বিশ্ব
ইরানের হয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ৯ ব্যক্তি ও ৩ প্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা
ইরানের হয়ে যুক্তরাজ্য ও আন্তজাতিক নিরাপত্তার বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগে ৯ ব্যক্তি ও ৩টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির দাবি, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অবৈধ অর্থায়ন ও সহিংস তৎপরতার সঙ্গে জড়িত। তাদের এসব কর্মকাণ্ড যুক্তরাজ্য ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্র বিভিন্ন দেশে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা জন্য তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করছে। এসব বাহিনী-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো অবৈধ অর্থায়নের মাধ্যমে ইরানের হয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করার মতো কার্যক্রমে সহায়তা করছে। তাদের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেন, কিছু সংগঠন ও ব্যক্তি যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করেছে। তাদের থামাতেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ইরান সরকারকে সমর্থন দেওয়া এই অপরাধী চক্রগুলো যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। পাশাপাশি অবৈধ অর্থ লেনদেনের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
যুক্তরাজ্য সরকার ইতোমধ্যে ৫৫০ জন ইরানি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। দেশটির অভিযোগ, ইরান ব্রিটিশ ভূখণ্ডে হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য হামলার ষড়যন্ত্র করছে।
এদিকে, ইরান-সমর্থিত একটি গোষ্ঠী সাম্প্রতিক কয়েকটি ইহুদিবিদ্বেষী হামলার দায় স্বীকার করেছে। এসব হামলার মধ্যে ছুরিকাঘাত এবং উপাসনালয়ে অগ্নিসংযোগের চেষ্টার ঘটনাও রয়েছে।
অপরদিকে, ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই ফাইভ জানিয়েছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইরান-সমর্থিত ২০টির বেশি প্রাণঘাতী ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছে।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা জিন্দাশতি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের অভিযোগ, তারা ইরান-সমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত। এই গোষ্ঠী যুক্তরাজ্যে ব্যক্তি বিশেষকে হুমকি দেওয়া, হামলার পরিকল্পনা বা সরাসরি হামলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রও এই নেটওয়ার্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, একজন মাদক পাচারকারী এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। তিনি ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ইরানবিরোধী সমালোচকদের হত্যা ও অপহরণের কাজ করতেন।
এছাড়া, যুক্তরাজ্যে জারিংহালাম পরিবারের ৫ সদস্যকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অর্থ ব্যবহার করে যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার অভিযোগ রয়েছে।
গত বছর জারিংহালাম পরিবারের তিন ভাই মানসুর, নাসের ও ফাজলোলাহ জারিংহালাম যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল, তারা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে তাদের ছায়া ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইরানের প্রধান পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক ও সামরিক খাতের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ইরানে পাচার করেছেন।
এছাড়া আরও ৪ ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। তাদের মধ্যে দুইজন ইরানি, একজন তুর্কি নাগরিক এবং একজন আজারবাইজানি নাগরিক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারীদের হুমকি দেওয়া, হামলার পরিকল্পনা এবং হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ।
১৬ ঘণ্টা আগে
হামাসের বিচারে ইসরায়েলি আইনপ্রণেতাদের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন
ইসরায়েলি আইনপ্রণেতারা সোমবার একটি বিল অনুমোদন করেছেন যার মাধ্যমে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। এই ট্রাইব্যুনাল ২০২৩ সালে ইসরায়েলে হামাসের হামলায় অংশ নেওয়ায় দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের বিচার করার এবং তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে। ওই হামলার মাধ্যমেই সর্বশেষ গাজা যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল।
স্থানীয় সময় সোমবার (১১ এপ্রিল) এই বিল অনুমদিত হয়।
১২০ আসনের পার্লামেন্টে বিলটি ৯৩-০ ভোটে পাস হয় যা ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এই হামলার জন্য দায়ীদের শাস্তির বিষয়ে ব্যাপক জনসমর্থন প্রতিফলিত করে। বাকি ২৭ জন আইনপ্রণেতা অনুপস্থিত ছিলেন অথবা ভোটদান থেকে বিরত ছিলেন।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছে, ইসরায়েল মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করাকে অত্যন্ত সহজ করে তুলবে এবং একটি সুষ্ঠু বিচারের অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগুলোকে বাতিল করবে। বিবাদীরা তাদের দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন, তবে সেই আপিলগুলো সাধারণ আপিল আদালতের পরিবর্তে একটি পৃথক বিশেষ আপিল আদালতে শুনানি করতে হবে।
যেহেতু এই বিলটি বিচারকদের একটি প্যানেলকে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে এবং এসব বিচার জেরুজালেমের একটি আদালত কক্ষ থেকে সরাসরি সম্প্রচারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এ বিলকে ১৯৬২ সালে নাৎসি যুদ্ধাপরাধী আডলফ আইখম্যানের বিচারের সঙ্গে তুলনা করা যায়। তার বিচার প্রক্রিয়াও টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিল।
আইখম্যানকে ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যা ছিল ইসরায়েলে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনা। যদিও প্রযুক্তিগতভাবে গণহত্যা, যুদ্ধকালীন গুপ্তচরবৃত্তি এবং নির্দিষ্ট কিছু সন্ত্রাসী অপরাধের জন্য ইসরায়েলের আইনে এখনও মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।
বিলের বিরোধীরা আরও বলছেন যে, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই বিচারপ্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচার করা একটি তামাশা বা লোক দেখানো অনুষ্ঠান। তারা উপস্থাপিত হতে যাওয়া প্রমাণের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, এসব প্রমাণ কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ পদ্ধতির মাধ্যমে আদায় করা হয়ে থাকতে পারে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-নেতৃত্বাধীন যোদ্ধারা ইসরায়েলে ঢুকে প্রায় ১,২০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করার মাধ্যমে এই যুদ্ধের শুরু হয়। গাজায় ইসরায়েলের পরবর্তী বিধ্বংসী হামলায় এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৬২৮ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই প্রাণ গেছে অন্তত ৮৪৬ জনের।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, নিহতদের প্রায় অর্ধেকই নারী ও শিশু। হামাস-নেতৃত্বাধীন সরকারি এই মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরিসংখ্যানগুলো জাতিসংঘ এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের কাছে সাধারণত নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচিত।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোটের অংশ এবং এই বিলের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক সিমচা রথম্যান বলেছেন, ইসরায়েলি আইনপ্রণেতারা একটি ‘সাধারণ লক্ষ্য’ অর্জনে একত্রিত হতে পারেন।
হামোকড, আদালাহ এবং ইসরায়েলে নির্যাতনের বিরুদ্ধে পাবলিক কমিটিসহ বেশ কয়েকটি ইসরায়েলি মানবাধিকার গোষ্ঠী গতকাল (সোমবার) জানায়, ‘৭ অক্টোবরের ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার একটি বৈধ এবং জরুরি বাধ্যবাধকতা’ হলেও, অপরাধের যেকোনো জবাবদিহিতা অবশ্যই এমন একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা উচিত যা ‘ন্যায়বিচারের নীতিগুলো বর্জন না করে বরং অন্তর্ভুক্ত করে।’
এই বিলটি গত মার্চ মাসে পাস হওয়া একটি আইন থেকে পৃথক, যে আইনে ইসরায়েলিদের হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো সেই পদক্ষেপটিকে বৈষম্যমূলক ও অমানবিক অ্যাখ্যা দিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছিল।
মার্চের সেই আইনটি ভবিষ্যতের মামলাগুলোর জন্য প্রযোজ্য এবং এটি পেছনের তারিখ থেকে কার্যকর নয়, তাই এটি ২০২৩ সালের অক্টোবরের সন্দেহভাজনদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারত না।
ইসরায়েলে নির্যাতনের বিরুদ্ধে পাবলিক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, দেশটি এখনও তাদের আটক কেন্দ্রে গাজার প্রায় ১ হাজার ৩০০ ফিলিস্তিনিকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটকে রেখেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অন্তত ৭ হাজার গাজাবাসী ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল এবং তাদের মধ্যে ৫ হাজার জনকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এই ১ হাজার ৩০০ জনের মধ্যে তারা অন্তর্ভুক্ত নয় যারা ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা বা জিম্মি করে রাখার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক রয়েছেন।
১৭ ঘণ্টা আগে
পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪
উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানি তালেবানের (টিটিপি) একটি স্বঘোষিত বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১০ মে) সকালে কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানান।
জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদ খান জানান, শনিবার (৯ মে) গভীর রাতে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু জেলায় অবস্থিত একটি চৌকির কাছে একজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী এবং কয়েকজন বন্দুকধারী বিস্ফোরক বোঝাই একটি যানবাহনে বিস্ফোরণ ঘটায়। এই হামলার ফলে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। এতে ঘটনাস্থলেই কিছু কর্মকর্তা নিহত হন এবং বাকিরা ভবন ধসে পড়ার পর প্রাণ হারান।
তিনি আরও জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারে উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কয়েক ঘণ্টা ধরে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেন। এই হামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে নিরাপত্তা বাহিনীও একটি অভিযান শুরু করেছে।
এদিকে, সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে ‘ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান’ নামক একটি নবগঠিত জঙ্গি গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নামে পরিচিত পাকিস্তানি তালেবানের বিচ্ছিন্ন উপদলগুলো মিলে এটি গঠিত হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ এটিকে টিটিপির একটি ছায়া সংগঠন হিসেবে অভিযুক্ত করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে জঙ্গি সহিংসতার ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে, যার বেশিরভাগেরই দায় টিটিপির ওপর চাপানো হয়। এই গোষ্ঠীটি আফগান তালেবানের একটি মিত্র এবং পৃথক সংগঠন বলে পরিচিত।
ইসলামাবাদ প্রায়ই আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে টিটিপিকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তোলে, তবে কাবুল এই দাবি অস্বীকার করে আসছে।
এটির মতো আরও কিছু বিষয় নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া লড়াইয়ে উভয় পক্ষের শত শত মানুষ নিহত হয়েছে।
এপ্রিলের শুরুতে চীন মধ্যস্থতা করার পর আফগান ও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা শান্তি আলোচনায় বসেন। তবে আলোচনা সত্ত্বেও বিক্ষিপ্তভাবে আন্তঃসীমান্ত সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে, যদিও এর তীব্রতা আগের তুলনায় কিছুটা কম।
২ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় অনলাইন জুয়ায় জড়িত ৩২১ বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় একটি অনলাইন জুয়া পরিচালনা কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে ৩ শতাধিক বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।
স্থানীয় সময় শনিবার (৯ মে) পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি দেশটির অবৈধ ডিজিটাল জুয়া নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে পরিচালিত অন্যতম বৃহত্তম অভিযান। গ্রেপ্তারকৃত ৩২১ জন বিদেশি নাগরিকের মধ্যে অধিকাংশই ভিয়েতনামের। জাকার্তার ‘চায়নাটাউন’এলাকার নিকটবর্তী একটি বাণিজ্যিক ভবন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তকারীরা এই ভবনটিকে ৭০টিরও বেশি অনলাইন জুয়া ওয়েবসাইটের কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অভিযানে সংগৃহীত বিপণন রেকর্ড এবং ডিজিটাল প্রমাণ অনুযায়ী, এই চক্রটি মূলত ইন্দোনেশিয়ার বাইরের খেলোয়াড়দের টার্গেট করত।
ইন্দোনেশীয়া পুলিশের জেনারেল ক্রাইম ডিরেক্টর উইরা সত্য ত্রিপুত্র জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে ২২৮ জন ভিয়েতনামি, ৫৭ জন চীনা এবং বাকিরা লাওস, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও কম্বোডিয়ার নাগরিক। তিনি বলেন, এই নেটওয়ার্কের পেছনের মূল পরিকল্পনাকারী এবং অর্থদাতাদের খুঁজে বের করতে তদন্তকারীরা কাজ করছেন।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ত্রিপুত্র বলেন, ‘অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকা অবস্থায় আমরা আসামিদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছি।’
তিনি জানান, এই কার্যক্রম অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে পরিচালিত হতো, যেখানে কর্মীদের কাস্টমার সার্ভিস, টেলি-মার্কেটিং এবং আর্থিক প্রশাসনের মতো বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের ধারণা, এই কেন্দ্রটি প্রায় দুই মাস ধরে চালু ছিল।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে অনেক জুয়া সিন্ডিকেট ঘনঘন তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে এবং ওয়েবসাইট ও কাস্টমার সার্ভিস পরিচালনার জন্য প্রায়ই বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ করে থাকে।
ত্রিপুত্র জানান, সন্দেহভাজনদের অনেকেই স্বল্পমেয়াদি ভিজিটর ভিসা নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন এবং অনুমতিপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সেখানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি আরও যোগ করেন, ‘জুয়া এবং অর্থ পাচারের মতো অপরাধের পাশাপাশি এখানে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বিষয়টিও উন্মোচিত হয়েছে।’
পুলিশ বিভিন্ন দেশের নগদ অর্থ, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, পাসপোর্ট এবং জুয়ার সাইট পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করেছে। কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, এই গোষ্ঠীটি অন্তত ৭৫টি বেটিং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করত।
ত্রিপুত্র জানান, শনিবার পর্যন্ত আটককৃতদের মধ্যে ২৭৫ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং বাকিরা জিজ্ঞাসাবাদের অধীনে রয়েছেন। দোষী সাব্যস্ত হলে ইন্দোনেশিয়ার ফৌজদারি ও অভিবাসন আইনের অধীনে তাদের সর্বোচ্চ ৯ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ বিলিয়ন রুপিয়াহ (১ লাখ ১৬ হাজার ০০০ ডলার) জরিমানা হতে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার ইন্টারপোল ব্যুরোর সচিব উনতুং উইদিয়াতমোকো বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সুরাবায়া, বালি এবং বাতামে একই ধরনের আন্তঃদেশীয় অপরাধের ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। এটি অনলাইন জুয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রতারণা মোকাবিলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও কঠোর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরেছে।
তিনি আরও জানান, কর্তৃপক্ষ এমন কিছু লক্ষণ শনাক্ত করেছে যা থেকে বোঝা যায় যে, মিয়ানমার এবং কম্বোডিয়ায় কড়াকড়ি শুরু হওয়ার পর সেখানে থাকা অনলাইন জুয়া অপারেটররা ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য দেশে তাদের কার্যক্রম সরিয়ে নিচ্ছে।
উইদিয়াতমোকো বলেন, ‘কম্বোডিয়ায় আইন প্রয়োগের পর আমরা ইন্দোনেশিয়ার দিকে এই পরিবর্তন লক্ষ্য করতে শুরু করি এবং এটি এমন একটি বিষয় যা আমরা আগেই অনুমান করেছিলাম।’
গত বুধবার সিঙ্গাপুরের পাশের ইন্দোনেশীয় দ্বীপ বাতামের একটি অ্যাপার্টমেন্টে অভিবাসন নজরদারি অভিযানে ভিয়েতনাম, চীন ও মিয়ানমারের ৪৭ জন নারীসহ ২১০ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা অনলাইন বিনিয়োগ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে ধারণার কথা জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সুরাবায়ার কর্তৃপক্ষ শুক্রবার ঘোষণা করেছে যে, তারা একটি আন্তঃসীমান্ত টেলিফোন এবং অনলাইন প্রতারণা চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে জাপান ও চীনের ৪৪ জন নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। এরা নিজেদের পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিত।
