জাতীয় সংসদ
ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, ২০৩৪ সালের মধ্যে ৯ কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য
সরকারের পর্যায়ক্রমিক সব কল্যাণমুখী নাগরিক সুবিধা একটি একক কার্ডের আওতায় আনতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ২০৩৪ সালের মধ্যে ৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী রূপরেখা তুলে ধরেছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং প্রথম বাজেট সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র যদি তার নাগরিকদের দায় মেটাতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ এবং রাষ্ট্র উভয়ই দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড কিংবা ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের জন্য দেওয়া বিশেষ কার্ডের মতো সুযোগ-সুবিধাগুলো জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের কোনো করুণা বা দয়া নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের পরম দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই ভবিষ্যতে আলাদা আলাদা সব কার্ডের সমন্বয়ে এই সর্বজনীন বা ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা একক পরিচয় ও কার্ডে সব সরকারি সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন।
তিনি বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দ্বিমত থাকতে পারে। কিন্তু যখন দেশের প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের কথা আসে, তখন সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি এবং বিদেশি তাবেদারি রুখতে হলে রাষ্ট্র এবং দেশের জনগণকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী এবং শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। আর সেই শক্তিশালীকরণের প্রথম ধাপই হলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা করা।
দেশের ঋণনির্ভর অর্থনীতি সম্পূর্ণভাবে বদলে দিয়ে একটি টেকসই বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের বিস্তারিত রূপরেখাও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। সেখানে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিকেই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ধরা হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, সরকার কেবল যুবসমাজকে ঘরে বসিয়ে না রেখে দেশের বিশাল কর্মক্ষম জনশক্তি সম্পদে রূপান্তর করতে চায়। এই লক্ষ্যে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১০ লাখ, ব্লু ইকোনমি ও ইকোট্যুরিজম খাতে আরও ১০ লাখসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে পর্যায়ক্রমে ৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এছাড়া যুবসমাজকে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী গড়ে তুলতে দেশজুড়ে বিভিন্ন ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ১০ হাজার নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ার পরিকল্পনা
অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পরিবেশ রক্ষায় একটি বিশাল সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশকে শুধু রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবেই শক্তিশালী করা আমাদের লক্ষ্য নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশের ভূমিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বসবাসযোগ্য করে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে স্বেচ্ছাশ্রম এবং সরকারি উদ্যোগে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ বা সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির এক সুবিশাল মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যার সফল বাস্তবায়নে প্রতি বছর গড়ে ৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে। এই প্রকল্পের সফলতার জন্য দেশে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার, যার মাধ্যমে নতুন করে আড়াই লাখ তরুণ-তরুণীর বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রধানমন্ত্রী আনন্দের সঙ্গে জানান, আজ সকালেই তিনি প্রাথমিক স্কুলের বাচ্চাদের একটি অনুষ্ঠানে সশরীরে এবং দেশের বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত হয়ে একযোগে প্রায় ২ লাখ গাছের চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
দুর্নীতির টুঁটি চেপে হলেও নিয়ন্ত্রণে বদ্ধপরিকর সরকার
এ সময় দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ও অগ্রাধিকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী আমলে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলারের মতো বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে। এই বিপুল অর্থ পাচার ও ব্যাপক দুর্নীতির কারণেই দেশের সার্বিক অবকাঠামো, রাস্তাঘাট ও জনজীবনের মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই কালো অধ্যায় থেকে দেশকে বের করে আনতে বর্তমান সরকার যে কোনো মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরতে বদ্ধপরিকর।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। আমরা বাহিনীকে এমনভাবে গড়ে তুলব, যাতে তারা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে পারে।
এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সাধারণ নাগরিক, কৃষক, শ্রমিক ও শিক্ষকদের অন্যতম প্রধান চাওয়া একটি নিরাপদ পরিবেশ। প্রত্যেক মানুষ চায় দিনশেষে কাজ শেষে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে এবং পরিবার নিয়ে স্বস্তিতে সময় কাটাতে। জনগণের এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, সরকার কোনো ধরনের উগ্রবাদ বা জঙ্গিবাদ বরদাশত করবে না এবং এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় রাখতে বিরোধী দলেরও সমর্থন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বিএনপির নির্বাচনি ৩১ দফাকে জনগণের ম্যান্ডেট উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের রায়ে এটি এখন সমগ্র দেশের উন্নয়ন রূপরেখায় পরিণত হয়েছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা এবং ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগ এবং পাঁচ বিভাগে পাঁচটি ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু প্রতিহিংসা নয়—ন্যায়পরায়ণতাই হবে রাজনীতির ভিত্তি।
৩ দিন আগে
জমির উদ্দিন সরকারের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের প্রতি সংসদে শ্রদ্ধা
জাতীয় সংসদে সদ্যপ্রয়াত সাবেক স্পিকার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রবীণ রাজনীতিক ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা।
আলোচনা শেষে তার প্রতি সম্মান জানিয়ে সংসদ সদস্যরা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
মোনাজাত শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ দিনের কার্যক্রম সংক্ষিপ্ত করে সংসদ মুলতবি ঘোষণা করেন। এরপর দক্ষিণ প্লাজায় বাদ আছর তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জমিরউদ্দিন সরকার এমন একটা জনপদের মানুষ, যে জনপদটির অত্যন্ত দরিদ্র লোকের বাস, কিন্তু এই মানুষগুলোর কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তারা এখনও তাকে তাদের অভিভাবক মনে করে। তিনি কোনোদিন কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি।’
তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের অতি প্রিয় মানুষটি শুধু উত্তরবঙ্গেই নয়, ঢাকাতেও জনপ্রিয় ছিলেন। সারা জীবনে তিনি যখন যেখানে কাজ করেছেন, পরম নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আইনের ও আইনের শাসনের প্রতি তার যে অবিচল আস্থা, গণতন্ত্রের প্রতি তার যে অবিচল আস্থা—এটা আমরা খুব কম দেখেছি।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিনি একদিকে ইতিহাসের ছাত্র ছিলেন, সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন, পরে আইনের পেশাকে বেছে নিয়েছিলেন। যেকোনো বিষয়ে তিনি অবলীলায় অনেকক্ষণ কথা বলতে পারতেন এবং জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য রাখতে পারতেন। আমাদের সকলের কাছে তিনি অনুসরণীয়।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দলের প্রতি তার যে আনুগত্য, রাজনীতির প্রতি যে আনুগত্য, উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি তার যে আনুগত্য—এ ব্যাপারে তিনি অবিচল ছিলেন। আমাকে সবসময় একটা কথা বলতেন, “ইলেকশন করবে, ইলেকশনের মধ্যে দিয়ে যাবে। ইলেকশন ছাড়া কিন্তু কখনও গণতন্ত্রে পৌঁছানো যায় না।”’
শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার পেশাগত জীবনে এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে সফল ও বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। ব্যক্তি এবং দল হিসেবে আমি এবং আমরা তার ক্লায়েন্ট ছিলাম, বিশেষ করে আমাদের কষ্টের দিনগুলোতে, ফ্যাসিবাদী আমলে।’
তিনি বলেন, ‘আইনের যাঁতাকলে যখন আমরা পিষ্ট, তখন প্রায়ই আমরা তার কাছে যেতাম। তিনি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েই শুধু আমাদের কাজ সারেননি, বরং আমাদের মজলুম নেতৃবৃন্দের পক্ষে আদালতে বারবার দাঁড়িয়েছেন।’
ডা. শফিকুর বলেন, ‘প্রথমবার থেকেই আমরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাকে কিছু ফি দিতে চেয়েছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হইনি। তিনি বলতেন, “এটা আমার নৈতিক দায়িত্ব। এটি আমার জন্য সুযোগ।” একসঙ্গে রাজনীতি করেছি। তার এই অবদান স্মরণ করে আমার চোখে পানি আসছে। আমরা তার ঋণ পরিশোধ করতে পারব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি স্পিকার হিসেবে সংসদকে প্রাণবন্ত করে রেখেছিলেন। আইনের অঙ্গনে তিনি অনেকের গুরু। তার চলন-বলনসহ সবকিছুই ছিল শিক্ষণীয়।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন, আইনজীবী ছিলেন। তিনি আইন প্রণয়নকারী ছিলেন, স্পিকার ছিলেন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি ছিলেন। এরকম একজন সফল মানুষ আমাদের জন্য ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।’
তিনি বলেন, ‘উনার যে কর্মজীবন, আমার বয়সের সমান উনার কর্মজীবনের পরিধি। এই কর্মজীবনে তার সুনাম ছাড়া কোনো ব্যক্তি, কোনো ক্লায়েন্ট কিংবা আইনজীবী হিসেবে তার বিরুদ্ধে কোনোদিন কোনো সমালোচনা করেননি।’
প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘মরহুম জমিরউদ্দিন সরকার একজন অত্যন্ত সফল আইনজীবী ছিলেন। তিনি অত্যন্ত সিরিয়াসভাবে তার ক্লায়েন্টদের জন্য কাজ করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘তিনি একজন সফল আইনজীবী, একজন সফল রাজনীতিবিদ। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে তিনি বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেও বিভিন্ন পদে অবদান রেখেছেন এবং এই সংসদে স্পিকার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।’
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান বলেন, ‘১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পঞ্চম জাতীয় সংসদকে যারা প্রাণবন্ত করে রেখেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জনাব জমিরউদ্দিন সরকার।’
তিনি বলেন, ‘২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদে তিনি স্পিকার নির্বাচিত হন। সেই সময় দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। বিশেষ করে তখন একটি ফ্যাসিবাদী দল বিরোধী দলের ভূমিকায় ছিল। আমরা দেখেছি, তিনি অত্যন্ত যোগ্যতার সঙ্গে শান্তভাবে সেই দায়িত্ব পালন করে গেছেন।’
ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান বলেন, ‘তিনি শুধুমাত্র একজন আইনজীবী ছিলেন না। আজকের রাজনীতিবিদদের জন্যও তিনি শিক্ষণীয়। তিনি ১২টি বই লিখেছেন। আইনজীবী ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে লেখালেখির সেই চর্চা এখন কমে গেছে। এ ক্ষেত্রে তিনি আমাদের জন্য উদাহরণ।’
সরকারি দলের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘আইন পেশায় সুনাম অর্জনের কারণে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত পাঁচবার তাকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠান।’
এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, ‘যারা নতুন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, সেই স্বপ্নের সঙ্গে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের যে স্বপ্নের আবহ ছিল, সেটাকে মিলিয়ে নিয়ে সামনের দিনে আমরা যেন সেই স্বপ্নগুলোকে বাস্তবায়ন করতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে তার অতীত জীবনের কর্মকাণ্ড, বক্তব্য এবং অনুপ্রেরণাদায়ী ভূমিকা ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে সংরক্ষণ করতে পারলে সেটি বাংলাদেশের জন্য আরও ভালো একটি উদাহরণ হবে।’
সংসদ সদস্যরা তাদের বক্তব্যে মরহুম ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
সবশেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, ‘জাতি একজন আইনজ্ঞ এবং একজন সাদা মনের মানুষকে হারিয়েছে। আপনাদের বক্তব্য শুনে আমিও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি। আমিও কয়েকটি সংসদে তার সহকর্মী ছিলাম। আপনাদের ওখানে বসেই (সংসদ সদস্যের আসনে) এই চেয়ার থেকে তিনি যখন অত্যন্ত সুন্দরভাবে এই সংসদ পরিচালনা করতেন, সেটি দেখে মুগ্ধ হয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘তিনি একজন বিশিষ্ট আইনজীবী ছিলেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। অত্যন্ত ভালো মনের একজন মানুষ, যার সম্পর্কে কখনো কারও কাছ থেকে কোনো অভিযোগ শুনতে পাইনি। জাতি এক মহান সন্তানকে হারাল।’
শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে মরহুমের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতনের পরিচালনায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে, পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা অতীতে দেখেছি, সংসদ চলাকালে কোনো সাবেক স্পিকার মারা গেলে তার ওপর শোক প্রস্তাব এনে সরকারি দল ও বিরোধী দল আলোচনা করে ওই দিনের জন্য সংসদের কার্যক্রম মুলতবি করা হয়। এটা তাকে সম্মান জানানোর জন্য করা হয়। সুতরাং আর কোনো আলোচনা না করে এই বিষয়ে প্রস্তাব এনে সংসদের কার্যক্রম মুলতবি করার আহ্বান জানাই।’
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমার যেটুকু অভিজ্ঞতা, কোনো বর্তমান সংসদ সদস্য মারা গেলে সঙ্গে সঙ্গে সংসদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। আজ পর্যন্ত কর্মরত অবস্থায় কোনো স্পিকার মারা গেছেন বলে আমার জানা নেই। আগে কখনও এ ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো সদস্য, এমনকি স্পিকার মারা গেলে সঙ্গে সঙ্গে সংসদ মুলতবি হয়ে যায়। আজ যেহেতু একজন সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক স্পিকার ইন্তেকাল করেছেন, সে কারণে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সংসদ মুলতবি করিনি।’
তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আলোচনা করব। আলোচনা করার পরেই আজকে সংসদের বাকি কার্যক্রম অনিষ্পন্ন রেখে মূলতবি করা হবে।’
সাবেক স্পিকার, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আজ রবিবার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
৬ দিন আগে
টেকসই ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় সংসদ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে: স্পিকার
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘স্ট্রেন্থেনিং পার্লামেন্টস ক্যাপাসিটি ইন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইস্যুজ (এসপিসিপিডি)’ প্রকল্পের আওতায় টেকসই, বৈষম্যহীন ও মানবসম্পদকেন্দ্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সংসদ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জনসংখ্যার রূপান্তর-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংসদে আলোচনায় নিয়ে আসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
রবিবার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে এসপিসিপিডি প্রকল্পের আওতায় ‘পার্লামেন্টস রোল ইন রিয়ালাইজিং পপুলেশন ডিভিডেন্ডস, এসডিজিস অ্যান্ড আইসিপিডি কমিটমেন্টস’ শীর্ষক অবহিতকরণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপির সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, এমপি।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের জাতীয় প্রতিপাদ্য ‘তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’ বাস্তবায়ন নির্ভর করছে সরকার গৃহীত পদক্ষেপের ওপর। তিনি বলেন, তরুণদের উন্নয়নের মাধ্যমে জনমিতিক লভ্যাংশকে কাজে লাগাতে হবে।
স্পিকার বলেন, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) বাংলাদেশ-এর কৌশলগত সহায়তায় জাতীয় সংসদ সদস্যদের এ ফোরাম বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পার্লামেন্টারিয়ানস অন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিএপিপিডি) গঠনের মাধ্যমে আইন ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর আওতায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও আইন শক্তিশালীকরণ, কৈশোরকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার, জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনসহ বিভিন্ন বিষয় সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে। তিনি স্বাস্থ্য, লিঙ্গসমতা, যুব উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত লক্ষ্য বাস্তবায়নেও এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
৬ দিন আগে
বর্তমান সংসদকে দেশের ইতিহাসের সেরা সংসদ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান চিফ হুইপের
সম্মিলিতভাবে কাজ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কার্যকর সংসদে পরিণত করতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, এই সংসদকে আরও কার্যকর এবং গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে বাজেট অ্যানালাইসিস অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিটের (বিএএমইউ) আয়োজনে ‘বাজেট হেল্পডেস্ক ২০২৬’-এর সপ্তম ব্রিফিং সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
চিফ হুইপ বলেন, ‘বর্তমান সংসদকে আমরা বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা সংসদ হিসেবে দেখতে চাই। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের প্রতি আমার প্রত্যাশা থাকবে, আপনারা এই সংসদকে আরও কার্যকর এবং গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলবেন।’
ব্রিফিংয়ে সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহ—সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটির সংবিধান ও কার্যপ্রণালী-বিধি অনুযায়ী ভূমিকা ও কার্যক্রম বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন চিফ হুইপ।
১১ দিন আগে
মামলা করতে বাধা নেই বলেই ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিগত ১০-১৫ বছরের তুলনায় দেশে খুন, ডাকাতিসহ সার্বিক অপরাধ কমলেও মামলা করতে কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক বাধা না থাকায় এখন ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ এবং এর ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি গণমাধ্যমের খবর উদ্ধৃত করে গত এপ্রিল ও মার্চ মাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘পুরো বাজেটের সবটাই যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া হয় বা এই মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তারপরও কতটুকু উন্নয়ন হবে, তা আমরা জানি না। তারপরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বক্তব্য দেন সারা দেশ মুগ্ধ হয়ে শোনে। আমি একজন আইনের শিক্ষার্থী, আমিও উনার ডিবেট মুগ্ধ হয়ে শুনি। কিন্তু উনার এই মুগ্ধতা যদি উনি উনার মন্ত্রণালয়ে ছড়িয়ে দিতে পারতেন এবং তার মন্ত্রণালয়ের কাজের মাধ্যমে, তাহলে এটি ছাঁটাই করার... প্রস্তাব আমি রাখতাম না।’
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এর আগেও তিনি সংসদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়টি ডেটাসহ তুলে ধরেছেন। খুনের চিত্র, ধর্ষণের চিত্র, নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র, ডাকাতির সংখ্যা মাসওয়ারী দিয়েছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্বে আসার পর থেকে এই পর্যন্ত সমস্ত ডেটায় আমরা ঐতিহাসিকভাবে এগিয়ে আছি, উন্নত আছি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ষণের কেস রেকর্ডের ক্ষেত্রে আমরা একটু বেশি ধর্ষণের চিত্র পেয়েছি। তার একটা কারণ আছে, আগে ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিরা রেকর্ড করতে থানায় যেতেন না বা যেতে পারতেন না, সামাজিক বা রাজনৈতিক বিভিন্ন হস্তক্ষেপের কারণে। এখন থানায় গেলেই অথবা অনলাইনে জিডিসহ অন্যান্য কিছু দায়ের করতে পারেন। এফআইআর দাখিল করতে পারেন। এখানে কোনো ইন্টারফেয়ারেন্স নেই। যার কারণে সংখ্যাটা একটু বেড়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তবে সুখের কথা হলো, ধর্ষণ যেখানেই হোক, শিশু হোক, নারী হোক, যে অবস্থাতে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বিভাগ গ্রেপ্তারসহ চার্জশিট প্রদানের জন্য এবং মামলায় সহযোগিতা করার জন্য সাক্ষী উপস্থাপনসহ ট্রায়েলের সমস্ত ক্ষেত্রে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেখা গেছে।
তিনি বলেন, পল্লবী শিশু হত্যার বিচার হয়েছে ১৫ থেকে ১৭ দিনের মধ্যে। এটা বাংলাদেশের রেকর্ড। তনু হত্যার আসামিদের ডিএনএ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে গ্রেপ্তার করা সক্ষম। বাকিগুলোও হবে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, পুলিশ দলীয় পরিচয় দেখে কাউকে গ্রেপ্তার করে না; অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত করে। বিরোধী দলের কোনো নেতা-কর্মী অপরাধে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলও দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে, যা তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়কে আমরা কখনও প্রাধান্য দেব না। দেশের শান্তি, উন্নয়ন, অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকা দরকার।
মন্ত্রী বলেন, গ্রাম পুলিশ থেকে শুরু করে আইজিপি পর্যন্ত সবাই কাজ করে। কিন্তু জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া কোনো দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন হয় না। এ সময় সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোকেও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে স্বয়ংসম্পূর্ণ বিভাগ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। সেখানে ডগ স্কোয়াড, অস্ত্র ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলায় মাদক পরীক্ষাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অনলাইন ও অফলাইন জুয়া এবং সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হচ্ছে। ১৮৬৭ সালের পুরোনো জুয়া আইনের পরিবর্তে আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে জুয়া ও বেটিং নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
১৮ দিন আগে
‘সবকিছু দলের সঙ্গে একীভূত করেন কেন’, আদ্-দ্বীন প্রসঙ্গে জামায়াতকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, অক্সিজেনের অভাব ও চরম অবহেলার কারণেই আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
এ সময় হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধী দল জামায়াত ইসলামীর সমালোচনার কড়া জবাব দেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ছয়টা শিশু যখন হাত-পা বাইরে বের করে বাঁচার জন্য কাঁদছিল, সেই হাইপারক্যাপনিয়ায় কর্তৃপক্ষ এসি বন্ধ করে দিয়েছে; ঘরে জানালা নেই, কোনো অক্সিজেন নেই। ১৬-১৭ জন মানুষ, মায়েরা কাঁদছেন, ছোটাছুটি করছেন; একজন চিকিৎসকও আসেননি। সেই বাচ্চাগুলো ছটফট করতে করতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের জন্য মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে।
বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা কোভিড টাইমে ইউনাইটেড হসপিটালে ও বার্ন ইউনিটে আগুনের ঘটনার কথা বলেছেন। আমি তাদের সঙ্গে একমত; ওগুলো ছিল দুর্ঘটনা, বিদ্যুতের কারণে। কিন্তু আদ্-দ্বীনে যে ঘটনা ঘটেছে, আপনারা কেউ সেখানে যাননি। আজকে সংসদে কথা বলেন।’
তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর হাসপাতালের মালিক দেখতে পর্যন্ত যাননি। কিন্তু তিনি নিজে পরের দিনই সেখানে গিয়েছেন এবং চিকিৎসকেরা তার কাছে অবহেলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আজকে অনেক সংসদ সদস্য বলেছেন, ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় তারা ডায়ালাইসিস করান। সত্য। কিন্তু মাথাব্যথায় কি মাথা কেটে ফেলা যায়? না, কাটা যায় না। আমরা লাইসেন্স স্থগিত করেছি, হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিইনি।’
বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রতিটি জিনিসকে কেন নিজেদের দলীয় আদর্শের সঙ্গে একীভূত করেন? দলীয় আদর্শ দিয়ে দেশের বিরোধিতা করা যায় না, যা করেছিলেন ১৯৭১ সালে। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি অবশ্যই আমার দেশের দিকে দেখব। আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী, আমি অবশ্যই আমার দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের ভালো দেখব। বাচ্চাগুলো মারা যাবে বিনা চিকিৎসায়, আমি ডাক্তারের কথা শুনেছি, আমি পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি।’
হাসপাতালের ভেতরের চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যেখানে হাসপাতালের অনুমতি নেওয়া হয়েছে, সেই ছয়তলার মধ্যে একটা বেকারি কারখানা করা হয়েছে। গন্ধে ঢোকা যায় না। এমন স্তূপ, প্লাস্টিকের বর্জ্য যে আগুন লাগলে কোনো রোগী বা অভিভাবক বাঁচতে পারবেন না। মালিকের অবহেলার কারণে, তার একগুঁয়েমির কারণে পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন করে তার স্ত্রীকে চিফ এক্সিকিউটিভ করা হয়েছে।
এই অবস্থায় সরকার বসে থাকতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সব হাসপাতালকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে চাই। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে দেশের ১৮ কোটি মানুষ। মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনের মূল্য সরকারকে দেখতে হবে।’
২০ দিন আগে
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৫৯ জনের সাজা, ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড: আইনমন্ত্রী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা সাতটি মামলায় মোট ৫৯ জন আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৩ জনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। বাকি আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় মোট ৮০টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ৭৩টি মামলার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
চলমান ৭৩ মামলার মধ্যে ২২টি রয়েছে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে। অন্য ৫১টি মামলা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত এসব মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৪৬৩ জন। এদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৭৪ জন। পলাতক রয়েছেন ২৮৮ জন। এ ছাড়া একজন আসামি মৃত্যুবরণ করেছেন এবং একজন খালাস পেয়েছেন।
২৭ দিন আগে
বাজেট ২০২৬-২৭: কোন পণ্যের দাম বাড়বে, কমছে কোনটির
জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় শিল্প সুরক্ষা ও স্থানীয় উৎপাদন উৎসাহিত করতে বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক ও কর কাঠামোয় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে বাজারে বেশ কিছু আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, নিত্যপণ্য, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন খাতে শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাবে ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তিনি নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এটি বিএনপি সরকারের এই মেয়াদের প্রথম বাজেট এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট।
দাম বাড়তে পারে যেসব পণ্যের
কারণ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কয়েকটি পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ক ও কর বৃদ্ধি করেছে সরকার। এর ফলে বাজারে কিছু পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সিগারেট, আমদানি করা জ্বালানিচালিত গাড়ি, বিদেশি কাজুবাদাম, মধু, সুপারি, রড এবং বিভিন্ন আমদানিনির্ভর ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিগারেটে বাড়ছে করের চাপ
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার যুক্তিতে সিগারেটের সব স্তরের ন্যূনতম খুচরা মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নিম্নস্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের মূল্য ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরের ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরের ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তরের ২১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
তেলচালিত গাড়ি কেনা হবে আরও ব্যয়বহুল
পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থাকে উৎসাহ দিতে অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন (আইসিই) চালিত গাড়ির ওপর করভার বাড়িয়েছে সরকার। বিশেষ করে ১,২০০ থেকে ১,৬০০ সিসি ক্ষমতাসম্পন্ন আমদানি করা পেট্রল, অকটেন বা ডিজেলচালিত গাড়ির করভার ১৩২ শতাংশের বেশি থেকে প্রায় ১৫৬ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।
এতে মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের মধ্যে জনপ্রিয় গাড়িগুলোর দাম আরও বেড়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাইসাইকেল
দেশীয় সাইকেল শিল্পকে সুরক্ষা দিতে বাইসাইকেলের যন্ত্রাংশ আমদানির শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার পাশাপাশি নতুন করে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে আমদানিকৃত যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।
কাগজের কাঁচামাল
কাগজ শিল্পের সুরক্ষায় গ্রিজ প্রুফ ও গ্লাসিন পেপারের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে আমদানিকৃত কাগজ ও কাগজজাত কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
বৈদ্যুতিক মোটর
১২০০ ওয়াটের নিম্ন ক্ষমতাসম্পন্ন ডিসি মোটর আমদানির ওপর ১০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব থাকায় বৈদ্যুতিক মোটরের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কাজুবাদাম
দেশীয় কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত শিল্পকে উৎসাহ দিতে কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে আমদানিকৃত কাজুবাদামের বাজারদর বৃদ্ধি পেতে পারে।
জিপসাম বোর্ড ও শিট
নির্মাণসামগ্রী খাতেও প্রভাব পড়তে পারে। স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে জিপসাম বোর্ড ও শিট আমদানির ওপর ২০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়ও ডিটারজেন্ট, রড, কপার তার, কপার টিউব, হিমায়িত মাছ, সুগন্ধি নির্যাসসহ কিছু আমদানিনির্ভর পণ্যের দামেও ঊর্ধ্বমুখী প্রভাব পড়তে পারে।
কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম
নিত্যপণ্য, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন খাতে শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাবে ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে একদিকে কিছু পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ক ও কর বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলেও বড় একটি অংশের পণ্যে কর হ্রাস ও অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন খাতে অনেক পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
৬০টি নিত্যপণ্য
ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল ও বীজসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে দৈনন্দিন বাজারে চাপ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিশুখাদ্য
শিশুখাদ্য উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমে দাম কমতে পারে।
মসলা
জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ ও ধনিয়ার মতো মসলায় ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
খেজুর
খেজুর আমদানিতে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে দাম কমতে পারে।
সোনার গয়না
সোনার সরবরাহে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করা হয়েছে। ভ্যাট কাঠামো পরিবর্তনের ফলে প্রতি ভরিতে করের চাপ কমেছে, এতে দাম কিছুটা কমতে পারে।
বৈদ্যুতিক গাড়ি
ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িতে বড় ধরনের করছাড় দেওয়া হয়েছে। এতে এসব গাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ল্যাপটপ ও কম্পিউটার
ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, সার্ভার, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে প্রযুক্তিপণ্যের দাম কমতে পারে।
কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা
ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে প্রতিবার ডায়ালাইসিস খরচ প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।
ওষুধ
ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামালে করছাড় দেওয়া হয়েছে। ক্যানসারের ওষুধ তৈরির ৯টি নতুন কাঁচামালে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে, এতে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাদ্যযন্ত্র
গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ বাদ্যযন্ত্র ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে দাম কমতে পারে।
অন্যান্য
বিদেশি মাংস, প্রাণিখাদ্য, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম, পিওএস যন্ত্র, লিপস্টিক, ফেসওয়াশসহ বিভিন্ন প্রসাধনী পণ্যের শুল্ক কমানো হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নিত্যপণ্যে কর কমানোয় সাধারণ মানুষের ব্যয়চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে বাস্তবে বাজারে দাম কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতির ওপর।
৩৭ দিন আগে
রেমিট্যান্সে ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা থাকছে, আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা সহজেই প্রবাসী কল্যাণসেবা, বীমা সুবিধা, ব্যাংকিং সেবা এবং জরুরি সহায়তা গ্রহণ করতে পারবেন।
একইসঙ্গে বৈধ পথে দেশে অর্থ পাঠাতে উৎসাহ দিতে বিদ্যমান ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা বহাল রাখার কথাও জানিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে এসব ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজেটে প্রবাসীদের অগ্রাধিকার তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ ও প্রবাসী বাংলাদেশি জনশক্তির সুরক্ষা ও কল্যাণে আমাদের সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রবাসী কর্মীদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার একটি বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রবর্তন করছে। প্রবাসী কল্যাণ সেবা, বীমা, ব্যাংকিং সুবিধা এবং জরুরি সহায়তার সঙ্গে কার্ডটি সংযুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে আমরা রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এছাড়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আমরা আবারও মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শ্রমবাজার খোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।
আমির খসরু বলেন, আমাদের সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরের মাসেই প্রবাসীদের পাঠানো মাসিক রেমিট্যান্স ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। আমরা আশা করছি এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার প্রবাসি আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণের ক্ষেত্রে ২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক শ্রম বাজারের চাহিদার ভিত্তিতে অকুপেশন ভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
অর্থমন্ত্রীর ভাষ্যে, বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে—এমন খাতগুলোর জন্য খাতভিত্তিক কোর্স এবং পাঠ্যক্রম চালুর কাজ শুরু করেছে সরকার। এ ছাড়াও বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম উন্নয়ন, সার্টিফিকেশন, অ্যাক্রেডিটেশন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়েছে।
৩৭ দিন আগে
ক্যানসারসহ ৬ রোগে আক্রান্তদের এককালীন ১ লাখ টাকা সহায়তার প্রস্তাব
২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ক্যানসার, কিডনি ও অন্যান্য দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির ঘোষণা এসেছে। নতুন বাজেটে এসব রোগীদের এককালীন চিকিৎসা সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এসব কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘদিনের শূন্যপদ পূরণের অংশ হিসেবে শিগ্গিরই ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক এবং প্রায় ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী কর্মী থাকবেন।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অতীতের দুর্বল পরিকল্পনা ও অবহেলার কারণে টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, যার ফলে দেশে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে প্রায় শতভাগ শিশুকে হাম, রুবেলা টিকা দিয়েছে।’
এছাড়া মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১৮ লাখ ৯৫ হাজার মা ও শিশুকে মাসে ৮৫০ টাকা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
পাশাপাশি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি খাতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে এবং নার্সিং বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ প্রথমবারের মতো জিডিপির ১ শতাংশের ওপরে নেওয়া হয়েছে। মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
৩৭ দিন আগে