২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা যশোর শিক্ষা বোর্ডের ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হবে বলে জানিয়েছেন যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব (প্রেষণে) প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন।
তিনি বলেছেন, এসব প্রতিষ্ঠানে অ্যাকাডেমিক দুর্বলতা কিংবা শিক্ষকদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিলের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় সারা দেশের সঙ্গে একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এ উপলক্ষে যশোর শিক্ষা বোর্ডের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বোর্ডের ফলাফলের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরে এসব কথা বলেন সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন।
এ বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। এ বোর্ড থেকে ১১ হাজার ৪৭৮ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এ বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৪ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৬৯ হাজার ৮৫ জন ছাত্র এবং ৭১ হাজার ৯৭৯ জন ছাত্রী। ফলাফলে এবারও ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে। পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুই ক্ষেত্রেই ছাত্রীরা তুলনামূলক ভালো করেছে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে ভালো করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার ৮১ দশমিক ২৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের বড় অংশও বিজ্ঞান বিভাগের।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৬৪ দশমিক ২৮ শতাংশ। তবে মানবিক বিভাগের ফলাফল তুলনামূলকভাবে হতাশাজনক। এ বিভাগে পাসের হার মাত্র ৪৮ দশমিক ৮২ শতাংশ।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার আড়াই হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। বিপরীতে ১১টি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন বলেন, বিষয়টি শিক্ষা বোর্ড গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাকাডেমিক দুর্বলতা বা শিক্ষকদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিলের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
ফলাফল বিশ্লেষণ করে সচিব বলেন, বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮১ দশমিক ২৩ শতাংশ হলেও মানবিক বিভাগে তা ৪৮ দশমিক ৮২ শতাংশ। এ বৈষম্য উদ্বেগের বিষয়। শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানোর পাশাপাশি ফলাফলের এই বৈষম্য কমানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, এবারও ফলাফলে মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় ভালো করেছে। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে নিরপেক্ষতা ও নির্ধারিত নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। শুধু পরীক্ষায় পাসের হার বা জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বাড়ানো নয়, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাই বোর্ডের মূল লক্ষ্য।
ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য খাতা পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে টেলিটক মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে এ আবেদন করতে পারবে।
দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। সেই হিসাবে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ পাসের হার নিয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ড জাতীয় গড়ের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বলে জানান বোর্ডের সচিব।