ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে দুই সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টা ধরে এই আলোচনা চলে। তবে শেষ পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে কোনো ‘সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি’ পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রাথমিকভাবে যে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কী ঘটবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি ভ্যান্স। তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, ‘উভয় পক্ষের জন্যই যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা অপরিহার্য।’ তিনি আরও জানান,সামনের দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংলাপ আয়োজনে ইসলামাবাদ সহযোগিতা চালিয়ে যাবে।
ইরানের পক্ষ থেকে প্রথম প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘দুই বা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে’ আলোচনা ভেস্তে গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে তিনি জানান, আলোচনায় হরমুজ প্রণালীসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়েছে, তবে পরমাণু অস্ত্রের বিষয়ে তিনি কিছু উল্লেখ করেননি
হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং বিশ্ববাজারকে অস্থিতিশীল করে তোলা এই যুদ্ধ সপ্তম সপ্তাহে গড়ানোর পর গত শনিবার ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হয়।
ভ্যান্স জানান, আলোচনা চলাকালে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করেছেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, আমাদের এমন একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন যে তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করবে না এবং এমন কোনো সরঞ্জাম জোগাড় করবে না যা তাদের দ্রুত পরমাণু অস্ত্র অর্জনে সহায়তা করবে। এটিই মার্কিন প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য এবং আমরা আলোচনার মাধ্যমে এটিই অর্জনের চেষ্টা করেছি।’
তিনি আরও জানান, গত ২১ ঘণ্টায় তিনি ৬ থেকে ১২ বার ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্র সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গেও তার আলাপ হয়েছে।
দুই পাশে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে পডিয়ামে দাঁড়িয়ে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা সদিচ্ছা নিয়েই আলোচনা করেছি। এখন আমরা একটি সাধারণ প্রস্তাব এবং সমঝোতার প্রক্রিয়া রেখে যাচ্ছি, যা আমাদের চূড়ান্ত ও সেরা প্রস্তাব। এখন দেখা যাক ইরানিরা তা গ্রহণ করে কি না।’
‘দুই থেকে তিনটি বড় ইস্যুতে’ মতপার্থক্য
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রবিবার জানিয়েছে, দুই বা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা সফল হয়নি।
মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত এই আলোচনা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।’ তবে সেই ইস্যুগুলো ঠিক কী ছিল, তা তিনি বিস্তারিত জানাননি।
বাঘাই আরও জানান, কিছু বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকরা ‘আসলে পারস্পরিক বোঝাপড়ায় পৌঁছেছিলেন।’ তিনি বলেন, আলোচনায় হরমুজ প্রণালী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা উল্লেখ করেননি।
যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান পাকিস্তানের
ঐতিহাসিক এই সরাসরি বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
তিনি বলেন, ‘উভয় পক্ষ যাতে যুদ্ধবিরতি পালন অব্যাহত রাখে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে এবং আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সংলাপ সহজতর করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।