পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে বাস মালিকদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে এ নৈরাজ্য বন্ধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
সংগঠনটির দাবি, অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে নিম্নআয়ের মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে যাতায়াতে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে সড়কে ‘মৃত্যুর মিছিল’ শুরু হয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বিভিন্ন জেলা ও ইউনিট পর্যায়ের বাসে তা মানা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া বহনের সামর্থ্য না থাকায় অনেক শ্রমজীবী মানুষ কম খরচে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম থেকে রডবোঝাই ট্রাকে নওগাঁ যাওয়ার পথে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত ও ১০ জন গুরুতর আহত হন। এছাড়া নরসিংদীর ঘোড়াশালে ট্রেনের ছাদে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতি বছর ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া দিতে না পেরে খেটে খাওয়া, শ্রমজীবী ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের লাখো মানুষ ট্রেনের ছাদ, বাসের ছাদ, খোলা ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহনে যাতায়াতে বাধ্য হন।
সংগঠনটি অভিযোগ করে, যাদের শ্রমে দেশের অর্থনীতি সচল থাকে, তাদের বছরে দুটি ঈদে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।
অনতিবিলম্বে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে বাস মালিকদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং সরকারের নির্দেশনা কঠোরভাবে মানার আহ্বান জানান মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
একইসঙ্গে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বাস বা ট্রাকের ছাদে ভ্রমণ, ট্রেনের ছাদে ওঠা এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনে যাতায়াত থেকে বিরত থাকতে যাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।