কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এবার শুরু হয়েছে গণনা।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয় ভোটগ্রহণ। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় দেশের সব ভোটকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা।
আজ সকালে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটকেন্দ্রের সামনে ভিড় বাড়তে থাকে। দেশের সব জেলায় এদিন কমবেশি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমূখর পরিবেশেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অবশ্য ব্যতিক্রম যে কিছু ছিল না, তা নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছোটখাট হাতাহাতি, সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণের মতো খবর পাওয়া গেছে। দেশের চার স্থানে ভোট দিতে গিয়ে চারজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া যায়, তবে সেগুলোর কোনোটিই সহিংসতার কারণে মৃত্যুর ঘটনা ছিল না। সবগুলো মৃত্যুই ঘটেছে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে।
কোনো কোনো ভোটকেন্দ্রের সামনে থেকে প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের টাকাসহ আটক করে জরিমানাসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন কোনো কোনো প্রার্থী।
এর আগে, আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩২ দশমিক ৮৮ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানায় নির্বাচন কমিশন।
এ বিষয়ে এক ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে মোট ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭৮৯টি কেন্দ্রের ভোট প্রদানের তথ্য আমরা পেয়েছি। আমরা যে খবর পেয়েছি, সে অনুযায়ী ভোট প্রদানের হার ৩২.৮৮ শতাংশ।’
কিছু স্থানে বিচ্ছিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আখতার আহমেদ বলেন, সেগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্ন ঘটনার কথা জেনেছি। এখন পর্যন্ত কোনো ভোট কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয়নি, সবগুলো কেন্দ্রের ভোট চলমান আছে।’
শেরপুর-৩ আসন ছাড়া সব আসনে একযোগে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনে জামায়াতের প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে সেখানে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে।