রংপুর
ঠাকুরগাঁওয়ে শতভাগ ফেল ৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত
চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করতে পারেনি কোনো শিক্ষার্থী। এ বছর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে শতভাগ ফেল করা এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৮টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঠাকুরগাঁও জেলায়।
এমন ফল বিপর্যয়ের পর তদন্ত সাপেক্ষে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলছে জেলা শিক্ষা বিভাগ।
শতভাগ ফেল করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি হলো— সদর উপজেলার আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, অনভারডিঘি উচ্চ বিদ্যালয়, মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তেওয়ারিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় এবং হরিপুর উপজেলার রামপুর ভাতুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়গুলোর যথাক্রমে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল: ৪ জন, ৭ জন, ৫ জন, ৫ জন ও ৩ জন।
এই ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২৪ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকেই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাশের হার শূন্য।
তবে ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে দারিদ্র্য, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত স্কুলে উপস্থিতি, বাল্যবিবাহসহ জোর করে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াকে দায়ী করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
সদর উপজেলার আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকি জানান, ১৯৯৫ সালে এমপিওভুক্তির পর থেকে এ প্রতিষ্ঠানে এখন পর্যন্ত ১১ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ার কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীরা যেমন অমনোযোগী, ঠিক তেমনি শিক্ষকদেরও গাফিলতি রয়েছে বলে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, অনেক শিক্ষক সময়মত ক্লাসে উপস্থিত থাকেন না। এ ছাড়াও যেসব শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়ার মতো নয়, তারাও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা দেওয়ায় এমন ফল হয়েছে।
মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ জানান, আমাদের এখানে এবারই প্রথম শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। আমাদের এখানকার শিক্ষার্থীরা একটু বড় হতে না হতেই তাদের পরিবার থেকে বিয়ে দিয়ে দেয়। ফলে ভালো শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ে। দারিদ্র্যের কারণেই অভিভাবকরা এমন সিদ্ধান্ত নেন।
এ ছাড়াও এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো ভালো ভবন নেই; বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ল্যাব নেই বলেও জানান তিনি।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিন আকতার জানান, গতবার যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খারাপ রেজাল্ট করেছিল, তাদের আমরা সঠিক পরামর্শ দিয়েছি এবং তা কাজে লেগেছে। এবারও আমরা তাই করব। প্রয়োজনে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫ ঘণ্টা আগে
দিনদুপুরে লুট করা গরু দিয়ে আ. লীগ নেতাদের ভূরিভোজ
রংপুরের পীরগাছায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে চার দিনমজুরের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছয়টি গরু, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও ঘরের আসবাবপত্র লুট করার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
রবিবার (৯ আগস্ট) রাতে উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের দামুরস্বর গ্রামে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এ তাণ্ডব চালানো হয় বলে স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, ছাওলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও পাওটানাহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পশুচিকিৎসক রেজাউল করিম, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুকুল মিয়া এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব হোসেনের নেতৃত্বে ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলা হলে নিরাপত্তার খাতিরে বাড়ির লোকজন সরে গেলে ঘরের ফ্রিজ, আসবাবপত্র, সেচযন্ত্র, মোটর ও টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর ও লুট করা হয়। পরে প্রায় ২০০ গজ দূরে সৈয়দ আলী, এরশাদ আলী ও রুবেল মিয়ার বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। সেখানে আটটি ঘর ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ টাকা, জমির দলিল, পাসপোর্ট, স্বর্ণালংকার ও ছয়টি গরু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী সৈয়দ আলী ও সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের ঘরে এখন থাকার বা খাওয়ার মতো কিছুই অবশিষ্ট নেই। চালডাল তো বটেই, রান্না করা তরকারির পাতিল পর্যন্ত নিয়ে গেছে তারা। হামলার সময় গ্রামের বিভিন্ন স্থানে লোকজন পাহারায় ছিল। ফলে কেউ তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারেননি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দিনের বেলায় প্রকাশ্যে এ ধরনের হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের অভিযোগ, লুট করা একটি গরু জবাই করে হামলাকারীরা এলাকায় ভোজের আয়োজনও করেন।
আওয়ামী লীগের প্রয়াত প্রতিমন্ত্রীর বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য আইয়ুব হোসেন ও রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা দাবি করেন, ঘটনার সময় তারা এলাকায় ছিলেন না। তারা বাইরে ছিলেন।
অপর অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মুকুল মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় দুপক্ষ থেকে দুটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। গরু লুটের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে।
৭ ঘণ্টা আগে
দিনাজপুরে তিন দফা দাবিতে পরিবহন শ্রমিকদর ধর্মঘট
দিনাজপুরে শ্রমিক নেতা মজিবর রহমান মজিবকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের প্রতিবাদে তিন দফা দাবিতে দিনাজপুরে সড়ক অবরোধ ও অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল থেকে নিমনগর বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন রুটে সড়ক অবরোধ করায় দূরপাল্লার কোচসহ পর্যায়ক্রমে সব রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে যাত্রী ও পথচারীদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
শ্রমিকদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—আটক শ্রমিক নেতা মজিবর রহমানকে অবিলম্বে মুক্তি, তাকে নির্যাতনের ঘটনায় সিআইডির ইন্সপেক্টর (পরিদর্শক) নওবুর রহমানকে গ্রেপ্তার ও কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর নবীকে অপসারণ।
অন্যদিকে, পুলিশের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনার জেরে মজিবর রহমান মজিবকে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সদস্যসচিব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত রবিবার কোতোয়ালি থানার ওসির অফিসকক্ষে সাধারণ পোশাকে অবস্থানকারী সিআইডির ইন্সপেক্টর নওবুর রহমানের সঙ্গে শ্রমিক নেতা মজিবর রহমান মজিবের বাগবিতণ্ডা হয়। এ সময় রাগের বশে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে থাপ্পড় দেন মজিব। এ ঘটনায় তাকে তাৎক্ষণিক আটক করে পুলিশ।
পরে আটক মজিবর রহমান ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও নমনীয়তার পরিবর্তে তাকে বেধড়ক পিটুনি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
শ্রমিক নেতাকে পিটুনির ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা নিমনগর বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন রুটে অবরোধ শুরু করেন।
দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মোন্নাফ মুকুল ও একই সংগঠনের আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জানান, আটক শ্রমিক নেতার মুক্তি এবং জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট শুরু করেছেন তারা।
৭ ঘণ্টা আগে
সাভারে ‘ছাদ থেকে ফেলে’ ছাত্রদল নেতাকে হত্যা: ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
রংপুরের পীরগাছা থেকে নিখোঁজ এক কিশোরীকে উদ্ধারে ঢাকার সাভারে পুলিশের অভিযানের সময় ছাত্রদল নেতা মনোয়ারুল ইসলাম বকশীর (৩০) মৃত্যুর ঘটনায় পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক। গত শনিবার রাতে পীরগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কনক রঞ্জন বর্মণ, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ওসমান আলী এবং কনস্টেবল প্রশান্ত কুমার ও সুমী আক্তারকে প্রত্যাহার করা হয়। তারা নিখোঁজ ওই কিশোরীকে উদ্ধারে পরিচালিত অভিযানে ছিলেন।
নিহত মনোয়ারুল সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। তার বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতীবান্ধা গ্রামে। পরিবার নিয়ে তিনি সাভারে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, গত ২৩ জুলাই পীরগাছার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রামের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী নিখোঁজ হয়। ওই ঘটনায় কিশোরীর বাবা মিন্টু মিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় সাভারে কিশোরীর অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এসআই কনক রঞ্জন বর্মণের নেতৃত্বে পীরগাছা থানার ৯ সদস্যের একটি দল সাভারের লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে যায়। অভিযানের সময় সেখানে সাভার থানা-পুলিশও ছিল।
পুলিশ জানায় যায়, অভিযান চলাকালে ভবনের ছাদ থেকে কিছু পড়ার শব্দ শুনে পুলিশ সদস্যরা সেখানে যান। সে সময় তারা মনোয়ারুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তবে নিহতের পরিবারের দাবি, মনোয়ারুলকে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। মনোয়ারুলের ভাই মমদেল হোসেন বলেন, কিশোরীটির সঙ্গে মনোয়ারুলের ভাগ্নে শাহরিয়ার কবির সৌমিকের সম্পর্ক ছিল। তারা স্বেচ্ছায় বিয়ে করে সাভারে ছিলেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, উদ্ধার অভিযানে পুলিশের সঙ্গে মিমির বাবা ও অপর এক ব্যক্তি পুলিশের পোশাকে উপস্থিত ছিলেন। ছাদে মনোয়ারুলের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। তারাই মনোয়ারুলকে হত্যা করে ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছেন।
এ ঘটনার পর গেল শনিবার সকালে মনোয়ারুলের স্বজনেরা তার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে পীরগাছা থানার সামনে নিয়ে এসে বিক্ষোভ করেন। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক বলেন, ঘটনার তদন্তে ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযানে থাকা থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
১ দিন আগে
সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার দিনাজপুর বোর্ডে
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে এবারের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলে বড় পতন হয়েছে। চলতি বছর এ বোর্ডে পাসের হার নেমে এসেছে ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশে, যা গত সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছর পাসের হার ছিল ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
শুধু পাসের হার নয়, এবার উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও কমেছে। বোর্ডের গত সাত বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৯৪ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৫২ জন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৫ জন। অর্থাৎ ৭৮ হাজার ৭৬৯ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এ ছাড়া ২ হাজার ৯৪১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল।
গত বছর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ২৩৪ জন। উত্তীর্ণ হয়েছিল ১ লাখ ২২ হাজার ১৪৬ জন। সে হিসাবে এবার উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১৭ হাজার ২২১ জন।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সাত বছরের ফলাফল পর্যালোচনা করলে এবারের পতনের চিত্র আরও স্পষ্ট হয়। ২০২১ সালে এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৮১ দশমিক ১৬ শতাংশে। ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৭৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ২০২৪ সালে সামান্য বেড়ে হয় ৭৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এরপর ২০২৫ সালে তা নেমে আসে ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশে। এবার আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশে।
অর্থাৎ ২০২১ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে পাসের হার কমেছে ৩৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আর গত বছরের তুলনায় কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
পাসের হারের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাতেও পতন হয়েছে। এবার দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ হাজার ৪৮৭ জন এবং ছাত্রী ৭ হাজার ১৫২ জন।
২০২৫ সালে এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৫ হাজার ৬২ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১ হাজার ৪২৩ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে অবশ্য এবারও ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে। মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ৭ হাজার ১৫২ জন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস আহমেদ মোবাইল ফোনে বলেন, ‘চেয়ারম্যান হিসেবে আমি এখনও দুই মাসও পূর্ণ করিনি। আমি শুধু ফলাফল প্রকাশ করেছি। ফলাফল কেন কমেছে, এর কারণ জানতে হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। কোথায় সমস্যা হচ্ছে, তা পর্যালোচনা না করে এখনই বলা সম্ভব নয়। আমরা আগে ফলাফল পর্যালোচনা করব। মোটামুটি এবার সব শিক্ষা বোর্ডেই ফলাফল কিছুটা কমেছে।’
১ দিন আগে
দেশের একমাত্র গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটিও ধ্বংস করে গেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের একমাত্র গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটিও ধ্বংস করে গেছে। সব সংকট মোকাবিলা করে দ্রুত গ্যাস সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে রংপুর শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত সুবিধাবঞ্চিতদের সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল আগের মত ভূমিকা পালন করে হাসিনার ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন। তারা গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও বলেন, তারা সব সংকটের এখনই সমাধান চান। সরকারকে নানাভাবে টেনে ধরার চেষ্টা করছে তারা।
মির্জা ফখরুল বলেন, ২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে চার হাজার ছাত্র, নারী ও শিশুকে জুলাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছিল ফ্যাসিস্ট সরকার। গত ১৭ বছর লাখ লাখ মামলা, গুম, খুন নির্যাতনের রেকর্ড করেছিল ওই সরকার। দেশের মানুষ এখন শান্তির নিঃশ্বাস ফেলছে।
মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধে আমাদের প্রায় চার বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতিও পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কারণে ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে।
এ সময় তিনি সব সংকট মোকাবিলা করে দ্রুত গ্যাস সংকট সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেন।
রংপুরে লাভ শেয়ার বিডি সংস্থার সুবিধাবঞ্চিত ২৫ জন ব্যক্তির হাতে চা-ঘর তুলে দেওয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরও বলেন, রংপুরের মানুষ আমরা কিছুই বুঝি না, বিএনপি থাকলে জাতীয় পার্টিকে ভোট দেই, জাতীয় পার্টি থাকলে অন্য দলকে ভোট দেই, আমাদের উন্নয়ন হবে কেমন করে! প্রধানমন্ত্রী উত্তরাঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে চান। সে ব্যাপারে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
জিনিসপত্রের দাম একটু বেড়েছে, যখন আমদানি করা হয় তখন এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কথা বলতে পারতেন না, লিখতে পারতেন না, এখন যা খুশি তাই লিখতে পারছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিরোধী দল যে ভাষায় কথা বলে তা কিন্তু গণতন্ত্র নয়। আমরা উন্নয়ন কাজ শুরু করেছি, আমরা এগিয়ে যেতে চাই, দেশকে এগিয়ে নিতে চাই।
অনুষ্ঠানে লাভ শেয়ার বিডি এর নিজস্ব অর্থায়নে ‘সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প’ উদ্বোধন করা হয়। এ সময় ২৫ জন সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তির মাঝে ২৫ টি চা-ঘর হস্তান্তর করা হয়।
লাভ শেয়ার বিডির চেয়ারম্যান জাহিদ খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ও রাষ্ট্রদূত মুসফিকুল ফজল আনসারি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শামসুজ্জামান সামু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম ও রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
পুলিশি অভিযানে ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর অভিযোগ, মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও
রংপুরের পীরগাছা থেকে এক কিশোরীকে উদ্ধার অভিযানে সাভার থানা ছাত্রদলের এক নেতার মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজনরা।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে পীরগাছা থানার সামনে নিহতের মরদেহ রেখে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ স্বজনরা। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
