বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা জামায়াতে ইসলামীর দলীয় সরকার কায়েম করতে চাই না। জামায়াতে ইসলামের বিজয়ও আমি চাই না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হলে সে বিজয় আমাদের সবার।’
তিনি বলেছেন, ‘দল-গোষ্ঠী ও পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির বিজয় আমাদের কাছে নেই। এই ভোটে পুরোনো রাস্তায় যারা হাঁটতে চাইবে, অন্ধকার গলিতে তারা তাদের রাস্তায় তারা হাঁটুক। আমরা সদর রাস্তায়, আলোকিত রাস্তায় হাঁটব।’
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার কটিয়াদি সরকারি কলেজ মাঠে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১২ তারিখ পর্যন্ত জনতার রায়কে আপনারা সম্মান করুন। সুষ্ঠু নির্বাচনে যিনি নির্বাচিত হয়ে আসবেন, আমরা তাকে অভিনন্দন জানানোর জন্য প্রস্তুত। কিন্তু চোরাই পথে আর কোনো নির্বাচন হবে না এবং দেওয়া হতে যাবে না। সমস্ত চোরাই পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এ দেশকে নিয়ে তোমরা সামনের দিকে এগোবে। এখন শুধু সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা। পেছন দিয়ে যারা কামড়াকামড়ি করে, তাদের আমরা কামড়াকামড়ি করতে দেব। ওরা কামড়াকামড়ি করুক, আমরা জাতিকে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাব।
জামায়াত আমির বলেন, যারা আমাদের দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা চুরি করে বিদেশে পালিয়ে গেছে, ওদের পেটে হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা বের করে আনব। এই টাকাগুলো রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে। এ দিয়ে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের উন্নয়ন সাধন করা হবে।
জনসভায় কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে আমির অধ্যক্ষ রমজান আলীর সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য মেজর আখতারুজ্জামান রঞ্জন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ জি এস সাঈদ বিন হাবিবসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা।
পরে তিনি কিশোরগঞ্জের পাঁচটি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে মার্কা তুলে দিয়ে ভোট চান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার আমির অধ্যাপক রমজান আলী। ভোর হওয়ার আগ থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সভাস্থলে আসতে শুরু করেন। জনসভায় ১১ দলীয় জোটের শরিক বিভিন্ন দলের জেলা ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।