সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যুক্ত কোনো ব্যক্তি বা সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান অন্তর্ভুক্ত করে বিদ্যমান আইনকে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় সংসদে এ বিল পাস হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর স্থলাভিষিক্ত হবে।
নতুন বিলে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ১৮ ও ২০ ধারায় উল্লেখযোগ্য সংশোধনী আনা হয়েছে। এর ফলে সরকারের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মাধ্যমে কোনো সংগঠনের কেবল অস্তিত্বই নয়, বরং তার সম্পূর্ণ কার্যক্রম ও অনলাইন কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
সংশোধিত ১৮ ধারা অনুযায়ী, কোনো সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তফসিলভুক্ত করার পাশাপাশি ওই সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সুষ্পষ্ট ক্ষমতা সরকারের থাকবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ, কার্যকর শাস্তি নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো মোকাবিলার জন্য ২০০৯ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনটি প্রণীত হয়েছিল। এই আইনে যৌক্তিক কারণে সন্ত্রাসবাদে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তাকে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তফসিলভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
তবে বিদ্যমান আইনে সংশ্লিষ্ট সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সুষ্পষ্ট কোনো বিধান ছিল না। এই ফাঁক পূরণ করে আইনটিকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করতেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে। এর আগে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ২০২৫ সালের ১১ মে ধারা ১৮ ও ২০ সংশোধনের লক্ষ্যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল।
নতুন বিধান অনুযায়ী, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জারি, প্রকাশনা এবং মুদ্রণ সামগ্রী বিতরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া গণমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সব ধরনের অপপ্রচারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ সত্তাগুলো কোনো ধরনের র্যালি, সভা, সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন বা জনসমক্ষে বক্তব্য দিতে পারবে না।
বিলে একটি ‘রদ ও হেফাজত’ ধারাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ রদ হয়ে যাবে, তবে ওই অধ্যাদেশের অধীনে গৃহীত সব কার্যক্রম নতুন আইনের অধীনে বৈধ বলে গণ্য হবে।