সুগন্ধি চালের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে এ চালের সংকট দেখা দিয়েছে। কেজিপ্রতি দাম ২০০ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে এ চাল। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উৎপাদনকারী এলাকাগুলোতে বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে সুগন্ধি চালের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ লক্ষ্যে খাদ্য, কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা সুগন্ধি চাল উৎপাদনকারী এলাকাগুলো পরিদর্শন করবেন। যেসব এলাকায় এখনো এ চাল উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে এবং কৃষকদের আগ্রহ আছে, সেসব এলাকায় প্রণোদনা দিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রবিবার (৮ নভেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধান কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
সুগন্ধি চালের দাম ২০০ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুগন্ধি চাল উৎপাদনের এলাকাগুলো ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।
তিনি জানান, সাধারণ চালের তুলনায় সুগন্ধি চালের উৎপাদনক্ষমতা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এ কারণে উৎপাদনকারী এলাকাগুলোতে এ চালের উৎপাদন ক্রমেই কমছে। ফলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সুগন্ধি চালের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।
সুগন্ধি চাল ব্যাপকভাবে রপ্তানি করা হচ্ছে না বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, অল্প কিছু চাল রপ্তানি করা হয়েছিল। তবে এখন রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের কোন এলাকায় কোন ফসল ভালো হয় এবং কোন ফসল ওই এলাকার আবহাওয়া ও জলবায়ুর জন্য উপযোগী, তা নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয় সারা দেশে একটি জরিপ করছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি দেখছে।
সরকারের চাল আমদানির বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে সেদ্ধ চাল বেসরকারি খাতে আমদানির কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। সরকারও খুব অল্প পরিমাণ চাল আমদানি করছে। মূলত দেশের ভেতর থেকেই চাল সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।