রংপুর
রংপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ভ্যানচালক খুন
রংপুরের বদরগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আরিফুল ইসলাম(২৫) নামে এক ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বালুয়াভাটা গ্রামে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত আরিফুল পৌরশহরে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাঠানপাড়া গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে ছিলেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গতকাল (মঙ্গলবার) রংপুর আদালতে একটি মামলায় কিশোর গ্যাংয়ের মমিনুলসহ তার দলের ৫ জন হাজিরা দিতে যায়। একই মামলায় কিশোর গ্যাংয়ের ফিরোজ শাহ ওরফে মার্ডার ফিরোজ ও তার দলবলও সেখানে উপস্থিত হয়। এ সময়ে বাগবিতণ্ডা হলে ফিরোজ ও তার দলবল মমিনুল গ্রুপের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় মমিনুলসহ কয়েকজন আহত হয়। তবে সেখানেই বিষয়টির মীমাংসা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, ওই ঘটনার জের ধরে গতকাল বিকেলে আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। প্রতিশোধ নিতে মমিনুল তার লোকজনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফিরোজ বাহিনীকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ালে পাঠানপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আরিফুলকে ছুরি দিয়ে জখম করে ফিরোজ গ্যাং। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আরিফুলের বাবা রেজাউল ইসলাম বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘মোর বাবা পাঠান পাড়ার বলে মারছে ওরা। মোর তিনটে ব্যাটা, একটা ব্যাটাক বাঁচপার পাও নাই। আর দুইটার একটাক মারি ফেলাইলো। বাপের ঘারত ছেলের লাশ, এর চেয়ে দুঃখ পৃথিবীতে আর হয় না। আমার ছেলে কোনো অপরাধ করে নাই। আমি অপরাধকে মানিয়ে নেওয়া লোক নোয়াই। আমি এর কঠোর বিচার চাই, নাহলে আমি আত্মহত্যা কইরব।’
বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক যাদোন্দ্রনাথ বলেন, রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পথেই তিনি মারা গেছেন।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ সরকার বলেন, কোর্টে আগের মামলার হাজিরা দিতে গিয়ে মারামারি হয়েছে। পরে পাঠানপাড়ারা সঙ্গবদ্ধ হয়ে এসে একটা দোকান ভেঙে চলে যাওয়ার পর ফিরোজ গ্রুপ এসে পাঠানপাড়ার বাসিন্দা হওয়ায় একটি নিরীহ ভ্যানচালককে কুপিয়ে জখম করে। ফিরোজের বিরুদ্ধে এর আগেও তিনটি হত্যা মামলাসহ ১১টি মামলা রয়েছে। নতুন করে এই ঘটনার এজাহার নেওয়া হয়েছে।
১১ ঘণ্টা আগে
জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত রংপুরের জনজীবন
তীব্র জ্বালানি সংকট ও অব্যাহত লোডশেডিংয়ে রংপুর অঞ্চলের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। একদিকে কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সেচ সংকটে কৃষিতে দেখা দিয়েছে হাহাকার। পরিবহন খাত অচল হয়ে পড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে অপরাধ প্রবণতা বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ ও তেলের সংকটে কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইরি-বোরো মৌসুমে সেচ পাম্পগুলো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ধান ও ভুট্টাখেতে প্রয়োজনীয় পানি দিতে না পারায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন চাষিরা। অনেক খেতে ধানের শীষে চিটা দেখা দিচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে।
শিল্প খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড, গাইবান্ধার বিসিক শিল্পনগরীসহ রংপুর বিভাগের মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। উদ্যোক্তারা জানান, ব্যাংক ঋণ নিয়ে গড়া এসব প্রতিষ্ঠান এখন অস্তিত্ব সংকটে। উৎপাদন না থাকলেও শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা ব্যবসায়ীদের দেউলিয়া হওয়ার পথে ঠেলে দিচ্ছে।
শিক্ষা খাতেও চলছে চরম অস্থিরতা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা জানান, চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ঠিকমতো প্রস্তুতি নিতে পারছে না। শিক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পরীক্ষার ফলাফলে। প্রচণ্ড গরমে অনেক শিক্ষার্থী কেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে পড়ার খবরও পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন অটোরিকশা ও অটোভ্যানচালকরা। সারা দিন কাজ শেষে গাড়ি চার্জ দেওয়ার মতো বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না তারা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকায় তাদের উপার্জনের পথ বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
রংপুর অঞ্চলের ফিলিং স্টেশনগুলোর চিত্র আরও ভয়াবহ। তেলের পাম্পগুলো ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ পাম্প সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন বন্ধ থাকছে। যে দু-তিন দিন তেল দেওয়া হয়ে থাকে, সেখানেও উপচে পড়া ভিড়। অনেক পাম্পে দেখা দেখা গেছে, তেল দেওয়া শুরুর আগেই দেড় থেকে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। যারা তেল পাচ্ছেন, তা-ও আবার চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত। চাহিদামতো তেল না পাওয়ায় অনেক পাম্পে গ্রাহক-মালিকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা, মারামারি ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
হিমাগার মালিকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। আলুসহ পচনশীল পণ্য রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা হিমাগার সচল রাখতে হয়। কিন্তু লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটর চালানোর মতো প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে হিমাগারগুলোতে রাখা কৃষকের হাজার হাজার টন আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রংপুর অঞ্চলের বিদ্যুৎ বিভাগের কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, সরকার বলছেন সারা দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। কিন্তু বাস্তবে তেল সংকটের কারণে বিদ্যুতের বেশিরভাগ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ ও ঠাকুরগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে কিছুটা হলেও এই অঞ্চলে চার-পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। অতি দ্রুত চলমান এই জ্বালানি সংকট দূর করতে না পারলে বিদ্যুৎ নিয়ে হাহাকার দেখা দেবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি তেল সংকটের কারণে সবকিছুতেই এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তাই কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর না করে জ্বালানির বিকল্প পথ দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে। এ সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) জেনারেল ম্যানেজার আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে অনেক বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারের উচিত দ্রুত বন্ধ কেন্দ্রগুলো চালু করার ব্যবস্থা নেওয়া। জ্বালানি সংকট দূর করতে না পারলে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
রংপুর চেম্বারের পরিচালক প্রণয় কুমার বলেন, জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে এর প্রভাব পড়েছে মালামাল পরিবহন থেকে শুরু করে সবকিছুতে। এখন ব্যবসায়ীদের প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়াতে হচ্ছে। এতে করে বিপাকে পড়ছেন ক্রেতারা। পাশাপাশি বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারের উচিত বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত সব সমস্যার সমাধান করা।
এ বিষয়ে রংপুর জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
১ দিন আগে
একটি সেতুর অভাবে ভুগছে করতোয়াপাড়ের ২০ গ্রামের মানুষ
রংপুরের পীরগঞ্জ ও দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া নদীর কুলানন্দপুর ঘাটে একটি সেতুর অভাবে দুই পাড়ের লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষক, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে অসুস্থ রোগী—সবাইকে নির্ভর করতে হচ্ছে নৌকা কিংবা অস্থায়ী ভেলা-সদৃশ ব্যবস্থার ওপর।
বর্ষা মৌসুমে সেখানকার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নদীর পানি বেড়ে গিয়ে স্রোত তীব্র হওয়ায় পারাপার হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ, কখনো কখনো বন্ধও হয়ে যায়। বিশেষ করে, কৃষি অর্থনীতিনির্ভর এই অঞ্চলের মানুষের জন্য সেতুর অভাব এক অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বারবার সরকার পরিবর্তন হয়, কিন্তু এই নদীর ওপরে সেতু হয়নি। একটি সেতুর কারণেই উন্নয়নের মুখ দেখছে না অন্তত ২০ গ্রামের বাসিন্দারা। এতে তাদের মনে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ঘাট দিয়ে পারাপার করছেন শত শত মানুষ। রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, ঝঞ্ঝায় সেই ছোট খেয়া নৌকাই এখানে ভরসা। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীদের কথা না হয় বাদই দিলাম, কৃষি অর্থনীতিনির্ভর এই অঞ্চলের কৃষক তাদের উৎপাদিত ধান, ভুট্টা, আলু ও শাকসবজি বাজারে নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় ফসল ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আবার কখনো সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি যেমন বাড়ছে, তেমনি কৃষিপণ্য উৎপাদনের আগ্রহও কমে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কুলানন্দপুর গ্রামের হারুন মিয়া বলেন, প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ এই ঘাটের ওপর নির্ভরশীল। একটি ব্রিজ না থাকায় আমাদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এই পারাপার অত্যন্ত কষ্টকর।
একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা হারুন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এত উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু আমাদের এই এলাকায় উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ, তার ওপর নদী পারাপারের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। এ পারের ছেলেমেয়েকে ওপারে বিয়ে পর্যন্ত দেয় না। আমরা এখনও পিছিয়ে পড়া জনপদের মানুষ হয়ে আছি।
কুয়াদপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুম এলে দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বৃষ্টি হলেই নদীর পানি বেড়ে যায়, তখন নৌকাও ঠিকমতো চলতে পারে না। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে কেউ হাসপাতালে যেতে চাইলে বিপদের শেষ থাকে না।
মাটিয়ালপাড়া গ্রামের মিঠু মিয়া বলেন, প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে স্কুলে পাঠাতে ভয় পান। একটি ব্রিজ হলে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনেকটা নিরাপদ হতো।
স্থানীয়রা জানান, শুধু যাতায়াত নয়, একটি সেতুর অভাবে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নও থমকে আছে। ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারিত হচ্ছে না, নতুন কোনো শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে না। ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। অনেক তরুণ বাধ্য হয়ে অন্য জেলায় কাজের সন্ধানে চলে যাচ্ছেন। কুলানন্দপুর ঘাটে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে পীরগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট উপজেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে সময় ও খরচ উভয়ই কমবে, পাশাপাশি কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে। এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ বিষয়ে রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা নুরুল আমিন বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি শিগগিরই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হবে। আশা করছি, দ্রুতই সেতু হবে।
৪ দিন আগে
‘প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়’ স্কুলছাত্রী অপহরণ, যুবক গ্রেপ্তার
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে তৌকির রহমান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব)-১৩। অভিযানে অপহৃত শিক্ষার্থীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
গ্রেপ্তার তৌকির নগরীর পূর্ব বোতলা এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী সপ্তম শ্রেণির একজন নিয়মিত ছাত্রী। স্কুলে যাতায়াতের সময় দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্যক্ত করাসহ প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন অভিযুক্ত তৌকির রহমান। বিষয়টি ভুক্তভোগী তার পরিবারকে জানালে পরিবারের পক্ষ থেকে তৌকিরকে অনুরোধের পর সতর্কও করা হয়। কিন্তু তাদের কথায় গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করার হুমকি দেন তৌকির।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ এপ্রিল সকালে ভুক্তভোগী ইউনিফর্ম পরে স্কুলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়। সে সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে তৌকির রহমান ও তার ৩-৪ জন সহযোগী মিলে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার একাধিকবার মেয়েটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে তারা রংপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অপহরণ মামলা করেন।
এদিকে, মামলার পর থেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ ও র্যাব-১১ যৌথভাবে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে কুমিল্লা জেলার লালমাই থানার পূর্ব অশোকতলা গ্রামের অভিযান চালায়। অভিযানে ওই গ্রামের জনৈক ক্বারী আজিজের বাড়ি থেকে তৌকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখান থেকেই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, গ্রেপ্তার তৌকির রহমানকে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১৪ দিন আগে
রংপুরে সিজারের পর প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ
রংপুরে প্রসূতির সিজার অপারেশনের সময় পেটে গজ কাপড় রেখেই সেলাই করার অভিযোগ উঠেছে এক গাইনি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহিন সুলতানা।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, গৃহবধূ হাবীবা জান্নাতের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর ইউনিয়নের বড় আমবাড়ি গ্রামে। গত ৮ মার্চ নগরীর বন্ধন জেনারেল হাসপাতালে তার সিজারিয়ান অপারেশন করেন গাইনি চিকিৎসক রাজিয়া বেগম মুক্তা। অপারেশনের পর থেকেই তীব্র পেটব্যথা ও শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
এরপর বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসককে জানালেও তিনি বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পরামর্শ দেন। আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট দেখানোর পরও তিনি দায় স্বীকার না করে নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর পরিবারের। পরে ভুক্তভোগীকে নিয়ে অন্য গাইনি চিকিৎসক মৌসুমী হাসানের কাছে গেলে তিনি সিটি স্ক্যান করতে বলেন। সিটি স্ক্যানে রোগীর পেটের ভেতরে গজ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
ভুক্তভোগীর স্বামী শাওন মিয়া বলেন, বিষয়টি চিকিৎসক রাজিয়া বেগম মুক্তাকে জানিয়েছি, কিন্তু তিনি গুরুত্ব না দিয়ে বারবার এড়িয়ে যান। পরে অন্য চিকিৎসকের দারস্থ হলে ওই চিকিৎসক সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দেন। এতে পেটে রয়েছে কাপড় জাতীয় কিছু ধরা পড়ে। আমরা পুনরায় অপারেশন করতে গেলে গাইনি ডাক্তার রাজিয়া বেগম মুক্তার স্বামী আতিক আমাদের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসক মৌসুমী হাসানকেও হুমকি দেন। পরে উপায় না পেয়ে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে পুনরায় অপারেশনের মাধ্যমে গজটি বের করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। ওই চিকিৎসকের শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চিকিৎসকের চেম্বারে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে এক সহযোগী ফোন ধরে করে বলেন, ‘ম্যাডাম রোগী দেখছেন, পরে কথা বলবেন।’ এরপর তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
রংপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহিন সুলতানা বলেন, বিষয়টি শুনেছি; এটি দুঃখজনক। ভুক্তভোগী বিষয়টি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৫ দিন আগে
রংপুরের কৃষিতে সৌর বিপ্লব, মৌসুমে সাশ্রয় ৭৫ লাখ লিটার ডিজেল
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওঠানামা, সরবরাহ শঙ্কা এবং দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতির আশঙ্কার মধ্যে বাংলাদেশের কৃষিখাতেও চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে সেচ মৌসুমে ডিজেলনির্ভর কৃষকদের উদ্বেগ এখন চরমে।
এমন বাস্তবতায় রংপুর অঞ্চলে আশার আলো হয়ে উঠেছে সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচব্যবস্থা। সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৫ দশমিক ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এতে একেকটি সেচ মৌসুমে প্রায় ৭৫ লাখ লিটার ডিজেল সাশ্রয় সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষকেরা বলছেন, ডিজেল সংকট, মূল্যবৃদ্ধি কিংবা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ভোগান্তি ছাড়াই এখন সময়মতো জমিতে পানি দেওয়া যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ কমছে, বাড়ছে আবাদও।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের দোয়ানী গ্রামে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) পরিচালিত একটি ডাগওয়েলের দায়িত্বে আছেন আতিয়ার রহমান।
তিনি বলেন, এলাকায় ব্যাপকভাবে ভুট্টা ও বিভিন্ন সবজি চাষ হয়। এই সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্র দিয়ে প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে নিয়মিত পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
তিনি জানান, ‘ডিজেল পাওয়া না গেলে বা দাম বাড়লেও কৃষকদের এখন আর চিন্তা করতে হয় না। কারণ এই সেচযন্ত্র চলে সৌরবিদ্যুতে।’
পাশাপাশি তিনি একটি বড় সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। তার মতে, বছরে মাত্র চার মাস সেচকার্যে ব্যবহারের পর বাকি আট মাস সৌর বিদ্যুতের প্যানেলগুলো প্রায় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে। এই সময়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে নেট মিটারিং ব্যবস্থা চালু করা গেলে কৃষক, প্রতিষ্ঠান ও সরকার—সবাই লাভবান হতে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সৌর বিদ্যুতের প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি পাম্প চালিয়ে কৃষিজমিতে পানি পৌঁছে দিচ্ছে। কোথাও ডিজেলের ধোঁয়া নেই, নেই জ্বালানি সংগ্রহের দৌড়ঝাঁপ, নেই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার উৎকণ্ঠা।
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর গ্রামের কৃষক সুধাম চন্দ্র সেন বলেন, তেলের চিন্তা নাই। সোলার থেকে বিদ্যুৎ হয়, পানি পাই। ফসলও ভালো হয়, খরচও কম লাগে।
তিনি আরও বলেন, আগে বিদ্যুৎ থাকত, আবার থাকত না। অনেক সময় জমিতে পানি দিতে দেরি হতো। এখন সোলারে সবসময় পানি পাওয়া যায়।
নদী বাঁচাও তিস্তা বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের লালমনিরহাট জেলা ইউনিটের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষিকে আধুনিক করার জন্য এ ধরনের প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, প্রান্তিক কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সৌরচালিত সেচ প্রকল্প আরও বাড়ানো দরকার।
বিএডিসি রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী (নির্মাণ) হুসাইন মোহাম্মদ আলতাফ জানান, ২০২২ সালের পর নতুন কোনো সৌর সেচ প্রকল্প চালু হয়নি। তবে আগের স্থাপনাগুলো এখনও সচল রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত সেচ মৌসুমে রংপুর বিভাগের আট জেলায় ৫৯৬টি সৌরচালিত সেচযন্ত্র সচল ছিল। প্রতিটি যন্ত্রে গড়ে ১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ধরা হলে মোট উৎপাদন দাঁড়ায় ৫ হাজার ৯৬০ কিলোওয়াট বা ৫ দশমিক ৯৬ মেগাওয়াট। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ হাজার ফ্যান চালানো সম্ভব। একইসঙ্গে চার মাসের সেচ মৌসুমে প্রায় ৭৫ লাখ লিটার ডিজেল সাশ্রয় হয়।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) রংপুর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান খান বলেন, তাদের আওতায় নতুন প্রকল্প না এলেও পুরোনো প্রকল্প চালু আছে। মাঠ পর্যায়ে দুটি নেট মিটারিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এছাড়া অফিস ভবনের সৌর বিদ্যুৎও নেট মিটারিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে।
নেসকো রংপুরের প্রধান প্রকৌশলী (অপারেশন) মিজানুর রহমান বলেন, ডিজেলনির্ভর সেচ থেকে সৌরচালিত সেচে দ্রুত রূপান্তর ঘটাতে পারলে একদিকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে কার্বন নিঃসরণও কমবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের জন্য এটি হতে পারে টেকসই কৃষির কার্যকর পথ।
তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ সৌরচালিত সেচযন্ত্র পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকায় রয়েছে। তাই এসব স্থাপনায় নেট মিটারিং চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে বাস্তবায়ন সম্ভব।
কৃষকদের দাবি, নতুন করে সৌর সেচ প্রকল্প চালু হোক, পুরোনো প্রকল্প সংস্কার হোক আর অব্যবহৃত সময়ের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হোক।
১৬ দিন আগে
রংপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত
রংপুরে আইডিয়াল মোড়-সংলগ্ন মহাসড়কে বাসচাপায় জুয়েল হোসেন নামে এক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন। অপরদিকে, নগরীর পীরগঞ্জে ট্রাকচাপায় আব্দুর রহিম নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে এই সড়ক দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান ও পীরগঞ্জ থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, জুয়েল হোসেন মোটরসাইকেল নিয়ে টার্মিনাল থেকে মহাসড়ক ধরে মেডিকেল কলেজ মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় তার মোটরসাইকেলটি সড়ক বিভাজকে ধাক্কা লেগে সড়কের মাঝে পড়ে যায়। এরই মধ্যে একটি চলন্ত বাস তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
নিহত জুয়েল হোসেন নগরীর কেল্লাবন্দ এলাকার মৃত জহুরুল হকের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ঠিকাদার ছিলেন। কেল্লাবন্দ এলাকার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে শাপলা আদর্শপাড়ায় বসবাস করতেন তিনি।
অপরদিকে, পীরগঞ্জ থেকে মিঠাপুকুরের দিকে যাচ্ছিলেন আব্দুর রহিম। এ সময় পেছন থেকে একটি ট্রাক তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
নিহত আব্দুর রহিম পীরগঞ্জের চতরা গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন মুদি ব্যবসায়ী ছিলেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৭ দিন আগে
রংপুরে পাম্পে হামলা চালিয়ে ১৬৭ লিটার পেট্রোল লুটের অভিযোগ
রংপুরের পীরগঞ্জে একটি ফিলিং স্টেশনে হামলা চালিয়ে জোরপূর্বক পেট্রোল লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা।
লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে জানা যায়, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ মেসার্স উজ্জ্বল ফিলিং স্টেশনে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা স্টেশনে কর্মরত মিটারম্যান ফরহাদ মিয়াকে মারধর করে এবং গলায় ছুরি ধরে প্রাণনাশের ভয় দেখায়। তখন ফরহাদ আত্মরক্ষার্থে ভেতরে আশ্রয় নেন। এ সুযোগে হামলাকারীরা পাম্পের সুইচ চালু করে নিজেদের আনা জারিকেন ও মোটরসাইকেলে প্রায় ১৬৭ লিটার পেট্রোল ভরে নিয়ে যান। পরে মিটারম্যান মোবাইলে ম্যানেজারকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে বিস্তারিত শোনেন এবং ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর ফিলিং স্টেশনের মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তীতে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ।
এ ঘটনায় হানিফুল ইসলাম (৪২), রাজু মিয়া (৩৫), সোহেল মিয়া (২৮), নাহিদ মিয়া (২১) ও রাসেল মিয়াসহ (২৬) অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পাম্পের ম্যানেজার রুহুল আমিন বলেন, হামলাকারীরা ফিল্মি স্টাইলে সংঘবদ্ধভাবে এসে দ্রুত তেল নিয়ে চলে যায়। পুরো ঘটনাটি ফিলিং স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা আছে।
পীরগঞ্জ থানার ওসি সোহেল রানা জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৭ দিন আগে
রংপুরের মিঠাপুকুরে বজ্রপাতে ২ কৃষক নিহত, আহত ১০
রংপুরের মিঠাপুকুরে বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের পাগলারবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার সখীপুর গ্রামের তালেব উদ্দিন (৬০) ও মিলন (৩৫)।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, স্থানীয় একটি পুকুরে সখীপুর গ্রামের তালেব উদ্দিন ও মিলন মাছ ধরতে যান। এরই মধ্যে আকাশ খারাপ হয়ে আসলে পুকুরের পাশে একটি টিনের ছাউনিতে আশ্রয় নেন তারা। এ সময় বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে ছাউনির নিচে থাকা ওই দুই কৃষকসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা সেখানে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তালেব উদ্দিন ও মিলনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকিদের মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মিঠাপুকুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আহতদের হাসপাতালে পাঠান। পরে সেখান থেকে আমরা উপজেলা হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ২ জনের মৃত্যুর খবর দেন।
তিনি আরও জানান, ওই হাসপাতালে আরও তিনজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যান্য আহতদের রংপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জেনেছি, তবে তাদের শারীরিক অবস্থার ব্যাপারে কোনো তথ্য পাইনি।
মর্মান্তিক এ ঘটনায় ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো এলাকা।
১৮ দিন আগে
রংপুরে জ্বালানি সংকট, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না তেল
রংপুর জেলা ও মহানগরীতে তীব্র জ্বালানি সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকেরা। দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি না পাওয়ায় দিন দিন ক্ষোভ বাড়ছে। নগরজুড়ে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখা দিয়েছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রংপুরে প্রায় সাড়ে তিনশ পেট্রোল পাম্প থাকলেও অর্ধেকের বেশি পাম্পে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে না।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ পাম্পেই পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট চলছে। অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা গেছে। যেসব পাম্পে সীমিত পরিসরে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে, সেখানে প্রতি গ্রাহককে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক চালকই শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
রংপুরের আট উপজেলাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, পীরগাছা, কাউনিয়া, বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ ও গঙ্গাচড়ায় তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেকেই জ্বালানি পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী চালকেরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় তাদের জরুরি কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, ব্যবসায়ী এবং রোগী বহনকারী যানবাহন সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে।
মোটরসাইকেলচালক সোহেল মিয়া বলেন, সকালে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর জানানো হলো তেল শেষ। এখন আবার অন্য পাম্পে যেতে হচ্ছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন প্রাইভেটকার চালকেরাও।
পাম্প ম্যানেজার ও সংশ্লিষ্টরা জানান, একেকটি পাম্পে এক দিন পরপর মাত্র ৩ থেকে ৪ হাজার লিটার পেট্রোল বা অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। ফলে বাধ্য হয়ে সীমিত পরিসরে জ্বালানি বিক্রি করতে হচ্ছে।
যানবাহন মালিকদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তারা দ্রুত পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে মোটরযান পরিদর্শক ও ট্যাক্স অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
১৯ দিন আগে