আমদানি
বেনাপোলে দুই মাসে সাড়ে ৩ লাখ কেজি ইলিশ আমদানি, ক্রেতাদের বিভ্রান্ত না করার আহ্বান
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে ভারত থেকে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। এসব ইলিশ ২২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আমদানি করেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল বন্দরের ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, জুলাইয়ে তিনটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি ইলিশ দেশে আসে। আগস্টে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরও ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ইলিশ আমদানি করা হয়। দুই মাসে আমদানি করা ইলিশের মোট মূল্য দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৫১০ টাকা।
এর মধ্যে জুলাইয়ে আমদানি করা ইলিশের মূল্য ছিল ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৬ টাকা। আগস্টে আমদানি করা ইলিশের মূল্য ছিল ৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ টাকা। অর্থাৎ আগস্টে ইলিশ আমদানির পরিমাণ জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে।
ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। আগস্টে আমদানির পরিমাণ জুলাইয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ ইলিশ আমদানি হওয়ায় বেনাপোল, শার্শা, বাগআঁচড়া, নাভারণ ও যশোর বড় বাজারসহ জেলার বিভিন্ন বাজারে মাছটির সরবরাহ বেড়েছে। তবে এসব মাছের একটি অংশ বাজারে ‘মিয়ানমারের ইলিশ’ নামে বিক্রি হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন আড়তদারের দাবি, মিয়ানমারের ইলিশ ভারত হয়ে বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। তবে ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তারা বলছেন, বেনাপোল দিয়ে আমদানি হওয়া ইলিশ ভারতীয়। মিয়ানমার থেকে আসা ইলিশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করে।
ইলিশ কিনতে আসা মেহেদী হাসান বলেন, দেশি ইলিশ মনে করে তিনি একটি মাছ কিনেছিলেন। পরে খাওয়ার পর স্বাদ ও গন্ধে পার্থক্য বুঝতে পারেন। তার মতে, দেখতে প্রায় একই হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে দেশি ও বিদেশি ইলিশ আলাদা করা কঠিন। এতে ক্রেতারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১ কেজি ২০০ থেকে ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের দেশি ইলিশ প্রতি কেজি ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ১ কেজি ৩০০ থেকে ১ কেজি ৪০০ গ্রাম ওজনের কথিত মিয়ানমারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে। ফলে আকারে বড় হলেও বিদেশি ইলিশের দাম দেশি ইলিশের তুলনায় অনেক কম।
ব্যবসায়ীরা জানান, তুলনামূলক বড় আকারের মাছ কম দামে পাওয়ায় অনেক ক্রেতাই বিদেশি ইলিশের দিকে ঝুঁকছেন। এতে দেশি ইলিশের চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
মাছ ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন বলেন, এসব মাছ মিয়ানমার থেকে ভারত হয়ে দেশে আসছে। কম দামের বিদেশি ইলিশ বাজারে আসায় দেশি ইলিশের চাহিদা কমেছে।
এদিকে, বৈধ আমদানির পাশাপাশি অবৈধভাবে ইলিশ দেশে প্রবেশের অভিযোগও রয়েছে। গত ২২ জুলাই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সাদা মাছের ঘোষণা দিয়ে আনা ১২ কার্টন বা প্রায় ৩৬০ কেজি ভারতীয় ইলিশ জব্দ করে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
যশোর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, ভারত থেকে আমদানি করা ইলিশ অবশ্যই ঘোষণা দিয়ে বিক্রি করতে হবে। ক্রেতাদের বিভ্রান্ত না করে আমদানি করা ইলিশের পরিচয় স্পষ্টভাবে জানিয়ে বিক্রি করতে হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
৫ দিন আগে
কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দেশে উৎপাদন করা সম্ভব—এমন কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়িয়ে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও লাভজনক করতে দেশে উৎপাদন করা সম্ভব—এমন কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।
কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানো ও তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশে উৎপাদন করা সম্ভব—এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানিনির্ভরতা আমাদের ধীরে ধীরে কমাতে হবে। এ জন্য গবেষণার ফলাফল, উন্নত জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, সেচসুবিধা ও যান্ত্রিকীকরণ দ্রুত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিয়ে দেশে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয় থেকে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ে যান এবং লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পৌঁছান।
বৈঠকে কর্মকর্তারা কৃষি খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি, মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
আমদানিনির্ভর ভোজ্যতেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সরিষার উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়। সরিষার উৎপাদন ২০২১-২২ অর্থবছরে ৮ দশমিক ২৪ লাখ টন থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়, যার মধ্যে রয়েছে কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণে বায়ুপ্রবাহ প্রযুক্তি চালু এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণ।
মন্ত্রণালয় মাঠপর্যায়ে লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতা সহনশীল জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসলের জাত সম্প্রসারণেও কাজ করছে বলেও জানায়।
কৃষি গবেষণায় অগ্রগতির কথা তুলে ধরে কর্মকর্তারা জানান, এখন পর্যন্ত মোট এক হাজার ৯০টি ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫৫টি ধানের জাতও রয়েছে।
বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে।
শ্রম ও উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃষির যান্ত্রিকীকরণের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বৈঠকে তুলে ধরা হয়। সরকার কৃষি যন্ত্রপাতির দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও ধান রোপণযন্ত্রের মতো কৃষি সরঞ্জাম কৃষকদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে সহজলভ্য করতে কাজ করছে।
সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচের সম্প্রসারণ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে দেশে দুই হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক সেচ সম্প্রসারণ কৃষকদের সেচ খরচ ও প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
কৃষকদের সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নেওয়া কৃষক কার্ড কর্মসূচির অগ্রগতিও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। বৈঠকে জানানো হয়, প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণের প্রস্তুতি চলছে।
এছাড়া খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
৬ দিন আগে
ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
দাবি আদায়ে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট পালনের কারণে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে আজ রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সকাল থেকে ভারতের হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা এ ধর্মঘট শুরু করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের সোনামসজিদসহ অন্যান্য স্থলবন্দরের মতো হিলি স্থলবন্দরেও পণ্য তালিকা অনুমোদন দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে পণ্য আমদানি-রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অন্যান্য স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানির পণ্য তালিকা দীর্ঘ হলেও হিলি স্থলবন্দরে তালিকা অনুযায়ী সীমিত সংখ্যক পণ্য আমদানি-রপ্তানির অনুমতি থাকায় ব্যবসায়ীরা পিছিয়ে পড়াসহ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অন্যান্য স্থল বন্দরের মতো হিলিতেও সমান সুযোগ-সুবিধা চান তারা।
ধর্মঘটের বিষয়ে বাংলাদেশের হিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছেন ভারতীয় এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিকাশ চন্দ্র মণ্ডল।
চিঠিতে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এর ফলে হিলি দিয়ে তাদের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এসব বৈষম্য দূর করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বন্দর দিয়ে সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি ও রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন শিল্পী জানান, ধর্মঘটের বিষয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ী সংগঠন একটি চিঠি পাঠিয়েছে।
এলসিতে আসা গম, ভুট্টা, ভুষি, ডাল, ছোট সাইজের পাথরসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যবোঝাই ট্রাক ভারতীয় এলাকায় আটকা পড়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশি আমদানিকারকরা।
২০ দিন আগে
ভারত থেকে পাঁচ চালানে ৮০ টন কাঁচা মরিচ আমদানি, বেনাপোলের খুচরা বাজারে স্বস্তি
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ব্যাপক হারে কাঁচা মরিচ আমদানি হওয়ায় প্রভাব পড়েছে বেনাপোলের খুচরা বাজারে।
রবিবার (৯ আগস্ট) বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি কাচাঁ মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, গতকাল বাজারে যা ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে গত পাঁচ চালানে ৮০ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে। গত সোমবার রাত ৮টার দিকে প্রথম চালানে একটি ভারতীয় ট্রাকে ৯ দশমিক ২ টন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয় চালানে তিনটি ট্রাকে ৪২ দশমিক ২২ টন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে ১৪ টন ও শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে ১৫ টন কাচাঁ মরিচ বেনাপোল বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে প্রবেশ করে।
মরিচ আমদানিকারক আমিনুল ইসলাম জানান, বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা মরিচের খেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ কমে যায়। ফলে দেশের বাজারে মরিচের দাম ৩০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়।
তিনি জানান, ভারত থেকে প্রতি টন কাঁচা মরিচ ৩০০ ডলার মূল্যে আমদানি করা হচ্ছে। আর কাস্টমস প্রতি টন কাঁচা মরিচ শুল্কায়ন করছে ৫০০ ডলার মূল্যে। এতে কেজিপ্রতি প্রায় ৩৮ টাকার মতো শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে। সরকার শুল্ক কমিয়ে দিলে দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের দাম আরও কমে যেত।
বাজারে কাঁচা মরিচ কিনতে আসা বাবলুর রহমান বলেন, গতকাল (শনিবার) বাজার থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে কাঁচামরিচ কিনেছিলাম। আমদানি শুরুর এক দিনের ব্যবধানে দাম ১০০ টাকা কমেছে। ভারত থেকে আরও কাঁচা মরিচ আমদানি হলে দাম আরও নিচে চলে আসবে, এতে আমাদের মতো মানুষদের অনেক সুবিধা হবে।
বাজারের বিক্রেতা আলাল মিয়া বলেন, সরবরাহ কম থাকায় কাঁচা মরিচের দাম বেশ কিছুদিন ধরেই বাড়তি ছিল। গতকাল আমরা ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। আমদানি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, দামও কমে গেছে। মোকামে কম দামে কিনতে পারায় আজ আমরা ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি। দাম কমায় ক্রেতা বেড়েছে, বেচাকেনাও বেশ ভালো হচ্ছে।
বেনাপোল বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার অনুমতি দেওয়ায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। আমদানি কাঁচা মরিচের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। ফলে আমদানিকারকরা বন্দর থেকে পণ্য খালাস করে দ্রুত বাজারজাত করছেন।
৪১ দিন আগে
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আজ বুধবার সকাল থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে দুদেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত অন্যান্য দিনের মতো স্বাভাবিক রয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এছাড়া কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল থেকে যথারীতি এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হবে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, এই বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও দুদেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে।
বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে সরকারি ছুটি থাকায় দুদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানিসহ কাস্টমস ও বন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আগামীকাল সকাল থেকে আবারও এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু হবে।
৪৫ দিন আগে
বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে ৯.২ টন কাঁচামরিচ আমদানি
দেশের বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৯ হাজার ২০০ কেজি অর্থাৎ (৯ দশমিক ২ টন) কাঁচামরিচ আমদানি করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে ভারত থেকে মরিচবোঝাই ভারতীয় একটি ট্রাক বেনাপোল বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে প্রবেশ করে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বন্দর ও কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন শেষে রাতেই আমদানিকৃত কাঁচা মরিচের চালানটি বন্দর থেকে খালাস দেওয়া হয়। মরিচ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান শিমু এন্টারপ্রাইজ এবং পণ্য চালানটি খালাসের জন্য কাস্টমস হাউসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাবমিট করেন সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট শিমু শিপিং লাইন্স।
কাঁচা মরিচ আমদানিকারক শাহাজান আলী জানান, প্রতি কেজি কাঁচামরিচ আমদানিতে তার মোট খরচ হয়েছে ১৩৫ টাকা। সামান্য লাভ রেখে বাজারে বিক্রি করা হবে।
তিনি জানান, আমদানি বাড়লে বাজারে মরিচের দাম কমে আসবে। তবে কাস্টমসের হয়রানি ও পণ্য ছাড়করণে জটিলতার কারণে রাজস্ব বেশি গুনতে হচ্ছে। এতে আমদানিকারকরা লোকসানের মুখে পড়ছেন এবং আমদানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা যায়, সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ, বিশেষ করে নাসিক থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ী মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) পেয়েছেন। গতকাল (সোমবার) থেকে মরিচ আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এদিকে, স্থলবন্দরের বেনাপোল কাঁচাবাজারে আজ (মঙ্গলবার) সকালে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। বিক্রেতাদের আশা, আমদানি বাড়লে বাজারে দাম কিছুটা কমে আসবে।
