অন্যান্য
জ্বালানি সংকটে পুরো কিউবাজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয়
তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা ও পুরনো বিদ্যুৎ অবকাঠামোর কারণে কিউবাজুড়ে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। দেশটির প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। অন্যান্য দেশ থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ, দুর্বল বিদ্যুৎ গ্রিড ও জ্বালানি সংকট মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) থেকে পুরো কিউবাজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই দেশটির পুরনো বিদ্যুৎ গ্রিডও ভেঙে পড়ছে।
কিউবার জ্বালানি ও খনি মন্ত্রণালয় এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে জানায়, দেশটির বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। যেসব ইউনিটগুলো সচল ছিল, সেগুলোতে কোনো ত্রুটি ছিল না, তারপরও কেন এমন বিপর্যয় হলো তার তদন্ত করা হচ্ছে।
দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের পরিচালক লাসারো গেরা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করার জন্য তাদের কর্মীরা কয়েকটি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু করার কাজটি ধীরে ধীরে করতে হবে, যাতে কোনো সমস্যা না হয়। কারণ দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল অবস্থায় থাকা সিস্টেমগুলো অল্প সমস্যাতেই আবার বিকল হয়ে যেতে পারে।
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে হাভানার কিছু বাড়িতে মোমবাতি জলতে দেখা যায়। একটি অন্ধকার বাড়িতে শিশুদের খেলাধুলা ও মায়ের সঙ্গে গান গাওয়ার শব্দ শোনা যায়।
হাভানার বাসিন্দা ইউনিসি সেসিলিয়া রিভিয়ক্স একটি খোলা দরজার দিকে ইশারা করে বলেন, ‘আমাদের এখানে মেয়েদের জন্য একটি বিছানা পেতে রাখতে হবে যাতে তারা এখানে ঘুমাতে পারে। এছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। আমার কাছে কোনো রিচার্জেবল ফ্যান বা জেনারেটরও নেই।’
গত চার মাসের মধ্যে এটি কিউবায় তৃতীয় বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়।
হাভানার ৬১ বছর বয়সী বাসিন্দা তমাস দাভিদ ভেলাসকেস ফেলিপ বলেন, ‘বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তার মনে হয়, যাদের সামর্থ্য আছে তাদের কিউবা ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, আমাদের খাবার নষ্ট হয়ে যায়। আমার মতো বয়স্ক মানুষদের এভাবে কষ্ট সহ্য করা কঠিন।’
তবে সোমবার রাতে কিউবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, হাভানার প্রায় ৫ শতাংশ বাসিন্দার বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, সংখ্যায় যা প্রায় ৪২ হাজার গ্রাহকের মতো। দ্বীপজুড়ে কয়েকটি হাসপাতালেও বিদ্যুৎ ফিরেছে।
দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এখন থেকে দেশটির যোগাযোগ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হবে। তবে যেসব ছোট ছোট সার্কিটে আপাতত বিদ্যুৎ ফিরেছে সেগুলো আবারও বিকল হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিউবার পুরোনো বিদ্যুৎ গ্রিডগুলোর অবনতি হয়েছে। এর ফলে প্রতিদিনই বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে এবং দেশজুড়ে বড় বড় ব্ল্যাকআউট হচ্ছে।
কিউবার সরকার এ পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধকে দায়ী করেছে। কারণ জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, কিউবাকে তেল বিক্রি বা সরবরাহ করে এমন যেকোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে।
বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, কিউবা যদি রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেয় এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদারীকরণের দিকে অগ্রসর হয়, তাহলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা যেতে পারে। ট্রাম্প কিউবার ওপর বন্ধুত্বপূর্ণ দখল নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে কিউবা দখল করার সম্মান তারই হবে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কিউবাকে মুক্ত করব নাকি দখল করব? আমি মনে করি আমি যা চাই তা-ই করতে পারি।’ এসময় তিনি কিউবাকে একটি খুব দুর্বল জাতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা এবং ওয়াশিংটন ও হাভানার আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেলকে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপরাষ্ট্রটির ভবিষ্যৎ নিয়ে কিউবা সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সংবেদনশীল আলোচনার বিষয় হওয়ায় তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য জানান। তবে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র কাকে কিউবার ক্ষমতায় দেখতে চায়, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত জানাননি তারা।
কয়েকদিন আগে দিয়াস-কানেল প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেন, তার সরকার ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছে। এর আগে, সোমবার নিউ ইয়র্ক টাইমস এই আলোচনার বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করে।
৯ দিন আগে
‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ ফুরাচ্ছে, বাড়ছে অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক প্রতিযোগিতার আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্য দিয়ে অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে বিদ্যমান অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির অবসান হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের দুই বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডারের ওপর আর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকছে না। ফলে নিয়ন্ত্রণহীন একটি নতুন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার পথ খুলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সীমাহীন অস্ত্র প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নিউ স্টার্ট (New START) চুক্তির অবসান হলে নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমনকি নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা নতুন মাত্রায় পৌঁছাতে পারে, যেখানে চীনের অস্ত্র ভাণ্ডারও যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এ ব্যাপারে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ওয়াশিংটন সম্মত হলে আরও এক বছরের জন্য চুক্তির বিধিনিষেধ মেনে চলতে তিনি প্রস্তুত। তবে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে এখনও সুস্পষ্ট অবস্থান নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গেল সোমবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর সীমা বজায় রাখতে চান বলে বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। সেইসঙ্গে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় চীনকেও তিনি অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী। তবে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের সময়সীমা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার তুলনামূলক ছোট হলেও ক্রমেই এর পরিসর বাড়ছে। তবে নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপে বরাবরই আপত্তি জানিয়ে আসছে বেইজিং।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো সীমা না থাকলে বিশ্ব আরও ‘বিপজ্জনক’ হয়ে উঠবে।
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণপন্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়ার অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে, যা বিদ্যমান বৈশ্বিক অস্থিরতার পাশাপাশি পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়াবে।
৫০ দিন আগে
লেবাননে শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিল জাতিসংঘ
আগামী বছরের শেষ নাগাদ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। বাহিনীটি মোতায়নের প্রায় পাঁচ দশক পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের চাপে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সর্বসম্মতভাবে এ প্রস্তাব গৃহীত হয়।
সিএনএন জানিয়েছে, প্রথমে ছয় মাসের মধ্যে লেবানন থেকে শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানায় যুক্তরাষ্ট্র। পরে এক বছরের চূড়ান্ত সময়সীমার প্রস্তাব দেয় ওয়াশিংটন। সবশেষ ১৬ মাস মেয়াদি একটি চূড়ান্ত প্রস্তাবে সম্মতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাবে শান্তিরক্ষী বাহিনী।
১৯৭৮ সালে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলার পর সেখানে জাতিসংঘ অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী (ইউএনআইএফআইএল) মোতায়ন করে। এরপর ২০০৬ সালের ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের এই বাহিনীর মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়। ফলে দশক ধরে ইউএনআইএফআইএল দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চলেছে।
আরও পড়ুন: জোরপূর্বক ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ যুদ্ধাপরাধের শামিল: জাতিসংঘ
গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে এক বছরের মধ্যে ইউএনআইএফআইএল তাদের ১০ হাজার ৮০০ সামরিক ও বেসামরিক সদস্য এবং সব জাতিসংঘ সরঞ্জাম প্রত্যাহার করবে। এ সময়ে সীমিত কিছু কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি থাকবে বাহিনীটির।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের জাতিসংঘ-চিহ্নিত সীমান্তরেখা ‘ব্লু লাইন’-এর উত্তরে নিরাপত্তা প্রদানের একমাত্র দায়িত্ব পালন করবে লেবানন সরকার। পাশাপাশি ইসরায়েলকে ওই রেখার উত্তরের এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত বছর ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের সময় এ বাহিনী উভয়পক্ষের সমালোচনার মুখে পড়ে। মার্কিন কংগ্রেসের অনেক সদস্যও ইউএনআইএফআইএলের তীব্র সমালোচনা করেন সে সময়।
ওয়াশিংটনের দাবি, এ বাহিনী কেবল অর্থের অপচয় করছে এবং হিজবুল্লাহর প্রভাব নির্মূল ও লেবাননের সেনাবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে দীর্ঘায়িত করছে। এরই মধ্যে ইউএনআইএফআইএলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে বড় ধরনের কাটছাঁট করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে লেবাননের সেনাবাহিনী এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেনি বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার।
গৃহীত ওই প্রস্তাবে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীকে সরঞ্জাম, উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা জোরদার করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
এদিকে, ইউরোপের অনেক দেশ, বিশেষত ফ্রান্স ও ইতালি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তাদের ভাষ্যে, লেবানিজ সেনাবাহিনী সীমান্ত এলাকায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আগে শান্তিরক্ষী বাহিনী চলে গেলে সেখানে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হবে। এই সুযোগ হিজবুল্লাহ সহজেই কাজে লাগাতে পারবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশগুলো।
২১০ দিন আগে
ইউক্রেনে ৮২৫ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনায় ইতোমধ্যে ভাটা পড়েছে। এরই মধ্যে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে ৮২৫ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই চুক্তির আওতায় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বিষয়টি কংগ্রেসকে অবহিত করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইউক্রেনকে ৩ হাজার ৩৫০টি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, সমপরিমাণ জিপিএস ইউনিট, যন্ত্রাংশ, খুচরা সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হবে। আর এসব অস্ত্রসস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সামরিক সহায়তার (ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং) পাশাপাশি ন্যাটোর মিত্রদেশ ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়ে থেকে পাওয়া তহবিল ব্যবহার করবে ইউক্রেন।
আরও পড়ুন: শান্তিচুক্তির বিনিময়ে কী ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পেতে পারে ইউক্রেন
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থকে এগিয়ে নেবে। সেইসঙ্গে ইউক্রেনের নিরাপত্তা জোরদার করবে।
এ ছাড়া, ইউক্রেনকে ইউরোপের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি শক্তি হিসেবেও অভিহিত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
সম্প্রতি ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে আলাস্কায় বৈঠক করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে বৈঠকের পরও ইউক্রেনে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে রাশিয়া, এরই মধ্যে এই অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র।
গত জুলাইয়ে ইউক্রেনকে আরও দুটি অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাবের ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ৩২২ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রস্তাবের আওতায় ইউক্রেনকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সাঁজোয়া যুদ্ধযান সরবরাহ করার কথা ছিল। আরেকটি প্রস্তাবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং স্বচালিত কামানভিত্তিক যানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও সংস্কারের জন্য ৩৩০ মিলিয়ন ডলারের বরাদ্দ দেওয়া হয়।
২১০ দিন আগে
ভারতে বানান, ভারত থেকেই কিনুন: মার্কিন শুল্কের বিরুদ্ধে মোদির আহ্বান
আজ থেকে ভারতের ওপর কার্যকর হচ্ছে নতুন মার্কিন শুল্ক। ভারত থেকে যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশ করবে, সেসব পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক গুনতে হবে। এর ফলে দেশটির অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিষেধ সত্ত্বেও রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখায় গত ৬ আগস্ট ভারতের ওপর নেমে আসে যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্কশাস্তি। দিল্লির ওপর প্রথমে ২৫ শতাংশ, পরে আরও ২৫ শতাংশসহ মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে শুল্ক নিয়ে ট্রাম্পের এই চোখ রাঙানির বিপরীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘ভারতে বানান, ভারত থেকেই কিনুন’। অর্থাৎ মার্কিন শুল্ক মোকাবিলায় দেশের অভ্যন্তরেই পণ্যের উৎপাদন ও বিক্রি করে রপ্তানি নির্ভরতা কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে নিজ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘বিশাল কর ছাড়ের’ ঘোষণা দেন মোদি।
দেশটির স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় দিল্লির লাল কেল্লা থেকে সাধারণ মানুষ এবং সমর্থকদের সামনে তিনি এ ঘোষণা দেন। সে সময় ছোট দোকান মালিক এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের দোকানের বাইরে ‘স্বদেশি’ বা ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ বোর্ড লাগানোরও আহ্বান জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
মোদি বলেছিলেন, ‘হতাশা থেকে নয়, বরং গর্ব থেকে আমাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়া উচিত।’
তিনি আরও বলেছিলেন, ‘বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক স্বার্থপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আমাদের অসুবিধাগুলো নিয়ে বসে থাকলে চলবে না, অবশ্যই সামনে এগোতে হবে। কেউ যেন আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে।’
আরও পড়ুন: ভারতকে ট্রাম্পের শাস্তি, শুল্ক বেড়ে দাঁড়াল ৫০ শতাংশ
এরপর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন মোদি।
মোদির এই অবস্থানকে অনেকেই ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবেই দেখছেন। মার্কিন শুল্কের কারণে ভারতের রপ্তানিনির্ভর শিল্পের সঙ্গে জড়িত লাখ লাখ মানুষের জীবিকা ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ আমেরিকান গ্রাহকদের পোশাক থেকে শুরু করে হীরা ও চিংড়ি পর্যন্ত সবকিছু সরবরাহ করে ভারত।
তবে মোদির বার্তাও স্পষ্ট, দেশে পণ্য বানিয়ে দেশেই বিক্রি করতে হবে।
ভারতে বানিয়ে ভারতেই বিক্রি কতটুকু সম্ভব
মোদি নির্দেশ দিলেও এই বিষয়ের বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। যদি উৎপাদনের কথা আলোচনা করা হয়, সেক্ষেত্রে ভারতের ব্যর্থতার ছাপ ইতোমধ্যে স্পষ্ট। কারণ ভারতে বছরের পর বছর সরকারি ভর্তুকি এবং উৎপাদন প্রণোদনা চালু করার পরও দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১৫ শতাংশের আশপাশেই স্থবির হয়ে আছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সরকার যদি দীর্ঘমেয়াদী কর সংস্কারকে উৎসাহিত করে এবং অবিলম্বে জনগণের হাতে আরও বেশি অর্থ পৌঁছানো সম্ভব হয়, তাহলে এই ধাক্কা সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে জন্য কিছুটা সহায়ক হতে পারে।
এ কারণে চলতি বছরের শুরুতে বাজেটে ১২ বিলিয়ন ডলারের আয়কর ছাড়ের ঘোষণার পর এখন পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) হ্রাস এবং সরলীকরণের মাধ্যমে ভারতের পরোক্ষ কর ব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে কাজ করছে মোদি সরকার।
মূলত কর ছাড়ের ফলে ভোক্তানির্ভর খাতগুলোর সবচেয়ে বেশি উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুটার, ছোট গাড়ি, পোশাক এবং সিমেন্টের মতো পণ্য।
সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও বেশিরভাগ বিশ্লেষকের ধারণা, কম জিএসটির কারণে যে রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হবে, তা বাড়তি শুল্ক আদায় এবং ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাজেটের তুলনায় বেশি লভ্যাংশের মাধ্যমে পূরণ হয়ে যাবে।
অন্যদিকে, বিনিয়োগ ব্যাংক মর্গান স্ট্যানলির মতে, মোদির এই রাজস্ব প্রণোদনা বা কর ছাড় ভোগব্যয়ের পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। এতে দেশটির জিডিপি বাড়বে এবং মুদ্রাস্ফীতি কমবে।
সুইস বিনিয়োগ ব্যাংক ইউবিএস বিবিসিকে বলেছে, জিএসটি কমানোর এই সিদ্ধান্ত মোদির আগের নেওয়া করপোরেট ও আয়কর কমানোর তুলনায় বড় প্রভাব ফেলবে, কারণ এগুলো ক্রয়ের সময় সরাসরি ভোগব্যয়কে প্রভাবিত করবে।
আরও পড়ুন: ভারতকে কি চীনের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন ট্রাম্প?
মোদির এই করছাড়ের ঘোষণা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার আরও কমানোর সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। গত কয়েক মাসে এই হার এক শতাংশ হারে কমানো হয়েছে। তাছাড়া ঋণ দেওয়াকেও উৎসাহিত করা হতে পারে বলে মনে করেন তারা।
এর ফলে আগামী বছরের শুরুতে প্রায় পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভারতের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে সহায়ক বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।
ভারতের শেয়ার বাজারগুলো এই ঘোষণায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। তাছাড়া, বাণিজ্য অনিশ্চয়তার কারণে সৃষ্ট আতঙ্ক থাকা সত্ত্বেও, এই মাসের শুরুতে আঠারো বছর পর এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল থেকে একটি বিরল সার্বভৌম রেটিং আপগ্রেড পেয়েছে ভারত।
কোনো সরকারকে ঋণ দেওয়া বা কোন দেশে বিনিয়োগ করা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ— তা পরিমাপ করে এই সার্বভৌম রেটিং। এতে সরকারের ঋণ গ্রহণের খরচ কমতে পারে এবং বিদেশি বিনিয়োগের পরিস্থিতি উন্নত করতে পারে।
অবশ্য অনেকদিন ধরে আটকে থাকা সংস্কারগুলো নিয়ে তাড়াহুড়া করলেও ভারতের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা কয়েক বছর আগে দেখা ৮ শতাংশ স্তর থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এমনকি এ সংশ্লিষ্ট বহিরাগত সংকট কমার কোনো লক্ষণও নেই।
এদিকে, রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে দিল্লি-ওয়াশিংটন বাকযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর জেরে এই সপ্তাহের শুরুতে অনুষ্ঠিতব্য বাণিজ্য আলোচনাও বাতিল করা হয়েছে। অথচ মাত্র কয়েক মাস আগেও এমন একটি পরিস্থিতি কল্পনাও করা যেত না বলে মন্তব্য করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
২১২ দিন আগে
অষ্ট্রেলিয়ায় ইহুদিবিদ্বেষী হামলায় ইরানের সম্পৃক্ততা দাবি, রাষ্ট্রদূত বহিষ্কার
গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় সংঘটিত দুটি ইহুদিবিদ্বেষী হামলার পেছনে ইরানের হাত রয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্য-প্রমাণ মেলার দাবি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। এর জেরে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) এক সংবেদ সম্মেলনে এ কথা জানান অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, ইরানের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে এবং তেহরানে অবস্থিত অস্ট্রেলীয় দূতাবাসের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করে সব কূটনীতিককে তৃতীয় দেশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আইন প্রণয়ন করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার কথাও ভাবছে সরকার।
আলবানিজ বলেন, দেশটির নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এএসআইও) তথ্যমতে, গত অক্টোবরে সিডনিতে লুইস কন্টিনেন্টাল কিচেনে এবং ডিসেম্বরে মেলবোর্নের একটি সিনাগগে (ইহুদি উপাসনালয়) অগ্নিসংযোগের নির্দেশ দিয়েছিল ইরান সরকার।
এ বিষয়ে ইরান সরকারের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরানের সম্পৃক্ততার দাবি গোয়েন্দাদের
২০২৩ সালে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু পর থেকেই সিডনি ও মেলবোর্নে ইহুদিবিদ্বেষী কার্যকলাপের প্রবণতা বেড়েছে। স্থানীয় অপরাধীদের ভাড়া করে বিদেশি কোনো শক্তি এসব হামলা পেছনে থাকতে পারে বলে তখন থেকেই ধারণা করেছিল অষ্ট্রেলিয়া।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়ার ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করলেন আলবানিজ
ইতোমধ্যে সিডনির ক্যাফেতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় একজনকে এবং মেলবোর্নের সিনাগগে আগুন দেওয়ার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।
এসব হামলার পেছনে ইরানের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে এএসআইও যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ।
ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণ আগে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানান অষ্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তেহরানে অবস্থিত অস্ট্রেলীয় দূতাবাসের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করে সব কূটনীতিককে তৃতীয় দেশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া যত দ্রুত সম্ভব ইরান ছেড়ে সম্ভব হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য দেশটিতে অবস্থানরত অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের উদ্দেশে সতর্কবার্তাও জারি করা হয়েছে।
২১৩ দিন আগে
ভাইরাল বিচারক ফ্র্যাঙ্ক ক্যাপ্রিও মারা গেছেন
মানবিকতা দিয়ে বিশ্বের কোটি মানুষের হৃদয় জয় করা সেই বিচারক ফ্র্যাঙ্ক ক্যাপ্রিও মারা গেছেন। অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ৮৮ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের অবসরপ্রাপ্ত এই মিউনিসিপ্যাল বিচারক।
স্থানীয় সময় বুধবার (২০ আগস্ট) তার অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাপ্রিওর মৃত্যুর কথা জানানো হয়।
টেলিভিশন অনুষ্ঠান কট ইন প্রভিডেন্স (Caught in Providence) সঞ্চালনার মাধ্যমে আদালতে তার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কথা ফুটিয়ে তুলেছিলেন এই বিচারক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বব্যাপী তুমূল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন ধীরে ধীরে। তার বিচারকাজের ভিডিওগুলো ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোটি মানুষের শ্রদ্ধার পাত্রে পরিণত হন তিনি।
ক্যাপ্রিওর আদালতকে বলা হতো এমন একটি স্থান, যেখানে মানুষের বিচার হয় দয়া ও সহানুভূতির সঙ্গে। জরিমানার টিকিট বাতিল করা থেকে শুরু করে রায় দেওয়ার সময়ও তিনি মানবিক আচরণের এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তার প্রতি মানুষের আস্থা এতটাই মজবুত হয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বিভিন্ন দেশের মানুষ তার কাছে অর্থাভাবী মানুষকে সহযোগিতার জন্য টাকা পাঠাত।
গত সপ্তাহেই তিনি ফেসবুকে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় জানিয়েছিলেন, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবার তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বার্তায় সবাইকে তার জন্য প্রার্থনা করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন এই বৃদ্ধ।
কট ইন প্রভিডেন্স অনুষ্ঠানটি তার আদালতেই ধারণ করা হতো, যেখানে তার হাস্যরস আর সহমর্মিতা দর্শকদের মুগ্ধ করত। অনুষ্ঠানটির ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১০০ কোটির বেশি বার দেখা হয়েছে।
টেলিভিশনের অনেক বিচারকের তুলনায় ক্যাপ্রিও সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্র গড়ে তুলেছিলেন। সংঘর্ষমুখী ও কঠোর হওয়ার বদলে তিনি ছিলেন সহানুভূতিশীল ও উদার। আদালতের অনেক ছোটখাটো মামলায়, যেমন সিগন্যাল না দেওয়া বা উচ্চ শব্দে পার্টির অভিযোগে, তিনি অভিযুক্তদের অবস্থার প্রতি সহমর্মিতা দেখাতেন।
শিশুদের ডেকে এনে তাদের বাবা-মায়ের মামলার বিচার করার ভিডিওগুলো সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। একবার তিনি এক মায়ের ছেলে মারা যাওয়ার কথা শুনে তার সব জরিমানা মওকুফ করে দেন। আরেকটি ঘটনায় ঘণ্টায় ৩ ডলারের সামান্য আয়ে জীবিকা নির্বাহ করা এক বারটেন্ডারের জরিমানা মওকুফ করে তিনি দর্শকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘কেউ যেন রেস্তোরাঁয় খেয়ে টাকা না দিয়ে পালিয়ে না যান, কারণ এতে খেটে খাওয়া মানুষকেই তার মূল্য দিতে হয়।’
বিচারের সময় বৈষম্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সামনে আনতে তিনি। এক ভিডিওতে ক্যাপ্রিও বলেন, ‘উইথ লিবার্টি অ্যান্ড জাস্টিস ফর অল, যার মানে— সবার জন্য ন্যায়বিচার। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯০ শতাংশ নিম্নআয়ের মানুষ স্বাস্থ্যসেবা, অন্যায্য উচ্ছেদ, এমনকি ট্রাফিক মামলার মতো নাগরিক ইস্যুগুলোতে লড়াই করতে বাধ্য হয়।’
ক্যাপ্রিওর পরিবার তাকে বর্ণনা করেছে ‘একজন নিবেদিত স্বামী, পিতা, দাদা-নানা ও বন্ধু’ হিসেবে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘সহমর্মিতা, বিনয় আর মানুষের প্রতি অটল বিশ্বাসের জন্য তিনি কোটি মানুষের জীবনে প্রভাব রেখেছেন। তার উষ্ণতা, রসবোধ আর দয়া তাকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।’
ক্যাপ্রিও প্রায় চার দশক ধরে প্রভিডেন্স মিউনিসিপ্যাল কোর্টে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৩ সালে অবসর নেন।
তার জীবনী থেকে জানা যায়, প্রভিডেন্সের ফেডারেল হিল এলাকার একটি সাধারণ পরিবারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ক্যাপ্রিওর। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়।
২০১৭ সালে তিনি বলেছিলেন, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যে সৌজন্য, ন্যায়পরায়ণতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারে, আমি চাই সবাই তা দেখুক। আমরা বিভাজনমুখী সমাজে বাস করি। আমি চাই মানুষ উপলব্ধি করুক যে, নিপীড়ন ছাড়াও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।’
২১৮ দিন আগে
শান্তিচুক্তির বিনিময়ে কী ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পেতে পারে ইউক্রেন
রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনকে কী ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন ইউরোপীয় নেতারা।
সোমবার (১৮ আগস্ট) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, ফিনল্যান্ড, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।
হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত ওই শীর্ষ বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপের নেতারা বৈঠকে বসেন, যেখানে প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল, চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ এবং ভবিষ্যতে রাশিয়ার হামলা ঠেকানোর উপায়।
নিরাপত্তা নিয়ে কী ধরনের নিশ্চয়তা পেতে পারে ইউক্রেন
বৈঠকের পর জেলেনস্কি জানিয়েছেন, বিস্তারিত আলোচনার পর আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে বিষয়গুলো আনুষ্ঠানিকভাবে লিপিবদ্ধ হবে। প্রায় ৩০টি দেশ এই উদ্যোগে যুক্ত হতে পারে, যাদের বলা হচ্ছে ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’। যুক্তরাষ্ট্রও কিছু সহায়তা করবে, তবে কীভাবে সেটি করবে তা পরিষ্কার নয়।
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প এবং ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সোমবার জেলেনস্কি বলেন, এই সহায়তা নানা রূপে আসতে পারে, যা হতে পারে সরাসরি সৈন্য পাঠানো, গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ, আকাশসীমা ও কৃষ্ণসাগরে নিরাপত্তা দেওয়া, এমনকি শুধু আর্থিক সহায়তাও হতে পারে।
আরও পড়ুন: ‘দনবাস’ কেন রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনার কেন্দ্রে
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, শান্তিরক্ষা মিশনের অংশ হিসেবে ইউরোপের কোন কোন দেশ ইউক্রেনে সেনা পাঠাতে প্রস্তুত?
যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা আশ্বাস রক্ষার অংশ হিসেবে সৈন্য পাঠাতে রাজি। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ বলেছেন, ‘আমাদের ইউক্রেনকে স্থলে সহযোগিতা করতে হবে।’ তবে জার্মানি এ বিষয়ে আরও সন্দিহান।
বিষয়টি নিয়ে এখনো অনেক কিছু নির্ধারণ করা বাকি। তার মধ্যে পশ্চিমা সেনারা কি যুদ্ধবিরতি লাইনে অবস্থান করবে? নাকি শুধু কিয়েভ ও লভিভের মতো বড় শহরে প্রশিক্ষণ দেবে? কিংবা রুশ হামলার মুখে পড়লে তাদের কার্যপদ্ধতি কী হবে? ইত্যাদি অন্যতম।
যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে সহযোগিতা করতে পারে
ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি ইউরোপের নেতৃত্বাধীন একটি শান্তিরক্ষা অভিযান সমন্বয় করবেন।
সোমবার হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কির পাশে বসে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার বিষয়ে অনেক সহায়তা আসবে।’ তবে তিনি এ-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে মূল দায়িত্ব ইউরোপের দেশগুলোকেই নিতে হবে। ট্রাম্প বলেন, ‘তারাই সামনের সারির নিরাপত্তা রক্ষক, কারণ তারা সেখানেই রয়েছে। তবে আমরা তাদের সহযোগিতা করব।’
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৯০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কিনতে চায় ইউক্রেন। কিয়েভ মনে করে, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার অংশ হতে পারে এই চুক্তি। তবে সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র আসলে কতটা অবদান রাখবে, সে বিষয়টি এখনও স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প। ইউক্রেনের ন্যাটোর সদস্যপদের সম্ভাবনাকে সরাসরি বাতিল করে দিয়েছেন তিনি, অথচ এটিই ইউক্রেনে ভবিষ্যত রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ হতে পারত বলে মনে করে কিয়েভ।
আরও পড়ুন: জেলেনস্কি চাইলে মুহূর্তেই যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেন: ট্রাম্প
আবার ইউক্রেনে শান্তিরক্ষা অভিযানে যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজস্ব সেনা পাঠাবে— এমন সম্ভাবনাও নেই। এক্ষেত্রে তুলনামূলক বাস্তবসম্মত একটি বিকল্প হতে পারে, পেন্টাগন প্রস্তাবিত আকাশ প্রতিরক্ষা বা ‘স্কাই শিল্ড’ উদ্যোগে লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম ও মধ্য ইউক্রেন, বিশেষ করে কিয়েভ শহরের ওপর আকাশ প্রতিরক্ষা জোন থাকবে, যা ইউরোপীয় যুদ্ধবিমান দ্বারা পরিচালিত হবে।
রাশিয়া কী বলছে?
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, আলাস্কার বৈঠকে ভ্লাদিমির পুতিন সম্মত হয়েছেন যে ইউক্রেন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়ার অধিকার রাখে।
এ বিষয়ে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, বিষয়টি ন্যাটোর আওতার বাইরে থাকলেও তা কার্যত ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫–এর সমতুল্য হবে, যেখানে একটি দেশের ওপর আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে ধরা হবে।
তবে উইটকফের এই ব্যাখ্যার সঙ্গে রাশিয়ার বক্তব্য মেলে না। ক্রেমলিন বলেছে, পশ্চিমা সৈন্যদের ইউক্রেনে উপস্থিতির ঘোর বিরোধী রাশিয়া। যেকোনো শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে (ইউক্রেনে) শান্তিরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতি মেনে নেওয়ার সম্ভবনা নেই।
এদিকে, রাশিয়ার অস্তিত্বগত নিরাপত্তা সংকটের দোহাই দিয়ে পুতিনের যুদ্ধ লক্ষ্য অপরিবর্তিত রয়েছে। দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের পুরোটাই দাবি করছেন তিনি। এ ছাড়া ২০১৪ সাল থেকে এখনও ইউক্রেনের কাঙ্ক্ষিত যেসব অঞ্চল রাশিয়া নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি, সেগুলোরও দখল চান রুশ পেসিডেন্ট।
এর পাশাপাশি তিনি ইউক্রেনের ‘সামরিকীকরণ ও নাৎসিকরণ’ প্রক্রিয়ার স্থগিত চান। অর্থাৎ, পুতিন চান, জেলেনস্কিকে অপসারণ করে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর আকার কঠোরভাবে সীমিত করা হোক।
আপাতদৃষ্টিতে ইউক্রেনে শান্তি পুনর্স্থাপনে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায় অগ্রগতি দেখা গেলেও মৌলিক অবস্থান থেকে সরেনি রাশিয়া। পুতিন এখনও ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করেন না, এমনকি যুদ্ধ থামানোর কোনো ইঙ্গিতও দেননি তিনি। এত কিছুর মধ্যেও রুশ বোমাবর্ষণ থামেনি, যাতে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ইতিহাস কী বলে?
এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। ১৯৯৪ সালে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিনিময়ে কিয়েভ তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ছেড়ে দিয়েছিল। বুদাপেস্ট স্মারকলিপির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, চীন ও ফ্রান্স প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা ইউক্রেনের ‘ভৌগোলিক অখণ্ডতা’ ও ‘রাজনৈতিক স্বাধীনতা’ রক্ষা করবে এবং ‘বল প্রয়োগ ও হুমকি’ থেকে বিরত থাকবে।
সেই সময় অনেক ইউক্রেনীয় রাজনীতিক মনে করেছিলেন, পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়লে দেশটি রুশ হামলার ঝুঁকিতে পড়বে, কিন্তু ক্লিনটন প্রশাসনের এ বিষয়ে জোরাজুরিতে তা বাস্তবায়িত হয়ে যায়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৭ সালের মে মাসে তৎকালীন রুশ প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট লিওনিদ কুচমা এক বন্ধুত্ব চুক্তি সই করেন। পাশাপাশি ইউক্রেনের সোভিয়েত-পরবর্তী সীমান্তের স্বীকৃতি দেয় রাশিয়া। চুক্তির অংশ হিসেবে কিয়েভ তার নৌবাহিনীর বেশিরভাগ রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করে এবং ২০ বছরের জন্য সেভাস্তোপোল নৌঘাঁটি মস্কোকে ইজারা দেয়।
আরও পড়ুন: ইউক্রেন দোনেৎস্ক ছেড়ে দিলে শান্তিচুক্তি সম্ভব: ট্রাম্প
এত কিছুর পরও রুশ আগ্রাসন থামানো যায়নি। ২০১৪ সালে সেনা মোতায়েন করে ক্রিমিয়া দখল ও অঞ্চলটি রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে নেয় ক্রেমলিন। এখন পুতিন বলছেন, পুরো ইউক্রেনই ঐতিহাসিকভাবে রাশিয়ার অংশ।
তাই অতীতের ভঙ্গ প্রতিশ্রুতির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইউক্রেন এবার আরও স্পষ্ট নিশ্চয়তা চাইবে, তা বলাই বাহুল্য।
২১৯ দিন আগে
জেলেনস্কি চাইলে মুহূর্তেই যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেন: ট্রাম্প
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চাইলে মুহূর্তের মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেন। তবে এজন্য ক্রিমিয়া ফেরত পাওয়ার আশা ও পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগদানের স্বপ্ন ত্যাগ করতে হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রবিবার (১৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় নিজের মালিকানাধীন ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি চাইলে মুহূর্তের মধ্যেই রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে পারেন, অথবা লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন।”
তিনি আরও বলেন, “ওবামার আমলে হারানো ক্রিমিয়া আর ফেরত পাওয়া যাবে না, আর ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়াও সম্ভব নয়। কিছু জিনিস কখনোই বদলায় না!”
সোমবার (১৮ আগস্ট) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে এক বৈঠক করার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। তার আগেই জেলেনস্কির ওপর চাপ সৃষ্টি করলেন তিনি।
আরও পড়ুন: ইউক্রেন দোনেৎস্ক ছেড়ে দিলে শান্তিচুক্তি সম্ভব: ট্রাম্প
ট্রাম্প জানান, মস্কোর সঙ্গে আলোচনার অংশ হিসেবে ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগ দিতে দেওয়া হবে না এবং রাশিয়া-অধিকৃত ক্রিমিয়া পুনর্দখলের সুযোগও দেওয়া হবে না।
এই পোস্ট দেওয়ার এক মিনিট পরই ট্রাম্প আবার লেখেন, একসঙ্গে এতজন ইউরোপীয় নেতাকে হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানানো তার জন্য ‘অনেক সম্মানের’।
এদিকে, দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ট্রাম্পের এ পোস্ট ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। গত ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প-জেলেনস্কির নজিরবিহীন বাকবিতণ্ডার মতো পরিস্থিতি ফের তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও করছেন অনেকে।
তবে জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে ইউক্রেনের সম্মিলিত শক্তি রাশিয়াকে শান্তির পথে আনতে বাধ্য করবে। বৈঠকে যোগ দিতে তিনি ইতোমধ্যে ওয়াশিংটন পৌঁছেছেন।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আলাস্কায় বৈঠক করেন ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেখানে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে পুতিন দনবাসের পুরো দোনেৎস্ক অঞ্চল দাবি করেছেন বলে দ্য গার্ডিয়ানের একটি সূত্র জানিয়েছে।
এরপর ট্রাম্প বলেন, “জেলেনস্কি যদি দোনেৎস্ক অঞ্চলের পুরোটা ছেড়ে দেন, তাহলে একটি শান্তিচুক্তি সম্ভব হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি একটি চুক্তি করা উচিত। কারণ, রাশিয়া একটি বড় শক্তি, ইউক্রেন তা নয়।”
অনেক গণমাধ্যম আলাস্কা সম্মেলনকে পুতিনের বিজয় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য অপমান হিসেবে উপস্থাপন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ট্রাম্প। তবে তিনি দাবি করেন, রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় ‘বড় অগ্রগতি’ অর্জন করেছেন, যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
দ্য গার্ডিয়ান আরও জানায়, সোমবারের বৈঠকে ইউরোপীয় নেতারা ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করবেন এবং ভূখণ্ড বিনিময় পরিকল্পনার বিরোধিতা করবেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য যে কোনো সমঝোতায় ওয়াশিংটন কী ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেবে তা জানতে চাইবেন তারা।
রাশিয়াও কিয়েভের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সহমত পোষণ করেছে বলে জানিয়েছেন ভিয়েনাভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থায় নিযুক্ত রুশ প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভ। তিনি বলেন, কিয়েভের পাশাপাশি মস্কোরও নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার আছে।
আরও পড়ুন: ‘শূন্য হাতে’ পুতিনকে নিয়ে আলাস্কা ছাড়লেন ট্রাম্প
ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সিএনএনকে বলেন, ইউক্রেনকে ‘শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা’ দিতে রাজি হয়েছেন পুতিন।
ন্যাটোতে সরাসরি যোগ দিতে না পারলেও ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো অনুচ্ছেদ–৫–এর মতো ভাষা ব্যবহার করতে পারবে বলে জানান তিনি।
এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জোটের কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যরা তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসবে।
২২১ দিন আগে
ইউক্রেন দোনেৎস্ক ছেড়ে দিলে শান্তিচুক্তি সম্ভব: ট্রাম্প
ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে রাশিয়ার সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তি করতে বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেজন্য রাশিয়া ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের সম্পূর্ণ ভূখণ্ড দাবি করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প বলেছেন, ‘যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের একটি চুক্তি করা উচিত। কারণ, রাশিয়া খুব বড় একটি শক্তি। তারা (ইউক্রেন) তা নয়।’
আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর স্থানীয় সময় শনিবার (১৬ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ট্রাম্প।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেন ট্রাম্প ও পুতিন। সেখানে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে পুতিন দনবাসের পুরো দোনেৎস্ক অঞ্চল দাবি করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে।
বৈঠক শেষে ট্রাম্প ইউরোপীয় নেতাদের বলেন, ‘জেলেনস্কি যদি দোনেৎস্ক অঞ্চলের পুরোটা ছেড়ে দেন, তাহলে একটি শান্তিচুক্তি সম্ভব হতে পারে।’ তবে, দোনেৎস্ক ছেড়ে দেওয়ার এই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছেন জেলেনস্কি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ইউক্রেনের শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত দোনেৎস্ক অনেক আগে থেকে মস্কোর প্রধান লক্ষ্যবস্তু। ২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো এ অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করে রুশ বাহিনী।
আরও পড়ুন: ‘শূন্য হাতে’ পুতিনকে নিয়ে আলাস্কা ছাড়লেন ট্রাম্প
দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক নিয়ে দনবাস অঞ্চলটি গঠিত। এর মধ্যে লুহানস্ক প্রায় পুরোপুরি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ক্রামাতোরস্ক ও স্লোভিয়ানস্ক শহরসহ দোনেৎস্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো এখনো ধরে রেখেছে ইউক্রেন।
শুক্রবারের বৈঠকে পুতিন ট্রাম্পকে বলেন, দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের বিনিময়ে তিনি দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে সম্মুখযুদ্ধ স্থগিত রাখতে এবং আর না এগোতে রাজি রয়েছেন।
ইউক্রেন ও দেশটির ইউরোপীয় মিত্ররা এর আগে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করতে চাইলেও ট্রাম্প চাইছেন সরাসরি শান্তিচুক্তি। শনিবার ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলা ভয়াবহ যুদ্ধের অবসান ঘটানোর সর্বোত্তম উপায় সরাসরি শান্তিচুক্তিতে যাওয়া, সবপক্ষ থেকেই এটা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটা যুদ্ধ বন্ধ করবে। যুদ্ধবিরতি অনেক সময় টেকে না।
এদিকে, যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছে ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররা। বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে ইউরোপের নেতারা বলেছেন, ইউক্রেনের ভুখণ্ড নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত তারাই নেবে। জোর করে আন্তর্জাতিক সীমানা পরিবর্তন করা যাবে না।
বৈঠকের পর জেলেনস্কির সঙ্গেও কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। এরপর এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে সব অবস্থান পরিষ্কার হয়েছে। রাশিয়ার আগ্রাসনের আরেক দফা সাময়িক বিরতি নয় বরং প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেটি স্থায়ী হবে।
এ সময় অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, সব ইউক্রেনীয় যুদ্ধবন্দী ও বেসামরিক নাগরিকদের মুক্তি দিতে হবে এবং রাশিয়ার অপহৃত শিশুদের ফিরিয়ে দিতে হবে।
এ ছাড়া যুদ্ধবিরতি ছাড়া সরাসরি শান্তিচুক্তিতে গেলে সেটি পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে বলে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া আরেক বিবৃতিতে মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন: রাশিয়াকে ভুখণ্ড দিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত, ট্রাম্পের কূটনীতিতে পূর্ব ইউক্রেনে আতঙ্ক
তবে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি বাদ দিয়ে সরাসরি শান্তিচুক্তিতে যাওয়া আরোচনায় মস্কোকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
আগামীকাল (সোমবার) ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে সাক্ষাৎ করবেন জেলেনস্কি। এ সময় ইউরোপীয় নেতারাও উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
২২২ দিন আগে