তিস্তা নদীর পানি বাড়লে দেখা দেয় বন্যা পরিস্থিতি, আর পানি কমে গেলে দেখা দেয় ভাঙন পরিস্থিতি। বন্যা আর ভাঙনের কষাঘাতে চরম কষ্টে বসবাস করছেন রংপুর অঞ্চলের তিস্তাপাড়ের মানুষ। লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী বিপুল সংখ্যক পরিবারের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম হরিণচড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল বাকি জানান, গতকাল সকাল থেকে রাত পযর্ন্ত তিস্তা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় তাদের বাড়িঘরে নদীর পানি ঢুকে পড়ে। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। তবে গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় গতকাল বিকেলেই তারা গবাদি পশু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে এসেছেন।
তিনি জানান, জমিতে লাগানো রোপা আমন ধানের চারা পানিতে তলিয়ে গেছে। ৪-৫ দিনের মধ্যে খেত থেকে নদীর পানি নেমে না গেলে ধান গাছের ক্ষতি হবে।
এই কৃষকের ভাষায়, ‘হামরাগুলা তিস্তাপাড়োত কষ্ট করি বাঁচি আছি। হামারগুলার কষ্টের শ্যাষ আর নাই। তিস্তাত পানি বাড়লেও হামার কষ্ট আর পানি নামি গ্যাইলেও হামারগুলার কষ্ট। পানি বাড়লে বান হয় আর পানি নামি গ্যালি নদীভাঙন শুরু হয়। হামারগুলার খালি বিপদ আর বিপদ।’
গঙ্গাচড়া উপজেলার চর নেহালি গ্রামের কৃষক আকবর আলী জানান, গতরাতে তার বাড়িতে হাঁটু পানি ছিল। ফলে তারা বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদে চলে এসেছেন। আজ সকাল থেকে পানি কমছে। তবে আবারো তিস্তায় পানি বাড়তে পারে বলে ধারণা তার।