ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নির্বাচনি এলাকায় মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ রয়েছে। রাত থেকে বন্ধ রয়েছে মোটরসাইকেল চলাচলও। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাইরেন বাজিয়ে টহল দিচ্ছে পুলিশ, এসআরবি ও বিজিবির গাড়ি।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাইকিং, মিছিল, সভা-সমাবেশে মুখর নির্বাচনি এলাকায় এখন নীরবতা বিরাজ করছে। তবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ক্রমিক নম্বর-সংবলিত চিরকুট বিতরণ করতে দেখা গেছে অনেককে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
ঠাকুরগাঁও সদর, ভূল্লী ও রুহিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে রয়েছে ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা। মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৫, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন।
উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন প্রার্থী। তারা হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলীম নিজামী ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আসনের ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিকে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ।
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, কোনো পক্ষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচনের ফলাফল যে পক্ষের অনুকূলে যাক না কেন, তা মেনে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব বলেও মনে করেন পুলিশ সুপার।
এদিকে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনি এলাকায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
ভোটাররা যাতে নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবির ঠাকুরগাঁও সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. সুরুজ মিয়া।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রচার কার্যক্রম শেষ হওয়ায় এখন ভোটের অপেক্ষায় প্রার্থী ও ভোটাররা। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চান ভোটাররা। সব প্রস্তুতি শেষে বৃহস্পতিবারের ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ফলাফল।