চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৪
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শনিবার (৯ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ফোর সিজন এলাকায় দুই যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— মুহাম্মদ নাইম (২৩), নাইমুর ইসলাম জিহাদ (২৪), রেহানা বেগম ও মনির আহমদ (২৫)। নিহত জিহাদ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ—বিজিবির সদস্য বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মদ মাসুম (৩০), আরাফাত (২২), দ্বীপ দত্ত (৩০) ও রিয়াজসহ (২৮) আরও অনেকে। গুরুতর আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অনেকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে। কয়েকজনের হাত-পা ভেঙে গেছে এবং গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে।
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অর্থোপেডিক্স বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. তাসফিক আহমেদ জানান, দুর্ঘটনায় আহত ৭ জনকে ট্রমা সেন্টারে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতিতে আসা দুটি বাস ফোর সিজেন এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের বিকট শব্দে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।
দুর্ঘটনায় আহত আরাফাত জানান, তারা মারছা পরিবহনের একটি বাসে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে একটি বিষয় নিয়ে বাসচালক মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। এরপরও একই চালক বাস চালাতে থাকেন। একপর্যায়ে কুয়াকাটা সড়ক এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একই কোম্পানির আরেকটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে তার দুই বন্ধু নিহত হন।
দোহাজারি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দীন চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকলেও পরে পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
১৫ ঘণ্টা আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— গোপীনাথপুর ইউনিয়নেন ধজনগরের বাতেনবাড়ি গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে মোরছালিন। তিনি গোপীনাথপুর শাহআলম ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অপরজন মধুপুর গ্রামের নবীর হোসেন (৪০)।
মরদেহ দুটি আগরতলার বিজিবি হাসপাতালে রয়েছে বলে নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
একই ঘটনায় বাংলাদেশি একাধিক তরুণ আহত হন। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চিকিৎসার জন্য তাদের কুমিল্লায় নেওয়া হয়েছে।
নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন চোরাকারবারী রাতে মোরছালিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে নিয়ে যায়। একই সময়ে নবীর হোসেনসহ কয়েকজন ওই সীমান্ত এলাকায় যান। এ সময় বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি করলে ঘটনাস্থলে মোরছালিন নিহত হন। পরে তার মরদেহ ভারতে নিয়ে যায় বিএসএফ। আহত নবীর হোসেনকেও ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সবুর জানান, সীমান্তে গুলিতে দুজন মারা যাওয়ার খবর পেয়েছেন। এর মধ্যে নবীর হোসেনের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।
নবীর হোসেনের ছেলে মো. তপন জানান, তার বাবা সন্ধ্যা থেকেই বাড়িতে ছিলেন না। তিনি সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার পর বিএসএফ গুলি করে তাকে নিয়ে যায়। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে তিনি জানান।
ধজনগর গ্রামের রিপন পাঠান বলেন, ‘আমি যতটকু জানি, রাতে ২০-২৫ জনের একটি দল কাটাতারের সামনে যায়। এ সময় তাদের লক্ষ্য করে বিএসএফ গুলি করলে মোরছালিন গুলিবিদ্ধ হয়। বাকিরা আহত হয়ে পালিয়ে যায়। মোরছালিন এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন বলে তার বড় ভাই আমাকে জানিয়েছেন।'
এ বিষয়ে চণ্ডিদ্বার বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো. মুইনুদ্দিন জানান, আমরা একজন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম জানান, বিএসএফের গুলিতে একজন মারা যাওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।
১৮ ঘণ্টা আগে
খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ সদস্যকে গুলি করে হত্যা
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় মো. ইমন হোসেন (২৫) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইমন হোসেন পানছড়ি উপজেলার মোহাম্মদপুর এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ সকালে নিজ বাড়ির সামনে হাঁটাহাটি করার সময় একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। ঘটনার পর হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর খাগড়াছড়ি সংগঠক অমর চাকমা দাবি করেছেন, নিহত ইমন তাদের সহযোগী সদস্য হিসেবে কাজ করতেন। এ হত্যাকাণ্ডের জন্য তিনি প্রসিতপন্থি ইউপিডিএফকে দায়ী করেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার এবং তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
২ দিন আগে
কক্সবাজারে লাবণী পয়েন্ট থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্ট এলাকা থেকে এক অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সমুদ্র সৈকত-সংলগ্ন ড্রিংকস কর্নারের সামনে একটি দোকানের মেঝে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পর্যটন করপোরেশনের ড্রিংকস কর্নার-সংলগ্ন একটি লাইব্রেরি ও ফার্স্টফুড দোকানের মেঝেতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছমি উদ্দিন জানান, নিহত নারীর পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। তার বয়স নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৩ দিন আগে
রাঙ্গামাটিতে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা জারি
রাঙ্গামাটিতে জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দলটির পদবঞ্চিত ও বর্তমান কমিটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত রাঙ্গামাটি জেলা কমিটি বাতিলের দাবিতে সোমবার (৪ মে) দুপুর থেকে পদবঞ্চিতরা বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন।
অন্যদিকে, পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে নবনির্বাচিত কমিটির অনুসারীরা আনন্দ মিছিল বের করার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে নবনির্বাচিত কমিটির সমর্থকরা পদবঞ্চিত কর্মীদের হটিয়ে বিএনপি কার্যালয় দখলে নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিএনপি কার্যালয়ের আশপাশ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়ন রয়েছে।
রাঙ্গামাটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন জানান, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরের পৌরসভা এলাকা থেকে বনরুপা পর্যন্ত ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে বলে জানান তিনি।
৫ দিন আগে
কচুয়ায় সড়কে নিম্নমানের কার্পেটিং, ৫ দিনের মধ্যেই দেখা দিয়েছে গর্ত
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর সংস্কার কাজ শুরু হলেও মাত্র ৫ দিনের মাথায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, ফলে জনদুর্ভোগ কমার বদলে বেড়েছে ঝুঁকি ও আতঙ্ক।
কচুয়া ফায়ার সার্ভিস থেকে উপজেলার কাশিমপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি কচুয়া, মতলব, হাজীগঞ্জসহ রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। গুরুত্বপুর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টাই শত শত যানবাহন চলাচল করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে চলমান এই সংস্কারকাজে কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব খুবই কম রাখা হয়েছে। নিম্নমানের পাথর, ইট ও নামমাত্র বিটুমিন ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ করছেন ঠিকাদার। অনেক স্থানে বিটুমিন বা ইটের খোয়া ছাড়াই সরাসরি মাটির ওপর পাথর ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে কাজ শেষ হওয়ার আগেই পাথর উঠে গিয়ে আগের মতোই গর্ত তৈরি হচ্ছে।
বিশেষ করে কচুয়া পৌরসভার পলাশপুর, ফায়ার সার্ভিস-সংলগ্ন এলাকা, কান্দারপাড়, বালিয়াতলী, চকমাহমুদপুর, গুলবাহার বাজার এবং সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সামনে সড়কটির অবস্থা সবচেয়ে নাজুক, যা এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল হোসেন ও আবুল হোসেন অভিযোগ করেন, দায়সারাভাবে সড়কের কাজ করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কোনো তদারকি নেই। কাজ দেখলেই বোঝা যায়, এই রাস্তা টিকবে না।