আমদানি সংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রতি টন কাঁচা মরিচের ঘোষিত আমদানি মূল্য ২৩ হাজার ৮৭৫ টাকা, অর্থাৎ প্রতি কেজির মূল্য প্রায় ২৪ টাকা। এর সঙ্গে সরকারকে কেজিপ্রতি প্রায় ৪৫ টাকা শুল্ক দিতে হচ্ছে। সে হিসাবে আমদানি ব্যয় কেজিপ্রতি প্রায় ৭৮ টাকা হওয়ার কথা।
তবে আমদানিকারকদের দাবি, পরিবহন, কাস্টমস, বন্দর, খালাসসহ অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় প্রকৃত ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।
এদিকে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে কাঁচা মরিচের উচ্চমূল্যে সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তারা বাজারে কার্যকর তদারকি বাড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ডিরেক্টর শামীম হোসেন জানান, ভারত থেকে ৯ দশমিক ২ টন কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছে। কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিক সম্পন্ন করে মরিচের চালানটি দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা করা হয়। সীমান্তের ওপারে আরও কয়েক কাঁচামরিচের ট্রাক বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। যা আজ যেকোনো সময় বন্দরের প্রবেশ করতে পারে।
উল্লেখ্য, দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের মূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় সরকার ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
৪৬ দিন আগে
কাল থেকেই কাঁচামরিচ আমদানি, ২-৫ দিনের মধ্যে দাম কমার আশা কৃষিমন্ত্রীর
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, আগামীকাল থেকেই কাঁচামরিচ আমদানি কার্যক্রম শুরু হবে। এর ফলে আগামী দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে কাঁচামরিচের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রবিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।
বাজার পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীরা বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে নিত্যপণ্যের সরবরাহ, মূল্য এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শন শেষে কৃষিমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, কাঁচামরিচের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি বলেন, কাঁচামরিচ আমদানির ওপর বিদ্যমান কর (ট্যাক্স) কমানো হচ্ছে এবং কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হবে। এর ফলে আগামী দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে কাঁচামরিচের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
৪৮ দিন আগে
আমদানিকৃত চালানে ৫৪০ কেজি অতিরিক্ত পণ্য, শুল্ক-জরিমানাসহ ১৯ লক্ষাধিক টাকা আদায়
চট্টগ্রামে আমদানিকৃত একটি পণ্যচালানে ঘোষণার চেয়ে ৫৪০ কেজি ৪১০ গ্রাম বেশি পণ্য পাওয়ায় অতিরিক্ত শুল্ক-কর, অর্থদণ্ড ও বিমোচন জরিমানাসহ মোট ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ টাকা ৫৭ পয়সা আদায় করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
বুধবার (২৯ জুলাই) এক বার্তায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় চট্টগ্রাম রেইনবো করপোরেশনের (Rainbow Corporation) আমদানিকৃত একটি পণ্যচালান কায়িক পরীক্ষণ করে।
সি-১১৩৮৭০৬ নম্বরের, গত ৫ জুলাইয়ের বিল অব এন্ট্রির আওতায় আমদানি করা চালানটিতে আমদানিকারক ৬ হাজার ৭০৪ কেচি ৫৬০ গ্রাম চকলেট ঘোষণা করলেও পরীক্ষায় ৭ হাজার ১৩২ কেজি ২৫০ গ্রাম পণ্য পাওয়া যায়। এছাড়া ২ হাজার ৫৭২ কেজি ১৬০ গ্রাম ওয়েফার ঘোষণা করা হলেও প্রকৃত ওজন পাওয়া যায় ২ হাজার ৬৮৪ কেজি ৮৮০ গ্রাম।
বার্তায় বলা হয়েছে, পরীক্ষায় চালানটিতে ঘোষিত ওজনের তুলনায় মোট ৫৪০ কেজি ৪১০ গ্রাম বেশি পণ্য পাওয়া যায়, যা ঘোষিত নিট ওজনের প্রায় ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি।
এ ঘটনায় বিচারাদেশের মাধ্যমে অতিরিক্ত শুল্ক-কর বাবদ ৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ টাকা ৫৭ পয়সা, অর্থদণ্ড হিসেবে ১০ লাখ টাকা এবং বিমোচন জরিমানা হিসেবে ১ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। ফলে মোট অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ টাকা ৫৭ পয়সা।
চট্টগ্রামে আমদানিকৃত একটি পণ্যচালানে ঘোষণার চেয়ে ৫৪০ কেজি ৪১০ গ্রাম বেশি পণ্য পাওয়ায় অতিরিক্ত শুল্ক-কর, অর্থদণ্ড ও বিমোচন জরিমানাসহ মোট ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ টাকা ৫৭ পয়সা আদায় করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
বুধবার (২৯ জুলাই) এক বার্তায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় চট্টগ্রাম রেইনবো করপোরেশনের (Rainbow Corporation) আমদানিকৃত একটি পণ্যচালান কায়িক পরীক্ষণ করে।
সি-১১৩৮৭০৬ নম্বরের, গত ৫ জুলাইয়ের বিল অব এন্ট্রির আওতায় আমদানি করা চালানটিতে আমদানিকারক ৬ হাজার ৭০৪ কেচি ৫৬০ গ্রাম চকলেট ঘোষণা করলেও পরীক্ষায় ৭ হাজার ১৩২ কেজি ২৫০ গ্রাম পণ্য পাওয়া যায়। এছাড়া ২ হাজার ৫৭২ কেজি ১৬০ গ্রাম ওয়েফার ঘোষণা করা হলেও প্রকৃত ওজন পাওয়া যায় ২ হাজার ৬৮৪ কেজি ৮৮০ গ্রাম।
বার্তায় বলা হয়েছে, পরীক্ষায় চালানটিতে ঘোষিত ওজনের তুলনায় মোট ৫৪০ কেজি ৪১০ গ্রাম বেশি পণ্য পাওয়া যায়, যা ঘোষিত নিট ওজনের প্রায় ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি।
এ ঘটনায় বিচারাদেশের মাধ্যমে অতিরিক্ত শুল্ক-কর বাবদ ৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ টাকা ৫৭ পয়সা, অর্থদণ্ড হিসেবে ১০ লাখ টাকা এবং বিমোচন জরিমানা হিসেবে ১ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। ফলে মোট অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ টাকা ৫৭ পয়সা।
৫২ দিন আগে
খৈলের চালানে ‘অন্য পণ্য আমদানি’, বেনাপোল বন্দরে আনসার সদস্যসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
বেনাপোল স্থলবন্দরে ট্রান্সশিপমেন্টের সরিষার খৈলের চালানের মধ্যে অন্য পণ্য আমদানি এবং অবৈধভাবে অপসারণ ও আত্মসাতের অভিযোগে আনসার সদস্য, বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী এবং ট্রাকচালক ও সহকারীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যবহৃত একটি বাংলাদেশি ট্রাকও জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) বেনাপোল পোর্ট থানায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৫ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি করেন বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মো. ওবাইদুল মিয়া।
মামলায় ৩ আনসার সদস্য, ৪ জন বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী, ট্রাকচালক ও সহকারীসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন ভারত থেকে সরিষার খৈলবোঝাই একটি ট্রাক বেনাপোল স্থলবন্দরে প্রবেশ করে। ২৫ জুন ট্রাকটি কেমিক্যাল জোনে অবস্থানকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন আনসার সদস্য ও বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীর যোগসাজশে একটি বাংলাদেশি ট্রাকে অবৈধভাবে ৪০ প্যাকেট পণ্য স্থানান্তর করা হয়। পরে ট্রাকটি ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে ওজন করলে ঘোষিত ওজনের তুলনায় ২ হাজার ৭৮৪ কেজি পণ্যের ঘাটতি ধরা পড়ে।
পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা গেট পাস ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ছাড়াই ট্রাক চলাচল ও পণ্য অপসারণে সহযোগিতা করেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ব্যবহৃত বাংলাদেশি ট্রাকটি শনাক্ত করা হয় এবং ট্রাকচালক ও সহকারীকে আটক করা হয়।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দশ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তা জেনেছি। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।
৮৪ দিন আগে
৭ দিন পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি শুরু
টানা ৭ দিন ঈদের ছুটি শেষে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আবারও শুরু হয়েছে আমদানি-রপ্তানি।
সোমবার (১ জুন) সকাল থেকে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সকাল থেকে বন্দরে পণ্য লোড-আনলোডের জন্য প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক কাজে যোগদান করেছেন। ফলে বন্দরে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য।
এর আগে, গত ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিন ঈদের ছুটিতে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। তবে এই সময়ে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক ছিল।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক জানান, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বন্দরে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, বন্দর ও কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শ্রমিকরা পণ্য খালাসে ব্যস্ত সময় পার করছেন। লম্বা ছুটির কারণে সীমান্তের দুপাশে সৃষ্টি হয়েছে পণ্যজট। আজ (সোমবার) সকাল থেকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ও পণ্য খালাস শুরু হওয়ায় পণ্যজট কমতে শুরু করবে বলে জানান তিনি।
বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টা থেকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়। বেলা ১১টা পর্যন্ত ভারত থেকে ৩৯ ট্রাক পণ্য আমদানি এবং ১৩ ট্রাক পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়েছে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানান, ঈদের ছুটিতে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ ছিল। এ সময় কোনো পণ্য আমদানি হয়নি ভারত থেকে। আজ ছুটি শেষে আবারও দু-দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য শুরু হয়েছে। বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা ছুটিতে গিয়েছিলেন সবাই কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। ব্যবসায়ীরা যাতে বন্দর থেকে আমদানি পণ্য দ্রুত খালাস নিতে পারেন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
১১০ দিন আগে