চট্টগ্রাম বন্দর
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনার গায়েবের অভিযোগ তদন্তে কমিটি
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে তিন কোটি টাকার কাপড়ের রোলভর্তি কনটেইনার গায়েবের অভিযোগে বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) প্রতিষ্ঠান এসআরএস সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এ কমিটি গঠন করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-২ বার্থে এমভি এমসিসি ডানাং জাহাজ কনটেইনার খালাস করে। ওই জাহাজে ৪০ ফুট এফসিএল কনটেইনারে সাভারের রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠান গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেডের ৬৬৮ বেল ফেব্রিকস আনা হয়।
কাস্টমস সূত্রে আরও জানা যায়, আমদানিকারকের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এসআরএস সিন্ডিকেট পণ্য খালাসের জন্য কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে গত ২২ আগস্ট বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। পরে কাস্টমস ও বন্দরের সব ধরনের রাজস্ব পরিশোধ করে ৩০ আগস্ট বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে কনটেইনারটি খালাসের জন্য গেলে বন্দর কর্তৃপক্ষ তা ডেলিভারি দিতে ব্যর্থ হয়।
এসআরএস সিন্ডিকেটের মালিক মো. হাফিজুর রহমানের অভিযোগ, ৩০ আগস্ট কনটেইনারটি ডেলিভারি নিতে গেলে বন্দর কর্তৃপক্ষ কনটেইনারটি নামিয়ে দিতে পারেনি। এরপর কয়েকদিন খোঁজাখুঁজি করে কনটেইনার না পেয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, গায়েব হওয়া কনটেইনারে প্রায় তিন কোটি টাকার কাপড় ছিল। এখন নির্ধারিত সময়ে কাপড়গুলো না পেয়ে গ্রাহকও বিপাকে পড়েছে। তারা নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হবে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, কনটেইনার গায়েবের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান।
১১ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের ৪৪২ কনটেইনার পণ্য ই-নিলামে
চট্টগ্রাম বন্দরে অখালাসকৃত ও নিলামযোগ্য ৪৪২ কনটেইনার পণ্য ই-অকশনের মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রাম। এসব পণ্যের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি, কাপড়, সুতা, সোলার মডিউল, লবণ, টাইলস ও গৃহস্থালি পণ্য রয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সোমবার (২৪ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার জট নিরসন, বন্দরের কর্মক্ষমতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে নিয়মিত নিলামের অংশ হিসেবে এসব পণ্য ই-অকশনে তোলা হচ্ছে।
এবারের নিলামে দুটি ই-অকশনে মোট ২৯০টি এবং ১৫২টি—অর্থাৎ ৪৪২টি কনটেইনারের পণ্য রয়েছে।
এনবিআরের স্থায়ী আদেশ ও বিশেষ আদেশ অনুযায়ী, বিশেষ ই-অকশন নম্বর-১০/২০২৬-এ ১০১ লটে ২৯০টি কনটেইনারের পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিক ওয়েস্টেজ (স্ক্র্যাপ), চেস্ট ফ্রিজার, পাইপ, বিভিন্ন ধরনের সুতা ও কাপড়, সোলার মডিউল, লবণ, কাগজ, টাইলস, গৃহস্থালি পণ্য এবং ৮৬টি পুরোনো খালি কনটেইনার রয়েছে।
এই বিশেষ ই-অকশনের পণ্যগুলোর নিলামে কোনো সংরক্ষিত মূল্য (রিজার্ভড ভ্যালু) রাখা হয়নি।
অন্যদিকে, ই-অকশন নম্বর-০৯/২০২৬-এ ১০৯ লটে ১৫২টি কনটেইনারের পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, ফেব্রিক্স, পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার, কেমিক্যাল, এসির যন্ত্রাংশ, টাইলস, স্টেইনলেস স্টিল কয়েল, স্ক্যানার, ব্যাডমিন্টন র্যাকেট, এলিভেটর ও লবণ।
নিলাম কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। আগ্রহী ক্রেতারা কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে অনলাইনে দরপত্র দাখিল করতে পারবেন।
দুই ই-অকশন নম্বরের পণ্যই ৩০ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর এবং বিশেষ ই-অকশন নম্বর-১০/২০২৬-এর পণ্য ৩০ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অফিস চলাকালে সরেজমিনে পরিদর্শনের সুযোগ থাকবে।
ই-অকশন নম্বর-০৯/২০২৬-এর দরপত্র ২৭ আগস্ট থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা পর্যন্ত এবং বিশেষ ই-অকশন নম্বর-১০/২০২৬-এর দরপত্র ২৭ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা পর্যন্ত অনলাইনে দাখিল করা যাবে।
অনলাইন বিডিংয়ের সময় প্রস্তাবিত দরমূল্যের ন্যূনতম ১০ শতাংশ জামানতের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মূল কাগজপত্রও দাখিল করতে হবে।
সর্বোচ্চ দরদাতাদের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪-এর প্রযোজ্য শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে পণ্য খালাস নিতে হবে।
আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় ই-অকশন নম্বর-০৯/২০২৬-এর দরপত্র বাক্স এবং ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় বিশেষ ই-অকশন নম্বর-১০/২০২৬-এর দরপত্র বাক্স খোলা হবে।
নিলামসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য কাস্টমসের ই-অকশন পোর্টালে পাওয়া যাবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর এ নিলাম কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
২৬ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের আরটিজি ক্রেনে আগুন
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) একটি আরটিজি ক্রেনে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
সোমবার (২২ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে এনসিটির ৪ নম্বর বার্থে থাকা আরটিজি-৪০১৪ ক্রেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে বন্দর, ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর সমন্বিত চেষ্টায় আধ ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রাম অঞ্চলের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নাসির উদ্দিন জানান, দুপুর আড়াইটায় এনসিটির দক্ষিণ এলাকার ৪ নম্বর বার্থে থাকা আরটিজি-৪০১৪ ক্রেনে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করে।
তিনি বলেন, পরে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যোগ দেন। তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।
৮৯ দিন আগে
ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ৫ জাহাজ
চট্টগ্রাম বন্দরে তেল খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে ৫টি জাহাজ। এসব জাহাজে ১ লাখ ৭৭ হাজার টন ডিজেল রয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে ‘এমটি প্যাসিফিক ইন্ডিগো’ নামের জাহাজটি খালাসের জন্য বন্দরের ডলফিন জেটিতে বার্থিং করে তেল খালাস শুরু করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিবের দায়িত্বে থাকা সৈয়দ রেফায়েত হামিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, ৩৫ হাজার ৩৪৬ টন ডিজেল নিয়ে আসা লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমটি অকট্রি’ তেল খালাস শেষে আজ (বুধবার) বন্দরের জেটি ত্যাগ করেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানায়, গত ১৭ এপ্রিল ৪১ হাজার ৯০৭ টন ডিজেল নিয়ে আসা চীনের পতাকাবাহী ‘এমটি লিয়ান সং হো’ জাহাজটি বন্দরের আলফা অ্যাঙ্করে অবস্থান করছে। জাহাজটি থেকে লাইটারিং করা হচ্ছে। এছাড়া ২০ এপ্রিল ৩৩ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আসে ‘এমটি প্যাসিফিক ইন্ডিগো’ জাহাজ। ১৯ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে ৩৫ হাজার ২৮ টন ডিজেল নিয়ে আসে ‘এমটি গোল্ডেন হরাইজন’। ২১ এপ্রিল ৩২ হাজার ৫০০ টন ডিজেল নিয়ে আসে ‘এমটি হাফনিয়া চিত্তা’। একই দিনে সিঙ্গাপুর থেকে ৩৪ হাজার ৫৩৩ টন ডিজেল নিয়ে আসে ‘এমটি এফপিএমসি ৩০’।
এদিকে, চীন থেকে ৩৪ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে ‘এমটি জিং টং ৯৯’ নামের জাহাজটি ২২ এপ্রিল আসার কথা থাকলেও সেটি আগামী ২৪ এপ্রিল চট্টগ্রামে আসবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
১৫০ দিন আগে
৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে মালয়েশিয়ার জাহাজ
৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে মালয়েশিয়ার তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে জাহাজটি বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে পৌঁছে বলে জানান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।
জাহাজের স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনস জানায়, আজ (শনিবার) সকালে এটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসেছে।
এর আগে, শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে ২৭ হাজার ৩০০ টন ডিজেল নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে আগত ‘ইয়ান জিং হে’ নামের আরেকটি জাহাজ পদ্মা অয়েলের ডলফিন জেটি-৬-এ বার্থিং করেছিল (ঘাটে এসে বেঁধে রাখা)। এই জাহাজটির স্থানীয় এজেন্টও প্রাইড শিপিং লাইনস।
প্রাইড শিপিং লাইনসের ম্যানেজিং পার্টনার নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’ ইতোমধ্যেই কুতুবদিয়ায় পৌঁছেছে এবং এতে ৩৪ হাজার টনের কিছু বেশি ডিজেল রয়েছে। আজ শনিবার জাহাজটি বার্থিং করার কথা রয়েছে।
১৬৮ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা ৬২ হাজার টন গম চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬২ হাজার ১৫০ টন গম নিয়ে ‘এমভি উবন ন্যারী’ জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের আলোকে নগদ ক্রয় চুক্তি জিটুজি-৩-এর অধীনে এ গম আমদানি করা হয়েছে। এর আগে, একই চুক্তির আওতায় প্রথম শিপমেন্টর মাধ্যমে ৫৮ হাজার ৪৫৭ টন গম দেশে পৌঁছায়।
জাহাজে থাকা গমের নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং দ্রুত গম খালাসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জাহাজের ৬২ হাজার ১৫০ টন গমের মধ্যে ৩৭ হাজার ২৯০ টন চট্টগ্রামে এবং অবশিষ্ট ২৪ হাজার ৮৬০ টন গম মোংলা বন্দরে খালাস করা হবে।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সরকার টু সরকার (জি টু জি) ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি কার্যক্রম শুরু করেছে। জি টু জি-১ এবং ২-এর আওতায় আমদানিকৃত সকল গম দেশে পৌঁছেছে।
এর আগে, জি টু জি-১-এর আওতায় ২ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪৫ টন এবং জি টু জি-২-এর আওতায় ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৯ টন মিলিয়ে মোট ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮৪ টন গম দেশে এসেছে।
উল্লেখ্য, দেশে মোট গমের চাহিদা আনুমানিক ৭০ লাখ টন। দেশে উৎপাদন হয় প্রায় ১০ লাখ টন। চাহিদা পূরণের জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে অবশিষ্ট গম বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।
১৭৬ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের বিদেশি টার্মিনাল ইজারা চুক্তিতে ‘অনিয়ম’, দুদকে অভিযোগ
চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালগুলো বিদেশি কোম্পানির কাছে কনসেশন চুক্তির আওতায় ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তা তদন্তের আবেদন জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তিনটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) নাগরিক সংগঠন ‘দেশপ্রেমিক নাগরিক সমাজ’-এর মুখপাত্র মো. আল আমিন হোসেন এবং সহ-মুখ্যপাত্র মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল চৌধুরী এই অভিযোগগুলো জমা দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বন্দরের বেশ কিছু লাভজনক টার্মিনাল অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং ‘নন-ডিসক্লোজার’ (তথ্য প্রকাশ না করার শর্ত) চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে বা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে স্বচ্ছতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কমিশনভিত্তিক লেনদেনের বিষয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগে দাবি করা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং সাবেক নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালটি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে কনসেশন চুক্তির অধীনে ইজারা দিতে তড়িঘড়ি প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। সম্প্রতি সেই প্রচেষ্টা পুনরায় সচল করার জন্য তদবির শুরু হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর ডেনমার্কভিত্তিক ‘এপিএম টার্মিনালস’-এর সঙ্গে লালদিয়া টার্মিনালের জন্য ৪৮ বছরের একটি কনসেশন চুক্তি সই হয়। একই দিনে কেরানীগঞ্জের পানগাঁও টার্মিনালের জন্য সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ‘মেডলগ এসএ’-এর সঙ্গে ২২ বছরের একটি চুক্তি করা হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, এই চুক্তিগুলো অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং গোপনীয়তার শর্তে সাধারণের অগোচরে রাখা হয়েছে, যা জবাবদিহিতা ও জনসমক্ষে তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাদের মতে, উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র ছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ নির্দিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
তাদের ভাষ্যমতে, নিউমুরিং টার্মিনালের ইজারা কার্যকর হলে বিশাল অঙ্কের লেনদেন এবং ব্যাপক কমিশন প্রদানের সম্ভাবনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয় অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ; তাই জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের গোপন চুক্তি বা অনিয়ম গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা মন্তব্য করেন।
তারা দুদককে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের তদন্ত, প্রয়োজনে দেশ-বিদেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক লেনদেন যাচাই এবং তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করা বা পালানোর চেষ্টা ঠেকাতে তদন্তকালীন বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় দুদক দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ‘দেশপ্রেমিক নাগরিক সমাজ’।
২০৯ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের ধর্মঘট স্থগিত
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য চলমান ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে।
এনসিটি ডিপি ওর্য়াল্ডকে ইজারা দেওয়ার চুক্তি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে না হওয়ার ঘোষণা আসার পর লাগাতার ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরে আটক ৩ জনসহ আন্দোলনরত ১৭ শ্রমিক-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ১৫ জন নেতার সরকারি বাসা হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বিদেশি কোম্পানির কাছে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ চার দফা দাবিতে গতকাল (রবিবার) সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট ডেকেছিল চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
পরে গতকাল বিকেলের দিকে ঢাকার পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সংবাদ সম্মেলনের পর আশার আলো জ্বলেছিল। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা নেই।
এমন প্রেক্ষাপটে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য অব্যাহত রাখার স্বার্থে এবং রমজান মাস ও জাতীয় নির্বাচনের কথা বিবেচনা করে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ প্রথমে ধর্মঘট থেকে সরে আসার বিষয়টি বিবেচনায় নিলেও পরবর্তী সময়ে কয়েকজন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার ও বিভিন্ন থানায় আন্দোলনকারীদের নামে জিডি হওয়াসহ কয়েকটি কারণে ধর্মঘট অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে আশিক চৌধুরী জানান, ‘রবিবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছ থেকে একটি চিঠি এসেছে। চিঠিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড ইজারা চুক্তি নিয়ে চলমান দরকষাকষির (নেগোসিয়েশন) অগ্রগতির প্রশংসার পাশাপাশি এ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। ডিপি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, শেয়ার করা খসড়া কনসেশন চুক্তি তারা গ্রহণ করেছে এবং বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছে। তবে তারা এটি আরও পুনর্মূল্যায়ন (রিভিউ) করার জন্য কিছু সময় চেয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আনুষ্ঠানিক মেয়াদ রয়েছে আর দুই কার্যদিবস। ডিপি ওয়ার্ল্ড সময় নেওয়ার কারণে নেগোসিয়েশনটি বর্তমান সরকারের আমল পেরিয়ে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গিয়ে আবারও কন্টিনিউ হতে পারে।’
২২২ দিন আগে
ধর্মঘটে অচল চট্টগ্রাম বন্দর, চেয়ারম্যানকে অপসারণের দাবি ‘গুজব’
দুই দিন স্থগিত থাকার পর চট্টগ্রাম বন্দরে আজ (রবিবার) সকাল থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। বন্দর ইয়ার্ডের পাশাপাশি এবার বহির্নোঙরেও কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ধর্মঘট শুরু হওয়ার পর বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে সব ধরনের পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ রয়েছে, থেমে আছে পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রমও।
আজ (রবিবার) সকালে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির এক ভিডিওবার্তায় বন্দরের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানকে অপসারণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তবে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তাকে অপসারণের তথ্যটি সত্য নয়। তিনি এখনও সপদে বহাল রয়েছেন।
এদিকে, বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান আজ দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বন্দর ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, বন্দরের কার্যক্রম সচল আছে।
তিনি বলেন, ‘বন্দর সচল আছে। আমি ২ ঘণ্টা বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা সবাই কাজে যাবেন। কেউ বাধা দেবেন না।’
তবে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ জানিয়েছে, সকাল থেকে বন্দরে কোনো ধরনের কার্যক্রম হচ্ছে না। কোনো শ্রমিক-কর্মচারী কাজে যোগ দেননি। এবারের কর্মসূচি কার্যকর হলে পুরো বন্দর অচল হয়ে পড়বে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ভার আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ ৪ দফা দাবিতে ফের লাগাতার ধর্মঘট শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। গতকাল (শনিবার) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।
ওই সময় চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের দুই সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহিম খোকন লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এরপর পরিষদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে চট্টগ্রাম শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।
সূত্র জানিয়েছে, এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ৩১ জানুয়ারি (শনিবার) থেকে ৮ ঘণ্টা করে তিন দিন এবং মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করে আসছিল বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার পরিবহন এবং জাহাজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। তবে বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর বিকেলে লাগাতার কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত করেন সংগঠনটির নেতারা। শ্রমিক নেতারা নৌ উপদেষ্টার সঙ্গে আলাপকালে এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলের সুস্পষ্ট ঘোষণা এবং শ্রমিক–কর্মচারীদের বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু দাবি না মানার কারণে আজ সকাল থেকে ফের ধর্মঘট শুরু হয়। নতুন করে বন্দর অচলের কর্মসূচিতে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিসহ বন্দর ব্যবহারকারীদের মাঝে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলন স্থগিত করার পরপর আন্দোলনরত ১৫ জন কর্মচারীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন জানায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানাতে অনুরোধ করা হয়। এ খবর জানতে পেরে আন্দোলনকারীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন।
উল্লেখ্য, দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দর দিয়ে সমুদ্রপথে পরিবাহিত আমদানি–রপ্তানি পণ্যের ৭৮ শতাংশ পরিবহন হয়। কনটেইনারজাত পণ্যের প্রায় পুরোটা পরিবহন হয় এই বন্দর দিয়ে। বন্দর বন্ধ হলে কন্টেনারে রপ্তানি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। কনটেইনারে বোঝাই করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত শিল্পের কাঁচামাল খালাসও বন্ধ হয়ে যায়।
২২৩ দিন আগে
অবিলম্বে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম চালুর দাবি ইউরোচেমের
বাংলাদেশ চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান কার্যক্রমে বিঘ্ন নিয়ে উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্স (ইউরোচেম বাংলাদেশ)। সংগঠনটির মতে, এসব ব্যাঘাতে অর্থনৈতিক ক্ষতি বেড়ে চলেছে, রপ্তানি কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং বাংলাদেশের সরবরাহ শৃঙ্খলের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, অনুমানযোগ্য, নিরবচ্ছিন্ন ও দক্ষ বন্দর পরিচালনা রপ্তানি কার্যক্রম বন্দরের সুরক্ষা, বিদেশি চাহিদার সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত লাখো কর্মসংস্থান রক্ষা এবং ইউরোপীয় ও বৈশ্বিক বাজারে নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বাংলাদেশের সুনাম বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি ইইউভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক আমদানি ৯৬০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে উল্লেখ করে ইউরোচেম বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অবিলম্বে স্বাভাবিক বন্দর কার্যক্রম ফের পুরোপুরি চালু করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
একই সঙ্গে জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে চলমান বিরোধগুলোর সমাধান এবং দক্ষতা, নির্ভরযোগ্যতা, দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ও অনুমানযোগ্যতা বাড়াতে বন্দর আধুনিকায়ন উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি।
ইউরোচেম বাংলাদেশ জানিয়েছে, তারা ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা এবং দেশের বাণিজ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে একটি স্থিতিশীল, দক্ষ ও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত বন্দর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অংশীজনদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকতে প্রস্তুত রয়েছে তারা।
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পগুলোর প্রধান প্রবেশদ্বার। দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশেরও বেশি পরিচালনা করে এই বন্দর। স্বাভাবিক সময়ে এ বন্দরে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার থেকে আড়াই ২ হাজার কনটেইনার স্থানান্তর করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কাজ বন্ধ থাকায় বন্দরটির কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে রপ্তানি পণ্য ও কনটেইনার চলাচল অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। রপ্তানি সময়সূচি ভেঙে পড়ায় সরবরাহের নির্ধারিত সময়সীমা মিস হচ্ছে এবং অতিরিক্ত কারিগরি ব্যয়ও বাড়ছে।
এই অচলাবস্থার কারণে ইউরোচেম সদস্য রাষ্ট্র ও বাংলাদেশ থেকে পণ্য সংগ্রহকারী ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
আর্থিক হিসাবে, প্রায় ১৩ হাজার কনটেইনারে থাকা আনুমানিক ৬৬ কোটি ডলারের (প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা) রপ্তানি পণ্য বর্তমানে বন্দর স্থাপনা, বেসরকারি ডিপো ও নোঙর করতে বা ছাড়তে না পারা জাহাজে আটকে আছে।
২০২৪–২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর ৮ লাখ ৩১ হাজারের বেশি রপ্তানি কনটেইনার ইউনিট পরিচালনা করেছে যার আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৪ হাজার ২৩০ কোটি ডলার।
বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের, যা আমাদের বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারকে পরিণত করেছে।
২২৪ দিন আগে