অর্থনীতি
করের আওতায় আসছে মুদি দোকান, বিউটি পার্লারসহ ১৬টি খাত
২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকার মুদি দোকান ও বিউটি পার্লারসহ ১৬ ব্যবসায়ী খাতকে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিনা সুলতানার টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
সেলিনা সুলতানা প্রশ্ন রেখে বলেন, বিগত অর্থবছরে মূল্য সংযোজন কর ও ভ্যাট বাবদ প্রাপ্ত রাজস্ব আয়ের পরিমাণ কত এবং নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান বা উৎসকে ভ্যাটের আওতায় আনবার পরিকল্পনা আছে কি না এবং থাকলে, সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠান বা উৎসের তালিকা কী?
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান বা উৎসকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। ব্যবসা খাতকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভ্যাটের সুর্নিদিষ্ট করের আওতায় আনা হচ্ছে। সেগুলো হলো: মুদি দোকান, তৈরি পোশাক বা কাপড় বিক্রেতা, কনফেকশনারি, কসমেটিকসের দোকান, প্লাস্টিক ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্যের দোকান, জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার পণ্যবিক্রেতা, ডেকোরেটর; মোবাইল ফোন, এসি, ফ্রিজ, ওভেন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিক্রেতা; পেইন্ট, স্যানিটারি ফিটিংস ও টাইলসের দোকান; ঢেউটিনের দোকান, রড ও সিমেন্টের দোকান, ফার্নিচার, বিউটি পার্লার, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ও রেস্তোরাঁ।
করের আওতা সম্প্রসারণ এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট বাবদ রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ১ লাখ ৪১ হাজর ৫৮৬ কোটি টাকা ছিল বলেও সংসদকে জানান অর্থমন্ত্রী।
২ দিন আগে
ব্যাংক খাতের সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ভিত মজবুত করা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৪৫০ মিলিয়ন বা ৪৫ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক।
বুধবার (২৪ জুন) বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বোর্ড এই ঋণ অনুমোদন করে।
‘ফাইন্যানশিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক এই প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা ও ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। একই সঙ্গে এই ঋণ ব্যাংক খাতের সংকট নিরসন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করবে।
ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাংকের এ অর্থায়ন মূলত আমানত সুরক্ষা তহবিলের মূলধন বৃদ্ধি এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার অগ্রাধিকারকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। এর মধ্যে রয়েছে আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, একটি কার্যকর জরুরি তারল্য সহায়তা কাঠামো প্রতিষ্ঠা, ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশল তৈরি এবং সরকারি ব্যাংকগুলোর কাঠামোগত সংস্কার।
বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাত দুর্বল করপোরেট সুশাসন, ঋণ বিতরণে অনিয়ম ও অনৈতিক সুবিধার কারণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) হার দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৩২ শতাংশের বেশি, যা দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংকগুলোর গড় খেলাপি ঋণের (৭.৯ শতাংশ) চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে পুরো ব্যাংকিং খাতের মূলধন ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের অনুপাত ঋণাত্মক ২.৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেসমে বলেন, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার যে লক্ষ্য বাংলাদেশের রয়েছে, তার জন্য একটি স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক খাত অপরিহার্য। তবে দেশের মোট আর্থিক খাতের সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশ ধারণকারী ব্যাংক খাত ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে।
তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাংলাদেশকে এমন কিছু প্রয়োজনীয় হাতিয়ার, ব্যবস্থা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে, যা ক্ষুদ্র আমানতকারীদের রক্ষা করবে, আর্থিক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করবে; যেন এটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
এই প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামো আধুনিকায়ন ও উন্নত করা হবে, যা ক্রমবর্ধমান সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা এবং খাতভিত্তিক তথ্য ও বিশ্লেষণের গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি দূর করতে সহায়তা করবে।
এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, তথ্যনির্ভর ও ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি জোরদার হবে এবং আর্থিক খাতের সামগ্রিক স্থিতিস্থাপকতা বাড়বে।
বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞ এবং প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার তোশিয়াকি ওনো বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) অন্য উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এটি মূলত সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করতে এবং ব্যাংকিং খাতের চাপ ব্যবস্থাপনায় কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
২ দিন আগে
ভঙ্গুর থেকে স্থিতিস্থাপক অর্থনৈতিক অবস্থায় পৌঁছাতে দুই বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী
বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে স্থিতিস্থাপক অবস্থায় পৌঁছাতে দুই বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, তৃতীয় বছর হবে উত্তরণের সময় এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হবে দেশের সমৃদ্ধির বছর।
সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর গ্রিন রোডে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ও ইউএপির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘দ্য ফিসকাল কম্পাস ২০২৬: বিয়ন্ড দ্য নাম্বার্স, শেপিং বাংলাদেশ’স ফিউচার—প্রপোজড ন্যাশনাল বাজেট ২০২৬-২০২৭’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমাদের হাতে সময় ছিল মাত্র দেড় মাস, অথচ জনগণের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন দেশ অর্থনৈতিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং মানুষ অর্থবহ পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে, তখন ভারসাম্য রক্ষা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।’
তিনি বলেন, ‘ভঙ্গুর অবস্থা থেকে স্থিতিস্থাপক অবস্থায় পৌঁছাতে দুই বছর সময় লাগবে। তৃতীয় বছর হবে একটি ভালো সময়। আর চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হবে সমৃদ্ধির বছর।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণই এবারের বাজেটের অন্যতম কেন্দ্রীয় ধারণা। নাগরিকরা কেবল নিষ্ক্রিয় দর্শক হয়ে থাকবে না; বরং অর্থনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ ও অবদান রাখার সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, বৃহত্তর অংশগ্রহণ, অন্তর্ভুক্তি এবং সুযোগ সৃষ্টির ভিত্তিতে নতুন অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এ দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সৃজনশীল অর্থনীতি, যার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিভাবান জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় আনা হবে।
স্থানীয় পণ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইবে ও অ্যামাজনের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বাংলাদেশের কারুশিল্পকে বিশ্ববাজারে তুলে ধরা সম্ভব। একইভাবে সংগীত, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যভিত্তিক শিল্পেও বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, বাজেট কখনোই শুধু একটি অর্থনৈতিক দলিল নয়; এটি একটি রাজনৈতিক হাতিয়ারও, যা সরকারের অগ্রাধিকার ও দিকনির্দেশনা প্রতিফলিত করে। তিনি বলেন, নতুন সরকার একটি উচ্চাভিলাষী বাজেট উপস্থাপন করেছে, তবে এর বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং অর্থায়নের উৎস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউএপির স্কুল অব বিজনেসের ডিন প্রফেসর ড. এম এ বাকী খলিলী। তিনি বলেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটের মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগনির্ভর পুনরুদ্ধার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম জাহান বলেন, যেকোনো বাজেটের কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে মানুষ। বাজেটকে এক বছরের বিচ্ছিন্ন পরিকল্পনা হিসেবে না দেখে আগামী পাঁচ বছরের ধারাবাহিক উন্নয়ন কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখতে হবে। তিনি অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার, ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান, অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ, র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসীসহ বিভিন্ন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
৪ দিন আগে
ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নে জোর দিতে হবে: অর্থমন্ত্রী
সরকার ধীরে ধীরে ব্যাংকঋণনির্ভর অর্থায়ন থেকে বেরিয়ে এসে বিকল্প অর্থায়নের পথ খুঁজছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে একটি বাজারভিত্তিক অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
রবিবার (২১ জুন) রাজধানীতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত বাজেট সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা কেবল বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর দিকে তাকিয়ে থাকতে পারি না। আমাদের নিজেদের সরকারি অর্থায়ন ব্যবস্থার পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।
মন্ত্রী জানান, সরকার বিকল্প অর্থায়নের চ্যানেল তৈরির জন্য কাজ করছে। পাশাপাশি অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে একটি বাজারভিত্তিক অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ব্যবস্থার পরিবর্তন, ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি এবং বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোর কঠোর শর্তের কারণে প্রচলিত অর্থায়ন পদ্ধতি আগের মতো কার্যকর থাকছে না।’ এ পরিস্থিতিতে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সক্ষমতা শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেন তিনি।
স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের ফলে বাজারে তারল্য সংকট সৃষ্টি হয় এবং সুদের হার বৃদ্ধি পায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এতে বেসরকারি খাত ও শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়।’ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সামগ্রিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের বিষয়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৪ বিলিয়ন ডলারের মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার প্রতিকূলতার মুখে পড়েছে এবং দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার প্রতিটি খাতে শত শত কোটি টাকার বকেয়া বিল উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, যে বাজেট তৈরি করতে সাধারণত ছয় মাস সময় লাগে, সেটি প্রস্তুত করার জন্য বর্তমান সরকার মাত্র দেড় মাস সময় পেয়েছে।
তিনি বলেন, আগের সরকারের কাছ থেকে আমরা ১ হাজার ৩০০টি প্রকল্প উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, যার অনেকগুলোই ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প বাতিল বা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আবার যে প্রকল্পগুলোর কাজ ৮০ শতাংশ শেষ হয়ে গিয়েছিল, সেগুলোর রিটার্ন অনিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও কাজ শেষ করা হচ্ছে।
জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে একটি এডিপি ড্যাশবোর্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি এবং বাস্তবায়নের অবস্থা রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করা যাবে।
বাণিজ্য সহজীকরণের বিষয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশ পর্যায়ক্রমে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) ব্যবস্থা থেকে সরে এসে বৈশ্বিক নিয়মের সঙ্গে মিল রেখে আমদানি-রপ্তানির জন্য সরাসরি পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করবে, যা নির্ভরযোগ্য ব্যবসায়ীদের এলসি খোলা ছাড়াই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করার সুযোগ দেবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনীতির বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যা সমাধান করে টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামী দুই বছরের মধ্যে অর্থনীতি বর্তমান সংকটময় অবস্থা থেকে স্থিতিশীলতার পথে এগোবে। তৃতীয় বছর থেকে পুনরুদ্ধারের সুফল দৃশ্যমান হবে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।’
৫ দিন আগে
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্পূরক বাজেটে ব্যয় ও ঘাটতি সমন্বয় করেছে সরকার: অর্থমন্ত্রী
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে সরকার সম্পূরক বাজেটে ব্যয় ও বাজেট ঘাটতিতে সমন্বয় এনেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা শেষে সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ কাঠামোর দুর্বলতা, মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ এবং বৈশ্বিক অস্থিরতা মোকাবিলা করে দেশের অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বর্তমান সরকার গঠনের পর থেকে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপচয় কমানো, অগ্রাধিকারহীন ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক ব্যয়ে মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দেওয়া ভর্তুকির বিষয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয় করতে হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানীভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
এসব কার্যক্রমের জন্য সম্পূরক বাজেটে ব্যয় এবং ঘাটতির কিছুটা সমন্বয় করতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারের নিট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। তবে নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে সরকারি ব্যয়, বিশেষ করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়নের গতি কিছুটা মন্থর থাকায় সংশোধিত বাজেটে মোট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে মোট নিট ব্যয় দাঁড়াবে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা।
তিনি জানান, সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশোধিত বাজেটে ২৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ ৫৯ হাজার ৩৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা কমানো হয়েছে।
সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নেওয়া সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত মঞ্জুরি দাবিগুলো অনুমোদনের জন্য সংসদের প্রতি আহ্বান জানান।
১১ দিন আগে
প্রশাসনিক সংস্কার, দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে: অর্থমন্ত্রী
ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমানো, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির চাপ ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ (শুক্রবার) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি কোনো স্বল্পমেয়াদী সমস্যা নয়। এটি গত কয়েক বছরের পুঞ্জীভূত চাপ, বৈশ্বিক সংঘাত, আমদানির উচ্চ খরচ এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতার সম্মিলিত ফল।
তিনি উল্লেখ করেন, গত তিন বছর ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বিভিন্ন বাহ্যিক কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে, ঋণখেলাপি, জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকগুলোতে যে মূলধন সংকট তৈরি হয়েছে, তা তহবিলের খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আমির খসরু বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ ধরনের বাহ্যিক মূল্যস্ফীতির চাপের ওপর বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ সীমিত। তবে, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ, প্রশাসনিক সংস্কার ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ব্যবসার খরচ কমিয়ে সরকার দেশের ভেতরে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে পারে।
অর্থমন্ত্রীর মতে, দীর্ঘমেয়াদী অনুমোদন প্রক্রিয়া, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, ঋণের উচ্চ সুদ, বন্দরে অদক্ষতা এবং কর ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়।
তিনি বলেন, বাজারে পুলিশ, নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বা সরকারি কর্মকর্তা মোতায়েন করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এটি সঠিক নীতি এবং দক্ষ প্রশাসনের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।
বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে আগামী অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
খসরু বলেন, সরকার ব্যবসার সহজীকরণ, অপ্রয়োজনীয় নিয়মকানুন হ্রাস এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বৃহত্তর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেবে। এছাড়া বন্দর, লজিস্টিকস এবং ক্রয় প্রক্রিয়ার সংস্কারও খরচ কমাতে সাহায্য করবে।
দীর্ঘমেয়াদী ক্রয় পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বাজারের ধাক্কা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশের জ্বালানি, খাদ্য ও সারের কৌশলগত মজুত বজায় রাখা উচিত। জ্বালানি আমদানির বিষয়ে অতীতের স্পট মার্কেট নির্ভরতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভালো দাম পেতে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির দিকে এগোতে চায়।
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বিষয়ে খসরু বলেন, দীর্ঘ কয়েক বছর বড় ধরনের কোনো সমন্বয় না হওয়ায়, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচের সঙ্গে সঙ্গতি রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল।
তিনি বলেন, মানুষ যখন আর্থিক সংকটে পড়ে, তখন দুর্নীতির প্রবণতা বাড়ে। বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই চাপ কমবে এবং সরকারি কর্মচারীদের উন্নত জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত হবে।
বাজেটের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতের বিকাশে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। তরুণ ও শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগ মানেই কর্মসংস্থান। আমাদের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে চাকরির চাহিদা তৈরি করা।
খসরু বলেন, এই বাজেট প্রচলিত ধারা থেকে একটি বড় পরিবর্তন এবং এটি পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন।
অভ্যন্তরীণ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সরকারি ঋণের কারণে অনেক সময় বেসরকারি খাতের ঋণ পাওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়। চলতি অর্থবছরে স্থানীয় ব্যাংক থেকে পরিকল্পিত ঋণ গ্রহণের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় কমানো হয়েছে এবং আগামী বছরগুলোতেও এই ধারা বজায় থাকবে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বাজেটের বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, নিম্নআয়ের এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সহায়তার লক্ষ্যেই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের সহায়তা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার মতো কর্মসূচিগুলোর উদ্দেশ্য হলো মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং তাদের আরও ভালো কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করা।
অর্থমন্ত্রী সরকারের প্রস্তাবিত ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন, যার লক্ষ্য কারুশিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের মূলধারার অর্থনীতিতে একীভূত করা। তিনি বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পী, তাঁতি, কুমার, সংগীতশিল্পী এবং অন্যান্য সৃজনশীল কর্মীদের অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ, ডিজাইন সহায়তা এবং বাজারের সুযোগ দেওয়া হবে, যারা এতদিন আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বাইরে ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, সৃজনশীল কেন্দ্র, সাংস্কৃতিক জেলা, পর্যটন-সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এবং ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার কর্মসূচিসহ এই সৃজনশীল অর্থনীতি উদ্যোগ চালু করতে সরকার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতাকে অর্থনৈতিক রূপ দেওয়া, যাতে শিল্পী ও কারুশিল্পীরা তাদের জীবিকার উন্নতি করতে পারেন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারেন।
খসরু আরও জানান, সম্পত্তি লেনদেনের মাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার সুযোগ বন্ধ করতে সরকার পুরানো মৌজা জমির মূল্যায়ন হার পর্যালোচনা করছে, যা প্রায়ই বাজার মূল্যের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকে। মৌজা রেট সংশোধন করে প্রকৃত বাজার মূল্যের কাছাকাছি আনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে এর জন্য দেশব্যাপী জরিপ প্রয়োজন এবং বাজেটের আগে এটি সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল না।
বাস্তবায়নের বিষয়ে আশঙ্কার জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সংস্কার কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স এবং একটি অনলাইন অভিযোগ প্ল্যাটফর্ম গঠন করবে।
তিনি বলেন, কোনো কাজে বিলম্ব বা অনিয়ম হলে কেউ জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থাকবে না। আমরা বাস্তবায়নের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এর আগে, প্রারম্ভিক বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এই বাজেটকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট হিসেবে বর্ণনা করেন, যা নতুন সরকার গঠনের পর দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই বাজেট সুবিধাভোগী অর্থনৈতিক মডেল থেকে সরে এসে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রীকরণ’ নিশ্চিত করতে চায়।
মন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে যা প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়, আর্থিক অব্যবস্থাপনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছিল, যার ফলে বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের সরকারি ব্যয় এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলো চারটি মূল মানদণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে: অর্থের সঠিক মূল্য (ভ্যালু ফর মানি), বিনিয়োগের রিটার্ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত টেকসই স্থায়িত্ব (এনভায়রনমেন্টাল কনসিডারেশন)।
আমির খসরু বলেন, ‘আমাদের বাজেট চিন্তায় ছিল বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষকে নিয়ে আসার। তাদের জীবনযাত্রার মান তাদের ভবিষ্যৎ সবসময় বাজেটে প্রতিফলিত হয় না। এবারের বাজেটে আমরা চেষ্টা করেছি সবাইকে আনার। আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে কোনো শ্রেণি, পেশা, ধর্ম, বর্ণের কেউ এই বাজেটের আওতার বাইরে আছে বলে আমি মনে করি না।’
১৪ দিন আগে
বাজেট ২০২৬-২৭: কোন পণ্যের দাম বাড়বে, কমছে কোনটির
জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় শিল্প সুরক্ষা ও স্থানীয় উৎপাদন উৎসাহিত করতে বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক ও কর কাঠামোয় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে বাজারে বেশ কিছু আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, নিত্যপণ্য, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন খাতে শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাবে ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তিনি নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এটি বিএনপি সরকারের এই মেয়াদের প্রথম বাজেট এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট।
দাম বাড়তে পারে যেসব পণ্যের
কারণ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কয়েকটি পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ক ও কর বৃদ্ধি করেছে সরকার। এর ফলে বাজারে কিছু পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সিগারেট, আমদানি করা জ্বালানিচালিত গাড়ি, বিদেশি কাজুবাদাম, মধু, সুপারি, রড এবং বিভিন্ন আমদানিনির্ভর ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিগারেটে বাড়ছে করের চাপ
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার যুক্তিতে সিগারেটের সব স্তরের ন্যূনতম খুচরা মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নিম্নস্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের মূল্য ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরের ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরের ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তরের ২১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
তেলচালিত গাড়ি কেনা হবে আরও ব্যয়বহুল
পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থাকে উৎসাহ দিতে অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন (আইসিই) চালিত গাড়ির ওপর করভার বাড়িয়েছে সরকার। বিশেষ করে ১,২০০ থেকে ১,৬০০ সিসি ক্ষমতাসম্পন্ন আমদানি করা পেট্রল, অকটেন বা ডিজেলচালিত গাড়ির করভার ১৩২ শতাংশের বেশি থেকে প্রায় ১৫৬ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।
এতে মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের মধ্যে জনপ্রিয় গাড়িগুলোর দাম আরও বেড়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাইসাইকেল
দেশীয় সাইকেল শিল্পকে সুরক্ষা দিতে বাইসাইকেলের যন্ত্রাংশ আমদানির শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার পাশাপাশি নতুন করে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে আমদানিকৃত যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।
কাগজের কাঁচামাল
কাগজ শিল্পের সুরক্ষায় গ্রিজ প্রুফ ও গ্লাসিন পেপারের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে আমদানিকৃত কাগজ ও কাগজজাত কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
বৈদ্যুতিক মোটর
১২০০ ওয়াটের নিম্ন ক্ষমতাসম্পন্ন ডিসি মোটর আমদানির ওপর ১০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব থাকায় বৈদ্যুতিক মোটরের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কাজুবাদাম
দেশীয় কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত শিল্পকে উৎসাহ দিতে কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে আমদানিকৃত কাজুবাদামের বাজারদর বৃদ্ধি পেতে পারে।
জিপসাম বোর্ড ও শিট
নির্মাণসামগ্রী খাতেও প্রভাব পড়তে পারে। স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে জিপসাম বোর্ড ও শিট আমদানির ওপর ২০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়ও ডিটারজেন্ট, রড, কপার তার, কপার টিউব, হিমায়িত মাছ, সুগন্ধি নির্যাসসহ কিছু আমদানিনির্ভর পণ্যের দামেও ঊর্ধ্বমুখী প্রভাব পড়তে পারে।
কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম
নিত্যপণ্য, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন খাতে শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাবে ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে একদিকে কিছু পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ক ও কর বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলেও বড় একটি অংশের পণ্যে কর হ্রাস ও অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন খাতে অনেক পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
৬০টি নিত্যপণ্য
ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল ও বীজসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে দৈনন্দিন বাজারে চাপ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিশুখাদ্য
শিশুখাদ্য উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমে দাম কমতে পারে।
মসলা
জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ ও ধনিয়ার মতো মসলায় ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
খেজুর
খেজুর আমদানিতে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে দাম কমতে পারে।
সোনার গয়না
সোনার সরবরাহে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করা হয়েছে। ভ্যাট কাঠামো পরিবর্তনের ফলে প্রতি ভরিতে করের চাপ কমেছে, এতে দাম কিছুটা কমতে পারে।
বৈদ্যুতিক গাড়ি
ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িতে বড় ধরনের করছাড় দেওয়া হয়েছে। এতে এসব গাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ল্যাপটপ ও কম্পিউটার
ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, সার্ভার, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে প্রযুক্তিপণ্যের দাম কমতে পারে।
কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা
ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে প্রতিবার ডায়ালাইসিস খরচ প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।
ওষুধ
ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামালে করছাড় দেওয়া হয়েছে। ক্যানসারের ওষুধ তৈরির ৯টি নতুন কাঁচামালে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে, এতে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাদ্যযন্ত্র
গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ বাদ্যযন্ত্র ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে দাম কমতে পারে।
অন্যান্য
বিদেশি মাংস, প্রাণিখাদ্য, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম, পিওএস যন্ত্র, লিপস্টিক, ফেসওয়াশসহ বিভিন্ন প্রসাধনী পণ্যের শুল্ক কমানো হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নিত্যপণ্যে কর কমানোয় সাধারণ মানুষের ব্যয়চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে বাস্তবে বাজারে দাম কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতির ওপর।
১৫ দিন আগে
রেমিট্যান্সে ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা থাকছে, আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা সহজেই প্রবাসী কল্যাণসেবা, বীমা সুবিধা, ব্যাংকিং সেবা এবং জরুরি সহায়তা গ্রহণ করতে পারবেন।
একইসঙ্গে বৈধ পথে দেশে অর্থ পাঠাতে উৎসাহ দিতে বিদ্যমান ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা বহাল রাখার কথাও জানিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে এসব ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজেটে প্রবাসীদের অগ্রাধিকার তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ ও প্রবাসী বাংলাদেশি জনশক্তির সুরক্ষা ও কল্যাণে আমাদের সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রবাসী কর্মীদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার একটি বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রবর্তন করছে। প্রবাসী কল্যাণ সেবা, বীমা, ব্যাংকিং সুবিধা এবং জরুরি সহায়তার সঙ্গে কার্ডটি সংযুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে আমরা রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এছাড়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আমরা আবারও মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শ্রমবাজার খোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।
আমির খসরু বলেন, আমাদের সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরের মাসেই প্রবাসীদের পাঠানো মাসিক রেমিট্যান্স ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। আমরা আশা করছি এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার প্রবাসি আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণের ক্ষেত্রে ২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক শ্রম বাজারের চাহিদার ভিত্তিতে অকুপেশন ভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
অর্থমন্ত্রীর ভাষ্যে, বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে—এমন খাতগুলোর জন্য খাতভিত্তিক কোর্স এবং পাঠ্যক্রম চালুর কাজ শুরু করেছে সরকার। এ ছাড়াও বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম উন্নয়ন, সার্টিফিকেশন, অ্যাক্রেডিটেশন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়েছে।
১৫ দিন আগে
ক্যানসারসহ ৬ রোগে আক্রান্তদের এককালীন ১ লাখ টাকা সহায়তার প্রস্তাব
২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ক্যানসার, কিডনি ও অন্যান্য দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির ঘোষণা এসেছে। নতুন বাজেটে এসব রোগীদের এককালীন চিকিৎসা সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এসব কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘদিনের শূন্যপদ পূরণের অংশ হিসেবে শিগ্গিরই ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক এবং প্রায় ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী কর্মী থাকবেন।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অতীতের দুর্বল পরিকল্পনা ও অবহেলার কারণে টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, যার ফলে দেশে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে প্রায় শতভাগ শিশুকে হাম, রুবেলা টিকা দিয়েছে।’
এছাড়া মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১৮ লাখ ৯৫ হাজার মা ও শিশুকে মাসে ৮৫০ টাকা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
পাশাপাশি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি খাতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে এবং নার্সিং বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ প্রথমবারের মতো জিডিপির ১ শতাংশের ওপরে নেওয়া হয়েছে। মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
১৫ দিন আগে
ব্যাংক হিসাব খুলতে বাধ্যতামূলক হচ্ছে টিআইএন
বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতি আস্থাহীনতার কারণে এমনিতেই মানুষের হাতে টাকা রাখার প্রবণতা বেড়েছে। এর মধ্যে ব্যক্তি ও যে কোনো ব্যবসায়িক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং করজাল সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব ঘোষণা করেন।
প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন করে কোনও ব্যক্তি ব্যাংক হিসাব খুলতে চাইলে তাকে টিআইএন সনদ দাখিল করতে হবে। এর ফলে ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে করদাতাদের তথ্যভান্ডার আরও সমৃদ্ধ হবে এবং কর প্রশাসনের আওতা বাড়বে বলে মনে করছে সরকার।
তবে কিছু ক্ষেত্রে এ বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব, নো-ফ্রিলস অ্যাকাউন্ট (১০ টাকার হিসাব), সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা গ্রহণের হিসাব এবং পেনশনভোগীদের ব্যাংক হিসাবের ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ প্রদর্শনের প্রয়োজন হবে না।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে ১৭ কোটির বেশি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। নতুন বিধান কার্যকর হলে ভবিষ্যতে ব্যাংক হিসাব খুলতে আগ্রহী ব্যক্তিদের আগে টিআইএন নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত এই পদক্ষেপকে কর প্রশাসনের ডিজিটাল রূপান্তর ও রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৫ দিন আগে