ফুটবল
ব্রাজিলের ৩-০ গোলের দাপুটে জয়, বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল হাইতি
ফিলাডেলফিয়ায় হাইতি জাতীয় ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের একটি দাপুটে জয় নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল। এই হারের ফলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল হাইতি, অন্যদিকে ব্রাজিলের গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হলো।
ব্রাজিলের হয়ে চমৎকার পারফর্ম করে দুটি গোল করেছেন মাথেউস কুনহা, আর ভিনিসিয়াস জুনিয়র করেছেন একটি গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট। ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া হাইতির চলতি আসর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিশ্চিত হলো।
এবারের বিশ্বকাপে দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথমার্ধে খেলতে নেমেই কুনহা দ্রুতই দলে তার অন্তর্ভুক্তির যৌক্তিকতা প্রমাণ করেন। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের হতাশাজনক ১-১ ড্রয়ের ম্যাচে তিনি বদলি হিসেবে নেমেছিলেন। আজকের ম্যাচে ভিনিসিয়াসের একটি শট হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিড ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বলে গোল করে ডেডলক ভাঙেন এই ফরোয়ার্ড।
প্রথমার্ধের শেষের দিকে ভিনিসিয়াসের একটি নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে বাম পায়ের জোরালো শটে বল টপ কর্নারে পাঠিয়ে ব্রাজিলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কুনহা। তার এই জোড়া গোল লিঙ্কন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে উপস্থিত ৬৮ হাজারেরও বেশি দর্শকের মাঝে থাকা বিপুলসংখ্যক ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের উল্লাসে ভাসিয়ে দেয়।
এর আগে, রাফিনহার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় এবং প্রথমার্ধেই তিনি চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। এই ধাক্কা সত্ত্বেও পুরো ম্যাচে আধিপত্য বজায় রাখে দক্ষিণ আমেরিকান দলটি।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ভিনিসিয়াস ব্রাজিলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন, যা ম্যাচের ভাগ্য কার্যত নির্ধারণ করে দেয়। সর্বশেষ ২০০২ সালে বিশ্বকাপ নেওয়া দলটি এবারের বিশ্বকাপে শিরোপার অন্যতম দাবিদার।
স্টেডিয়ামের ভেতরের পরিবেশ ছিল বেশ প্রাণবন্ত। হাইতির সমর্থকরা যখন তাদের ঐতিহ্যবাহী গান গাইছিলেন, তখন ব্রাজিলিয়ান ভক্তরা তাদের দেশের সমৃদ্ধ ফুটবল ইতিহাস উদযাপন করার পাশাপাশি কিংবদন্তি ফুটবল আইকন পেলের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছিলেন।
আগামী বুধবার ফ্লোরিডার মায়ামি গার্ডেন্সে স্কটল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিল তাদের গ্রুপ ‘সি’-এর মিশন শেষ করবে।
এদিকে, পায়ের পেশির (কাফ) চোটের কারণে তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও মাঠে নামতে পারেননি।
৮ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় ২ হাজার ফুট আর্জেন্টিনা পতাকা নিয়ে সমর্থকদের শোভাযাত্রা
ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় প্রায় ২ হাজার ফুট দীর্ঘ আর্জেন্টিনা পতাকা নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েক হাজার আর্জেন্টিনা সমর্থক অংশ নেন। এ সময় আকাশি-সাদা রঙে ছেয়ে যায় শহরের প্রধান সড়কগুলো।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের টাউন ফুটবল মাঠ থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। পরে শহিদ হাসান চত্বর (চৌরাস্তা মোড়), কোর্ট মোড়, কলেজ রোডসহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় টাউন ফুটবল মাঠে এসে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা সারিবদ্ধভাবে ২ হাজার ফুট দীর্ঘ আর্জেন্টিনা পতাকা বহন করেন। এ সময় প্রিয় দলের জার্সি, বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে স্লোগান দেন তারা। বিশ্বকাপের গান ও বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন সমর্থকরা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আর্জেন্টিনা সমর্থকদের এ আয়োজনের নেতৃত্ব দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কণ্ঠশিল্পী শান্ত আহমেদ, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার ক্রীড়া সম্পাদক সাংবাদিক শামসুজ্জোহা রানা, যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার জিসান আহমেদ এবং ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আদিব জোয়ার্দ্দার।
শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া আর্জেন্টিনা সমর্থক শেখ লিটন বলেন, চুয়াডাঙ্গায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সংখ্যা অনেক। বিশ্বকাপ এলেই আমরা সবাই একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করি। এবারও আমরা আশা করছি, আর্জেন্টিনা ভালো খেলবে এবং শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে থাকবে।
১১ দিন আগে
‘নীল হাঙ্গর’দের রক্ষণে কাটা পড়ল স্পেন
কাবো ভের্দে বা কেপ ভার্দ যে নামেই ডাকুন, ফুটবলের দুনিয়ায় দেশটির একটি ডাকনাম রয়েছে ‘তুবারোঁইস আসুইস’, বাংলায় যার অর্থ ‘নীল হাঙর’। তবে আক্রমণে নয়, রক্ষণাত্মক ফুটবল দিয়ে তারা শক্তিশালী স্পেনকে যে কামড় দিল, ফুটবলপ্রেমীরা তা মনে রাখবে বহু দিন।
পুরো ম্যাচের ৭৪ শতাংশ বলের দখল নিজেদের পায়ে রেখে মোট ২৭টি আক্রমণ শানাল বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় সেরা দল স্পেন। কিন্তু আকাঙ্ক্ষিত একটি গোলের দেখা পেল না কোনোভাবেই। ফলে অপ্রত্যাশিত গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ‘শিরোপার অন্যতম দাবিদার’ তকমা নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা লা রোহাদের।
প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়ে স্পেনের মতো দলের বিপক্ষে এই ফলাফল তাই কেপ ভার্দের জন্য জয়ের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। আর এই ঐতিহাসিক ফলাফলের কেন্দ্রে ছিলেন একজন মানুষ—৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক হোসিমার দিয়াস ভোসিনিয়া।
৫ লাখ ৩০ হাজার জনসংখ্যার দেশটির ফুটবল দলকে বিশ্বকাপে নিয়ে এসেছেন পেদ্রো লেইতিয়াও ব্রিতো ‘বুবিস্তা’। ৭০ বছর বয়সী বুবিস্তা কেন ২০২৫ সালে আফ্রিকার বর্ষসেরা কোচের পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, তার প্রমাণ তিনি দিলেন সবচেয়ে বড় মঞ্চেই। স্পেনের মতো পরাশক্তির বিপক্ষে এমন শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণাত্মক কৌশল সাজিয়ে তিনি কার্যত দাবার ছকে আটকে ফেলেন দে লা ফুয়েন্তেকে।
১২ দিন আগে
দুবার পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের গোলে ডাচদের রুখে দিল জাপান
বিশ্বকাপের মঞ্চে নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের মতো প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করে পরের ধাপে পৌঁছানো যে কতটা কঠিন তা বিবেচনায় নিয়ে শুরু থেকেই প্রস্তুত ছিল জাপান। নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তাদের পরিকল্পনা ছিল স্পষ্ট—ধৈর্য, শৃঙ্খলা আর সুযোগের অপেক্ষা। পুরো ম্যাচজুড়ে সেই পরিকল্পনাই নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করল এশিয়ার অন্যতম প্রতিনিধিরা। দুইবার পিছিয়ে পড়েও তাই ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ মুহূর্তে সমতায় ফিরে ডাচদের হতাশ করা ড্রয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে জাপান।
বাংলাদেশ সময় রবিবার (১৪ জুন) দিবাগত রাতে টেক্সাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে এফ গ্রুপের প্রথম ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে।
ম্যাচের সবগুলো গোলই এসেছে দ্বিতীয়ার্ধে। ৫১তম মিনিটে ভার্জিল ফন ডাইকের হেডারে নেদারল্যান্ডস এগিয়ে যাওয়ার ৬ মিনিট পর জাপানকে সমতায় ফেরান কেইতো নাকামুরা। তবে ৬৪ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করে ম্যাচে ফের এগিয়ে গিয়েছিল শক্তিমত্তা ও মাঠের পারফরম্যান্সে এগিয়ে থাকা ডাচরা। এর ৮৯ মিনিটে গোল করে দলকে সমতায় ফিরিয়ে জাপানের সমর্থকদের আনন্দে ভাসান দাইচি কামাদা।
ম্যাচের শুরু থেকেই নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিতে থাকে নেদারল্যান্ডস, অন্যদিকে মাথা ঠান্ডা রেখে ডাচ আক্রমণ রুখে দেওয়ায় মনোযোগী হয় জাপান। তবে তৃতীয় মিনিটে ডনিয়েল মালেনের শট থেকে ভালো একটি সুযোগ এসেছিল ডাচদের, অবশ্য গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকির নৈপুণ্যে শুরুতেই পিছিয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায় জাপান।
শুরুর দিকে নিজেদের অর্ধেই ব্যস্ত থাকতে হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে জাপান। ১৫তম মিনিটে দাইজেন মায়েদার নিচু ক্রস থেকে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেছিল তারা, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ডাচ রক্ষণ তা নস্যাৎ করে দেয়।
১৩ দিন আগে
দুধ-সেভেন আপ দিয়ে গোসল করে ব্রাজিল থেকে আর্জেন্টিনায় যোগদান
দেশজুড়ে ব্রাজিলের জার্সি পরিহিত অবস্থায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের খবর দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্রাজিলের সমর্থন ছেড়ে আর্জেন্টিনার সমর্থক হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বরিশালের এক শিক্ষার্থী।
রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের জিরো পয়েন্ট এলাকায় দুধ ও সেভেন আপ দিয়ে গোসল করে প্রতীকীভাবে ব্রাজিলের সমর্থন ত্যাগ করেন তাওহীদ ইসলাম। পরে উপস্থিত আর্জেন্টিনা সমর্থকরা তাকে নিজেদের সমর্থক হিসেবে বরণ করে নেন।
তাওহীদ ইসলাম বিএম কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।
তিনি বলেন, ‘খেলায় হার-জিত থাকবেই, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু দেশব্যাপী ব্রাজিলের জার্সি পরা চোর ধরা পড়ার ঘটনায় আমি মর্মাহত। শুধু চুরি নয়, ব্রাজিলের সমর্থক পরিচয়ে ইভটিজিংয়ের ঘটনাও ঘটছে। এসব কারণে আমার বান্ধবীরাও আমাকে নানা কথা বলে। তাদের কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে আমি দুধ দিয়ে গোসল করে ব্রাজিলের সমর্থন ত্যাগ করেছি এবং আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে যোগ দিয়েছি।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আকিবুল ইসলাম জানান, দুধ ও সেভেন আপ দিয়ে গোসল করার পাশাপাশি শপথবাক্য পাঠের মাধ্যমে তাওহীদ ইসলাম ব্রাজিলের সমর্থন ছেড়ে আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে যোগ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে আর্জেন্টিনা সমর্থক হিসেবে স্বাগত জানিয়েছি।’
ঘটনাটি ঘিরে এলাকাজুড়ে কৌতূহলের সৃষ্টি হয় এবং উপস্থিত অনেকেই বিষয়টিকে ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে মজার এক ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখেন।
১৩ দিন আগে
ঋণের টাকায় আর্জেন্টিনার রঙে গ্রাম রাঙালেন ঈশ্বরগঞ্জের ‘সুমন মেসি’
ফুটবলপ্রেমীরা প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে নানাভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তবে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের ভ্যানচালক সুমন গৌড় ওরফে ‘সুমন মেসি’ সেই ভালোবাসাকে নিয়ে গেছেন ভিন্ন মাত্রায়। স্ত্রীর নামে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তিনি আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে রাঙিয়েছেন নিজের গ্রাম, ঘরবাড়ি ও ভ্যানগাড়ি।
ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের দত্তপাড়া গ্রামের সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে বসবাস করেন সুমন গৌড়। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালানো এই আর্জেন্টিনা সমর্থক আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সম্প্রতি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন। সেই অর্থে তিনি প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রচারে নেমেছেন।
নিজের ঘর ও একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম ভ্যানগাড়িকে আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে সাজানোর পাশাপাশি এলাকায় টানিয়েছেন বড় আকারের ১৬টি আর্জেন্টিনার পতাকা। কিনেছেন আর্জেন্টিনার রঙের জার্সি, এমনকি লুঙ্গিও।
১৪ দিন আগে
বিটিভিতে বিশ্বকাপ সম্প্রচারে ৭২.৭১ কোটি টাকায় মিডিয়া স্বত্ব কিনছে সরকার
বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের জন্য বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফার কাছ থেকে ‘অল মিডিয়া রাইটস’ কিনছে সরকার। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশও করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
রবিবার (৭ জুন) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৫তম বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উত্থাপিত এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শেষে সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ফিফার কাছ থেকে ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬-এর অল মিডিয়া রাইটস সংগ্রহের জন্য বিটিভির প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। এ জন্য মোট চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭২ কোটি ৭০ লাখ ৫৭ হাজার ৬৯২ টাকা।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং টুর্নামেন্টটির বাণিজ্যিক ও সম্প্রচারস্বত্বের মালিক ফিফাকে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় সরবরাহকারী হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।
এর আগে, প্রস্তাবটি নিয়ম অনুযায়ী অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদন পেয়েছিল। কমিটির মতে, বিশ্বকাপের সম্প্রচার ও মিডিয়া স্বত্বের একচ্ছত্র মালিক হওয়ায় ফিফার কাছ থেকেই সরাসরি এই স্বত্ব সংগ্রহ করা সম্ভব।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অল মিডিয়া সম্প্রচারস্বত্ব অর্জনের ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভি তাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬-এর ম্যাচ ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে পারবে। এর মাধ্যমে দেশের ফুটবলপ্রেমীরা আরও সহজে বিশ্বকাপ উপভোগের সুযোগ পাবেন।
এ বছরের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। এবারই প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল বিশ্বকাপে অংশ নেবে।
২০ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ বর্জন আন্দোলনে এবার সাবেক ফিফা সভাপতি
গ্রিনল্যান্ড দখলের পায়তারা, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং অভিবাসন নীতির ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের মতো কিছু কারণে সম্প্রতি সমালোচিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ধারাবাহিকতায় দেশটিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ বর্জনে আন্দোলন শুরু হয়েছে। সেই আন্দোলনে এবার যোগ দিয়েছেন সাবেক ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটার।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ ম্যাচ বর্জনের প্রস্তাবে সমর্থন দেন ব্লাটার। ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আচরণের প্রতিবাদেই এই বর্জনের ডাক দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে ব্লাটার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাগতিক দেশ হওয়ার উপযুক্ততা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে সুইস পত্রিকা ডেয়ার বুন্ড-এ দেওয়া মার্ক পিয়েথের মন্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত বিশ্বকাপ বর্জনের আহ্বান জানান তিনি।
হোয়াইট-কলার অপরাধ (ক্ষমতাসীনদের পেশাগত অবস্থান ব্যবহার করে করা অপরাধ) বিশেষজ্ঞ ও দুর্নীতিবিরোধী সুইস আইনজীবী মার্ক পিয়েথ এক দশক আগে ফিফা সংস্কারের স্বাধীন গভর্ন্যান্স কমিটির তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে, ১৯৯৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ফিফার সভাপতি ছিলেন ব্লাটার। তবে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের মুখে পদত্যাগ করেছিলেন তিনি।
ডেয়ার বুন্ড-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিয়েথ বলেন, ‘আমরা যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি, সবকিছু বিবেচনায় নিলে ভক্তদের জন্য একটাই পরামর্শ—যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে থাকুন! টেলিভিশনে দেখলেই ভালো। আর সেখানে পৌঁছালে ভক্তদের ধরে নিতে হবে, কর্মকর্তাদের মনঃপূত না হলে সরাসরি পরের ফ্লাইটেই দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে—যদি তারা ভাগ্যবান হন।’
এক্স পোস্টে ব্লাটার পিয়েথের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ‘এই বিশ্বকাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় মার্ক পিয়েথ সঠিক বলেই আমি মনে করি।’
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র।
আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে উদ্বেগের কারণ হিসেবে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড ঘিরে দখরদারি অবস্থান, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং অভিবাসন নীতির প্রয়োগবিরোধী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী কৌশলের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরেও এসব নিয়ে বিক্ষোভ হচ্ছে।
জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতিদ ওকে গ্যোটলিখ শুক্রবার হামবুর্গার মর্গেনপোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, বিশ্বকাপ বর্জনের বিষয়টি এখন গুরুত্বের সঙ্গে ভাবার সময় এসেছে।
সপ্তাহ দুয়েক আগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের ওপর ভিসা নেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে আফ্রিকা মহাদেশের অধিকাংশ দেশের ওপর নেমে আসে এই ‘ভিসা বন্ড’ নীতির খড়গ। এতে করে সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের মতো ফুটবল অঙ্গনের প্রভাবশালী দুই দেশের ভক্তদের বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ পরিকল্পনা এলোমেলো হয়ে যায়। ওই দুই দেশের নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশ্বকাপ উপলক্ষে ভ্রমণের বিষয়ে দেশদুটির নাগরিকদের বলা হয়েছে, আগে থেকে ভিসা না থাকলে নতুন করে কেউ ভিসা পাবে না।
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করলেও একই ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে ইরান ও হাইতির নাগরিকদেরও। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত প্রথম দফার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় এই দুই দেশও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
১৫১ দিন আগে
অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপ: বাছাইপর্বে লাওসের বিপক্ষে জয় পেল বাংলাদেশ
এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক লাওসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে জয়ের সূচনা করেছে বাংলাদেশ।
বুধবার (৬ আগস্ট) ভিয়েনতিয়েনের নিউ লাওস জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ এই পর্বে তাদের প্রথম ম্যাচের শুরুতেই আধিপত্য বিস্তার করে এবং ফরোয়ার্ড মোসাম্মৎ সাগরিকার জোড়া গোল ও মিডফিল্ডার মুনকি আক্তারের গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
মাত্র ১৭ বছর বয়সী সাগরিকা সম্প্রতি সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। এই ম্যাচেও তার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন।
ম্যাচের ৩৬ মিনিটের মাথায় শান্তি মার্ডির কর্নার থেকে হেড করে গোল করে তিনি প্রথম গোলটি করেন। পরে ৫৮ মিনিটে গিয়ে তৃষ্ণা রানীর কাছ থেকে সময়োপযোগী পাস পেয়ে শান্তভাবে গোল করেন মুনকি।
ম্যাচটি ৮৬ মিনিটে গড়ালে লাওস একটি গোল করে রক্ষণাত্মক দুর্বলতা কাজে লাগায়। তবে কিন্তু সাগরিকা আবারও নিজের দলের জয় নিশ্চিত করেন।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে লাওস ২১ ধাপ এগিয়ে (বাংলাদেশের ১২৮ নম্বরের বিপরীতে ১০৭ পয়েন্ট) থাকা সত্ত্বেও, বাংলাদেশই বলের নিয়ন্ত্রণ করে এবং আরও বেশি সুযোগ তৈরি করেছে।
এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের ১৩টি বাছাইপর্বের মধ্যে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় জয়।
বাংলাদেশ পরবর্তীতে পূর্ব তিমুর-লেস্টের মুখোমুখি হবে। অন্যদিকে পূর্ব তিমুর-লেস্টের বিপক্ষে ৯-০ গোলে জয়ী দক্ষিণ কোরিয়া গোল ব্যবধানে গ্রুপে শীর্ষে থাকবে। গ্রুপ বিজয়ী এবং আটটি গ্রুপের সেরা তিন রানার্সআপ দল ২০২৬ সালে ফাইনাল রাউন্ডে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে।
৩২৫ দিন আগে
নিকো, লুইসকে না পেয়ে র্যাশফোর্ডকে দলে টানছে বার্সেলোনা
নিকো উইলিয়ামসকে নিয়ে কম নাটক হয়নি। কিন্তু শেষমেষ তাকে না পেয়ে লুইস দিয়াসকে দলে টানতে মরিয়া হয়েছিলেন বার্সেলোনার স্পোর্টিং ডিরেক্টর দেকো। তার মধ্যেই সবাইকে অবাক করে দিয়ে মার্কাস র্যাশফোর্ডকে দলে ভেড়ানোর খবর চাউর হয়েছে।
ইংলিশ ফুটবলের দলবদল-সংক্রান্ত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সাংবাদিক ডেভিড অর্নস্টাইন জানিয়েছেন, এক মৌসুমের জন্য র্যাশফোর্ডকে ধারে পেতে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে প্রস্তাব দিয়েছিল বার্সেলোনা। রুবেন আমোরিমের দলে ব্রাত্য এই উইঙ্গারের জন্য প্রস্তাবটি প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করেছে ইউনাইটেড। আলোচনা একেবারে শেষ পর্যায়ে, এখন কয়েকটি বিষয় সমাধানে শেষ মুহূর্তের আলোচনা চলছে।
বার্সেলোনায় এলে র্যাশফোর্ডের বেতনের পুরোটাই বহন করবে বার্সেলোনা। সেইসঙ্গে আগামী মৌসুমে যদি তাকে স্থায়ীভাবে কিনে রেখে দিতে চায়, তবে ৩৫ মিলিয়ন ইউরোর মতো গুনতে হতে পারে ক্লাবটিকে। অন্তত বার্সেলোনার সংবাদ কভার করা ইতালিয়ান সাংবাদিক মাত্তেও মোরেত্তো তেমনই বলেছেন।
এদিকে, ট্রান্সফার গুরু ফাব্রিৎসিও রোমানোও ‘হেয়ার উই গো’ বলে র্যাশফোর্ড-বার্সা দলবদলের বিষয়টি নিশ্চিত করে দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: বার্সেলোনাসহ ৫ ইউরোপীয় ক্লাবকে বড় অঙ্কের জরিমানা
রোমানো জানিয়েছেন, আজ রবিবার অথবা আগামীকালই ইংল্যান্ড থেকে কাতালুনিয়ায় পৌঁছাবেন ২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার। এরপর শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে আগামী সপ্তাহ, অর্থাৎ সোমবার থেকে যেকোনো দিন তার দলবদলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে বার্সেলোনা।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে কাতালান ক্লাবটির প্রাক-মৌসুম সফরেও সঙ্গী হবেন র্যাশফোর্ড।
এদিকে, আর্থিক জটিলতার কারণে এখনও ১:১ নিয়মে ফিরতে পারেনি বার্সেলোনা। কয়েকদিন আগে এস্পানিওল থেকে দলে ভেড়ানো তরুণ গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়ারই এখনও লা লিগায় নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারেনি ক্লাবটি। ফলে র্যাশফোর্ডের নিবন্ধনেও সময় লাগবে। তবে বার্সেলোনায় খেলতে সমস্ত অনিশ্চয়তা দূরে ঠেলে প্রস্তাব আসার সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হয়ে যান তিনি।
এর আগে গত মৌসুমের জানুয়ারির দলবদলের সময়ও বার্সেলোনায় আসার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন র্যাশফোর্ড। সে সময় নিজের প্রতিনিধিকে দিয়ে ক্লাবটির কাছে প্রস্তাবও পাঠিয়েছিলেন তিনি। তবে তখন শেষ পর্যন্ত তাকে দলে টানেনি কাতালানরা।
এরপর মৌসুমের বাকি সময়ের জন্য ধারে উনাই এমেরির অ্যাস্টন ভিলায় যান তিনি। সেখানে ঘরোয়া ও ইউরোপা লিগে নিজের প্রতিভার সাক্ষর রাখেন র্যাশফোর্ড। সেইসঙ্গে ১৭ ম্যাচে ১০ গোলে অবদান রাখেন (৪ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট)।
তবে এপ্রিল মাসে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায় আগেভাগেই তার মৌসুম শেষ হয়ে যায়। শেষ চার ম্যাচে ভিলানদের হয়ে খেলতে পারেননি তিনি। এমনকি ইংল্যান্ড জাতীয় দলের জন্য অ্যান্ডোরা ও সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য থমাস টুখেলের ঘোষিত স্কোয়াডেও জায়গা হয়নি তার।
ইউনাইটেডের সর্বোচ্চ আয়ের খেলোয়াড়দের একজন র্যাশফোর্ড। তার সাপ্তাহিক বেতন ৩ লাখ ৮০ হাজার ইউরোরও বেশি। এই বেতনের তিন-চতুর্থাংশ পরিশোধ করে ভিলা। এর পাশাপাশি পারফরম্যান্সভিত্তিক বোনাসও দিয়েছে ক্লাবটি।
এ বছরের শুরুতে বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক বলেছিলেন, তিনি লামিন ইয়ামাল ও রাফিনিয়ার পাশাপাশি উইংয়ে আরও খেলোয়াড় চান। বিকল্প না থাকায় মৌসুমের শেষভাগে এসে খানিকটা ভুগতেও হয়েছে দলটিকে।
আরও পড়ুন: নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে লা লিগার শিরোপা পুনরুদ্ধার বার্সেলোনার
এরপর মৌসুম শেষ হলে আথলেতিক বিলবাউয়ের তরুণ প্রতিভা নিকো উইলিয়ামসের প্রসঙ্গটি আরও একবার সামনে আসে। কিন্তু শুরুতে বার্সেলোনা সাফ জানিয়ে দেয়, নিকোর জন্য অপেক্ষা করে গত বছরই ছেড়ে গেছে বার্সেলোনার ট্রেন।
তবে নিজেই এবার প্রতিনিধিকে দিয়ে বার্সায় খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেন নিকো। সেইসঙ্গে ব্লাউগ্রানা জার্সি পরতে প্রয়োজনে গতবার বার্সেলোনার প্রস্তাবিত বেতনের চেয়েও কম নিতে রাজি বলে জানান তিনি। এমনকি বায়ার্ন মিউনিখ তাকে অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি বেতনের প্রস্তাব দিলেও বার্সেলোনায় খেলার আগ্রহ থেকে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
বাঁ উইংয়ে তার শক্তি ও তীব্র আগ্রহ বিবেচনায় আর্থিক বিষয়গুলো নিয়ে নড়েচড়ে বসে বার্সা কর্তৃপক্ষ। নিকোর রিলিজ ক্লসের ৬০ মিলিয়ন ইউরো জোগাড়ও শুরু করে তারা। শেষ পর্যন্ত যখন বিলবাউয়ের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হবে, তখনই সবাইকে অবাক করে দিয়ে ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে নেন তিনি।
পরে অবশ্য জানা যায়, বিলবাউকে ট্রান্সফারের অর্থ পরিশোধ করলেও নিজের নিবন্ধনের বিষয়টি নিয়ে লিখিত নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন নিকো। কিন্তু বার্সেলোনা তা দিতে অস্বীকৃতি জানালেও তিনি মৌসুমের শুরু থেকেই দলের সঙ্গে খেলবেন বলে মৌখিক নিশ্চয়তা দিয়েছিল। তবে তাতে আশ্বস্ত হতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে, নিজের বড় ভাই ইনিয়াকি উইলিয়ামস এবং ক্লাবের পক্ষ থেকে তাকে বারবার নতুন চুক্তিতে সই করতে চাপ দেওয়া হচ্ছিল।
নিকোর সঙ্গে হওয়া তিক্ত অভিজ্ঞতার পর নিজের প্রথম পছন্দ লিভারপুলের কলম্বিয়ান তারকা লুইস দিয়াসের দিকে দৃষ্টি দেন দেকো। তার জন্য উঠেপড়ে লাগে বায়ার্নও। কিন্তু দুই ক্লাবের প্রাথমিক প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যান করে লিভারপুল। এরপর কয়েক দফায় বায়ার্ন অর্থের পরিমাণ বাড়ালেও তাতে এখনও রাজি হয়নি ইংলিশ লিগ চ্যাম্পিয়নরা। এই অবস্থা এবং নিজেদের আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দিয়াসের দিক থেকে মুখ ফেরায় বার্সেলোনা।
আরও পড়ুন: এমবাপ্পের হ্যাটট্রিক ম্লান করে মৌসুমের শেষ এল ক্লাসিকোও জিতল বার্সেলোনা
শেষ পর্যন্ত গত সপ্তাহে নাকি ৬০ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত দিতে রাজি হয়েছিল কাতালান ক্লাবটি। তবে স্বাভাবিকভাবেই ৯০ মিলিয়ন ইউরো চাওয়া লিভারপুলের কাছে সেটি পাত্তা পায়নি। তাই দীর্ঘদিন ধরে নিজের স্বপ্নের ক্লাবে খেলতে চাওয়া ইংলিশ প্রতিভাকেই দলে ভেড়াচ্ছে বার্সেলোনা।
এই চুক্তি কার্যকর করায় বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিকের ভূমিকা ছিল বলে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। জার্মান এই কোচের অধীনে একেকটি দানবে পরিণত হয়েছে দলটির তরুণ ফুটবলাররা। আনসু ফাতি ছাড়া বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই ফর্মের তুঙ্গে রয়েছেন।
ফলে ফ্লিকের তত্ত্বাবধায়নে আসন্ন বিশ্বকাপের আগে নিজের হারানো ফর্ম ফিরে পাবেন, সঙ্গে স্বপ্নের ক্লাবে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে থেকে যাবেন বহু বছর—র্যাশফোর্ডের পাশাপাশি এই প্রত্যাশায় বুক বেঁধেছেন বার্সেলোনার কোটি সমর্থক।
৩৪৩ দিন আগে