পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দোরোখিন সের্গেই নামে আরও এক রুশ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে প্রকল্পের ৫.৭ ভবন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
দোরোখিন সের্গেই (৫১) রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পে রুশ পারমাণবিক প্রযুক্তি ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাটমটেকএনার্জো’-এর কর্মী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সকালে ৫.৭ বিল্ডিংয়ের ভেতরে কাজ করার সময় হঠাৎ অসুস্থতা অনুভব করে মাটিতে ঢলে পড়েন সের্গেই। খবর পেয়ে কোম্পানির চিকিৎসক ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান বলেন, সের্গেই অসুস্থ বোধ করলে প্রথমে প্রকল্পের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন এবং হাসপাতালে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়ে মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, আইনগত ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। চিকিৎসকের রিপোর্ট ও ময়নাতদন্ত শেষে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
এর আগে, গত ১ মে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নতুনহাট গ্রিন সিটির আবাসিক এলাকায় জিমে ব্যায়াম করার সময় চুরকিন ভ্লাদিমির (২৫) নামে এক রুশ নাগরিকের মৃত্যু হয়। তিনি চুরকিন রুশ পরমাণু সংস্থা ‘রোসাটমে’-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান অটোমটেক ইনির্গতে কর্মরত ছিলেন। ব্যায়ামের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন তিনি। সে সময় তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করেন চিকিৎসকরা। পুলিশের তৈরি করা সুরতহাল প্রতিবেদনেও তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চলতি বছরের ৯ জানুয়ারিও রূপপুর প্রকল্পের আবাসিক গ্রিন সিটির ১৪ নম্বর ভবনের নবম তলার একটি ফ্ল্যাটের শৌচাগার থেকে ইভান কাইটমাজোভ নামে এক রুশ নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গলায় রশি লাগানো অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া গিয়েছিল। এছাড়া গত ৪ জানুয়ারি রূপপুর প্রকল্পের আবাসিক গ্রিন সিটির চারতলা থেকে পড়ে পোশতারুক কেসেনিয়া নামে এক রুশ নারী কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল।