রাজশাহীকে বলা হয় শিক্ষানগরী, কিন্তু বিগত বছরগুলো থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয়ের কারণে বড় ধরনের অবনতির কবলে পড়েছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড। এর ফলে শিক্ষানগরীর সুনাম ক্ষুণ্ন হতে চলেছে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের প্রতি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অভিভাকরা।
রাজশাহী বোর্ডের বিগত বছরগুলোর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সাত বছর থেকে পাসের হার কমতে শুরু করেছে যা এ বছর সবচেয়ে কম। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ১৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ২০২৫ সালে ৭৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করলেও এবার পাস করেছে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফরাত জেরিন ফলাফল ঘোষণা করেন।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৫২ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪ জন। পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৯০৮ জন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার ৮৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ৯২ হাজার ৭৭৩ জন এবং ছাত্রী ৮৩ হাজার ২৭১ জন।
ফলাফলে দেখা যায়, ছাত্রীদের পাসের হার ৭০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের পাসের হার ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি। ছেলেদের পাশের এই নিদারুণ অবনতির প্রভাব পড়েছে এই শিক্ষা বোর্ডের সার্বিক ফলাফলে।
এ বছর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৬ হাজার ৬১৩ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্রী ৮ হাজার ৯৯১ জন এবং ছাত্র ৭ হাজার ৬২২ জন।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাত বছরের তুলনামূলক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালে পাসের হার ছিল সর্বোচ্চ ৯৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। ২০২০ সালে এ হার ছিল ৯০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ২০২২ সালে ৮৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৮৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮৯ দশমিক ২৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেন। তবে ২০২৫ সালে পাসের হার কমে দাঁড়ায় ৭৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। চলতি বছর তা আরও কমে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে নেমে এসেছে।
ফল প্রকাশকে ঘিরে নগরীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আগের মতো বড় ধরনের জটলা বা উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়নি। এর অন্যতম কারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না গিয়ে নিজের বাড়িতে অনলাইনে ফলাফল দেখতে পাওয়া। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফল কেমন হবে তা আগে থেকেই অবগত হওয়া।
অভিভাবকদের মতে, বিগত বছরগুলোতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় কম পরিশ্রম করলেও ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। সেই পরিবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা এখনও বের হতে পারেনি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ শিক্ষকদের প্রতি অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের প্রতি পাঠদানে আরও যত্নশীল হতে হবে। প্রাইভেট-কোচিংয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের বিমুখ করে ক্লাসে উপস্থিতি বাড়াতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।