বিশ্ব
জিম্বাবুয়েতে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ফেরি ডুবে ৪৪ প্রাণহানি
জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ফেরি ডুবে অন্তত ৪৪ জন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে আজ বুধবার বিকেলে দেশটির পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন থেকে এ খবর জানা গেছে।
টিকিট বিক্রির তথ্যের সূত্র দিয়ে দেশটির সিভিল প্রোটেকশন ইউনিট (সিপিইউ) জানিয়েছে, ফেরিটিতে ৯০ জন যাত্রী বহনের সক্ষমতা থাকলেও দুর্ঘটনার সময় এতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু ছিলেন। এছাড়া বেশকিছু শিশুও ফেরিটিতে ছিল।
দেশটির জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসিকে ফেরিটির এক ক্রু সদস্য জানান, মঙ্গলবার বড় ঢেউয়ের আঘাতে ফেরিটি উল্টে যাওয়ার সময় এতে মোট ১৫৩ জন মানুষ ছিলেন।
ফেরিতে থাকা এক যাত্রী জানান, কারিবা শহরের তীর থেকে দ্বীপ ও মাছ ধরার ক্যাম্পের উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট পর ফেরিটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে।
দুর্ঘটনার পর অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান আজও অব্যাহত রয়েছে। এ কাজে একটি বিশেষায়িত পানির নিচে অনুসন্ধানকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সিপিইউ।
আজ সকালে সিপিইউ জানিয়েছিল, দুর্ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বিকেলে জিম্বাবুয়ের পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাত্র ৩২ মিনিটের ব্যবধানে দুটি পোস্টে মৃতের সংখ্যা হালনাগাদ করে। প্রথম পোস্টে মৃতের সংখ্যা ৩৮ জন জানানো হয়। পরে আরেক পোস্টে জানানো হয়, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
কারিবা হ্রদ আয়তন ও ধারণক্ষমতার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম মানবসৃষ্ট হ্রদ। জিম্বাবুয়ের উত্তর সীমান্ত বরাবর জাম্বিয়ার সঙ্গে প্রায় ১৫০ মাইলজুড়ে বিস্তৃত এই হ্রদটি ১৯৫০-এর দশকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে জাম্বেজি নদীতে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়।
হ্রদটি তৈরির সময় প্রায় ৫৭ হাজার মানুষকে তাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কারিবা বাঁধ থেকে জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়া উভয় দেশের মোট বিদ্যুতের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করা হয়।
২ ঘণ্টা আগে
কলম্বিয়ার ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৮১, নিখোঁজ ১৯৫
কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮১ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২ হাজার ৫৯৫ জন। সরকারি হিসাবে ভূমিকম্পের পর এখনও অন্তত ১৯৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী, নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার।
শক্তিশালী এ ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির সরকার ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। এ সময়সীমা দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উদ্ধারকারীরা জীবিতদের সন্ধানে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
এই দুর্যোগ কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলারদো দে লা এসপ্রিয়েইয়া সরকারকে বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। দেশটিতে ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার হিমশিম খাচ্ছে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতায় দেশটির নাগরিক সমাজও একযোগে কাজ করছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েইয়া জানান, ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে অন্তত ১৮১ জন নিহত এবং আরও ২ হাজার ৫৯৫ জন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, এখনও অন্তত ১৯৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে বেসামরিকভাবে পরিচালিত বিভিন্ন ডেটাবেসের হিসেবে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার।
এদিকে, ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কালি, পেরেইরা, মানিসালেস ও কিবদো শহরে রাতভর ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। সময় যত গড়াচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের খুঁজে বের করে উদ্ধারের সম্ভাবনাও তত কঠিন হয়ে পড়ছে।
ত্রাণ সংস্থাগুলোর মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তবে আটকে পড়াদের কাছে খাবার ও পানি পৌঁছানোর সুযোগ করা গেলে এই সময়সীমা আরও বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতেও ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধারের কিছু ঘটনায় উদ্ধারকারীরা এখনও আশা রাখছেন। একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকারীরা কংক্রিটের দেওয়ালের সরু ফাঁক দিয়ে একটি শিশুকে বের করে আনেন। শিশুটির পুরো শরীর ধুলোয় ঢাকা ছিল। আরেক স্থানে ধ্বংসস্তূপ আটকে পড়া এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করে স্ট্রেচারে তুলতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা।
৫ ঘণ্টা আগে
কঙ্গোয় ইবোলা মহামারিতে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়াল
কঙ্গোয় ইবোলা মহামারিতে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটিতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ইবোলায় নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৩৮১ জন এবং মারা গেছেন ২ হাজার ১১ জন।
দুর্বল সড়ক যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অর্থ পরিশোধ নিয়ে কর্মবিরতির কারণে দেশটির দুর্গম এলাকায় দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) প্রকাশিত দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোয় ইবোলায় নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৮১ জনে। এর মধ্যে মারা গেছেন ২ হাজার ১১ জন। বর্তমানে সেখানে ৭০৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি ও আইসোলেশনে রয়েছেন।
কঙ্গোতে গত ১৫ মে থেকে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। এরপর তিন মাসের মধ্যেই এমন ভয়াবহর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইবোলা প্রাদুর্ভাব শুরুর পর প্রথম ৯ সপ্তাহে ১ হাজার মানুষ মারা যান। পরে মাত্র ৩ সপ্তাহেই ১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই স্বাস্থ্য সংকট ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। এটি ক্রমশ স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
কঙ্গোতে চলমান এই ইবোলা প্রাদুর্ভাব ইতোমধ্যে আফ্রিকার ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা প্রাদুর্ভাবে রূপ নিয়েছে। এর আগে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। ওই সময় ২৮ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান।
এ ব্যাপারে সহায়তা সংস্থাগুলোর কর্মীরা বলছেন, ইবোলা মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েও এর প্রাদুর্ভাব ঠেকানো যাচ্ছে না। রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। দেশটির আক্রান্ত ৫টি প্রদেশজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বাড়ানো হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।
এদিকে, ইবোলা প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে দেশটির বহু স্বাস্থ্যকর্মীর পারিশ্রমিক না পাওয়ার প্রতিবাদে ধর্মঘট করেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের পর্যবেক্ষণে থাকা সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষেরও তালিকা করেছেন। তবে নতুন করে যারা ইবোলা আক্রান্তদের বেশিরভাগই এই তালিকায় ছিলেন না। তবুও তারা ইবোলা আক্রান্ত হয়েছেন। অর্থাৎ, সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে না এসেও মানুষ ইবোলায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এতে বোঝা যায়, রোগটির প্রাদুর্ভাব স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চরে গেছে।
আগের বেশিরভাগ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি আলাদা। কারণ এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বিরল ‘বান্দিবুগিও ভাইরাস’। এ ভাইরাসের অনুমোদিত কোনো টিকা বা চিকিৎসা নেই।
তবে এরই মধ্যে সাম্প্রতিক ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ইতুরি প্রদেশে এ রোগের টিকা ও চিকিৎসা নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে ।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, সম্ভবত ফেব্রুয়ারিতে এবারের ইবোলার প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছিল। অর্থাৎ কঙ্গোর কর্তৃপক্ষ এটি শনাক্ত করার অনেক আগেই দেশটির সবচেয়ে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর একটিতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছিল।
ডব্লিউএইচও আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু আক্রান্ত রোগীকে ভুলভাবে ম্যালেরিয়া ও টাইফয়েডে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। এছাড়া রোগটির শুরুর দিকে ইবোলার আরও প্রচলিত ধরন শনাক্তের জন্য পরীক্ষা করা হচ্ছিল।
ডব্লিউএইচওর আফ্রিকার আঞ্চলিক পরিচালক ডা. মোহামেদ ইয়াকুব জানাবি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা ভাইরাসটি ঠেকাতে এর পেছনে ছুটছি, কিন্তু ভাইরাসটি আমাদের চেয়ে দ্রুত ছুটছে।’
১৯৭৬ সালে কঙ্গোতে ইবোলা নদীর কাছাকাছি এলাকায় প্রথম এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। মধ্য আফ্রিকার এই দেশে এটি ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব। এবারের প্রাদুর্ভাব দেশটিতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব।
১ দিন আগে
ইউক্রেনে হামলায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে মস্কো, অভিযোগ জেলেনস্কির
ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও গ্লাইড বোমা দিয়ে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ৯ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে মঙ্গলবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
একই সময়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মস্কোর বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কো উত্তর কোরিয়া থেকে নতুন করে সামরিক সহায়তা পাচ্ছে।
জেলেনস্কি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া শহরে রাতভর হামলায় রুশ বাহিনী উত্তর কোরিয়ার সরবরাহ করা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই হামলায় ছয়জন নিহত ও ১৯ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া মধ্যাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন ও গোলাবর্ষণে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরসহ আরও তিনজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া পিয়ংইয়ংয়ের কাছ থেকে আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে এবং আরও উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দুই বছরের বেশি সময় আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিতে সই করেন। চুক্তিতে দুই দেশের যেকোনো একটি দেশ আগ্রাসনের শিকার হলে পারস্পরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
ইউক্রেনে পুতিনের আগ্রাসনকে সমর্থন করতে কিম হাজার হাজার সেনা এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ করেছেন। বিশেষজ্ঞের কারও কারও মতে, মস্কোর সঙ্গে এই সহযোগিতার ফলে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বাড়ছে। জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা উত্তর কোরিয়াকে এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের জন্য আরও বড় হুমকি হয়ে উঠতে সহায়তা করবে।
ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়াচ্ছে। কিয়েভের কাছে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে সক্ষম প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিকে কাজে লাগাতেই মস্কো এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে দাবি ইউক্রেনের। দেশটি আরও বলছে, পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনজুড়ে ১ হাজার ২৫০ কিলোমিটার (৭৭৫ মাইল) দীর্ঘ সম্মুখসারিতে নতুন করে অভিযান চালাতে রাশিয়া সেনা নিয়োগ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি বলেন, ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানো, উত্তর কোরিয়ার সরঞ্জাম আনা, সেনা সমাবেশের প্রস্তুতির মতো রাশিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপই দেখাচ্ছে যে মস্কো শান্তির জন্য নয়, বরং উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। সমঝোতার দিকে অগ্রগতির অভাবে ওয়াশিংটন হতাশ হয়ে পড়েছে এবং ইরান যুদ্ধের দিকে তাদের মনোযোগ সরে গেছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার সোমবার রাতে এক বিশ্লেষণে বলেছে, ‘পুতিন যতক্ষণ মনে করবেন যে তার পূর্ণাঙ্গ লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি কার্যকর সামরিক পথ রয়েছে, ততক্ষণ ক্রেমলিন গুরুতর আলোচনায় প্রবেশ করবে না বা তার দাবিতে বড় কোনো ছাড় দেবে না।’
সংস্থাটি আরও বলেছে, ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি রাশিয়াকে ইউক্রেনের ব্যাপক ক্ষতি করার সুযোগ করে দিচ্ছে। এর ফলে অর্থবহ আলোচনা পিছিয়ে যেতে এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে।
কিয়েভের শিশু হাসপাতালে হামলা
রাতভর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বিভিন্ন এলাকাতেও হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। একটি হামলায় একটি শিশু হাসপাতালের চত্বরে দুটি গর্ত তৈরি হয় এবং জানালার কাচ ভেঙে যায় বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা বিভাগ। তবে শিশু ও চিকিৎসাকর্মীরা বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকায় কেউ আহত হয়নি।
রাজধানীর অন্য একটি এলাকায় রুশ হামলায় একটি গুদামে আগুন ধরে যায়। জরুরি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন প্রায় ১ হাজার ২০০ বর্গমিটার (প্রায় ১৩ হাজার বর্গফুট) এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী রাতভর কিয়েভ ও জাপোরিঝঝিয়ার ‘সামরিক শিল্প স্থাপনা এবং পরিবহন ও সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতে’ স্থলভিত্তিক নির্ভুল অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
আজ (মঙ্গলবার) এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি জানায়, কিয়েভে ড্রোন সংরক্ষণ করা হচ্ছিল এমন বেসামরিক গুদাম এবং জাপোরিঝঝিয়া শহরের একটি ধাতু কারখানায় হামলা চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া জাপোরিঝঝিয়া ও কিয়েভে জিরকন অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র ও ইস্কান্দার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ১২০টি দূরপাল্লার হামলা চালানোর ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
রাশিয়ার বৃহত্তম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে আবারও হামলা
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাশিয়ার ১৪টি অঞ্চল ও অধিকৃত ক্রিমিয়ার আকাশে প্রায় ৪০০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজ জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্তবর্তী ভোরোনেজ অঞ্চলে তাদের সরবরাহকেন্দ্রগুলো হামলার শিকার হয়ে আগুন ধরে যায়। তবে পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সেখানে সংরক্ষিত পণ্য ‘বেশিরভাগই অক্ষত’ রয়েছে।
ইউক্রেন এর আগে একাধিকবার ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালিয়ে আসছে দেশটি। কিয়েভের দাবি, পুতিনকে যুদ্ধ অবসানে আলোচনায় বসতে বাধ্য করার কৌশলের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, রাতভর তাদের বাহিনী রাশিয়ার ওরেনবুর্গ অঞ্চলের ওরস্কনেফতেওরগসিনতেজ তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শোধনাগারটিতে হামলার পর আগুন ধরে যায়।
শোধনাগারটির বছরে প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। সেখানে গ্যাসোলিন, ডিজেল ও উড়োজাহাজের জ্বালানিসহ বিভিন্ন ধরনের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য উৎপাদন করা হয়। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী।
১ দিন আগে
সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড
মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তার ছোট ভাই মাহের আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত দেশটিতে ১৪ বছর ধরে চলা সংঘাতে এসব অপরাধের জন্য তাদের মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই সংঘাতে দেশটিতে প্রায় ৫ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন।
আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকের শাসনের অবসানের ২০ মাস পর আজকের এ রায়ই বাশার আল-আসাদ বা তার ঘনিষ্ঠ মহলের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে প্রথম সাজা। আদালতের এই বিচার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
রায়ে বিচারক ফাখারেদ্দিন আল-আরিয়ান বলেন, ‘বাশার আল-আসাদ যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করেছেন।’
একই মামলায় আসাদের মামাতো ভাই আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দারা প্রদেশে দমন-পীড়নের তদারকির দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ওই দমন-পীড়নই পরবর্তী সময়ে দেশটিতে বিদ্রোহ এবং গৃহযুদ্ধের সূচনা করেছিল।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভিডিওতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নাজিবকে কারাবন্দিদের পোশাক পরে একটি খাঁচার ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় বিচারক তার সাজা পড়ে শোনান। রায় শুনতে দামেস্কের কেন্দ্রস্থলে আদালত ভবনের বাইরে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন।
১ দিন আগে
যুগান্তকারী ভোটে মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করল লেবানন
মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করেছে লেবানন। আরব বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও কঠোর শ্রমের শাস্তি চালু করল দেশটি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ভোটের মাধ্যমে এই আইনটি বিলোপ করে দেশটি।
লেবাননের ১২৮ সদস্যের পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা মৃত্যুদণ্ড বিলোপের পক্ষে ভোট দেন। তবে হিজবুল্লাহর সংসদীয় ব্লক এর বিরোধিতা করে।
পার্লামেন্টে উপস্থিত দেশটির বিচারমন্ত্রী আদেল নাসার এ সিদ্ধান্তকে লেবাননের জন্য ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।
মৃত্যুদণ্ডের ওপর স্থগিতাদেশকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া কিংবা সম্পূর্ণভাবে মৃত্যুদণ্ড বিলোপের আহ্বান জানিয়ে আসা মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।
এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচের লেবাননবিষয়ক গবেষক রামজি কাইস বলেন, ‘লেবানন এমন একটি নিষ্ঠুর শাস্তি থেকে চূড়ান্তভাবে সরে আসছে, যা কখনোই দেওয়া উচিত নয়।’
তিনি বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ড তার নিষ্ঠুরতা ও চূড়ান্ততার দিক থেকে অনন্য এবং এতে স্বেচ্ছাচারিতা, পক্ষপাত ও ভুলের ঝুঁকি থেকেই যায়।’
তবে কঠোর শ্রমের শাস্তি কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কয়েকজন আইনপ্রণেতা বলেছেন, নতুন শাস্তির শর্তগুলো এখনও পরিষ্কার নয়।
লেবাননের আইনে আদালতের রায় ও বিধিবিধানে ‘কঠোর শ্রমের’ শাস্তির উল্লেখ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির আর্থিক সংকট, সম্পদের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত বন্দিতে ঠাঁসা কারাগারগুলোর সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে এই শাস্তিও খুব কমই কার্যকর করা হয়েছে।
লেবাননে মৃত্যুদণ্ড বিলোপের সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন পার্লামেন্টে একটি বিতর্কিত সাধারণ ক্ষমা আইন নিয়ে আলোচনা চলছে। ১৯৯০ সালে দেশটির ১৫ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসানের পর এটিই হবে সবচেয়ে বড় সাধারণ ক্ষমার উদ্যোগ। প্রস্তাবিত আইনের আওতায় কিছু দণ্ড কমানো, এমনকি দণ্ডিত জঙ্গি ও মাদক কারবারিদের মুক্তিও দেওয়া হতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।
ইসলামপন্থি জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর হামলা ও হত্যাকাণ্ডে নিহত লেবাননের সেনা ও নিরাপত্তাকর্মীদের পরিবারের সদস্যরা আইনটির বিরুদ্ধে বারবার বিক্ষোভ করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, তারা তাদের স্বজনদের হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেখতে চেয়েছিলেন, কম মেয়াদের কারাদণ্ড নয়।
ঐতিহাসিক এই ভোটের বিষয়ে হিজবুল্লাহ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। লেবাননের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু নিজস্ব বিচারব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ডকে বৈধ বলে বিবেচনা করা হয়।
ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের ছোট্ট এই দেশটি অবশ্য ২০০৪ সালের জানুয়ারি থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ দিয়ে রেখেছিল। তবে এরপরও দেশটির আদালতগুলোতে বেশ কিছু মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। পরে অবশ্য সেগুলো স্থগিত অথবা কমিয়ে দেওয়া হয়।
১ দিন আগে
দক্ষিণ আফ্রিকায় পরিত্যক্ত খনিতে ১৪ অবৈধ খনি শ্রমিকের মৃত্যু
দক্ষিণ আফ্রিকার একটি পরিত্যক্ত খনিতে অন্তত ১৪ জন অবৈধ খনি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ সার্ভিস (এসএপিএস) জানিয়েছে, জোহানেসবার্গ থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার (৮০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে রাস্টেনবার্গ শহরের কাছে একটি খনিতে ওই শ্রমিকদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
তবে তাদের মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে জাতীয় পুলিশ সার্ভিস বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তারা জানিয়েছে, প্রাদেশিক পুলিশ কমিশনার ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় খনি কোম্পানিগুলো ব্যবহার না করা সোনা ও প্লাটিনামের খনিতে অবৈধভাবে কাজ করেন হাজার হাজার ক্ষুদ্র খনি শ্রমিক। এসব অনানুষ্ঠানিক খনি শ্রমিক খনির ভেতরে গিয়ে অবশিষ্ট খনিজের সন্ধান করেন এবং তা বিক্রি করেন। তারা প্রায়ই যথাযথ নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই কাজ করেন এবং কখনো কখনো কয়েক সপ্তাহ ভূগর্ভে অবস্থান করেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্লাটিনাম খনিশিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র রাস্টেনবার্গ। দেশটিতে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্লাটিনাম মজুত রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় অনানুষ্ঠানিক খনন একটি গভীর সমস্যা এবং এর সঙ্গে অপরাধী চক্রগুলোর সম্পৃক্ততা রয়েছে। অনানুষ্ঠানিক খনি শ্রমিকরা ‘জামা জামা’ নামে পরিচিত, যার অর্থ দাঁড়ায় ‘ঝুঁকি গ্রহণকারী’। তারা প্রায়ই দলবদ্ধভাবে কাজ করেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সহিংস সংঘর্ষে জড়ান।
অবৈধ খনন নিয়ে দক্ষিণ আফ্রকার সর্বশেষ বড় দুর্ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের শেষ দিকে। সে সময় একটি সোনার খনিতে শত শত খনি শ্রমিক ভূগর্ভে আটকা পড়েন। পুলিশ ওই খনিটি ঘিরে রাখার পর উদ্ধার অভিযান নিয়ে কয়েক মাস অচলাবস্থা চলে। কর্তৃপক্ষের মতে, ওই ঘটনায় ভূগর্ভে ৮০ জনের বেশি খনি শ্রমিক মারা যান।
সংগঠিত অপরাধ দমনে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা চলতি বছরের শুরুতে এক বছরের একটি অভিযানে রাস্তায় সেনা মোতায়েনের মতো পদক্ষেপ নেন। অবৈধ খননও ওই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।
১ দিন আগে
অনাকাঙ্ক্ষিত টেলিমার্কেটিং কল নিষিদ্ধ করল ফ্রান্স
