চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পদে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আজ বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ করে দিয়ে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন তারা।
গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে দেখা যায়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয়পত্রের নম্বর ও স্বাক্ষর দেন। সংগৃহীত গণস্বাক্ষর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া যন্ত্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারহান হাসনাত আদিব বলেন, ‘গত ২১ সেপ্টেম্বর বিনা নোটিশে অধ্যাপক আবু সাদাত সায়েম স্যারকে উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ওই রাতেই আমরা বিক্ষোভ মিছিল করি। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর চুয়েটে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করি। আজ আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করছি। এই স্বাক্ষর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।’
শিক্ষার্থীরা জানান, ২১ সেপ্টেম্বর কোনো নোটিশ ছাড়াই অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রতিবাদে ওই রাতেই বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর পালন করা হয় চুয়েট কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবেও জানিয়েছেন তারা।
এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর রাতে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শাটডাউন ঘোষণা করেন তারা।