একটি পরিবেশবান্ধব, আরও উদ্ভাবনী, নির্ভরযোগ্য ও সমৃদ্ধিশালী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আগামী দিনের পথচলায় ঘনিষ্ঠভাবে পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে দীর্ঘদিনের বন্ধুরাষ্ট্র ডেনমার্ক, নরওয়ে ও সুইডেন। প্রধান প্রধান খাতগুলোতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ উন্মোচনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও আরও টেকসই অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছে তারা।
সোমবার (২২ জুন) আয়োজিত এক সিম্পোজিয়ামে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন এবং সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস এ বিষয়ে নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। যৌথ প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে টেকসই সমৃদ্ধি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
টেকসই সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে গড়ে ওঠা অংশীদারত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে আলোচনায় স্থান পায় পারস্পরিক বিশ্বাস, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, সবুজ প্রবৃদ্ধি, শ্রমিক অধিকার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, ধাপে ধাপে মেলবন্ধন এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলো।
তারা বলেন, নর্ডিক দেশগুলোর কাছে আস্থা হচ্ছে সোনার মতো (নর্ডিক গোল্ড)। আস্থার এই ধারণাকে নর্ডিক অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ডেনমার্ক, নরওয়ে ও সুইডেন এই আস্থার সংস্কৃতি বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চায়।
চলমান ‘অ্যাম্বাসেডরস লেকচার সিরিজ’-এর অংশ হিসেবে ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড নর্ডিক কান্ট্রিস: প্রগনোসিস ফর পার্টনারশিপ’ (বাংলাদেশ ও নর্ডিক দেশসমূহ: অংশীদারত্বের পূর্বাভাস) শীর্ষক এই সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করে কসমস গ্রুপের সমাজকল্যাণমূলক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান কসমস ফাউন্ডেশন।
বিশিষ্ট গবেষক ও কসমস ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় সিম্পোজিয়ামটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন কসমস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এনায়েতউল্লাহ খান এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ক্যাথরিন গ্রেস গার্ডনার খান।
এনায়েতউল্লাহ খান বলেন, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি (গ্রিন টেকনোলজি), ডিজিটাল সুশাসন, উদ্ভাবন, টেকসই নগর পরিকল্পনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সার্কুলার ইকোনমির (বৃত্তাকার অর্থনীতি) ক্ষেত্রে নর্ডিক দেশগুলোর ব্যাপক দক্ষতা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘একত্রে আমাদের এমন পরিপূরক শক্তি রয়েছে যা যৌথ সমৃদ্ধির পথ তৈরি করতে পারে।’
ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-নর্ডিক রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতামূলক সম্পর্কের জন্য এনায়েতউল্লাহ খান পাঁচটি অগ্রাধিকারমূলক খাতের প্রস্তাব দেন। এগুলো হলো— সবুজ জ্বালানি অংশীদারত্ব, টেকসই টেক্সটাইল ও সার্কুলার ফ্যাশন, ডিজিটাল রূপান্তর ও স্মার্ট গভর্ন্যান্স, জলবায়ু অভিযোজন ও ব্লু ইকোনমি (সমুদ্র অর্থনীতি) উদ্যোগ এবং উদ্ভাবনী ও জ্ঞানভিত্তিক অংশীদারত্ব।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগ শুধু দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকেই শক্তিশালী করবে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়ও অবদান রাখবে।’