বাংলাদেশ চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান কার্যক্রমে বিঘ্ন নিয়ে উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্স (ইউরোচেম বাংলাদেশ)। সংগঠনটির মতে, এসব ব্যাঘাতে অর্থনৈতিক ক্ষতি বেড়ে চলেছে, রপ্তানি কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং বাংলাদেশের সরবরাহ শৃঙ্খলের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, অনুমানযোগ্য, নিরবচ্ছিন্ন ও দক্ষ বন্দর পরিচালনা রপ্তানি কার্যক্রম বন্দরের সুরক্ষা, বিদেশি চাহিদার সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত লাখো কর্মসংস্থান রক্ষা এবং ইউরোপীয় ও বৈশ্বিক বাজারে নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বাংলাদেশের সুনাম বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি ইইউভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক আমদানি ৯৬০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে উল্লেখ করে ইউরোচেম বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অবিলম্বে স্বাভাবিক বন্দর কার্যক্রম ফের পুরোপুরি চালু করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
একই সঙ্গে জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে চলমান বিরোধগুলোর সমাধান এবং দক্ষতা, নির্ভরযোগ্যতা, দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ও অনুমানযোগ্যতা বাড়াতে বন্দর আধুনিকায়ন উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি।
ইউরোচেম বাংলাদেশ জানিয়েছে, তারা ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা এবং দেশের বাণিজ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে একটি স্থিতিশীল, দক্ষ ও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত বন্দর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অংশীজনদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকতে প্রস্তুত রয়েছে তারা।
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পগুলোর প্রধান প্রবেশদ্বার। দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশেরও বেশি পরিচালনা করে এই বন্দর। স্বাভাবিক সময়ে এ বন্দরে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার থেকে আড়াই ২ হাজার কনটেইনার স্থানান্তর করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কাজ বন্ধ থাকায় বন্দরটির কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে রপ্তানি পণ্য ও কনটেইনার চলাচল অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। রপ্তানি সময়সূচি ভেঙে পড়ায় সরবরাহের নির্ধারিত সময়সীমা মিস হচ্ছে এবং অতিরিক্ত কারিগরি ব্যয়ও বাড়ছে।
এই অচলাবস্থার কারণে ইউরোচেম সদস্য রাষ্ট্র ও বাংলাদেশ থেকে পণ্য সংগ্রহকারী ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
আর্থিক হিসাবে, প্রায় ১৩ হাজার কনটেইনারে থাকা আনুমানিক ৬৬ কোটি ডলারের (প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা) রপ্তানি পণ্য বর্তমানে বন্দর স্থাপনা, বেসরকারি ডিপো ও নোঙর করতে বা ছাড়তে না পারা জাহাজে আটকে আছে।
২০২৪–২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর ৮ লাখ ৩১ হাজারের বেশি রপ্তানি কনটেইনার ইউনিট পরিচালনা করেছে যার আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৪ হাজার ২৩০ কোটি ডলার।
বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের, যা আমাদের বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারকে পরিণত করেছে।