দেশের বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৯ হাজার ২০০ কেজি অর্থাৎ (৯ দশমিক ২ টন) কাঁচামরিচ আমদানি করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে ভারত থেকে মরিচবোঝাই ভারতীয় একটি ট্রাক বেনাপোল বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে প্রবেশ করে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বন্দর ও কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন শেষে রাতেই আমদানিকৃত কাঁচা মরিচের চালানটি বন্দর থেকে খালাস দেওয়া হয়। মরিচ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান শিমু এন্টারপ্রাইজ এবং পণ্য চালানটি খালাসের জন্য কাস্টমস হাউসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাবমিট করেন সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট শিমু শিপিং লাইন্স।
কাঁচা মরিচ আমদানিকারক শাহাজান আলী জানান, প্রতি কেজি কাঁচামরিচ আমদানিতে তার মোট খরচ হয়েছে ১৩৫ টাকা। সামান্য লাভ রেখে বাজারে বিক্রি করা হবে।
তিনি জানান, আমদানি বাড়লে বাজারে মরিচের দাম কমে আসবে। তবে কাস্টমসের হয়রানি ও পণ্য ছাড়করণে জটিলতার কারণে রাজস্ব বেশি গুনতে হচ্ছে। এতে আমদানিকারকরা লোকসানের মুখে পড়ছেন এবং আমদানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা যায়, সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ, বিশেষ করে নাসিক থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ী মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) পেয়েছেন। গতকাল (সোমবার) থেকে মরিচ আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এদিকে, স্থলবন্দরের বেনাপোল কাঁচাবাজারে আজ (মঙ্গলবার) সকালে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। বিক্রেতাদের আশা, আমদানি বাড়লে বাজারে দাম কিছুটা কমে আসবে।
আমদানি সংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রতি টন কাঁচা মরিচের ঘোষিত আমদানি মূল্য ২৩ হাজার ৮৭৫ টাকা, অর্থাৎ প্রতি কেজির মূল্য প্রায় ২৪ টাকা। এর সঙ্গে সরকারকে কেজিপ্রতি প্রায় ৪৫ টাকা শুল্ক দিতে হচ্ছে। সে হিসাবে আমদানি ব্যয় কেজিপ্রতি প্রায় ৭৮ টাকা হওয়ার কথা।
তবে আমদানিকারকদের দাবি, পরিবহন, কাস্টমস, বন্দর, খালাসসহ অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় প্রকৃত ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।
এদিকে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে কাঁচা মরিচের উচ্চমূল্যে সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তারা বাজারে কার্যকর তদারকি বাড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ডিরেক্টর শামীম হোসেন জানান, ভারত থেকে ৯ দশমিক ২ টন কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছে। কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিক সম্পন্ন করে মরিচের চালানটি দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা করা হয়। সীমান্তের ওপারে আরও কয়েক কাঁচামরিচের ট্রাক বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। যা আজ যেকোনো সময় বন্দরের প্রবেশ করতে পারে।
উল্লেখ্য, দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের মূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় সরকার ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।