ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কেন্দ্রের ভেতরে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা কঠোর হাতে মোকাবিলা করা হবে এবং নির্বাচন বাধাগ্রস্তকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব সদস্যসহ নির্বাচন কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি এ সভায় অংশ নেন।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা শুরু হয় এবং দুপুর দেড়টার দিকে তা শেষ হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাছিমুল গণি। সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।
নির্বাচন পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে। দেশের ইতিহাসে এত বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কোনো নির্বাচনে ব্যবহার হয়নি। এবারের নির্বাচন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে। আমি সবার কাছে দোয়া চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগে কখনো সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রে ভেতরে যেতে পারত না। এবার তাদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কোনো ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। নির্বাচনে বাধাদানকারীদের কোনো প্রকার ছাড় নেই।’
বোরকা পরে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে নারী আনসার সদস্য থাকবে। সন্দেহ হলে প্রয়োজনে তারাই ব্যবস্থা নেবে।’
সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক) লে. জেনারেল আব্দুল হাফিজ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাছিমুল গণি, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিচালক, বিজিবির মহাপরিচালক, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক, র্যাবের মহাপরিচালক, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালকসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, নির্বাচন কাজে নিয়োজিত সেনা কর্মকর্তা, বিজিবি কর্মকর্তা এবং নির্বাচন অফিসের সিনিয়র কর্মকর্তারা।