রংপুর
রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত ৩
রংপুরের মিঠাপুকুরে দাঁড়িয়ে থাকা ড্রাম ট্রাকে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় তিনজন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বৈরাগীগঞ্জে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বৈরাগীগঞ্জে দাঁড়িয়ে থাকা ড্রাম ট্রাকের পেছনে খান পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস ধাক্কা দেয়। এতে দুর্ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়।
গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
৬ দিন আগে
রংপুরে অটোরিকশা চুরির অভিযোগে সংঘবদ্ধ পিটুনি, নিহত ২
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় অটোরিকশা চুরি করে পালানোর অভিযোগে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে দুজন নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বড়বিল ইউনিয়নের উত্তরপানাপুকুর গিরিয়ারপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন নোহালী ইউনিয়নের বাগডহরা এলাকার রেজাউল ওরফে কানা (৪২) ও কোলকোন্দ ইউনিয়নের সাদিকুল ইসলাম (৩২)।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ইউনিয়নের বাগপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক সিদ্দিকুর রহমান সোহেলের বাড়ি থেকে অটোরিকশা চুরি করে পালানোর সময় তিনি টের পেয়ে যান। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন এবং মসজিদে মাইকিং করা হয়।
এরপর স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে তিস্তা সেচ ক্যানেলের কাছে অটোরিকশাটি রেখে ধানক্ষেতের মধ্য দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন রেজাউল ও সাদিকুল। এ সময় তাদের আটক করে সংঘবদ্ধ পিটুনি দেওয়া হলে তারা মারা যান।
সোহেল বলেন, স্ত্রী চোরদের অটোরিকশা নিয়ে যেতে দেখে তাকে ডাকেন। তিনি বের হয়ে অটোরিকশাটি টেনে ধরার চেষ্টা করলে চোররা তাকেসহ অটোরিকশাটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তিনি চিৎকার করলে মসজিদের মুসল্লিরা বের হয়ে তাদের ধাওয়া দেন।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, পুলিশ সুরতহাল শেষে দুজনের মরদেহ থানায় নিয়ে এসেছে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ দুটি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান ওসি।
৯ দিন আগে
ভোটের ফল যা-ই হোক, সব অঞ্চলে সুষম উন্নয়নের অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর
রংপুরে বিএনপির দুর্বল নির্বাচনি ফলাফলের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন কি দেননি, তা বিবেচনায় না নিয়ে সব নাগরিকের সেবা করার পাশাপাশি সব অঞ্চলে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ বর্তমান সরকারকে নির্বাচিত করেছে। কোনো কোনো এলাকায় বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন, আবার কোনো এলাকায় হননি। কিন্তু বর্তমান সরকার দেশের সব মানুষের সরকার হতে চায়। যারা ভোট দিয়েছেন, তাদের সরকার হতে চায়, তেমনি যারা ভোট দেননি, তাদেরও সরকার হতে চায়।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে রংপুরের ঐতিহাসিক রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে ন্যায্যভাবে সম্পদ বণ্টনের মাধ্যমে সরকার সারা দেশে সমানভাবে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায়।
সরকার সব এলাকার ও সব মানুষের জন্য কাজ করতে চায় উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় রংপুর মহানগরের উন্নয়নে এক হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও জেলা পরিষদের মাধ্যমে রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে সেতু, কালভার্ট, স্কুল, কলেজসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পর্যায়ক্রমে গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং পারস্পরিক বিভেদ ভুলে দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে।’
তবে সবাইকে নিয়ে ঐক্য গড়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আজ আমি সবার কাছে, বিশেষ করে যারা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছে, তাদের কাছে একটি বিষয় স্পষ্ট করতে চাই। অতীতে আমরা দেখেছি, কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তার ফলাফলটা খুব শুভ হয়নি। বাংলাদেশের মানুষ সেই উদ্দেশ্যকে ভালোভাবে গ্রহণ করেনি।’
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে ধর্ম, রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা সামাজিক পরিচয় নির্বিশেষে সব ধর্মের মানুষ বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য একসঙ্গে লড়াই করেছেন। পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও বিভিন্ন ধর্মের ও পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্বৈরাচারী সরকারকে সরিয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।
গণঅভ্যুত্থানকে হেয় না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কারও ভিন্নমত থাকলে তা সংসদে তুলে ধরতে হবে। সেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আলোচনা করে জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী হাজার বছরও এ দেশের মানুষ এভাবেই শান্তিতে একসঙ্গে বসবাস করবে।
তিনি বলেন, ‘এই দেশটি হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে এগিয়ে চলছে। শান্তিতে আমরা সবাই মিলে বসবাস করছি। আমরা চাই, আগামী হাজার বছরও যেন আমরা একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে পারি।’
১৪ দিন আগে
প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সব ধর্মের মানুষের ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে তাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এ দেশ মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সবার।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমীতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুরে যাওয়ার পথে পাগলাপীর মোড়ে সড়কের পাশে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে সব ধর্মের মানুষ যেমন এক হয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিল, তেমনি সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ গড়তে হবে।
তিনি আরও বলেন, আসুন, আজকে আমরা প্রতিজ্ঞা করি, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, এ দেশ আমাদের সবার। আমরা সবাই মিলে পরিশ্রম করে দেশকে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব।
তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের মানুষ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সরকার সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।
এর অংশ হিসেবে সরকার কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি চালু করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য মাসিক ভাতা চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব শ্রেণি- পেশার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার।
হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি চান, সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে দেশের উন্নয়নে কাজ করুক।
এর আগে সামরিক উড়োজাহাজে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছে সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। তাকে শুভেচ্ছা জানাতে তারাগঞ্জ, পাগলাপীরসহ সড়কের দুই পাশে বিএনপির শত শত নেতাকর্মী ও সমর্থক জড়ো হন।
প্রধানমন্ত্রী গাড়িবহর থেকে তাদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং ওই দুই জায়গায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
১৪ দিন আগে
রংপুরে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার
রংপুরের পীরগঞ্জে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বজলু মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের আছমতপুর গ্রামে ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত বজলু মিয়া ওই গ্রামের বাসিন্দা।
এ ঘটনায় শিশুটির চাচাতো ভাই মিলন মিয়া আজ (শুক্রবার) পীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, শিশুটি আছমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। গেল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর বাড়ির পাশের একটি ইউক্যালিপটাস বাগানে গাছের পাতা সংগ্রহ করতে গেলে বজলু মিয়া তাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় শিশুটি চিৎকার করার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার মুখ চেপে ধরেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ হয়, ঘটনার পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার মাকে বিষয়টি জানায়। পরে স্বজনেরা তাকে মাইক্রোবাসে করে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পীরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তাজুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
১৮ দিন আগে
রংপুরে ছাদ ধসে ২ শ্রমিক নিহত: পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আটক
রংপুরের পীরগঞ্জে পৌরসভা ভবনের নির্মাণকাজ চলাকালে ছাদ ধসে দুই শ্রমিক নিহতের ঘটনায় পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহিম প্রামানিক টিপুকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক।
ওসি নাজমুল বলেন, নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে অবহেলা এবং কাজের গাফিলতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শ্রমিক নিহতের ঘটনায় পৌরসভার সচিব (পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা) টিপুকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। মামলা হলে আটককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিষয়টি মাথায় রেখে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান ইউএনও।
এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় পৌরসভার নির্মীয়মাণ ভবনে ১৩ জন শ্রমিক ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করছিলেন। হঠাৎ সাটারিং ভেঙে পড়লে চারজন নিচে চাপা পড়েন।
খবর পেয়ে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক গাইবান্ধার সাদুল্লাহপুর থানার আসাদুল হক (৩০) ও রংপুর সদর থানার শিহাবকে (১৯) মৃত ঘোষণা করেন। আর আহতদের অবস্থার অবনতি হলে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
২০ দিন আগে
নির্মীয়মাণ পৌরসভা ভবনের ছাদ ধসে ২ শ্রমিক নিহত
রংপুরের পীরগঞ্জে নির্মীয়মাণ পৌরসভা ভবনের ছাদ ধসে দুই শ্রমিক নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার আরাজীগঙ্গারামপুর ওয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারি।
নিহতরা হলেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার আছাদুল হক ও রংপুরের শিহাব। আহতদের মধ্যে লিটন মণ্ডল, সেলিম মিয়া ও বাবলা মিয়া ছাড়া বাকিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, পৌরসভার নির্মীয়মাণ ভবনটির ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করতে সকাল থেকে ১৩ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। বিকেলে হঠাৎ সাটারিং ভেঙে পড়লে কয়েকজন শ্রমিক নিচে চাপা পড়েন।
খবর পেয়ে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আছাদুল হক ও শিহাবকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত শ্রমিকদেরও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভিশন-২০২০ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটি নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে বলে জানা গেছে।
পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা নাজমুল সরকার বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, পৌরসভার ভবন নির্মাণকাজের দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ দুর্ঘটনার পেছনে কারও গাফিলতি থাকলে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
২১ দিন আগে
রংপুরে চার খুন: আলামতে অস্তিত্ব মিলল দুই আসামির ডিএনএর
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় আলামতে পাওয়া জৈবিক নমুনার সঙ্গে গ্রেপ্তার দুই আসামির ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
তিনি জানান, নগরীর মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া খেজুর, শসা, সিগারেটের ফিল্টারসহ কয়েকটি আলামতে গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। ডিএনএ পরীক্ষায় এসব আলামতে পাওয়া জৈবিক নমুনার সঙ্গে তাদের ডিএনএ মিলে গেছে। এতে হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে দুই আসামির অবস্থানের বিষয়ে তদন্তে নতুন ফরেনসিক তথ্য যুক্ত হলো।
সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে ওদের (সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ) যে আমরা ডিএনএ স্যাম্পলিং করাইছি, সেখানে আলামতে পাওয়া ডিএনএর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ম্যাচ করেছে।’
এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা বাড়িতে অবস্থান করে খেজুর ও শসা খেয়েছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, খেজুরের বিচি, কামড় দেওয়া শসার অংশ ও সিগারেটের ফিল্টারে পুরুষের ডিএনএর অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল। তখন এসব নমুনা কার, তা শনাক্ত হয়নি। আসামিদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে এসব আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার উদ্যোগ নেয় তদন্তকারী সংস্থা।
ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরদিন ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করার কথা জানায় পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে ৩৫টির বেশি আলামত সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের ফয়েল, সিগারেটের শেষাংশ, নানরুটি, শসা, খেজুর, বেসিনের দাগ, নিহত শিশুর খাতায় পাওয়া একটি লেখাসহ বিভিন্ন আলামত ছিল। এসব আলামত কয়েক দফায় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরে ২০ সেপ্টেম্বর দুই আসামিকে ঢাকায় নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় গত ২২ আগস্ট রাতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলাটি বর্তমানে ডিবি তদন্ত করছে।
২৫ দিন আগে
তিস্তার পানি বাড়া-কমায় পাকা ধান নিয়ে ১৮০ চরের কৃষকের দুশ্চিন্তা
উত্তরের তিস্তা নদীবেষ্টিত ১৮০টি চরের কৃষকের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। তিস্তার পানি কখনও বাড়ছে, আবার কখনও কমছে। পানির এমন ওঠানামায় রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলার চরাঞ্চলের কৃষকরা পাকা ধান নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে পানি বেড়ে গেলে নিচু জমির পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
কৃষি বিভাগ থেকে অবশ্য আগাম জাতের পাকা ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চরের কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পুরো চরাঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলেও জানান আঞ্চলিক কৃষি কর্মকর্তা আবু বকর সাইফুল ইসলাম।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, পাঁচ জেলার ১৮০টি চরে এবার ২২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। ফলনও হয়েছে বাম্পার। তিস্তার পানি ওঠানামা না করলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক কৃষি কর্মকর্তা আবু বকর সাইফুল ইসলাম জানান, সাধারণত মধ্য অক্টোবরের পর তিস্তার পানি ওঠানামা করে। আগের বছরগুলোতে তিস্তার পানিতে পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা বেকায়দায় পড়েছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার কৃষকরা লাভবান হবেন।
চরাঞ্চলের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বিভিন্ন চরের জমিতে আমন ধান পাকতে শুরু করেছে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই এসব জমির ধান কাটার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে তিস্তার পানি ওঠানামা করায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। হঠাৎ পানি বাড়লে পাকা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষকরা জানান, চরাঞ্চলের অনেক জমি নদীর কাছাকাছি ও নিচু। ফলে হঠাৎ পানি বেড়ে গেলে এসব জমি দ্রুত প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাকা ধান পানিতে ডুবে গেলে ঘরে তোলার আগেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। দ্রুত ধান কেটে ঘরে তুলতে পারলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
হরিশ্বর গ্রামের কৃষক জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘যখন পানির দরকার হয়, তখন পানি পাওয়া যায় না। আবার যখন ফসল ঘরে তোলার সময় আসে, তখন পানি বাড়লে আমাদের দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। কয়েক দিন পর ধান কাটার কথা। তার আগ পর্যন্ত আতঙ্কেই থাকতে হচ্ছে।’
গদাই গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সারা বছর পরিশ্রম করে ধান ফলিয়েছি। এখন শুধু ঘরে তোলার অপেক্ষা। এই সময়ে নদীর পানি বেড়ে গেলে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।’
কৃষকদের দাবি, আমন ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত তিস্তার পানির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। পানিবৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিলে চরাঞ্চলের কৃষকদের দ্রুত সতর্ক করারও দাবি জানিয়েছেন তারা। এতে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন তারা।
ভোটমারী চরের কৃষক সাহানুর রহমান জানান, গত বছর এই সময়ে তিস্তার পানিতে তার সাড়ে তিন বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এবার তিনি চরে সাত বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আবহাওয়া খারাপ, তিস্তার পানি ওঠানামা করছে। জানি না এবার কী হবে।’
এদিকে চর গড্ডিমারীর কৃষক মনিরুজ্জামান সরকারের জমিতে তিস্তার পানি উঠেছে। তিনি বলেন, ‘বড় চিন্তায় রয়েছি, কী হবে? পাকা ধান ঘরে তুলতে পারব কি না, তা নিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে হতাশায় ভুগছি।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, তিস্তার চরাঞ্চলের পাকা ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি বা বন্যার আশঙ্কা দেখা দিলে তাদের আগাম সতর্ক করা হবে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান ঘরে তোলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
২৭ দিন আগে
ধানক্ষেত থেকে ভ্যানচালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
রংপুরের পীরগঞ্জে বিপুল চন্দ্র বর্মন (৪২) নামের এক ভ্যানচালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বড় মজিদপুর এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত বিপুল চন্দ্র বর্মন উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের মহান চন্দ্র বর্মনের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নিজস্ব জমিজমা না থাকায় বিপুল অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদের পাশাপাশি দিনমজুরির কাজ করতেন। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে রাতে ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালান তিনি।
প্রতিদিনের মতো গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যায় ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন বিপুল। এরপর রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরে আজ (মঙ্গলবার) সকালে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর পান।
স্থানীয়রা জানান, এদিন সকালে বড় মজিদপুর মৌজায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পশ্চিম পাশে একটি ধানক্ষেতে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশে একটি ভ্যানও পড়ে ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে ধানক্ষেতের বেশ কিছু ধানগাছ ভাঙা ছিল। এ থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভ্যান ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কিংবা অন্য কোনো কারণে দুর্বৃত্তদের সঙ্গে বিপুলের ধস্তাধস্তি হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পীরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের আটকে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
২৮ দিন আগে