শিক্ষা
শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়ার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, শুধু শিক্ষিত হয়ে চাকরি বা একটি ভালো পদে অধিষ্ঠিত হলেই হবে না; দেশের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ‘নবীন বরণ-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘আপনারা মেধাবীদের মধ্যে সেরা মেধাবী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মই হয়েছিল প্রতিভাবানদের জন্য। বিশ্বের যে প্রান্তেই যান, আপনারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবেন।’
এ সময় স্পিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমিও আপনাদের মতো ১৯৮৯-৯০ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের একজন ছাত্র ছিলাম। ছাত্রজীবনের স্মৃতি কখনও মুছে যায় না। আজ এই মিলনায়তনে এসে মনে হচ্ছে, যেন আবার সেই দিনগুলোতে ফিরে গেছি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়; বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও জাতীয় মুক্তির ইতিহাসের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
তিনি আরও বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন আন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয় পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।
দেশ যখনই কোনো সংকট, দুর্যোগ বা জাতীয় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, তখনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, কঠিন সময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় জাতির জন্য আশা, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক।
শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস, অধ্যবসায় ও শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘মেধা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মেধার সঠিক বিকাশ ঘটে অধ্যবসায়, সততা, শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে।’
তিনি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার আহ্বান জানান।
দেশের প্রতি দায়িত্ববান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কায়সার কামাল বলেন, ‘শুধু বিসিএস দিয়ে একটি সুন্দর চেয়ারে বসলে হবে না, দেশের প্রতি দায়িত্ববান হতে হবে। নিজেকে স্বনামধন্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আর কখনও রাজপথে গিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে চাই না। আমরা মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চাই। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করতে হবে, যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।’
অনুষ্ঠানে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক, নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
৩ দিন আগে
চুয়েটে কমপ্লিট শাটডাউনের দ্বিতীয় দিনে গণস্বাক্ষর চলছে
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পদে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আজ বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ করে দিয়ে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন তারা।
গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে দেখা যায়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয়পত্রের নম্বর ও স্বাক্ষর দেন। সংগৃহীত গণস্বাক্ষর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া যন্ত্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারহান হাসনাত আদিব বলেন, ‘গত ২১ সেপ্টেম্বর বিনা নোটিশে অধ্যাপক আবু সাদাত সায়েম স্যারকে উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ওই রাতেই আমরা বিক্ষোভ মিছিল করি। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর চুয়েটে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করি। আজ আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করছি। এই স্বাক্ষর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।’
শিক্ষার্থীরা জানান, ২১ সেপ্টেম্বর কোনো নোটিশ ছাড়াই অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রতিবাদে ওই রাতেই বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর পালন করা হয় চুয়েট কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবেও জানিয়েছেন তারা।
এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর রাতে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শাটডাউন ঘোষণা করেন তারা।
৪ দিন আগে
সিকৃবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের পদত্যাগ ও অপসারণের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে। প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনকারীরা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কেউ কেউ প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করতে পারেননি বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ আন্দোলনকারীদের এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এ নিয়ে টানা অষ্টম দিনের মতো মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বর্তমান উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
উপাচার্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত এবং অবিলম্বে তাকে অপসারণের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তারা।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
আজকের (সোমবার) অবস্থান ও মানববন্ধন কর্মসূচিতে অধ্যাপক ড. এমদাদুল হকের সভাপতিত্বে এবং জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামানের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ছিদ্দিকুল ইসলাম, সাদা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, সাবেক সভাপতি মাহবুব ইকবাল, আতাউর রহমান ও অধ্যাপক ড. নাজমুল হক।
কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি গাজী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, মোহাম্মদ নেওয়ামত উল্লাহ, বাছিত উদ্দিন ও আশফাক আহমেদ।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেন সিকৃবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সানাউল হোসেন সনি, যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, আশরাফুল ইসলাম ও গোলাম রাব্বানী।
৬ দিন আগে
রাবি শিক্ষার্থীকে রেলস্টেশনে মারধর-উত্তেজনা, ৪ আরএনবি সদস্য বরখাস্ত
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেললাইন অবরোধ, রেলস্টেশন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে শিক্ষার্থী মারধরের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন স্টেশন বাজার এলাকায় রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। রাত পৌনে ১২টার দিকে একদল শিক্ষার্থী রাজশাহী রেলস্টেশন কার্যালয়ে গিয়ে জানালার কাচ ও চেয়ার ভাঙচুর করেন। রাত ১টা পর্যন্ত সেখানে ভাঙচুর চলার কথা জানা গেছে।
এর আগে, ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ‘মার্চ টু রাজশাহী রেলস্টেশন’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে স্টেশনের দিকে রওনা হন। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। এ সময় তিনি ট্রেন থামিয়ে দুই কর্মকর্তাকে আটকের হুঁশিয়ারি দেন।
শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে ঢাকাগামী আন্তনগর ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাত ১১টা ২০ মিনিটে রাজশাহী থেকে ছাড়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে ছাড়তে পারেনি।
মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর নাম আইয়ুব আলী। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা জানান, চাচাকে নিতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে গিয়েছিলেন আইয়ুব আলী। এ সময় স্টেশনে ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আইয়ুব আলী ওই ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
আইয়ুবের সহপাঠী মোহাম্মদ মিজান বলেন, রেলস্টেশনে রাবির কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে রেলওয়ের কর্মচারীদের বাগ্বিতণ্ডা হচ্ছিল। পরে আইয়ুব তাদের পক্ষে কথা বললে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। বর্তমানে তিনি রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তিনি বলেন, ‘জড়িতদের অনতিবিলম্বে আটক করতে হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর এত প্রতিহিংসা কিসের, এটা দেখতে চাই।’
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাপরিচালক আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ভায়োলেন্সের ঘটনা কাম্য নয়। আমরা এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠাচ্ছি। একই সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই অব্যাহতি দেওয়া হবে।’
শিক্ষার্থীদের অবরোধ বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরে শিক্ষার্থীদের আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া একদম স্বাভাবিক। আমি তাদের আইন হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানাব। আমরা আইনগতভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এরই মধ্যে শিক্ষার্থী মারধরের ঘটনায় আরএনবির চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল (রবিবার) রাজশাহী রেলওয়ের চিফ কমান্ড্যান্ট মোহা. আশাবুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া আরএনবির সদস্যরা হলেন: মো. আরিফ হোসেন, মো. রোকন উদ্দীন, মো. শফিকুল ইসলাম ও মো. শাহাদত হোসেন।
দপ্তরাদেশে বলা হয়েছে, গতকাল সন্ধ্যায় রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের কমান্ড্যান্ট (সদর)-এর কাছে নিয়মিত দৈনিক হাজিরা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, রাত দেড়টার দিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও পুলিশের কর্মকর্তারা স্টেশনে গিয়ে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে আনেন।
৬ দিন আগে
প্রাথমিকের কারিকুলামে ১২ মাসে ১২টি জীবনঘনিষ্ঠ থিম যুক্ত হবে: প্রতিমন্ত্রী
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, জীবনদক্ষতা ও বাস্তবজ্ঞান বাড়াতে নতুন কারিকুলামে বছরজুড়ে ১২টি জীবনঘনিষ্ঠ থিমকে প্রাধান্য দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, প্রাথমিকের একজন শিক্ষার্থী শুধু বইয়ের জ্ঞান অর্জন করবে না; কীভাবে নিরাপদ থাকতে হয়, দায়িত্বশীলভাবে জীবন পরিচালনা করতে হয় এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলাতে হয়, সেসব বাস্তব জীবনদক্ষতাও শিখবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার লা মেরিডিয়ান হোটেলে হেইলিবেরি ভালুকা ও ক্যামব্রিজের যৌথ আয়োজনে ‘সেফগার্ডিং লিডারশিপ সামিট’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভিশন অনুযায়ী এমন একটি প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করা হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি শিশু নিরাপদ পরিবেশে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকবে এবং শ্রেণিকক্ষে কার্যকরভাবে শিখবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তার পাশাপাশি জীবনদক্ষতা শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, নতুন করে কারিকুলাম সংস্কারের কাজ চলছে। সেখানে ১২ মাসে ১২টি জীবনঘনিষ্ঠ থিম নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্দিষ্ট একটি মাসে যে থিমকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, ওই মাসের বিভিন্ন বিষয়ের পাঠেও সেই থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদাহরণ, সংখ্যা, প্রশ্ন ও আলোচনা যুক্ত করা হবে।
এর ফলে শিক্ষার্থীরা বইয়ের পাঠের সঙ্গে বাস্তব জীবনের বিভিন্ন বিষয় সহজে মিলিয়ে নিতে পারবে বলে জানান তিনি।
উদাহরণ দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, কোনো মাসে যদি অগ্নিনিরাপত্তাকে থিম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়, তাহলে গণিত, ভাষা ও অন্যান্য বিষয়ের পাঠেও অগ্নিনিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট উদাহরণ ও আলোচনা যুক্ত করা যেতে পারে। একইভাবে সড়ক নিরাপত্তা, পানিতে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা, দুর্যোগ মোকাবিলাসহ শিশুদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে গুরুত্ব পাবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সব ধরনের প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম নিরাপত্তা ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে সরকার নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে নির্ধারিত মানের চেয়ে ভালো ব্যবস্থা করেছে, তারা আরও এগিয়ে যেতে পারবে।
সরকারের লক্ষ্য হলো সবার জন্য ন্যূনতম মান নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে ভালো উদ্যোগগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থার মান উন্নয়ন করা বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শুধু নিয়ন্ত্রক হিসেবে নয়, অংশীদার হিসেবেও কাজ করতে চায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা ও ভালো উদ্যোগ থেকে সরকার শিখতে চায়। একইভাবে সরকারের নীতিমালা ও সহযোগিতার মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষার জন্য একটি অভিন্ন মানদণ্ড তৈরি করা হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
১১ দিন আগে
বাকৃবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নতুন কমিটি, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নতুন কমিটি প্রকাশিত হয়েছে। ওই কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। একই সঙ্গে কমিটি প্রত্যাখ্যান করে ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে শাখা ছাত্রশিবির ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফন্টের নেতারা। নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম ক্যাম্পাসে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনগুলো।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আগামী এক বছরের জন্য নতুন ওই কমিটি প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ইমরান সিদ্দিকী প্রান্তকে সভাপতি, মো. মুইন নাদিম আল মুন্নাকে সাধারণ সম্পাদক, মাহফুজ হক অভিকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তামিম মাহমুদ আকাশকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। সহ-সভাপতি পদে রাখা রয়েছে মো. রাকিবুল ইসলাম, মো. মেহেদী হাসান, শাহরিয়ার খন্দকার ও মো. খালেদ হাসান।
এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রদল। এতে শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এ এম শোয়াইবসহ বিভিন্ন হলের শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ বাকৃবিতে নতুন কমিটি দিয়েছে। যদিও তাদের কোনো প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম দৃশ্যমান নেই। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এ সংগঠনের যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে বদ্ধপরিকর। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রতি সম্মান রেখে ক্যাম্পাসে এ সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
এ এম শোয়াইব বলেন, যেহেতু তারা একটি নিষিদ্ধ সংগঠন তাদের কর্মকাণ্ডের কোনো বৈধতা নেই। কমিটির প্রায় সবাই ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত। কেউ ঢাকায় থাকে, কেউ আছে বিদেশে, কেউ কক্সবাজার কিংবা কেউ তার নিজ নিজ এলাকায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ক্যাম্পাসের আশপাশের যে এলাকাগুলো আছে, সেখানেও কেউ থাকে না। এটি একটি ভার্চুয়াল কমিটি। এই কমিটি আদৌ ক্যাম্পাসে কোনোদিন আসতে পারবে কি না, তার কোনো ভিত্তি নেই এবং এটি ভার্চুয়ালিই থাকবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, তারা (ছাত্রলীগ) ক্যাম্পাসে আসার দুঃসাহস দেখাবে না। এই পলাতক কমিটির ব্যানারে যদি বাকৃবি ক্যাম্পাসে পুনরায় কোনো ধরনের অপতৎপরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়, তবে বাকৃবি ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তা কঠোর হস্তে প্রতিহত করবে।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মঈন বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির প্রেক্ষাপট ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনস্তত্ত্ব বদলে গেছে। বর্তমান বাংলাদেশে ছাত্রলীগ রাজনীতি করার অধিকার হারিয়েছে। নতুন করে তাদের কমিটি বর্তমান প্রজন্মকে প্রভাবিত করবে না। বাকৃবিতেও শিক্ষার্থীরা এ কমিটি প্রত্যাখ্যান করবে।’
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বাকৃবি শাখার নেতারা বলেন, আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। যারা রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ, যারা ২৪-এর এতো বড় একটা গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত এবং তাদের বিচারকার্যও চলমান রয়েছে। এদেশের জনগণ যাদের অস্বীকার করে, তাদের নিজেদের দায় স্বীকার না করে এমন প্রকাশ্যে কমিটি দেওয়াকে আমরা নিন্দা জানাই।
গতকাল (মঙ্গলবার) নিষিদ্ধ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন রাতেই তাদের মাধ্যমে কমিটি গঠনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
১১ দিন আগে
বৃত্তি-উপবৃত্তিতে সমতা নয়, প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে: ববি হাজ্জাজ
বৃত্তি ও উপবৃত্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত সমতার ধারণার পরিবর্তে শিক্ষার্থীর প্রকৃত আর্থিক প্রয়োজন ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেছেন, সরকারি সহায়তার প্রতিটি টাকা এমন শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে, যার শিক্ষা অব্যাহত রাখার জন্য এ সহায়তা সত্যিকার অর্থে প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ‘প্রমাণ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: বিদ্যালয় পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার (এসএলআইপি) কার্যকারিতা বিষয়ক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, পিপিআরসি ও ইউনিসেফ যৌথভাবে কর্মশালাটি আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সব শিক্ষার্থীকে সমানভাবে সহায়তা করলেই শিক্ষায় প্রকৃত সমতা নিশ্চিত হয় না। যার প্রয়োজন বেশি, তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়াই প্রকৃত ন্যায্যতা। দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের একটি শিশুর জন্য সামান্য আর্থিক সহায়তাও বিদ্যালয়ে তার উপস্থিতি ও শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
তাই বৃত্তি-উপবৃত্তির নীতিতে পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা, শিশুর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি এবং শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনা মূল্যে শিক্ষার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো পরিবার আর্থিকভাবে সক্ষম থাকা অবস্থায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সন্তানকে পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে, ওই পরিবারের জন্য একই ধরনের সরকারি আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে বিবেচনা করা যেতে পারে।
সেই সঙ্গে যে পরিবার সন্তানের শিক্ষা ব্যয় বহনে হিমশিম খাচ্ছে, তাদের শিশুকে সহায়তার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। সরকারের সীমিত সম্পদকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন থাকা শিশুর কাছে পৌঁছে দেওয়াই দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বিদ্যালয়ে শিশুর ভর্তি নিশ্চিত করা নয়, দারিদ্র্য, আর্থিক সংকট বা অন্য কোনো বাধার কারণে কোনো শিশু যেন শিক্ষা থেকে ছিটকে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা। এ জন্য বৃত্তি, উপবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ, স্কুল ফিডিংসহ সব ধরনের সহায়তা কর্মসূচিকে আরও সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক করার প্রয়োজন রয়েছে।
সরকারি সহায়তার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী চিহ্নিত করার সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে বলেও জানান তিনি।
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা হিসেবে সাঁতার শেখানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের জলাশয়, নদী ও পানিবেষ্টিত পরিবেশের সঙ্গে প্রতিনিয়ত বসবাস করতে হয়। তাই সাঁতারকে শুধু ক্রীড়া হিসেবে না দেখে জীবনদক্ষতা ও নিরাপত্তার অংশ হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘শিশুকে শুধু বইয়ের জ্ঞান দিলেই হবে না; তাকে নিজের জীবন রক্ষা করার প্রয়োজনীয় দক্ষতাও দিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন ইউনিসেফের শিক্ষা বিশেষজ্ঞ জয় মিলান মালের। গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রধান দীপা শংকর ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
১২ দিন আগে
ঢাবি ক্যাম্পাসের ৩ ঘটনা তদন্তে পৃথক কমিটি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের সাম্প্রতিক তিনটি ঘটনা তদন্তে পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সাত কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিগুলো সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেবে। এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।
ডাকসুর ‘ডিইউ ইভ্যালুয়েশন’ নামে ওয়েবসাইট চালু, ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন এবং ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি টানানোর ঘটনা তদন্তে এসব কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর ১২(৩) ধারা অনুযায়ী কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে কমিটিগুলোকে। এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
‘ডিইউ ইভ্যালুয়েশন’ নামে ডাকসুর ওয়েবসাইট চালুর বিষয়টি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)-কে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), আইন অনুষদের ডিন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও প্রাতিষ্ঠানিক মান নিশ্চিতকরণ কেন্দ্রের পরিচালক। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে কলাভবনসংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের বিষয়টি তদন্তে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)-কে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনির্দিষ্ট আইন থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ডাকসুর এই স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের বিষয়টি তদন্ত করবে কমিটি।
এ কমিটির সদস্যরা হলেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন, আইন অনুষদের ডিন ও প্রক্টর। বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট ব্যবস্থাপক সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্যদিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের আলোচিত ছবি টানানোর ঘটনাটি তদন্তেও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)-কে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির সদস্যরা হলেন আইন অনুষদের ডিন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও প্রক্টর। এ কমিটিতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট ব্যবস্থাপক সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
১২ দিন আগে
জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন, অনুমতি ছাড়া স্মৃতিস্তম্ভ: ডাকসুর কর্মকাণ্ডে ব্যবস্থা নেবে ঢাবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রয়াত গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক ফররুখ মাহমুদের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ডাকসু-সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ অবস্থান জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ডাকসু-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ ও লালন করার কথা উল্লেখ করে ঢাবি প্রশাসন বলেছে, গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মলচত্বরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়। উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এটি উদ্বোধন করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর অনুচ্ছেদ ২৪(এ) অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি তদারকি, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সিন্ডিকেটের ওপর ন্যস্ত। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ ও প্রবিধানের চতুর্দশ অধ্যায়ের ৪ নম্বর ধারার নোট অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদকে যেকোনো সিদ্ধান্ত উপাচার্যের নির্দেশনা অনুযায়ী নিতে হবে।
কিন্তু ডাকসু ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে কলাভবন সংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে যে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছে, তা সিন্ডিকেট কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কোনো ধরনের অনুমতি বা আলোচনা ছাড়াই স্থাপন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন অনুযায়ী এটি এখতিয়ারবহির্ভূত বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ব্যক্তিদের ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য অনুমোদন ছাড়া একটি ওয়েবসাইট চালুকেও নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ পদক্ষেপ আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে জানিয়েছে তারা।
ঢাবি কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের দ্বৈত প্রশাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। ডাকসু একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হলেও তার সব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্য থেকেই পরিচালিত হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে পাশ কাটিয়ে কোনো সমান্তরাল কাঠামো বা প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মর্যাদা রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের আপস করবে না বলে জানিয়েছে। অনুমোদন ছাড়া কোনো স্থাপনা নির্মাণ বা পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে তারা।
১৩ দিন আগে
বৈশ্বিক মানের জন্য বাংলা-ইংরেজি কারিকুলামে সামঞ্জস্য আনা হবে: ববি হাজ্জাজ
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার রেডিসন হোটেলে অক্সফোর্ড একিউএ ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস আয়োজিত স্কুল লিডারস কনফারেন্স ২০২৬-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা যে মাধ্যমেই পড়াশোনা করুক না কেন, তাদের মৌলিক জ্ঞান, দক্ষতা ও শিখনফলের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, এটি নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে নিয়ে কারিকুলাম, অবকাঠামো, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, আমরা শুধু বিশ্বের সেরা চর্চাগুলো অনুসরণ করতে চাই না, একদিন বাংলাদেশ থেকেই যেন বিশ্বের অন্য দেশগুলো শিক্ষা ব্যবস্থার সেরা চর্চা অনুসরণ করে, এটাই আমাদের স্বপ্ন।
এই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় সময়, অর্থ ও কঠোর পরিশ্রমে সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, একজন শিক্ষার্থী বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম কিংবা অন্য যেকোনো ধারায় পড়াশোনা করুক না কেন, তার মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতার ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন মানদণ্ড থাকা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, ভালো ও তুলনামূলক কম ভালো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য থাকবে, তবে কারিকুলাম ও শিক্ষার মৌলিক মানে বড় ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয়।
প্রাথমিক শিক্ষায় দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যালয়ের সময় ও কার্যকর লার্নিং আওয়ার (শিখন সময়), শ্রেণিকক্ষের ধারণক্ষমতা, অবকাঠামো ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ করা জরুরি।
যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষের দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়া প্রযুক্তি ও আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের প্রাথমিক শিক্ষায় অ্যাক্টিভিটি-বেজড লার্নিং ও খেলাধুলার মাধ্যমে শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়গুলোর অভিজ্ঞতা ও লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এলএমএস) কার্যকর ব্যবহার থেকেও সরকার শিক্ষা নিতে চায়। নতুন কারিকুলাম প্রণয়নে সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অক্সফোর্ড একিউএর বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর শাহীন রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন। এছাড়া ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা এবং ঢাকার বিভিন্ন ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন।
১৫ দিন আগে