নিহত ওই নেতার নাম মনোয়ারুল বকসি (৩০)। তিনি সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এবং গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতীবান্ধা গ্রামের জাফর বকসির ছেলে। পরিবারটির স্থায়ী বসবাস ছিল ঢাকার সাভারে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রাম থেকে মিমি আক্তার (১৫) নামের এক কিশোরী নিখোঁজ হলে তার বাবা পীরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে পীরগাছা থানা পুলিশ সাভার থানা পুলিশের সহযোগিতায় ৭ আগস্ট ঢাকার সাভারে লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযান চালায়।
অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ সদস্যদের ভাষ্যমতে, অভিযান চলাকালে ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়ার শব্দ পাওয়া যায়। পরে গিয়ে দেখা যায়, মনোয়ারুল বকসি নিচে পড়ে আছেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের অভিযোগ, নিখোঁজ কিশোরী মিমির সঙ্গে মনোয়ারুলের ভাগ্নে শাহরিয়ার কবির সৌমিকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তারা স্বেচ্ছায় বিয়ে করে সাভারে অবস্থান করছিলেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, উদ্ধার অভিযানে পুলিশের সঙ্গে মিমির বাবা ও অপর এক ব্যক্তি পুলিশের পোশাকে উপস্থিত ছিলেন। তারাই মনোয়ারুলকে হত্যা করে ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছেন। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আজ সকালে পীরগাছা থানার সামনে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা সেখানে উপস্থিত হয়ে নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা বলেন, ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। আমরা এই ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনি বিচার দাবি করছি।’
অভিযোগের বিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, নিহতের স্বজনদের মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মামলা ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে। এই ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের কোনো ধরনের অবহেলা বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৩ দিন আগে
‘যুবদল নেতার’ ছুরিকাঘাতের ৪৯ দিন পর আহত জামায়াতকর্মীর মৃত্যু
গাইবান্ধার সাঘাটায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে আহত জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সালাউদ্দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বাবা শামসুজ্জামান দুদু এবং গাইবান্ধা জেলা জামাতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি রোকনুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুলের ছুরিকাঘাতে সালাউদ্দিন গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় ওইদিন সাইফুল ইসলাম নামের এক শিবির নেতা মারা যান। তিনি বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সভাপতি ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, সাঘাটা উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা চত্বরে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লার সঙ্গে মুকুলের কথা কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় নেতাদের সমঝোতায় বিষয়টির মীমাংসা হয়। এরপর উপজেলা চত্বর থেকে সবাই চলে যায়।
তার কিছু সময় পরে বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাইফুল ও জামায়াতকর্মী সালাউদ্দিন বোনারপাড়া-সাঘাটা সড়কের উপজেলা-সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। সে সময় মুকুল ও তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ, মোনারুল ও জব্বারসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে শিবিরকর্মী সাইফুল্লাহ ও সালাউদ্দিনের ওপর হামলা করেন।
হামলাকারীরা সালাউদ্দিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা ও হাত-পায়ের নানা স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিলে সাইফুল্লাহকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন এবং গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে বগুড়া জিয়াউর রহমান হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪৯ দিন পর আজ (শনিবার) সকালে তার মৃত্যু হয়।
জেলা জামায়েত নেতা রোকনুজ্জামান বলেন, নিহত সালাউদ্দিন ছিলেন জামায়াতে ইসলামের একজন একনিষ্ঠ কর্মী। তার মৃত্যুতে জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নামে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, সাঘাটার বোনারপাড়ায় জামাত-শিবিরের দুই নেতাকে হত্যার প্রতিবাদে আজ বিকেলে উপজেলা জামায়াতের ডাকে বোনারপাড়ায় প্রতিবাদ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিবাদ বিক্ষোভে জামাত-শিবিরসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন।
৩ দিন আগে
রংপুরে ট্রেনের ইঞ্জিনসহ বগি লাইনচ্যুত, দেড় ঘণ্টা পর চলাচল স্বাভাবিক
রংপুর রেলস্টেশন এলাকায় বুড়িমারী থেকে পার্বতীপুরগামী ৪৬১ কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিন ও একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে কোনো যাত্রী হতাহত না হলেও প্রায় দেড় ঘণ্টা ওই লাইনে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্টেশনের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বুড়িমারী থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি রংপুর রেলস্টেশন এলাকায় পৌঁছালে ইঞ্জিনের কয়েকটি চাকা এবং পেছনের একটি বগির কয়েকটি চাকা লাইন থেকে পড়ে যায়। এতে ওই লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে লাইনচ্যুত ইঞ্জিন ও বগি আলাদা করে ট্রেনটি অন্য লাইনে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ওই পথে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তবে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, স্টেশনের ৩ ও ৪ নম্বর লাইনে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ হয়নি। এমনকি পর্যাপ্ত পাথরও দেওয়া হয়নি। তাদের ধারণা, লাইনের এমন অবস্থার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা নাঈম ইসলাম বলেন, ‘রেললাইনের ৩ নম্বর লাইনে দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার করা হয়নি। এক ও দুই নম্বর লাইনে পাথর দেওয়া হলেও ৩ ও ৪ নম্বর লাইনে পাথর দেওয়া হয়নি। লাইনে পাথর না থাকায় ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে।’
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুর রহমান বলেন, মালবাহী ট্রেন দীর্ঘদিন ধরে এই লাইন দিয়ে চলাচল করলেও এমন দুর্ঘটনা ঘটেনি। আজ ট্রেনটিকে ৩ নম্বর লাইনে নেওয়া হয়েছে। লাইনটি যাচাই-বাছাই না করে কীভাবে সেখানে ট্রেন ঢোকানো হলো, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার। এ ক্ষেত্রে রেল কর্তৃপক্ষের দায় রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। রংপুর রেলস্টেশনের স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ট্রেনটির নির্ধারিত পথই ছিল ৩ নম্বর লাইন। স্টেশনের পয়েন্ট পার হওয়ার পর সামনের দিকে গিয়ে ইঞ্জিনের চাকাগুলো লাইনচ্যুত হয়। একই সঙ্গে পেছনের একটি বগির কয়েকটি চাকাও লাইন থেকে পড়ে যায়।
তিনি বলেন, ‘কুড়িগ্রামের ইঞ্জিন কেটে নিয়ে এবং সেখানকার বগিগুলো আলাদা করে এক নম্বর লাইনে রাখা হয়। এরপর লাইন স্বাভাবিক করা হয়েছে। বর্তমানে রংপুর স্টেশনে ট্রেন চলাচলে কোনো সমস্যা নেই।’
লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি জানিয়ে স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট বলেন, যে অংশটি লাইনচ্যুত হয়েছে, সেটুকু ছাড়া আর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে।
৩ দিন আগে
‘তিস্তাত পানি বাড়লেও হামার বিপদ, নামি গ্যাইলেও বিপদ’
তিস্তা নদীর পানি বাড়লে দেখা দেয় বন্যা পরিস্থিতি, আর পানি কমে গেলে দেখা দেয় ভাঙন পরিস্থিতি। বন্যা আর ভাঙনের কষাঘাতে চরম কষ্টে বসবাস করছেন রংপুর অঞ্চলের তিস্তাপাড়ের মানুষ। লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী বিপুল সংখ্যক পরিবারের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম হরিণচড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল বাকি জানান, গতকাল সকাল থেকে রাত পযর্ন্ত তিস্তা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় তাদের বাড়িঘরে নদীর পানি ঢুকে পড়ে। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। তবে গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় গতকাল বিকেলেই তারা গবাদি পশু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে এসেছেন।
তিনি জানান, জমিতে লাগানো রোপা আমন ধানের চারা পানিতে তলিয়ে গেছে। ৪-৫ দিনের মধ্যে খেত থেকে নদীর পানি নেমে না গেলে ধান গাছের ক্ষতি হবে।
এই কৃষকের ভাষায়, ‘হামরাগুলা তিস্তাপাড়োত কষ্ট করি বাঁচি আছি। হামারগুলার কষ্টের শ্যাষ আর নাই। তিস্তাত পানি বাড়লেও হামার কষ্ট আর পানি নামি গ্যাইলেও হামারগুলার কষ্ট। পানি বাড়লে বান হয় আর পানি নামি গ্যালি নদীভাঙন শুরু হয়। হামারগুলার খালি বিপদ আর বিপদ।’
গঙ্গাচড়া উপজেলার চর নেহালি গ্রামের কৃষক আকবর আলী জানান, গতরাতে তার বাড়িতে হাঁটু পানি ছিল। ফলে তারা বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদে চলে এসেছেন। আজ সকাল থেকে পানি কমছে। তবে আবারো তিস্তায় পানি বাড়তে পারে বলে ধারণা তার।
৫ দিন আগে