রংপুর
তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধের ৬০ শতাংশ নদীগর্ভে, তদন্ত কমিটি গঠন
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু রক্ষা বাঁধ ও ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বসানো বাঁশের পাইলিংয়ে ধসের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রংপুরের প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের এ কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে, গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সেতু রক্ষা বাঁধের ভাঙন পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও সমাধানের লক্ষ্যে ঢাকা থেকে এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে যাবেন।
জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও আর ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এলজিইডির ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বসানো বাঁশের পাইলিং ভেঙে গেছে। একই সঙ্গে সেতু রক্ষা বাঁধেও দেখা দিয়েছে ভাঙন। এতে হুমকির মুখে পড়েছে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুসহ রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক।
গত বছর শুরু হওয়া ভাঙন পরিস্থিতি সামাল দিতে অস্থায়ীভাবে এই বাঁশের পাইলিং বসানো হয়েছিল। তবে সেই পাইলিং (স্পার) বসানোর ৬ মাস না যেতেই পানি বৃদ্ধির প্রথম ধাক্কাতেই তা ভেঙে গেছে। এতে করে সেতুর উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এখন পর্যন্ত বাঁধের প্রায় ৬০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে সেখানে ৭০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত বছর ভাঙনে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর রক্ষা বাঁধের ১০০ মিটারের বেশি নদীতে বিলীন হয়। এরপর স্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে অস্থায়ীভাবে বাঁশের পাইলিং বসানো হয়।
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ্ আল হাদী বলেন, প্রথম দিকেই ভাঙন দেখা দিলে যদি দুই-এক লাখ টাকার জিও ব্যাগ ফেলা হতো, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত। কিন্তু দীর্ঘদিন কোনো বরাদ্দ না আসায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। গত বছর থেকেই বলা হচ্ছিল বরাদ্দ আসবে, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বুয়েটের এক বিশেষজ্ঞের পরামর্শে বাঁশের পাইলিং করা হয়েছিল, কিন্তু এটি টেকেনি। ১৪ লাখ টাকার কাজ প্রথম ধাক্কাতেই ধ্বংস হয়ে গেছে।
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, গত বছর ভাঙন শুরু হলে এলজিইডির অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতার কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বুয়েটের এক ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ নেওয়া হয়। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী, ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁশের পাইলিং (স্পার) বসানো হয়েছিল।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানান, ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কমিটি বাকি প্রতিবেদন জমা দেবে।
রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদ রুহুল আমিন।
২ দিন আগে
অপহরণ ও অর্থ লুটের মামলায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সদস্য সচিব মোমছেদুল খান বুলবুলকে (৩৫) ডাকাতি, অপহরণ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লুটের মামলায় গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৩। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আরও ১১টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের কাশিরাম মনিহারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ (শনিবার) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১৩ রংপুরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
গ্রেপ্তার মোমছেদুল খান বুলবুল উপজেলার উত্তর মুশরাত মদাতী এলাকার বাসিন্দা। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ছিলেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চাপারহাট থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন স্থানীয় রবিউল ইসলাম ওরফে মিস্টার আলী (৩০)। চাপারহাট-ভূল্যারহাট সড়কের গুরুদয়াল চৌপথি মোড়ে পৌঁছালে বুলবুল ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার পথরোধ করে তাকে অপহরণ করেন। পরে তাদের বুলবুলের মালিকানাধীন একটি মুরগির খামারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভোররাত পর্যন্ত আটকে রেখে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
একপর্যায়ে আসামিরা রবিউলের কাছে থাকা নগদ ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা ও ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেন। এছাড়া প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট (বিকাশ ও নগদ) থেকে ধাপে ধাপে মোট ৮ লাখ ২৪ হাজার ১০৭ টাকা স্থানান্তর করে নেন তারা। পরদিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর শর্তে ও জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় গত ৩ এপ্রিল বুলবুলকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী। মামলার পর থেকেই বুলবুল পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে কালীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বুলবুলকে আগেই ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
পুলিশের অপরাধ তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (সিডিএমএস) পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বুলবুলের বিরুদ্ধে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও সদর থানায় ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি, গুরুতর আঘাত এবং মারামারিসহ অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, মোমছেদুল খান বুলবুলকে র্যাব-১৩ গ্রেপ্তার করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। আমরা তাকে আদালতে পাঠিয়েছি। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে।
৬ দিন আগে
গাইবান্ধায় ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মোটরসাইকেল চালানো ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই শাকিব শাহরিয়ার (২২) নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৭ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে পৌর এলাকার মাগুরা কেশবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাকিব শাহরিয়ার ওই এলাকার এরশাদুল হক লিটনের বড় ছেলে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা আহসান হাবীব সরকার জানান, গতকাল (বুধবার) রাত সাড়ে ৩টার দিকে মোটরসাইকেল চালানোসহ পারিবারিক বিষয় নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ছোট ভাই রাকিব বড় ভাই শাকিবকে ছুরিকাঘাত করে। এতে শাকিব গুরুতর আহত হন।
তাকে প্রথমে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। সেখানে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
৮ দিন আগে
কুড়িগ্রামে রেললাইনে উল্টে পড়ল বালুভর্তি ট্রাক, ট্রেন চলাচল বন্ধ
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বালুভর্তি ট্রাক রেললাইনের ওপর উল্টে পড়ায় কুড়িগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ও রমনা কমিউটার ট্রেনের চলাচল ব্যাহত হয়। আকস্মিক এ ঘটনায় শত শত যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোর থেকে সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে উপজেলার রাজারহাট-তিস্তা আঞ্চলিক সড়কের পেট্রোল পাম্প-সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালুভর্তি ট্রাকটি রাজারহাট-তিস্তা আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় ট্রাকটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের রেললাইনের ওপর উল্টে পড়ে। এতে রেলপথ সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে কুড়িগ্রাম-তিস্তা রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
রেললাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস কুড়িগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে ঢাকাগামী যাত্রীদের অনেককে বিকল্প উপায়ে তিস্তা রেলওয়ে স্টেশনে যেতে দেখা যায়। যাত্রীদের কেউ অটোরিকশায়, কেউ বাসে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন।
ঢাকাগামী যাত্রী রুবেল মিয়া বলেন, ‘সকালে যথাসময়ে কুড়িগ্রাম স্টেশনে এসে জানতে পারি কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস আসবে না। পরে বাধ্য হয়ে অটোরিকশায় তিস্তা স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দিই। আমার মতো শত শত যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন।’
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুড়িগ্রাম স্টেশন থেকে সকাল সোয়া ৭টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের। কিন্তু রেললাইন অবরুদ্ধ থাকায় ট্রেনটি কুড়িগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাতে পারেনি। একই কারণে রমনা কমিউটার ট্রেনের চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।
খবর পেয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রাকটি অপসারণ এবং রেলপথ সচল করার কাজ শুরু করে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ট্রাকটি সরিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কুড়িগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ইনচার্জ কনিকা আক্তার বলেন, ‘বালুভর্তি একটি ট্রাক রেললাইনের ওপর উল্টে পড়ে লাইন ব্লক হয়ে গেছে। ট্রাকটি সরানোর কাজ চলছে। তবে ঠিক কখন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে, তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।’
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, ট্রাকটি অপসারণের পর রেললাইন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিরাপদ ঘোষণা করা হলে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
৮ দিন আগে
শিশু নন্দিনী হত্যায় আসামির দায় স্বীকার, পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় শিশু নন্দিনী হত্যার দায় স্বীকার করেছে গ্রেপ্তার বিধান চন্দ্র (২২)। ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তে পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান।
এর আগে, মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে ভুট্টাক্ষেত থেকে নন্দিনীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে ওই এলাকার নলিনী কান্তের মেয়ে ছিল।
পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পর ঘাতক বিধানকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। সেই বিধানকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে তার বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় বিক্ষুব্ধ জনতা। এতে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম মমিনুল হক ও বিজিবি ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমামসহ জেলা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তিন ঘণ্টা পর সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে আসামিদের নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
এ সময় স্থানীয়দের হামলায় এসপি-ওসিসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। বিক্ষুব্ধ জনতা ডিসি-এসপির গাড়িসহ সরকারি ৭টি গাড়ি ভাঙচুর করে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার ঘটনাস্থলেই আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হককে প্রত্যাহার করা হয়। আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে আজ (বুধবার) সদর থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুস সাকিব সজিবকে পদায়ন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নন্দিনীর বাবা নলিনী কান্ত বাদী হয়ে আসামি বিধান, তার বাবা রনজিৎ ও মা সাবিত্রীকে অভিযুক্ত করে গতকাল (মঙ্গলবার) আদিতমারী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সে মামলায় বিধান ও তার বাবাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিধান তার দায় স্বীকার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন জেলা প্রশাসক। যেখানে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
অপরদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন পুলিশ সুপার। তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
গত সোমবার বিকেলে নিখোঁজ হন শিশু নন্দিনী রায়। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে গতকাল সকালে বাড়ির পাশে একটি ভুট্টাক্ষেতের গর্ত থেকে নন্দিনীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরই মধ্যে স্থানীয়রা ঘাতক বিধান চন্দ্রকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে মব সৃষ্টি করে তার বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। বিধানকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে পুলিশের ওপর হামলা করে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন জেলা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পুলিশ, বিজিবি, আনসার ব্যাটালিয়নের যৌথ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার বিধান চন্দ্র নন্দিনীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। পারিবারিক দ্বন্দ্বের ক্ষোভে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে গ্রেপ্তার বিধান স্বীকার করেছে। তাই তাকে রিমান্ড চাওয়া হয়নি। আদালতেও দায় স্বীকার করে তিনি জবানবন্দি দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ধর্ষণ করা হয়নি বলে অভিযুক্ত দাবি করলেও আমরা মর্গের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কার বলতে পারব। আপাতত তাদের বাবা-ছেলেকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রত্যাহার ওসির স্থলে নতুন কর্মকর্তা পদায়ন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান বলেন, ঘটনা তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি সম্পদ নষ্টের অভিযোগে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে পৃথক দুইটি মামলার প্রস্তুতি রয়েছে।
৯ দিন আগে
লালমনিরহাটে গরুবহনকারী ভটভটি গাড়ি উল্টে খামারি নিহত
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় গরু নিয়ে যাওয়ার সময় ভটভটি গাড়ি উল্টে মফিজুল ইসলাম (৫৫) নামে এক খামারি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে উপজেলার লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে পলাশী ইউনিয়নের রামদেব এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মফিজুল ইসলাম রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের বড়াইবাড়ি গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন গরুর খামারি ছিলেন ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কয়েকটি গরু নিয়ে ভটভটি গাড়িতে করে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ি হাটে যাচ্ছিলেন মফিজুল ইসলামসহ কয়েকজন গরু ব্যবসায়ী।
গাড়িটি রামদেব এলাকায় পৌঁছালে ভটভটিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গর্তে পড়ে উল্টে যায়। এতে তিনজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মফিজুল ইসলামের মৃত্যু হয়। আহত গফুর ও ভটভটির চালককে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আদিতমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
৯ দিন আগে
লালমনিরহাটে নন্দিনী হত্যা: মরদেহের শেষকৃত্য সম্পন্ন, পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে শ্বাসরোধে হত্যার শিকার সাত বছর বয়সী নন্দিনীর মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেছে পুলিশ। পরে গতকাল রাতে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অন্যদিকে, এ ঘটনার জেরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ তিন সদস্যের পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) নিহতের বাবা নলিনী কান্ত রায় বাদী হয়ে তিনজনের নামে হত্যা মামলা করেছেন।
ঘটনায় অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র রায় (২২) ও তার বাবা রণজিৎ কুমারকে আটক করেছে পুলিশ। আটকদের আজ (বুধবার) আদালতে পাঠানো হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে আটক ওই দুজনকে থানায় নিয়ে আসার সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ হয়। এতে ওসিসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ডিসি-এসপির গাড়ীসহ সাতটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুর ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ তিন সদস্যের পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
গত সোমবার নিখোঁজ হয় নন্দিনী। এরপর গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে বাড়ির পাশের ভুট্টাখেতে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার হয়। এরপর এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ওই এলাকায়। এর জেরে গতকাল দুপুরে স্থানীয়রা একপর্যায়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ অন্যদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে গ্রামটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পুলিশ ও বিজিবি আটক সন্দেহভাজন বিধান ও তার বাবাকে থানায় নিয়ে যায়।
৯ দিন আগে
রংপুরে হোটেলে ‘পানের পিক’ ফেলায় কর্মচারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা
রংপুর নগরীতে একটি হোটেলের বাসনপত্র রাখার স্থানে ‘পানের পিক’ ফেলায় শাওন (২৪) নামের এক কর্মচারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর খামার মোড় এলাকার একটি হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মনুকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
নিহত শাওন ওই হোটেলের কর্মচারী ছিলেন। তার বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার নূরের চক গ্রামে।
ডিবি হেফাজতে নেওয়ার সময় অভিযুক্ত মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্লেট-বাসন যেখানে আমি রাখি, ওইখানে টিস্যুও থাকে। ওইখানে শাওন পানের পিচকি (পিক) ফেলায় কলিজায় আঘাত লাগে তখনই আমি ওই কামটা হুট করি আসি গেইছে। হাতুড়ি দিয়ে দুইটা আঘাত করছি।’
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়ার পর অভিযুক্ত মিজানুরকে আধাঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।
তবে অভিযুক্তের পরিবারের দাবি, মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তার বাবা আমির হোসেন বলেন, ওর মানসিক সমস্যা আছে। একসময় তাকে তাবলিগে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে আসার পর সমস্যা আরও বেড়ে যায়। পরে সে মার্কাজ মসজিদে ছিল। সেখানে অনেক কবিরাজ ও মসজিদের লোকজন ঝাড়ফুঁক করে তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করেছেন। এখনও মাঝেমধ্যে তার মানসিক অবস্থা ঠিক থাকে না। আমি তাকে ধমক দিয়ে রাখি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, খামার মোড় এলাকায় ফুটপাতে ওই হোটেলের মালিক আমির হোসেন ও তার তিন ছেলে। সেখানে শাওন নামে এক যুবক কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যার পর মালিকপক্ষের ছেলে মিজানের সঙ্গে শাওনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মিজান হাতুড়ি দিয়ে শাওনের মাথার পেছনে দুই থেকে তিনটি আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে আমরা জেনেছি।
তিনি জানান, ঘটনাস্থলের কাছেই গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল দায়িত্ব পালন করছিল। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তকে আটক করা হয় এবং পরে তাকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়।
অভিযুক্তের মানসিক ভারসাম্যহীনতার বিষয়ে সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘কেউ মানসিক ভারসাম্যহীন কি না, সেটি চিকিৎসকই বলতে পারবেন। তিনি মানসিক রোগে ভুগছেন বা চিকিৎসাধীন এমন কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি। প্রায় আধা-ঘণ্টা তার সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ মনে হয়নি।’
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত জানিয়েছেন, হোটেলে পরিষ্কার করা বাসনপত্র রাখার স্থানে কুলি বা ময়লা ফেলা নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়েছিল। পরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি রাগান্বিত হয়ে হাতুড়ি দিয়ে শাওনের মাথায় আঘাত করেন।
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৯ দিন আগে
শিশু নন্দিনী হত্যা ঘিরে রণক্ষেত্র আদিতমারী, এসপি-ওসিসহ আহত অন্তত ২০
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে সাত বছরের শিশু নন্দিনী কান্ত রায়ের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিয়ে নিজেরাই বিচার করার দাবিতে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় পুলিশ সুপার (এসপি), থানার ওসিসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় জেলা প্রশাসকের গাড়িসহ প্রশাসনের সাতটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ঘটনায় অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র রায় (২২) ও তার বাবা রণজিৎ কুমারকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নন্দিনী ওই গ্রামের নলিনী কান্তের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকাল থেকে নিখোঁজ ছিল নন্দিনী। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। আজ (মঙ্গলবার) সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাখেতে নরম মাটি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এরপর স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, সোমবার সন্ধ্যায় তিনি বিধান চন্দ্রকে ওই ভুট্টাখেত থেকে কোদাল হাতে বের হতে দেখেছিলেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয়রা তার বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা বিধানকে আটক করেন। পরে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
১০ দিন আগে
রমেক হাসপাতালে মরদেহ আটকে চিকিৎসকদের বিক্ষোভ, স্বজনদের মহাসড়ক অবরোধ
রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ডিউটিরত চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ সময় মর্গের সামনে মরদেহ আটকে রেখে চিকিৎসকরা বিক্ষোভ করেন। অন্যদিকে, মরদেহ আটকে রাখার দাবিতে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করেছেন রোগীর স্বজনরা।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে রমেক হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি একজন রোগীর অক্সিজেন মাস্কের প্রয়োজন হলে মাস্ক না পেয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রোগীর স্বজনরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রোগীর স্বজনরা ডিউটিরত চিকিৎসককে মারধর করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে চিকিৎসকরা জড়ো হয়ে জরুরি সেবা বন্ধ করে দেন এবং মরদেহ আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন।
অন্যদিকে, হাসপাতালের সামনে মরদেহে আটকে রাখার দাবিতে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন রোগীর স্বজনরা। এ সময় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
১৩ দিন আগে