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক বিল্লাল হোসেন, প্রবীণ চালক ফারুক মিয়া এবং প্রাইভেট কারচালক লিটন গাজী বলেন, ভেবেছিলাম রাস্তা ঠিক হলে ভোগান্তি কমবে, কিন্তু ৫ দিনের মধ্যেই পাথর উঠে গর্ত হয়ে গেছে। এখন গাড়ি চালানো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে রাতের বেলায় আতঙ্ক বেড়ে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারকে অনিয়মের বিষয়টি বারবার জানানো হলেও তিনি কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তদারকি কর্মকর্তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট তদারককারী প্রকৌশলী আবু হানিফের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, সড়কটি মেরামতের জন্য এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক অর্থ বরাদ্দ হয়নি। জনদুর্ভোগ কমাতে একজন ঠিকাদার দিয়ে সাময়িকভাবে সংস্কারকাজ চালানো হচ্ছে এবং বরাদ্দ পাওয়া গেলে পরে তাকে অর্থ দেওয়া হবে।
তবে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
কচুয়া থেকে হাজীগঞ্জ ও মতলব উপজেলার সংযোগকারী এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সুরমা পরিবহনের বাস, মালবাহী ট্রাকসহ অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। দ্রুত সঠিক মান বজায় রেখে সড়কটি সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
৫ দিন আগে
হাট থেকে আনা শ্রমিকের হাতে প্রাণ গেল গৃহকর্ত্রীর
কুমিল্লার চান্দিনায় সমীরণ বেগম (৬৮) নামে ঘুমন্ত এক নারীকে শ্বাসরূদ্ধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ধান কাটার শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। হত্যার পর নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে তারা পালিয়ে গেছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীর স্বজনদের।
রবিবার (৩ মে) সকালে চান্দিনা উপজেলার শুহিলপুর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। চান্দিনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সমীরণ বেগম শুহিলপুর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের আবদুল বাতেন মোল্লার স্ত্রী ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৭ এপ্রিল বিকেলে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার শ্রমিকের হাট থেকে ৪ জন ধান কাটার শ্রমিক ভাড়া করেন সমীরণ বেগমের পরিবার। গতকাল (শনিবার) একজন শ্রমিক তাদের পরিবারের একটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান। এরপর বাকি তিন শ্রমিক রাতে আরও একজনকে ভাড়া আনেন। এরপর তারা আবদুল বাতেন মোল্লার বসতঘরের একটি কক্ষে রাত্রিযাপন করেন। পাশের কক্ষে বৃদ্ধা সমীরণ বেগম ও অপর পাশের কক্ষে তার স্বামী আবদুল বাতেন মোল্লা ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু সকালে হাত-পা বাঁধা ও গলায় পর্দার কাপড় প্যাঁচানো অবস্থায় সমীরণ বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের ছেলে বশির মোল্লা জানান, প্রতিদিন ভোরে উঠে মা ফজরের নামাজ আদায় করতেন। শ্রমিকরাও খুব সকালে উঠে কাজ শুরু করতেন। আজ (রবিবার) সকালে আমরা ঘুম থেকে উঠে দেখি, শ্রমিকরা নেই। এরপর মায়ের কক্ষে গিয়ে দেখি, উনার হাত-পা বাঁধা এবং গলায় পর্দার কাপড় পেঁচিয়ে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা শ্রমিকদের নাম-পরিচয় সম্পর্কে কিছুই জানি না। শুধু জানতাম, তাদের বাড়ি চাঁদপুর ও ঢাকা জেলায়। আমার মায়ের হত্যার বিচার চাই আমি।
শুহিলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন সরকার বলেন, বাতেন মোল্লা আমাদের এলাকার বেশ সম্পদশালী ব্যক্তি। এক ছেলে ও তিন মেয়ে তার। প্রতি বছর ক্যান্টনমেন্ট হাট থেকে শ্রমিক এনে কাজ করান তিনি। প্রতিবারের মতো এবারও শ্রমিক আনার পর শ্রমিকরা তার স্ত্রীকে শ্বাসরূদ্ধ করে হত্যার পর নগদ প্রায় ৭০ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও অনেক মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে আমরা ওই বাড়িতে গিয়ে পুলিশকে খবর দেই।
এ বিষয়ে চান্দিনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে শ্রমিকরাই ওই বৃদ্ধাকে হত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমল্লিা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক করতে পুলিশ কাজ করছে।
৬ দিন আগে
লক্ষ্মীপুরে দাফনের ১৪ মাস পর কৃষকদল নেতার মরদেহ উত্তোলন
