভুল বিনিয়োগের কারণে তাদের সঙ্গে পরিবারেও অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
বিচারক টরেস বলেন, গুও নিজের কর্মকাণ্ডের কোনো দায় স্বীকার করেননি। বরং তিনি দাবি করছেন, তার কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তিনি আরও বলেন, এর আগে যারা গুওর বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস দেখিয়েছেন, গুও তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেছেন।
এছাড়া রায়ে আদালত গুওর ৮৮৯ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে তা ভুক্তভোগীদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, তিন বছর আগে গুও যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রাজনৈতিক কৌশলবিদ স্টিভ ব্যাননের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে ওঠেন। ২০২০ সালে তারা যৌথভাবে চীনা সরকারকে উৎখাতের একটি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে সময় গুও নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্ক-সংলগ্ন একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করতেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো গলফ ক্লাবেরও সদস্য ছিলেন।
প্রসিকিউটররা আদালতে গুওর জন্য অন্তত ৩০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন। তাদের দাবি, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে গুওর অভূতপূর্ব প্রতারণা শত শত মানুষের জীবন ধ্বংস করেন দিয়েছে। এতে অসংখ্য ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার আর্থিক, মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আদালতে দাখিল করা নথিতে প্রসিকিউটররা বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে গুও বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছেন। তার সম্পদের মধ্যে ছিল প্রাসাদসম বাড়ি, ইয়ট, রেসিং কার, দামি পোশাক এবং বিলাসবহুল আসবাবপত্র।
সাত সপ্তাহ ধরে চলা এ বিচার কার্যক্রম শেষে ১২টি ফৌজদারি অভিযোগের মধ্যে ৯টিতে গুও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। প্রসিকিউটরদের মতে, বিচারে প্রমাণিত হয়েছে যে গুও হাজার হাজার বিনিয়োগকারীকে ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্পে অর্থ লগ্নি করতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। আর সেই অর্থ দিয়েই তিনি নিজের বিলাসবহুল জীবন চালিয়ে গেছেন।
আদালতে দাখিল করা এক আবেদনে গুওর আইনজীবীরা দাবি করেন, গুও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। এমনকি তারা গুওর প্রাণনাশের হুমকির মতো তৎপরতা চালিয়েছে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
সাজা ঘোষণার আগে দাখিল করা নথিতে তার আইনজীবীরা আরও বলেন, গুওর দীর্ঘ কারাদণ্ড হলে তা চীনের অপপ্রচারকে শক্তিশালী করবে। এ রায় চীনা ভিন্নমতাবলম্বীদের স্বাভাবিক জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেবে। এছাড়া একই ধরনের মামলায় অন্য আসামিরা যেখানে দুই থেকে চার বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন, সেখানে গুওর ক্ষেত্রে এত দীর্ঘ সাজা অযৌক্তিক বলেও তারা উল্লেখ করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আরও জানান, আদালতের প্রবেশন কর্মকর্তা বিচারককে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, চীনে নির্যাতনের কারণে গুওর শরীরে ক্ষতচিহ্ন ও বিকৃতি রয়েছে। ১৯৯৩ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এসব আঘাতের চিকিৎসা ও পুনর্গঠনের জন্য তার একাধিক অস্ত্রোপচারও হয়েছে।
আইনজীবীদের দাবি, গুওর পরিবারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান চীনের বৃহত্তম সিকিউরিটিজ কোম্পানির সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার ছিল। সেখান থেকেই তিনি বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। তবে চীনের সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করার পর থেকে তিনি সরকারের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। পরে তিনি বাধ্য হয়ে হংকং ও লন্ডন হয়ে ২০১৭ সালে নিউইয়র্কে চলে যান।
এছাড়া চীনা কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, অপহরণ, ঘুষসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ এনেছিল। তবে আদালতে গুও দাবি করেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, গুও তার নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের জন্য শত শত মানুষকে রাজি করিয়েছিলেন। তাদের কাছ থেকে তিনি ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল তার গণমাধ্যম কোম্পানি জিটিভি মিডিয়া গ্রুপ ইনকরপোরেশন, হিমালয়া ফার্ম অ্যালায়েন্স এবং হিমালয়া এক্সচেঞ্জ।
সাজা ঘোষণার আগে আদালতে দাখিল করা নথিতে প্রসিকিউটররা আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক শিথিল আশ্রয় আইনের সুযোগ নিয়ে গুও দেশটিতে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেছিলেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, নিজের এসব অপরাধের জন্য গুও একেবারেই অনুতপ্ত নন।
৮১ দিন আগে
রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলির মামলার রায় ২৮ জুন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের জন্য আগামী ২৮ জুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট আসামি পাঁচজন।
সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন।
এদিন এ মামলায় দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। প্রথমেই আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। এ ঘটনার সঙ্গে তার মক্কেলের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষে মামলার পাঁচ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি চান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে, ১০ জুন পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার। জবানবন্দিতে এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে অভিযোগও আনেন তিনি। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি প্রথম ধাপে সাক্ষ্য দেন এই আসামি।
মামলায় চঞ্চল ছাড়া অন্যরা পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন—ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
গত ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু নতুন করে ডিজিটাল এভিডেন্স জমা দেওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া আমির হোসেনকে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়।
গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ৭ আগস্ট ফর্মাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
৯৬ দিন আগে
রামিসা হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকরে সহায়তা করবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার বহুল আলোচিত মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানি আইনানুগভাবে দ্রুত এগিয়ে আনতে সরকার সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার (৭ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও এই বিষয়টা সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনব এবং অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে বলব, যাতে রামিসা হত্যার এই ডেথ রেফারেন্স শুনানিটা আইনানুগভাবে কিছুটা এগিয়ে আনা যায়।’
আজ (রবিবার) ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বহুল আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মাত্র ১৭ দিনের বিচারিক কার্যক্রম শেষে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী বলেন, সরকারের নীতি হলো ভালো কাজের জন্য পুলিশকে পুরস্কৃত করা এবং ব্যর্থতার ক্ষেত্রে তিরস্কার করা। তবে বর্তমানে পুলিশ বাহিনীর অর্জন প্রশংসার দাবি রাখে।
তিনি বলেন, সমস্ত অগ্রগতিগুলো আমরা যেমন পুলিশকে পুরস্কৃত করব তাদের ভালো কাজের জন্য, তিরস্কারের সময় তিরস্কৃত করব। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের পুলিশ বাহিনীর যে অ্যাচিভমেন্ট (অর্জন), এগুলো প্রশংসার দাবি রাখে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার নৃশংস ঘটনায় সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ এবং চার্জশিট আদালতে দাখিল করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ড নিয়ে সারা দেশে একটা তোলপাড় অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল, জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে দ্রুততার সঙ্গে ডিএনএ টেস্ট করে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং চার্জশিট আদালতে দাখিল করেছি। খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে এই বিচারকার্য পরিচালনায় সহযোগিতা করেছি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঈদের ছুটির মধ্যেও আদালত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। আদালত তাদের ছুটি বাতিল করে কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তারা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সেটা করেছেন।
তিনি জানান, বিচার প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো অবিচার না হয়, সে জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর পাশাপাশি আসামিপক্ষের জন্যও আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল। এছাড়া চিকিৎসক ও পুলিশ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা সাক্ষ্য দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখানে আসামি দুইজন, ১৬৪ ধারায় তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে, ডিএনএ টেস্ট এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে মামলাটি প্রমাণ করা খুব বেশি কঠিন ছিল না। আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আদালত ন্যায়বিচার করেছেন, আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এবং পুলিশের গ্রেপ্তার ও তদন্ত কার্যক্রমের ইতিহাসে এটা একটি মাইলফলক। এভাবেই আমরা ইনশাআল্লাহ জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আশা করি, আমরা সকলের সহযোগিতা পাব।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে সেটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে শুনানি হতে হয়। সাধারণত পুরোনো মামলার শুনানি আগে এবং নতুন মামলার শুনানি পরে হয়। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও দেখা গেছে।
তিনি আরও বলেন, ডেথ রেফারেন্স শুনানির পর যদি মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে, তাহলে কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিলম্ব হবে না।
১০৪ দিন আগে