ইন্দোনেশিয়ায় শুষ্ক মৌসুমে একের পর এক দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার, শত শত দমকলকর্মী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মী মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির পূর্ব জাভার জনপ্রিয় ব্রোমো টেংগার সেমেরু জাতীয় উদ্যান থেকে শুরু করে সুমাত্রার বিস্তীর্ণ ভূমিতে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (৯ আগস্ট) ইন্দোনেশিয়ার বন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুষ্ক আবহাওয়া ও এল নিনিয়োর (প্রশান্ত মহাসাগরের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতা) কারণে হওয়ায় দেশটির সর্বোচ্চ শুষ্ক মৌসুমে বন ও ভূমিতে আগুন লাগার ঝুঁকি বেড়েছে।
পূর্ব জাভার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পূর্ব জাভা প্রদেশের ব্রোমো টেংগার সেমেরু জাতীয় উদ্যানে সবচেয়ে বেশি মাত্রায় আগুন লেগেছে। প্রদেশটির প্রায় ৭৪৩ হেক্টর (১ হাজার ৮৩৬ একর) এলাকা পুড়ে গেছে।
দেশটির বন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগুনে শুকনো তৃণভূমি, গাছপালা ও সংরক্ষিত এডেলভেইস ফুলের বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ে গেছে। পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় স্থান মাউন্ট ব্রোমোর দর্শনীয় স্থান পেনানজাকান এলাকাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহত বা কাউকে সরিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
পূর্ব জাভা অঞ্চলে আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত দমকলকর্মী, সেনাসদস্য, পুলিশ কর্মকর্তা, পার্কের রেঞ্জার ও স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ জাতীয় উদ্যানটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার পর্যন্ত দুর্গম এলাকায় আগুন নেভাতে অন্তত ৩টি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব হেলিকপ্টার দিয়ে আগুনের উৎসগুলোতে পানি ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি স্থলভাগে কর্মীরা আগুন নেভানো, ঠান্ডা করা, টহল ও আগুনের বিস্তার ঠেকাতে ফায়ারব্রেক তৈরির কাজ করছেন।
রবিবার জাতীয় উদ্যান পরিদর্শনের সময় দেশটির বনমন্ত্রী রাজা জুলাই আন্তোনি বলেন, ‘বন ও ভূমিতে আগুনের পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং এর ঝুঁকি মোকাবিলায় আমরা সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
এ সময় যেসব মানবসৃষ্ট কারণে নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে, সেসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। যেমন: সিগারেটের অবশিষ্টাংশ না নিভিয়েই ফেলে দেওয়া ও জমি পরিষ্কারের জন্য আগুন লাগানো। এমন বিধ্বংসী সময়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে জনসাধারণকে সতর্ক করেছেন মন্ত্রী।
অস্বাভাবিক শুষ্ক এই মৌসুমে ইন্দোনেশিয়ার আরও কয়েকটি এলাকায় দাবানলের খবর পাওয়া গেছে।
দাবানলে সুমাত্রা দ্বীপের জাম্বি প্রদেশে ৫০ হেক্টরের (১২৪ একর) বেশি পিটভূমি (শুষ্ক স্যাওলাসমৃদ্ধ জলাভূমি) পুড়ে গেছে। এতে কিছু এলাকায় তীব্র ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে এবং বায়ুর মান আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মুয়ারো জাম্বি জেলার সুংগাই গেলাম গ্রামে বড় ধরনের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মালিকানাধীন কয়েক হেক্টর পাম বাগান পুড়ে গেছে। গত সপ্তাহের বুধবার থেকে সেখানে আগুন জ্বলছে।
দেশটিতে বর্তমান পরিস্থিতিতে আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৩০০ দমকলকর্মী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পিটভূমির গভীরতা, পানির সীমিত সরবরাহ, দুর্গম এলাকা ও প্রবল বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে। এসব কারণে তিনটি হেলিকপ্টার আকাশপথে আগুন নেভানোর কাজে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেরে বাইরে রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-ভৌত সংস্থা জানিয়েছে, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর দাবানল সংঘটনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মাস হতে পারে। এ সময়ে শুকনো গাছপালা ও প্রবল বাতাস আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
ইন্দোনেশিয়ায় শুষ্ক মৌসুমে সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপে প্রায়ই বনভূমিতে দাবানলের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়াও জমি পরিষ্কার করতে বাগান মালিক ও স্থানীয় কৃষকেরা অনেক সময় অবৈধভাবে আগুন লাগিয়ে দেন। এসব কর্মকাণ্ডে আগুনের ধোঁয়া মাঝেমধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং বিপজ্জনক ধোঁয়াশা তৈরি করে।