জাতীয় সংসদ
স্পিকারের সঙ্গে ফ্রান্সের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে ফ্রান্সের সংসদীয় প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে স্পিকার বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই ফ্রান্স বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক গন্তব্য ফ্রান্স।
ফ্রান্স-বাংলাদেশ সংসদীয় ককাস গঠনের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন স্পিকার।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন ফ্রান্সের সিনেটর পিয়ের-আলাঁ রোয়ারোঁ, অলিভিয়ের হেনো ও গিয়োম শেভরোলিয়ে।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রপ্রিয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তারা কখনও স্বৈরাচারী শাসনের কাছে বশ্যতা স্বীকার করেনি এবং গণতন্ত্রের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা সমুন্নত রেখেছে।
এ সময় স্পিকার বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ফ্রান্সের নাগরিক আন্দ্রে মারলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারও প্রশংসা করেন এবং তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
সাক্ষাৎকালে ফ্রান্সের প্রতিনিধিদল ফ্রান্স-বাংলাদেশ সংসদীয় কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতির পরিধি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে। তারা বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাসের কূপ অনুসন্ধান ও খননে ফরাসি অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও জোর দেন।
ফরাসি সংসদীয় প্রতিনিধিদল ফ্রান্সের সিনেটের পক্ষ থেকে স্পিকার ও বাংলাদেশের একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদলকে ফ্রান্স সফরের আমন্ত্রণ জানায়।
এ সময় ফরাসি দূতাবাস ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার। এসব চুক্তির মধ্যে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা যাচাই করে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্ব থাকবে, তবে সেই বন্ধুত্ব কোনোভাবেই দেশের স্বার্থের পরিপন্থী হতে দেওয়া হবে না।
চট্টগ্রাম বন্দরের প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বাংলাদেশ ও কোনো বন্ধুদেশের দুটি জাহাজ একসঙ্গে বন্দরে আসলে আগে বন্ধুদেশের জাহাজ খালাস করার মতো বিভিন্ন ব্যবস্থা ও চুক্তি আগের সরকার করে গেছে। দেশের স্বার্থবিরোধী এমন অসংখ্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার।
ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন চিফ হুইপ। স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ না জানানোয় ভারতের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে দাওয়াত করেছে কেউ একজন। ব্রিক্সের সভাপতি হিসেবে দাওয়াত করেছে। তারেক রহমান তো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। একটা স্বাধীন দেশকে, এতটুকু মর্যাদা তো আপনারা দেবেন। এতটুকু মর্যাদা আপনার কাছে আশা করতে পারিনি? আবার যদি বলেন আপনি আমার বন্ধু, তা কেমনে হলো? সবাই আমাদের বন্ধু আমরা সবাইকে বলি আমাদের দেশের স্বার্থ রক্ষা করে যে কাজটা আমরা আগে করব সেটাই আমরা আগে করতে চাই।
সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, নয় কার্যদিবসের এ অধিবেশনে ছয়টি বিল পাস হয়েছে। সংসদ সদস্যদের ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
তিনি বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত বিলের মাধ্যমে মা-বাবা জীবদ্দশায় সন্তানকে সম্পদ দান করার পরও তাদের ভোগদখলের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বিলের বিরোধিতা করে বিরোধী দলের নেতারা ওয়াকআউট করায় সরকারি দলের সদস্যরা মর্মাহত হয়েছেন।
বিদ্যুৎ-সংকট প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, নতুন একটি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। আগের সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও বিভিন্ন কেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার মাধ্যমে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। বর্তমান সরকার আগের দায়মুক্তির ব্যবস্থা বাতিল করেছে।
৮ দিন আগে
জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হবে: স্পিকার
একটি দেশের বড় সম্পদ তার জনসংখ্যা উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হবে এবং জনমিতিক লভ্যাংশের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। উন্নয়ন শুধু আর্থিক পরিবর্তন নয়; মানুষের জীবনমানের পরিবর্তনের মাধ্যমে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে ‘থ্রি ডিভিডেন্ডস, ওয়ান উইন্ডো: আ পার্লামেন্টারি ডায়ালগ অন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার এসব কথা বলেন। ইউএনএফপিএর কারিগরি সহায়তায় এসপিসিপিডি প্রকল্পের আওতায় সংসদ সচিবালয় এই সংলাপের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জনমিতিক লভ্যাংশ, জেন্ডার লভ্যাংশ ও দীর্ঘায়ু লভ্যাংশ—প্রত্যেকটি একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর জন্য নীতিগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন দরকার।
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপান্তর করতে শুধু নীতি প্রণয়ন করলেই হবে না। সেই সঙ্গে আইন প্রণয়ন ও সংস্কার, বাজেটের কার্যকর ব্যবহার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় পলিসি প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করতে এবং প্রতিটি নাগরিকের উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে স্পিকার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে তিনি নারীদের শিক্ষার সুযোগ, প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ ও তরুণদের কাজের ব্যবস্থা করার ওপর জোর দেন।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার বিশাল অংশ তরুণ জনগোষ্ঠী। তারুণ্যের দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে না। তরুণদের দক্ষতা ও প্রবীণদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে জনপ্রতিনিধিরা পলিসি লেভেলে কাজ করে থাকেন। রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে দক্ষ জনসংখ্যা ও মানবসম্পদ বিদেশে প্রেরণে প্রাধান্য দিতে হবে।
সংলাপে বক্তারা বাংলাদেশের জনসংখ্যার কাঠামোর পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সুযোগের তিনটি পৃথক জানালা কাজে লাগাতে পৃথক নীতিগত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া বাংলাদেশের জনমিতিক সুযোগের সম্ভাবনা, সময় ও সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি নিয়েও তারা আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যরা, ইউএনএফপিএ ও এসপিসিপিডি প্রকল্পের প্রতিনিধিরা, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৯ দিন আগে
সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু
৪৩ দিনের বিরতির পর আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।
সংসদের তৃতীয় অধিবেশন প্রসঙ্গে গতকাল (বুধবার) চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছিলেন, এই অধিবেশনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, তৃতীয় অধিবেশন পাঁচ, সাত বা ১০ দিনের সংক্ষিপ্ত অধিবেশন হতে পারে। তবে প্রয়োজন হলে এর মেয়াদ বাড়ানো হবে।
চিফ হুইপ জানান, অধিবেশনে প্রায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন করা হতে পারে। এর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষা-সংক্রান্ত বিল রয়েছে।
সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি গত ১১ আগস্ট সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেন।
এর আগে, বর্তমান সংসদের দ্বিতীয় তথা বাজেট অধিবেশন ১৫ জুলাই ২৭ কার্যদিবস পর মুলতবি করা হয়।
ওই অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস হয়। এটি বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট।
এছাড়া ওই অধিবেশনে মোট ১১টি বিল পাস এবং ১১টি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটি এবং নয়টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল চলতি বছরের ১২ মার্চ।
২৩ দিন আগে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মির্জা ফখরুলের সঙ্গে ভোট দিলেন প্রধানমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ভোট দেওয়ার সময় ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে অভিনন্দন জানান।
এদিন দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রী তার আসন থেকে উঠে পাশে বসা মির্জা ফখরুলকে সঙ্গে নিয়ে ব্যালট বাক্সের দিকে যান।
দুপুর ২টা ১১ মিনিটে তারেক রহমান ব্যালট পেপার নিয়ে ভোট দেন। এ সময় বিএনপির সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
এরপর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দেন। এ সময়ও ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাকে স্বাগত জানান।
৩০ দিন আগে
২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে
৩৫ বছর পর আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। জাতীয় সংসদ সদস্যরা উন্মুক্ত ব্যালটে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে ভোট দিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা ১০ মিনিটে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে যা চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য এ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।
নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থত জোটের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধী দল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে সংসদে বিএনপি ও তাদের মিত্রদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজ দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো প্রার্থীকে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে।
সর্বশেষ সংসদে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে পরাজিত করে দেশের একাদশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস। সেই নির্বাচনে আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট এবং বদরুল হায়দার চৌধুরী ৯২ ভোট পেয়েছিলেন।
এরপর থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একক প্রার্থী থাকায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। প্রতিবারই একজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের ৩৫ বছর পর ভোটগ্রহণ হওয়ায় এবারের নির্বাচনকে ঐতিহাসিক হিসেবে উল্লেখ করেন।
নির্বাচন কমিশন সুন্দরভাবে নির্বাচনটি সম্পন্ন করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতিতে কোনো ধরনের ঘাটতি নেই।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষেই ভোট গণনা করে তাৎক্ষণিক ফল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন সিইসি। তিনি বলেন, ভোটের পরে আমরা সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে গণনা শুরু করব। গণনার পরে নির্বাচনি কর্তা হিসেবে আমি যে ফল ঘোষণা করব, সেটাই আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত।
এ এম এম নাসির উদ্দিন জানান, ভোট গণনা শেষে সেখানেই (সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে) ফল ঘোষণা করা হবে। এরপর নির্বাচন ভবনে ফিরে ওই দিনই গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।
এদিকে, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান শুক্রবার সন্ধ্যায় আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বঙ্গভবন।
ভোটদানের পদ্ধতি সম্পর্কে সিইসি জানিয়েছিলেন, প্রতিটি ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে—কাউন্টারফয়েল ও ব্যালট অংশ। কাউন্টারফয়েলে ক্রমিক নম্বর, সংসদ সদস্যের নাম ও জাতীয় সংসদ সচিবালয় প্রদত্ত বিভক্তি নম্বর (নির্বাচনি এলাকার নম্বর) এবং একটি খালি জায়গা থাকবে।
ব্যালট পেপার নেওয়ার আগে সংসদ সদস্যকে নির্ধারিত স্থানে তার পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করতে হবে।
ব্যালট পেপারের ডান পাশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম বাংলায় বর্ণানুক্রমে মুদ্রিত থাকবে। প্রতিটি প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে সংসদ সদস্যরা পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন।
এরপর নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে ব্যালট জমা দেবেন সংসদ সদস্যরা। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ব্যালট গ্রহণ করা হবে। এরপর ভোট গণনা শুরু হবে।
চট্টগ্রাম-৪ আসনটি শূন্য থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার সংসদ সদস্যের সংখ্যা ৩৪৯ জন।
ভোটারদের মধ্যে বিএনপির ২৪৭ জন, জামায়াতের ৭৭ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আটজন, স্বতন্ত্র আটজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তিনজন এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন।
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলন ক্ষমতাসীন বিএনপির জোটসঙ্গী। সরকারদলীয় জোটের মোট ২৫০ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন, তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষেই ভোট দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে জামায়াত, এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি ১১ দলীয় বিরোধী দলীয় জোটের অংশ। সংসদে বিরোধী দলীয় জোটে ৯০ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন, যারা অলি আহমদের পক্ষে ভোট দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণে পদটি শূন্য হলে তা পূরণের জন্য ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হয়।
৩০ দিন আগে
জাতীয় সংসদ গবেষণা নীতিমালা কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ গবেষণা নীতিমালা (সংশোধিত)-২০২৬-এর গবেষণা কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি সাঈদ আল নোমানের সভাপতিত্ব এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় কমিটির সদস্য সংসদ সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, মহাপরিচালক আ.ন.ম. খলিলুর রহমান খান, পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. নাজমুন হক, উপসচিব মো. ফয়সাল মোর্শেদ, উপসচিব ড. মো. ওহিদুজ্জামান এবং উপপরিচালক মো. আলী আকবর অংশ নেন।
সভার শুরুতে কমিটির সভাপতি উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানান। পরে জাতীয় সংসদের গবেষণা বরাদ্দ ও গবেষণা নীতিমালার আলোকে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়।
গবেষণার জন্য প্রস্তাব আহ্বানের লক্ষ্যে বাংলা ও ইংরেজি ভাষার একটি করে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়ে সভায় আলোচনা করা হয়।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ গবেষণা নীতিমালা (সংশোধিত)-২০২৬-এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অনুযায়ী জাতীয় সংসদের কার্যক্রম, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া, সংসদীয় কার্যক্রম এবং সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণার বিষয় ও ক্ষেত্র নির্ধারণ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আলোচনা শেষে বাংলা ও ইংরেজি ভাষার একটি করে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় গবেষণা প্রস্তাব আহ্বানের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সুপারিশ করা হয়।
এছাড়া গবেষণার বিষয় নির্বাচন ও গবেষণা প্রস্তাব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে চারটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। বিষয়গুলো হলো—বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে কার্যকর সংসদীয় কমিটি ব্যবস্থা: বর্তমান অবস্থা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ এবং সংস্কারের রূপরেখা; পোস্ট লেজিসলেটিভ স্ক্রুটিনি: বাংলাদেশের প্রয়োজনীয়তা ও কাঠামো; জনগণের সঙ্গে সংসদের সংযোগ: বর্তমান অবস্থা ও উন্নয়নের উপায় এবং ‘পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের কার্যকারিতা।
বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৩২ দিন আগে
দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এমপিরা ভোট দিতে পারবেন না: চিফ হুইপ
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন না হওয়ায় আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ ভোট দিলে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধিত হয় নাই, সুতরাং এটা কার্যকর হবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ ভোট দিতে পারবেন না। ভোট দিলে তাদের সদস্যপদ বাতিল হবে।’
জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রস্তুতিমূলক সভায় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ছাড়াও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং হুইপ জি কে গউছ, হুপ রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, রাষ্ট্রকাঠামোর সর্বক্ষেত্র ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে হবে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে ২০২৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ ব্যবহার, যাবতীয় লজিস্টিক সহায়তা প্রদান এবং সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ-সংক্রান্ত সভার কার্যবিবরণী প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ নিশ্চিত করা হয়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে যাবতীয় লজিস্টিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করারও পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরে সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বিএনপির দলীয় প্রার্থী এখনও চূড়ান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীকে প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দিয়েছে দল। তিনি প্রার্থী ঘোষণা করবেন।
বিরোধী দল থেকে ইতোমধ্যে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। এ কারণে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতিমূলক সভাটি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ভোট সংসদের ভেতরেই হবে এবং সেখানে একটি ব্যালট বাক্স থাকবে। সংসদ সদস্যরা তাদের বিভাগ, আসন নম্বর ও জাতীয় নম্বর অনুযায়ী ভোট দেবেন।
তিনি বলেন, ভোট শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে ৩৪৯টি ভোট দেওয়া হলে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফলাফল তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হবে। আর যদি দেখা যায় একটি ভোট বাকি আছে, তাহলে সেটির জন্য বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। এরপর ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
চিফ হুইপ বলেন, রাষ্ট্রপতি (ভারপ্রাপ্ত), সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং স্পিকারের (ভারপ্রাপ্ত) ভোট দেওয়ার সময় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এরপর ভোট শেষ হওয়ার পর ভোট গণনা থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত প্রক্রিয়াও সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য স্পিকারের পরামর্শে সিইসি এক দিনের বৈঠক ডাকবেন বলেও জানান চিফ হুইপ।
বিএনপির প্রার্থী কবে চূড়ান্ত হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলে সবাই জানতে পারবেন। মনোনয়ন ফরম দাখিলের সময়ই সবাই প্রার্থীর বিষয়ে জানতে পারবেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, গণতন্ত্রের জন্য একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন এবং তারা দেশবাসীকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানও জানাতে চান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের যিনি প্রার্থী তাকে আমরা মনে করছি, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অভিভাবকত্ব হিসেবে তিনি সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হবেন।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়া উচিত ছিল। যেহেতু গণভোটের রায়ও সংস্কারের পক্ষে এসেছে, তাই ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যেত। তাহলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আরও বেশি সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য হতেন।
তিনি বলেন, ‘তারপরেও যেহেতু নির্বাচন হচ্ছে, এজন্য এটাকে বিনা কনটেস্টে (প্রতিযোগিতায়) দিতে চাই না। আমরা সে কারণে বিরোধী দলের জায়গা থেকে সেখানে প্রার্থী দিয়েছি।’
জুলাই সনদ অনুযায়ী, ৭০ অনুচ্ছেদে অর্থবিল ও আস্থাভোট ছাড়া অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে মত দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে বিএনপি আরও দুটি বিষয় যোগ করার কথা বলেছিল—সংবিধান সংশোধন এবং জাতীয় নিরাপত্তা (যুদ্ধ পরিস্থিতি)।
৩৯ দিন আগে
সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নিচতলায় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ সভা শুরু হয়।
সভায় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং হুইপ মো. জি কে গাউছ, রাকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোর সর্বক্ষেত্রে ফ্যাসিস্টমুক্ত করতে হবে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ।
সভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য জাতীয় সংসদ কক্ষ ব্যবহার, প্রয়োজনীয় সব ধরনের লজিস্টিক সহায়তা এবং সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাসহ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন এবং লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৩ আগস্ট। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সাড়ে তিন দশক পর এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপি প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এরই মধ্যে বিরোধী জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে তাদের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট হয়। সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। স্থানীয় সরকার ও সংসদ নির্বাচনে গোপন ব্যালটে ভোট হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হয় প্রকাশ্যে।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে ইসি। এরইমধ্যে নিয়ম অনুযায়ী সংসদের স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
৩৯ দিন আগে
জনপ্রত্যাশা পূরণে সবার মতামত নিয়ে সংবিধান সংশোধন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, পেশাজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করবে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকের মাঝে বাইরে বের হয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হয়ে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নবযাত্রা এবং রাষ্ট্র কাঠামোর বিবর্তনমূলক প্রক্রিয়ায় যেসব গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সেগুলো ধারণ করা হবে। এজন্য সব রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করা হবে।
তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমরা উদার এবং ওপেন, আমরা সবার কথা শুনব। সর্বত্র যা যা সংশোধনের প্রয়োজন, সে সমস্ত সংশোধনীগুলো আমরা ধারণ করে সেভাবে আমরা রিপোর্ট প্রণয়ন করব।’
কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে আসবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিল যখন আসবে, সংবিধান সংশোধনী বিল পার্লামেন্টে আলোচনা করে আমরা সমঝোতার ভিত্তিতে সেই সংশোধনীটা গ্রহণ করতে চাই। যে সংশোধনী জনপ্রত্যাশা পূরণ করবে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো সংশোধনী প্রস্তাবে রাখার চেষ্টা করবে কমিটি।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশের এই নবযাত্রা এবং রাষ্ট্র কাঠামোর যে আমরা বিবর্তনমূলক কার্যে যাচ্ছি এবং রাষ্ট্র কাঠামোর যে গণতান্ত্রিক সংস্কার আমরা করতে চাই, তার সবগুলো আমরা এখানে অ্যাড্রেস করব, ধারণ করব। যেটা আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল, সেটা এখনও আছে।’
প্রথম বৈঠকে যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে তাদের তালিকা প্রণয়ন এবং মতবিনিময়ের দিনক্ষণ নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান কমিটির সভাপতি। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করলেও তাদের মতামত নেওয়া হবে। কত দিনের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন তৈরি হবে, তা এখনই বলতে পারেননি সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, সময়টা এখন নির্দিষ্ট করে বলতে পারব না।
সংবিধান সংশোধন কমিটিতে প্রতিনিধিত্বের জন্য সরকার বিরোধী দলকে পাঁচজনের নাম দিতে অনুরোধ করলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো নাম দেয়নি।
এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বিরোধী দলের পক্ষ থেকে যে পাঁচটি নাম দেওয়ার কথা ছিল সে নামগুলো আমরা এখনও পাইনি। আমি আশা করি, তারা অনুধাবন করবেন এবং একপর্যায়ে তারা তাদের নাম দিবেন। তাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করব।’
বিরোধী দল নাম না দিলেও তাদের সংসদ সদস্যদের মতামত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। কমিটির বৈঠকে উপস্থিত হয়ে অথবা বৈঠকের বাইরে লিখিতভাবে প্রস্তাব দিলেও তা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘এ ছাড়াও নাম যদি না-ও দেয়, আমরা সকল বিরোধীদলীয় দলের সদস্য যারা আছেন, তাদের পরামর্শ আমরা গ্রহণ করব। তারা যদি মিটিংয়ে এসে দেয় ভালো, মিটিংয়ের বাইরে দিলেও আমরা সেটা গ্রহণ করব। লিখিতভাবে যদি দেয়।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এইভাবে আমরা একটা গ্রহণযোগ্য সংশোধনী আনতে চাই। জনপ্রত্যাশার সবকিছু আমরা ধারণ করতে চাই। সবার সাথে আলাপ আলোচনা করেআমরা সেই রিপোর্টটা প্রণয়ন করতে চাই।’
তিনি জানান, জুলাই জাতীয় সনদে সংবিধান-সংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হবে। যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো সংশোধনী প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আর যেসব বিষয়ে বিএনপি ভিন্নমত দিয়েছে, সেগুলো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ হিসেবে বিবেচনায় রাখা হবে।
এছাড়া জুলাই জাতীয় সনদের বাইরে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে থাকা সংবিধান সংশোধনের অঙ্গীকারগুলোও পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
কমিটির কাজকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কমিটির সামনে চ্যালেঞ্জ নেই। আমাদের প্রত্যাশা আছে। আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। এটাকে আমি চ্যালেঞ্জ বলতে চাই না।’
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। শহিদদের আকাঙ্ক্ষা ও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। আর সে জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সংবিধানেই নিশ্চিত করতে হবে।
৪৬ দিন আগে