লক্ষ্মীপুরে দাফনের প্রায় ১৪ মাস পর কবর থেকে শাহাদাত হোসেন পরাশ নামে এক কৃষকদল নেতার মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। পরাশ ২০২৫ সালের ৭ মার্চ চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ মোস্তানগর এলাকায় মারা যান।
রবিবার (৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার তেরবেকি এলাকার পারিবারিক কবরস্থান থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। তার স্ত্রী শেফালি বেগম শেপুর করা মামলার তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্তের জন্য আদালতের নির্দেশনায় তার মরদেহ উত্তোলন করা হয়।
পরাশ জেলা কৃষকদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সমসেরাবাদ এলাকার মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে ছিলেন।
শেফালি বেগম বলেন, প্রবাস থেকে এসে বন্ধুকে নিয়ে মাটি খনন যন্ত্র ভেকু মেশিন কিনতে চট্টগ্রাম গিয়ে মারা যান পরাশ। ঘটনার সময় পরাশের কাছে ১০ লাখ টাকা ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, পরাশের সঙ্গে থাকা ওই ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতে অভিযুক্ত মোহন তাকে হত্যা করেন। পরাশ ও মোহনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল।
এ সময় লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন ও সদর হাসপাতালের মেডিকেল কর্মকর্তা আরমান হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন বলেন, নিহতের মরদেহ উত্তোলন করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে সেটি পুনরায় দাফন করা হবে।
৬ দিন আগে
কুমিল্লায় বিএনপি নেতা আটকের ঘটনায় থানা ঘেরাও
কুমিল্লার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুমকে আটক করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করছেন তার নেতা-কর্মীরা।
রবিবার (৩ মে) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর শাসনগাছা এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
এদিকে, রেজাউল কাইয়ুমের আটকের খবরে তার অনুসারী নেতা-কর্মীরা থানা ঘেরাও করেছেন। তার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে তাদের।
কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
এ ঘটনাকে ঘিরে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় পুলিশের বাড়তি সতর্কতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে।
তবে তাকে কী কারণে আটক করা হয়েছে, পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে তা প্রকাশ করা হয়নি।
৬ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাকা ধান তলিয়ে যেতে দেখে লুটিয়ে পড়লেন কৃষক, পরে মৃত্যু
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পানির নিচে পাকা ধান ডুবে যেতে দেখে জমির আইলে লুটিয়ে পড়ে আহাদ মিয়া (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২ মে) উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের হরমুজ আলীর ছেলে ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, কৃষক আহাদ এবার বোরো মৌসুমে ঋণ করে ছয় বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছিলেন। পাকার সময়ে হঠাৎ ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সব ধান পানিতে তলিয়ে যায়। সকালে শ্রমিক নিয়ে জমিতে ধান কাটতে গিয়ে পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে লোকজন তাকে অচেতন অবস্থায় বাড়িতে আনার সময় তিনি মৃত্যুবরণ করেন বলে জানান তারা।
স্থানীয় ইউপি (ইউনিয়ন পরিষদ) সদস্য আহামেদ আলী বলেন, চোখের সামনে সব শেষ হয়ে যেতে দেখে মানুষটা সহ্য করতে পারেননি।
নিহত কৃষকের ভাতিজা মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ জানান, আজ (শনিবার) দুপুরে আহাদ মিয়ার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান আহমেদ জানান, একজন কৃষকের মৃত্যুর খবর শুনে ঘটনাস্থলে আমাদের এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে নিহতের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন বলেন, একজন কৃষকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। কৃষি কর্মকর্তাকে সরেজমিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে প্রকৃত কৃষকদের প্রণোদনার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
৬ দিন আগে