কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামাতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি আমির হামজা বলেছেন, অনেক দিন পর ভোট দিতে পেরে তার ঈদের মতো আনন্দ লাগছে। জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, উৎসবমুখর পরিবেশে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
শহরের কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঈদের আনন্দ নিয়ে নির্বাচন হবে, ইনশাআল্লাহ। সবাই যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারে এই প্রত্যাশা করছি। জনগণের রায় আমরা মেনে নেব।’
আমির হামজা জানান, সদর আসনে মোট ১৪২টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে তাদের এজেন্ট রয়েছে।
তিনি বলেন, আমি সব কেন্দ্রে যাওয়ার চেষ্টা করব। এখন পর্যন্ত নির্বাচন সংঘাতমুক্ত দেখছি। প্রশাসন নিরপেক্ষ রয়েছে। তবে রাতের বেলায় কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার কথা উল্লেখ করে এই জামায়াত নেতা বলেন, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে।
দেশের বিভিন্ন জেলায় জামায়াতের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে টাকা ও লিফলেট বিতরণের অভিযোগ প্রসঙ্গে আমির হামজা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ভিডিও দেখেছেন। তবে তার দাবি, জামায়াত টাকা দিয়ে ভোট কেনে এটা বিশ্বাস করে না। এগুলো আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তিনি আরও বলেন, কোনো দলের পক্ষ থেকেই যেন টাকা ছড়ানো না হয়, সেটিই তারা চান।
এ আসনে জয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন জামায়াতের এই প্রার্থী।
এদিকে, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জিয়ারখি ইউনিয়নের কমলাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন।
এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়ার ৪ টি আসনে মোট ২৫ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে সদর আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন
কুষ্টিয়ার মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪০ হাজার ৮৪২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ১৭ হাজার ২৬৯ জন এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৬৯ জন। এছাড়া ৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।
সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই সঙ্গে আজ গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল থেকেই কুষ্টিয়ায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ১০টা পর্যন্ত কুষ্টিয়ার ৪টি সংসদীয় আসনের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি।
সকালে সরজমিনে কয়েকটি ভোটকেন্দ্র ঘুরে ভোটারদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে নারী ও বয়োবৃদ্ধ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো।