বিএনপি
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের মনের কথা প্রতিফলিত হয়েছে: রিজভী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্যে বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের মনের কথা প্রতিফলিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, তারেক রহমানের বক্তব্যকে আমি অভিনন্দন জানাই, আমি ধন্যবাদ জানাই। তিনি সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের অন্তরের কথা প্রতিধ্বনি করেছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংস্থা জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সেশনে।
তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘের তিন প্রজন্মের যে ধারাবাহিকতা, সেটার তারেক রহমান প্রতিনিধি, তিন নম্বর প্রতিনিধি। তার বাবা ১৯৮০ সালে বক্তৃতা করেছেন, তার মা ১৯৯২ সালে বক্তৃতা করেছেন। আজকে তাদেরই জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান সেখানে বক্তব্য রেখেছেন।’
রিজভী বলেন, ‘বক্তব্য কী? বক্তব্য অন্য কিছু নয়, বলেছেন—অস্ত্রের বদলে, মারণাস্ত্রের বদলে, পরিবর্তনের হাতিয়ার হোক যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা আর মানবতা।
‘অসাধারণ বক্তব্য সেখানে দিয়েছেন। বলেছেন, প্রত্যেকটি দেশের সাথে প্রত্যেকটি দেশের সমমর্যাদার... সমমর্যাদার সাথে শ্রদ্ধাশীল সম্পর্ক থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আবার পুনর্ব্যক্ত করেছেন, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা। এটা সারা বিশ্বের দাবি।
রিজভী আরও বলেন, ‘তিনি বাংলাদেশের মুসলিম... রোহিঙ্গা, যারা এখানে আজকে রিফিউজি হিসেবে আছেন, তাদের মর্যাদার ভিত্তিতে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়াও আরও অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ নানাবিধ বিষয়ে বক্তব্য রেখেছেন তারেক রহমান।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘সারা বিশ্বের মানুষ শান্তি চায়, যুদ্ধ চায় না। যুদ্ধ হলে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে, খাদ্য পণ্যের দাম বাড়ে, জ্বালানির দাম বাড়ে, গ্যাসের দাম বাড়ে। বিদ্যুৎ থাকে না, মিল-কলকারখানা বন্ধ হয়ে যায়, মানুষ বেকার হয়।’
তিনি বলেন, ‘বন্ধুরা আমার, কোনো ভয় পাবেন না, ঝড় আসুক, বাতাস আসুক। আমরা আজকে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে, আজকে যারা আগুন দিয়ে, গাড়ি পুড়িয়ে বাংলাদেশের যে এখানে এই গণতন্ত্রের যে ধারাকে যারা বন্ধ করতে চাচ্ছে, বন্ধুরা আমার, তার বিরুদ্ধেই জাতীয়তাবাদী ওলামা দল সেলিম রেজা, আবুল হোসেনের নেতৃত্বে এই প্রতিবাদ সমাবেশ এবং মিছিলের আয়োজন করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে কোনো পাতানো নির্বাচন নয়, কোনো মিডনাইট নির্বাচন নয়, আমড়া কাঠের নির্বাচন নয়; অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বহুদিনের প্রত্যাশিত জনগণের ভোটে তারেক রহমানের সরকার, বিএনপির জোট সরকার ক্ষমতায়।’
রিজভী বলেন, ‘আমরা মানুষের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য, সামাজিক সুরক্ষার জন্য বিএনপির সরকার কাজ করছে। বন্ধুরা আমার, জাতীয়তাবাদী ওলামা দল সেই সরকারেরই একটি অংশ।
‘কাজেই বন্ধুরা আমার, এই দেশে দেশবিরোধী, গণতন্ত্রবিরোধী, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী শক্তির, তাদের কোনো অবস্থান নাই।’
তিনি বলেন, ‘যারা বাংলাদেশকে উপনিবেশ করতে চায়, যারা বাংলাদেশকে একটি তাবেদার রাষ্ট্র করতে চায়, জাতীয়তাবাদী ওলামা দল এবং বিএনপি এর বিরুদ্ধে রাস্তায় রাস্তায়, মোড়ে মোড়ে, পথের প্রান্তরে কঠিন ব্যারিকেড গড়ে তুলবে।’
১ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীকে অশোভন ভাষায় আক্রমণ করছে বিরোধীরা: রিজভী
বিরোধী দলের কিছু নেতা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অশোভন ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করার অধিকার বিরোধী দলগুলোর রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল প্রধানমন্ত্রীকে অশোভন ভাষায় আক্রমণ করে বক্তব্য দিচ্ছে।’
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টস (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এ সভার আয়োজন করে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১১ দলীয় জোট বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরোধিতা করছে। তবে সরকার বারবার স্পষ্ট করেছে, বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচি পালন, কথা বলা ও সরকারের কঠোর সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে।
বিরোধী দল আয়োজিত দুটি লংমার্চ কোনো বাধা ছাড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে বিরোধী দলগুলোকে তাদের কর্মসূচি পালন ও কথা বলার সুযোগ দিতে হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘তারা কথা বলুক। এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমাদের আপত্তি অন্য জায়গায়।’
রিজভীর মতে, গণতন্ত্রের অর্থ এই নয় যে কেউ যা ইচ্ছা তাই বলতে পারবে। তিনি বলেন, ‘যা বলবেন, সত্য বলবেন।’
তিনি আরও বলেন, বিরোধীরা সংকট নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী কীভাবে পদত্যাগ করবেন, সে বিষয়ে এক-দুই দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি।
রিজভী বলেন, কিন্তু যখন সেটা ‘তুই-তুকারি’তে চলে আসে, তখন সেটা ফ্যাসিবাদের সংস্কৃতি।
প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে সম্বোধন করা নিয়ে এক বিরোধী নেতার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করা তার মতে ‘সজীব ওয়াজেদ জয়ের সংস্কৃতির’ মতো।
তিনি আরও বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয়ও খালেদা জিয়াকে একই ধরনের ভাষায় সম্বোধন করতেন।
রিজভী জানান, এ ধরনের ভাষা নিয়ে তার সঙ্গে সাধারণ মানুষও গভীরভাবে বিরক্ত ও কঠোরভাবে সমালোচনামুখর ছিলেন।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলোতে এ ধরনের আচরণের পুনরাবৃত্তি দেখতে পাওয়ায় বিএনপিকে এর জবাব দিতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের উত্তর দিতেই হবে। তবে সেই উত্তর অবশ্যই আমাদের বিরুদ্ধে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, সেই ভাষায় নয়। বরং মার্জিতভাবে কঠোর ও দৃঢ় ভাষায় কথা বলেছি।’
তিনি আরও বলেন, কঠোর সমালোচনা করলে, সেখানেও মার্জিত শব্দ ব্যবহার করা যায় এবং বিএনপি সেটিই করার চেষ্টা করছে।
এছাড়া শুধু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষা নয়, ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেও কিছু বিষয়ে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ন্যূনতম ঐক্য বা বোঝাপড়া থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রিজভী। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ ফিরে এলে ‘গণতন্ত্রের কথা বাদই দিলাম, রাষ্ট্রই তো থাকবে না।’
২ দিন আগে
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার-রিমান্ডে নেওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের
বাস ও ট্রেনে অগ্নিসংযোগ এবং সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণের পেছনে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি জানান।
সম্প্রতি এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দেওয়া একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, পাটওয়ারী দাবি করেছেন, তাদের দাবি মেনে নেওয়া হলে আর ককটেল বিস্ফোরণ হবে না।
এ সময় তিনি দাবি করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাস-ট্রেনে অগ্নিসংযোগে জড়িতদের পরিচয় বেরিয়ে আসবে।
রাশেদ খান বলেন, ‘তিনি (নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী) এ কথা বলেছেন। তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাস-ট্রেনে অগ্নিসংযোগের সঙ্গে কারা জড়িত, সেই সত্য বেরিয়ে আসবে।’
সভায় বিরোধী দলগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, দেশে অরাজকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, সাত মাসের একটি সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চের নামে ‘পিকনিক স্টাইলে’ ছবি ও ভিডিও তৈরি করে ফেসবুকে দেওয়া হচ্ছে। ‘একদিকে জামায়াত ও এনসিপি লংমার্চের কর্মসূচি দিচ্ছে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মাঠে নেমে অরাজকতা তৈরি করছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন জানান, বর্তমান বিএনপি সরকারকে একই সঙ্গে দুটি ভিন্নমুখী রাজনৈতিক শক্তিকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে, যাদের একটিকে তিনি ‘হঠকারী’ এবং অন্যটিকে ‘ফ্যাসিস্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
এর আগে গতকাল (সোমবার) রাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীতে এনসিপির মিছিল শেষে বক্তব্য দেন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
১১ দলীয় জোট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সোচ্চার নয়—বিএনপি নেতাদের এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পাটওয়ারী বলেন, তারা রাজপথে মূল আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচারসহ তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তারা রাজপথে রয়েছেন।
ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, ‘সরকার আমাদের প্রধান তিনটি দাবি মেনে নিলে ঢাকা শহরে আর কোনো ধরনের ককটেল বিস্ফোরণ ঘটবে না।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এসব দাবি বাস্তবায়িত হলে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগের সব ধরনের সুযোগ ও অপতৎপরতা বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে তাদের কর্মী-সমর্থকদের পক্ষে রাজধানীতে নাশকতা বা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর কোনো সুযোগ থাকবে না।
৪ দিন আগে
ক্ষমতা প্রদর্শন নয়, বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর: মাহ্দী আমিন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরকে ‘আড়ম্বর অনুষ্ঠান নয়, মানুষের জন্য কাজ’ এবং ‘ক্ষমতা প্রদর্শন নয়, বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ সোমবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যেতে এক দিন, ফিরতে এক দিন। মাঝের মাত্র চার দিন। এক মুহূর্তও নষ্ট না করে, এই চার দিনেই একের পর এক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠক, জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি এবং বাংলাদেশের স্বার্থে কূটনৈতিক ব্যস্ততা। সব মিলিয়ে মাত্র ছয় দিনের সফর।
তিনি বলেন, সফরের আনুষ্ঠানিক সফরসঙ্গী ৩৫ জন। এর মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী ১৫ জন। রয়েছেন নিরাপত্তা, মিডিয়া ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত অত্যাবশ্যকীয় ব্যক্তিরা।
‘আড়ম্বর অনুষ্ঠান নয়; মানুষের জন্য কাজ। ক্ষমতা প্রদর্শন নয়; বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা’ উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, এই সফর একই সঙ্গে পৃথিবীর ইতিহাসেও একটি বিশেষ মুহূর্ত।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর তাদের সন্তান, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দাঁড়াবেন জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে। একই পরিবারের তৃতীয় প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বলবেন বাংলাদেশের মানুষের কথা, দেশের স্বার্থ, সরকারের নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের আরও একটি অনন্য দিক রয়েছে উল্লেখ করে তার কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন, ঠিক সেই জাতিসংঘ অধিবেশনের সভাপতির আসনে থাকবেন তারই সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
মাহ্দী আমিন বলেন, দীর্ঘ দুই দশকের অনিঃশেষ ত্যাগ-সংগ্রাম ও আন্দোলন-গণঅভ্যূথান পেরিয়ে, গণতান্ত্রিক সরকার আজ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে। বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের কণ্ঠ নিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বের দরবারে।
‘এটি শুধু একটি বিদেশ সফর নয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি শুধু জাতিসংঘে দেশকে তুলে ধরা নয়; এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষার আন্তর্জাতিক বহিঃপ্রকাশ। এটি আবেগ, অনুভূতি ও আদর্শের ঐতিহ্য। এটি বাংলাদেশের স্বার্থ, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাসের সূচনা।
৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে পাঁচ দিনের সফরে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বৈষম্য, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক কূটনীতি নিয়ে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।
তুরস্ক এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার পর প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হন।
ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতির পর স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে তার জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা। সফরকালে তিনি হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন।
সফরের প্রধান আকর্ষণ হবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন। তার বাংলায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
৫ দিন আগে
১৭ বছরে জাতির মানবিক মেরুদণ্ডকে প্লাস্টিকের মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত করা হয়েছে: রিজভী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করার পাশাপাশি জাতির মানবিক মেরুদণ্ডকে প্লাস্টিকের মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা দক্ষিণ শাখা বিএনপি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে জাতির মেরুদণ্ডকে দুর্বল করা হয়েছে। মানবিক মেরুদণ্ডকে প্লাস্টিকের মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের যে প্রতিযোগিতা ছিল, সেটা ইসলামিক হোক বা টেকনোলজিতে হোক—আমাদের সেই প্রতিযোগিতা থেকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে ‘বড় জায়গা’ থেকে ফোন এলে খাতায় কিছু না লিখলেও শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি কোনো শিক্ষার্থী খাতায় কিছু না লিখে শুধু প্রশ্নপত্র জমা দিলেও তাকে পাস করিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা নাসের, কেরানীগঞ্জ সিএনজি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ইমাম উল্লাহ মাস্তানসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটির সভাপতিরা।
স্কুল-কলেজের অধ্যক্ষদের পক্ষে বক্তব্য দেন চুনকুটিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহমুদ। পরিচালনা কমিটির সভাপতিদের পক্ষে বক্তব্য দেন টেগুরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি মাসুদ আলম স্বাধীন।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা ও বৃত্তি পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
৭ দিন আগে
ব্রিকস সামিটে না গিয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন তারেক রহমান: রিজভী
ব্রিকস সম্মেলনে না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের প্রধানমন্ত্রী। তো তাকে আপনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দাওয়াত দেবেন না? সে গিয়ে ওখানে সাইডলাইনে বসবে? এটা তো হতে পারে না। উনি যাননি। এই না যাওয়ার মধ্যে যে গর্বের জায়গা তৈরি করেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন গোটা জাতির সামনে, গৌরব তৈরি করেছেন জনাব তারেক রহমান।’
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘পতিত স্বৈরাচারী খুনি হাসিনা ভারতের ইন্ধনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’—এর প্রতিবাদে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে রিজভীর প্রশ্ন
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট নষ্ট হওয়ার খবর আসে।
তিনি বলেন, ‘১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। তারপরেই তারা বলল, তাদের সুইচ, এদের সুইচ আছে ভারতের ঝাড়খণ্ডে। সেই সুইচ তারা যেকোনো সময় বন্ধ করতে পারে, চালু করতে পারে। তারা ঘোষণা দিল যে, এই আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিট নষ্ট হয়ে গেছে।’
এ ঘটনাকে প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বিষয়টি বুঝতে বিশেষ কোনো ডিগ্রির প্রয়োজন হয় না।
তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আশ্রয় পেয়েছেন এবং বাংলাদেশ সরকার তাদের হস্তান্তরের জন্য বারবার আহ্বান জানিয়েছে।
রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার বারবার বলেছে তাকে হস্তান্তর করার জন্য। আপনারা হস্তান্তর করছেন না।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আদালতে যাদের বিচার চলছে, তাদের হস্তান্তর না করার বিষয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী অভিযোগ করেন, প্রকাশ্যে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে সৌহার্দ্যের কথা বলা হলেও আড়ালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে।
১০ দিন আগে
স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়া গেলেন মির্জা আব্বাস
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আবারও মালয়েশিয়া গেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে তিনি বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়েন।
মির্জা আব্বাসের একান্ত সহকারী মিজানুর রহমান সোহেল ইউএনবিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
সোহেল বলেন, মির্জা আব্বাস নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তার সহধর্মিনী আফরোজা আব্বাস এবং ছেলে মির্জা ইয়াসীর আব্বাস সঙ্গে রয়েছেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মির্জা আব্বাস মালয়েশিয়ায় প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে শারীরিক পরীক্ষা করাবেন। ইতোমধ্যে চিকিৎসকসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
দেশবাসীর কাছে প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টার পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া চাওয়া হয়েছে বলে জানান সোহেল।
এর আগে, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে গত ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন মির্জা আব্বাস। সেবার প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর তিনি দেশে ফিরেছিলেন।
১০ দিন আগে
সংকটে দেশ উদ্ধারের দায়িত্ব মানুষ বিএনপিকেই দেয়: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
দেশ যখনই কোনো কঠিন সংকটে পড়ে, তখন দেশের মানুষ সেখান থেকে উত্তরণের দায়িত্ব বিএনপির ওপরই দেয় বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেছেন, সংকটকালে দেশ ও দেশের মানুষকে রক্ষায় সঠিক নেতৃত্ব দেওয়াই বিএনপির প্রধান দায়িত্ব। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে দলের অভ্যন্তরে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে লালমনিরহাট জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নেতাকর্মীদের সতর্ক করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করলে তার চূড়ান্ত লাভ হবে ‘গুপ্ত ও পলাতক বাহিনীর’।
তিনি বলেন, ‘দল না থাকলে পদের কোনো দাম নেই। আর ডিসিপ্লিন না থাকলে কোনো সংগঠন কখনোই সামনে এগিয়ে যেতে পারে না। তাই সবাইকে দলের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকতে হবে।’
বক্তব্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘সামনে আমাদের কঠিন সময় পার করতে হবে।’ এ সময় দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে সভায় লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান ও লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
এ সময় জেলার পাঁচ উপজেলার বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
১২ দিন আগে
প্রতিশোধপরায়ণ হইনি, হতে চাই না: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘আমরা প্রতিশোধপরায়ণ এখনও হইনি, আমরা হতে চাই না। আমরা বাংলাদেশের মানুষের সুশাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনায় কাজ করে যাব।’
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের বিষয়ে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
সভায় মন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীকে দলীয় দাসত্বে পরিণত করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টের পর পুলিশ বাহিনীকে মানসিক শক্তি ও সাহস জোগাতে হয়েছে। তারা এখন নিরপেক্ষভাবে কাজ করার চেষ্টা করছে এবং করে যাচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ শুধু দেশের গুটিকয়েক মানুষ করছে না; প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকেও মাদকের চালান আসছে।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুর্নীতি দুইভাবে হয়—একটি অর্থনৈতিক, অন্যটি বুদ্ধিবৃত্তিক। এই দুই ধরনের দুর্নীতি আমাদের বন্ধ করতে হবে।
রাজনৈতিক বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রতিশোধপরায়ণ এখনো হইনি, আমরা হতে চাই না। আমরা বাংলাদেশের মানুষের সুশাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় কাজ করে যাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেমন মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলছি, তেমনি রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধেও কথা বলছি। সেই পথে বিএনপির কোনো নেতা যদি বাধা হয়ে দাঁড়ান, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন রয়েছে, সেটাকেও আমরা বিবেচনায় নেব না। আমরা কোনো রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে প্রশ্রয় দিতে চাই না।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলার বাদী হতো পুলিশ। ৫ আগস্টের পর পুলিশ বাদী হয়ে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা করেছে—এমন একটি উদাহরণও নেই। তবে কোনো ব্যক্তি মামলা করলে পুলিশ তা নিতে অস্বীকার করতে পারবে না; বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। এই ব্যালান্সের জায়গায় আমরা এসেছি। আগের মতো মিথ্যা গায়েবি মামলা আর নেই।
মতবিনিময় সভায় জেলার সংসদ সদস্যরা, জেলা পরিষদ প্রশাসক, জেলা প্রশাসকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
বিকেলে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে আইনমন্ত্রীর।
১৩ দিন আগে
তারেক রহমান গণতান্ত্রিক ও মানবিক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন: মুরাদ
ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ বলেছেন, মা-বাবার আদর্শ ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন গণতান্ত্রিক ও মানবিক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির সামনে আবির্ভূত হয়েছেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ধামরাই উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর আয়োজনে শোভাযাত্রার আগে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ঢাকা জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মুরাদ বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে স্বাধীনতার পতাকা ছিনিয়ে এনেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে দেশের ইতিহাসের এক সংকটময় মুহূর্তে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা বিলুপ্ত করেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।
দেশের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে জিয়াউর রহমানকে শহিদ হতে হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছে।
জিয়াউর রহমানের অবর্তমানে বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের হাল ধরেন বলেও উল্লেখ করেন ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৯ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।
বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও ষড়যন্ত্রের মধ্যেও বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি তিনবার জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছে উল্লেখ করে মুরাদ বলেন, বিএনপি যখনই রাষ্ট্রক্ষমতায় গেছে, তখনই আগের সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতিসহ নানা সংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতিসহ নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে তারেক রহমানও দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মা-বাবার মতো প্রধানমন্ত্রীও সফল হবেন।
শোভাযাত্রাটি ধামরাই উপজেলা চত্বর হয়ে ধামরাইয়ের যাত্রাবাড়ী এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ধামরাই পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু তাহের মুকুটের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা অধ্যাপক এম এ জলিল, এনায়েত হোসেন, আব্দুস সালাম, ইবাদুল হক জাহিদ, খুররম চৌধুরী টুটুলসহ আরও অনেকে।
১৪ দিন আগে