ভোক্তাদের বিরক্তিকর বিক্রয় প্রচারণা থেকে সুরক্ষা এবং প্রতারণামূলক বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সুরক্ষায় অনাকাঙ্ক্ষিত টেলিমার্কেটিং বা বাণিজ্যিক কল নিষিদ্ধ করেছে ফ্রান্স। নতুন আইনে ভোক্তার পূর্বানুমতি ছাড়া এ ধরনের ফোনকল করে বিরক্ত করতে পারবে না ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর সরকারের সমর্থিত নতুন এই আইন কার্যকর হয়েছে।
বিভিন্ন দেশ অনাকাঙ্ক্ষিত বিপণন কল বন্ধে ‘অপ্ট-আউট’ ব্যবস্থা চালু করলেও ফ্রান্স আশা করছে, বাধ্যতামূলক ‘অপ্ট-ইন’ ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে।
বছরের পর বছর অভিযোগ
সরকার বলছে, বছরের পর বছর ধরে ভোক্তাদের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই আইনটি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ফ্রান্সের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিক্রয় কল পান। অনেকেই এর চেয়েও বেশি কল পান।
ফ্রান্সে আগে যারা বিপণনমূলক ফোনকল এড়াতে চাইতেন, তাদের সরকারি একটি সেবায় নিজেদের ফোন নম্বর নিবন্ধন করতে হতো। কিন্তু ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করে আসছিল, কিছু কল সেন্টার ওই তালিকা মানত না।
২০২৪ সালে ১১টি ভোক্তা অধিকার সংগঠন যৌথভাবে এ ধরনের কল নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানায়। তারা ল্যান্ডলাইন ও মোবাইল ফোনে অসংখ্য অনাকাঙ্ক্ষিত টেলিমার্কেটিং কলের মাধ্যমে ভোক্তাদের ‘নিরলস হয়রানির’ নিন্দা জানিয়ে বলেছিল, এ ধরনের হস্তক্ষেপ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নিয়মিত অংশ হয়ে উঠেছে।
এরপর গত বছর ফ্রান্সের পার্লামেন্ট আইনটি অনুমোদন করে। এবার নতুন আইনটি বাস্তবায়িত হওয়ায় সেসব জটিলতা দূর হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশটির প্রতিযোগিতা, ভোক্তা বিষয়ক ও প্রতারণা প্রতিরোধ অধিদপ্তরের (ডিজিসিসিআরএফ) চিফ অব স্টাফ অ্যালিস ভিলকট বলেন, ‘ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভোক্তার পূর্বানুমতি ছাড়া তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আবার অনুমতি দিলেও ভোক্তা যেকোনো সময় ওই সম্মতি প্রত্যাহার করতে পারবেন।’
একটি অবৈধ কলেই গুণতে হবে বড় অঙ্কের জরিমানা
অবৈধ টেলিমার্কেটিং কল করা ব্যক্তিকে প্রতি কলের জন্য সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার ইউরো (৮৭ হাজার ডলার) জরিমানা করা হতে পারে। আর কোনো কোম্পানির পক্ষ থেকে অবৈধ কল গেলে প্রতি কলের জন্য সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৭৫ হাজার ইউরো (৪ লাখ ৩৫ হাজার ডলার) জরিমানা গুনতে হতে পারে।
তবে আইনে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। যেমন: কোনো ভোক্তা ফরমে সম্মতির ঘরে টিক চিহ্ন দিয়ে বিপণনমূলক কল পাওয়ার অনুমতি দিতে পারেন। আবার কোনো কোম্পানির সঙ্গে গ্রাহকের আগে থেকেই চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক থাকলে প্রতিষ্ঠানটি তাকে নতুন বাণিজ্যিক প্রস্তাব জানাতে পারবে।
অনাকাঙ্ক্ষিত কলের বিষয়ে মানুষ একটি সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
ভিলকট জানান, আয়ারল্যান্ডভিত্তিক একটি কোম্পানিকে গত বছর ৬০ লাখ ইউরো (৬৯ লাখ ডলার) জরিমানা করা হয়েছিল। ফ্রান্সের আগের টেলিমার্কেটিং বিধি লঙ্ঘন করে ‘নো-কল’ তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের ফোন করার কারণে ওই জরিমানা করা হয়।
ফ্রান্সের নতুন আইনে মরক্কোয় উদ্বেগ
ফ্রান্সের নতুন আইনটি মরক্কোতেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটির কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইউনেস সেক্কুরি আইনপ্রণেতাদের বলেছেন, এতে মরক্কোর কল সেন্টার খাতে ৫০ হাজার পর্যন্ত চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সেক্কুরি বলেন, এ খাতে প্রায় ১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ এসেছে এবং এই খাত বছরে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করে।
কম শ্রম ব্যয়, ফরাসিভাষী বিপুল কর্মী এবং তুলনামূলক দুর্বল শ্রমিক ইউনিয়নের কারণে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে মরক্কো আকর্ষণীয় আউটসোর্সিং গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ব্যয় কমাতে চাওয়া ফরাসি কোম্পানিগুলো দেশটির কল সেন্টার খাতের বড় গ্রাহক।
মরক্কোর আউটসোর্সিং সার্ভিসেস ফেডারেশনের সভাপতি ইউসুফ চ্রাইবি স্থানীয় দৈনিক ‘লে মাতাঁ’কে বলেন, ঐতিহাসিকভাবে ফ্রান্সের বাজার দেশটির এ খাতের আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি জোগান দিয়ে থাকে।
তিনি বলেন, ‘শুধু টেলিমার্কেটিং এখন মোট কর্মকাণ্ডের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ।’ একই সঙ্গে খাতটি প্রচলিত কল সেন্টার সেবার বাইরে ক্রমেই বৈচিত্র্য আনছে বলেও জানান তিনি।
অন্য দেশগুলোর পদক্ষেপ
নাগরিকের সুরক্ষায় ফ্রান্স সরকারের এই পদক্ষেপ বিশ্বে নতুন নয়। প্রতিবেশী দেশ জার্মানিতে ২০০৯ সাল থেকেই এ ধরনের কলের ওপর একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
নেদারল্যান্ডস গত মাসে টেলিমার্কেটিং কলের নিয়ম আরও কঠোর করেছে। দেশটিতে আগে থেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত বিক্রয় কল নিষিদ্ধ ছিল। এখন কোনো কোম্পানি পূর্বানুমতি ছাড়া তাদের বিদ্যমান গ্রাহকদেরও প্রচারণামূলক প্রস্তাব দিতে ফোন করতে পারবে না।
অন্য অনেক দেশ অবশ্য ‘অপ্ট-আউট’ ব্যবস্থা অনুসরণ করে।
যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ জাতীয় ‘ডু নট কল’ রেজিস্ট্রিতে নিজেদের নাম নিবন্ধন করতে পারেন। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিক্রয় কল কমে আসে। কানাডা ও যুক্তরাজ্যেও একই ধরনের ‘ডু নট কল’ তালিকা রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে যারা অনাকাঙ্ক্ষিত কল বন্ধের তালিকায় নিজেদের নাম নিবন্ধন করেছেন, তাদের ফোন করা কোম্পানিকে প্রতি কলের জন্য সর্বোচ্চ ৫ লাখ পাউন্ড (৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার) জরিমানা করার বিধান রয়েছে।
১ দিন আগে
কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১১১
কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে স্থানীয় সময় সোমবার ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮৭ জন। ভূমিকম্পে দেশটির কালি শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় শত শত ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন।
দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে ধসে পড়া ভবনগুলোর ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলে স্বেচ্ছাসেবীরা সারিবদ্ধভাবে বড় বড় কংক্রিটের টুকরা ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নিচ্ছেন।
আলভারো লোপেস নামে এক ব্যক্তি নিজের কুকুরকে কোলে নিয়ে উদ্ধারকাজ দেখছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পাশের ভবনটিও পুরোপুরি ধসে পড়েছে।’
কলম্বিয়ায় উদ্ধারকাজের এই দৃশ্য প্রতিবেশী দেশ ভেনেজুয়েলায় কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা উদ্ধার তৎপরতার কথা মনে করিয়ে দেয়। দেশটিতে কিছুদিন আগে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে আসে।
কলম্বিয়ার ভূমিকম্পে কালি শহর ছাড়াও দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের পেরেইরা, কিবদো ও মানিসালেসসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাশের দেশ ইকুয়েডর ও পানামায়ও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা—ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার এলাকায়। সান হোসে দেল পালমার প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জনসংখ্যার একটি জনপদ। চোকো অঞ্চল কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত।
এমন দুর্যোগ পরিস্থিতিতে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েইয়া জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে অন্তত ৮৭ জন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ১ হাজার ৬০০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৬১টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। উদ্ধার ও পুনর্বাসন তৎপরতায় দ্রুত অর্থ বরাদ্দের জন্য তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েইয়া বলেন, ‘আমরা মানুষকে এই পরিস্থিতিতে একা ছেড়ে যাব না। আমরা দৃড় সংকল্প নিয়ে মানুষকে সহায়তা করব।’
কলম্বিয়ায় শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প
দেশটির ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, সোমবারের এই ভূমিকম্প এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, এটি ২১ শতকে দেশটিতে সংঘটিত হওয়া সব ভূমিকম্পের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এই ভূমিকম্পের পর কয়েকটি পরাঘাতও (আফটার শক) অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থলের আশপাশের কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলটি ‘রিং অব ফায়ার’ নামে পরিচিত। প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে থাকা এই ভূমিকম্পপ্রবণ রেখায় বিশ্বের অধিকাংশ ভূমিকম্প ঘটে থাকে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত চোকো কলম্বিয়ার অন্যতম দরিদ্র অঞ্চল। চোকো অঞ্চলটি ঘন জঙ্গলে ঘেরা। চোকোর বেশিরভাগ এলাকায় নৌকা বা বিমানে যাতায়াত করতে হয়। ফলে সেখানে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র নিরূপণ করা কঠিন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কলম্বিয়র রিসারালদা অঞ্চলে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, ভায়ে দেল কাউকা অঞ্চলে নিহত হয়েছেন ২৭ জন। ভায়ে দেল কাউকা অঞ্চলের কালি শহরে নিহতদের মধ্যে তিনটি শিশুও রয়েছে।
এ ছাড়াও দেশটির চোকো অঞ্চলে ৯ জন, কালদাস অঞ্চলে ২ জন ও আনতিওকিয়া অঞ্চলে ৭৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতদের বাকি ৩২ জনের কোথায় মৃত্যু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
গত জুনের শেষ দিকে প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি ভূমিকম্পে শত শত ভবন ধসে পড়ে। এতে ৬ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এরপর কলম্বিয়ায় নতুন এই ভূমিকম্পে আন্দীয় এই দেশটির মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে, সোমবার বিকেলে কলম্বিয়ার বাসিন্দারা নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে তাদের তথ্য ডিজিটাল ডেটাবেসে দিতে শুরু করেছেন। ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের পরও সাধারণ মানুষ একইভাবে নিখোঁজ স্বজনদের তথ্য দিয়েছিলেন। একটি ডেটাবেসে ২ হাজারেরও বেশি মানুষের নাম যুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই কালি ও পেরেইরা শহরের বাসিন্দা। এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
অপরদিকে, ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়ার পর পরিবারের সদস্যরা মরিয়া হয়ে নিখোঁজদের সন্ধান চালাচ্ছেন। পেরেইরার এক তরুণী মা ও তার শিশুর ছবি নিয়ে স্বজনরা তাদের খুঁজছেন। এদিকে, কালি শহরের ৮০ বছর বয়সী এক নারীর ছবি নিয়ে তার খোঁজ করছেন স্বজনরা।
১ দিন আগে
রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নিহত ১২, আহত ৩৯
রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে দেশটির তাতারস্তান অঞ্চলের নিঝনেকামস্ক শহরে এই হামলা চালানো হয়।
তাতারস্তানের প্রেস সার্ভিসের প্রধান রুস্তাম মিনিখানভ জানিয়েছেন, নিঝনেকামস্ক শহরে শিল্প ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইউক্রেন ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে এ হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ইউক্রেনের কর্মকর্তারাও এ হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
গত কয়েক মাস ধরে ইউক্রেন প্রায় প্রতিদিনই দূরপাল্লার ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে। এতে দেশটিতে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে এবং তেল পরিশোধনের সক্ষমতা কমেছে। ইউক্রেনের সাম্প্রতিক এসব হামলা নিয়ে রাশিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আলোচনার টেবিলে আনতে এবং চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়ার হামলা বন্ধ করতে এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
রাশিয়ার নিঝনেকামস্ক শহরটি ইউক্রেনের সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার। এটি রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পরিশোধন কেন্দ্র। সেখানে দুটি তেল শোধনাগার ও একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা রয়েছে।
ইউক্রেনের তৈরি দূরপাল্লার ড্রোনগুলো রাশিয়ার অভ্যন্তরে ক্রমেই আরও গভীরে প্রবেশ করে হামলা চালাচ্ছে। এরই মধ্যে এসব ড্রোনের কয়েকটি সাইবেরিয়াতেও পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, ইউক্রেন ও রাশিয়া সীমান্ত থেকে সাইবেরিয়া প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
স্থানীয় সময় রবিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা রাশিয়াকে ন্যায্য জবাব দিতে প্রস্তুত এবং তাদের প্রতিটি হামলার জবাব দেওয়া হবে। রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব এখন থেকে তাদের দেশের জনগণও বেশি করে অনুভব করবে।’
তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ এখনও চলার একমাত্র কারণ হলো রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধ করার ইচ্ছা নেই।’
অন্যদিকে, রাশিয়াও নিয়মিতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র, শক্তিশালী গ্লাইড বোমা ও ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনে আকাশপথে হামলা চালিয়ে আসছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিনিয়ত এসব হামলায় বেসামরিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন।
এদিকে, সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ইউরোপীয় কার্যালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় দিনিপ্রো অঞ্চলে অবস্থিত একটি গুদামে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দুইবার হামলা করেছে রাশিয়া।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, এ হামলায় প্রায় ৫ লাখ ডলার মূল্যের জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী ধ্বংস হয়েছে। এসব সামগ্রী যুদ্ধের সম্মুখসারির স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে পাঠানোর জন্য রাখা হয়েছিল।
২ দিন আগে