এর আগে গত মার্চ মাসে পশ্চিম জাভার বোগোর শহর থেকে একই মামলায় ১৩ জন জাপানি পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
গত মাসে পশ্চিম জাভার সুকাবুমী রিজেন্সি থেকে চীন, মালয়েশিয়া এবং তাইওয়ানের ১৬ জন সন্দেহভাজন আন্তর্জাতিক প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ফিলিপাইন ও কেনিয়াসহ ২৬ জন কথিত অনলাইন প্রতারককে বালি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল মুসলিমপ্রধান দেশ ইন্দোনেশিয়ায় অনলাইন জুয়া অবৈধ। সংগঠিত অপরাধ এবং আন্তঃদেশীয় সাইবার কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগের কারণে দেশটি বর্তমানে আইন প্রয়োগে আরও কঠোর হয়েছে।
দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত আরও অনেককে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
২ দিন আগে
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আরও ৩৯ জন নিহত
লেবাননে ইসরায়েলের টানা বিমান হামলায় আরও অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৯ মে) লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে সাকসাকিয়েহতে ইসরায়েলি হামলার খবর জানায়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ওই হামলায় ‘প্রাথমিকভাবে সাতজন শহিদ হয়েছেন, যার মধ্যে একটি মেয়ে শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন, তাদের মধ্যে তিনটি শিশু।’
এদিকে আইডিএফ দাবি করেছে, তারা ওই এলাকায় ‘সামরিক কাজে ব্যবহৃত একটি স্থাপনা থেকে পরিচালিত হিজবুল্লাহ সদস্যদের’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
তারা আরও জানায়, হামলার আগে ‘নির্ভুল অস্ত্র ও আকাশপথে নজরদারির’ মাধ্যমে বেসামরিক মানুষের ক্ষতির ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ঘটনার বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানায় আইডিএফ।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, দক্ষিণাঞ্চলীয় সাকসাকিয়েহ শহরে ইসরায়েলের এক হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং ‘নিরীহ বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতির খবর সম্পর্কে’ অবগত রয়েছে।
অন্যদিকে, নাবাতিয়েহ এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা এক সিরীয় নাগরিক ও তার ১২ বছর বয়সী মেয়েকে লক্ষ্য করেও হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, প্রথম হামলার স্থান থেকে সরে যাওয়ার পর ড্রোনটি দ্বিতীয়বার হামলা চালায়, এতে বাবা নিহত হন। এরপর ড্রোনটি মেয়েটিকে ‘সরাসরি তৃতীয়বারের মতো’ লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালায়। মেয়েটির জীবন রক্ষায় অস্ত্রোপচার চলছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৬ এপ্রিল ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পরও ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের অধিকাংশ বিমান হামলা দক্ষিণ লেবাননে হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী দাবি করছে, তারা হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করছে।
এদিকে, হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ। এতে তিনজন ইসরায়েলি সেনা সদস্য আহত হয়েছেন, যাদের একজনের অবস্থা গুরুতর।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে দেশজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় ১২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিকদের আলাদা করে হিসাব দেয়নি।
ইসরায়েলি বাহিনী বর্তমানে সীমান্তবর্তী লেবাননের একটি অংশ দখল করে রেখেছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, উত্তরাঞ্চলের জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার জন্য তারা ‘হিজবুল্লাহমুক্ত নিরাপত্তা অঞ্চল’ গড়ে তুলতে চায়।
এসব এলাকায় পুরো গ্রাম ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, যা গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের মতে, কিছু ঘটনা যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহও লেবানন ও উত্তর ইসরায়েলে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, চলমান ইসরায়েলি হামলার জবাবে শনিবার তারা উত্তর ইসরায়েলে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
আইডিএফ জানিয়েছে, সীমান্তের কাছে ‘হিজবুল্লাহ সন্ত্রাসী সংগঠনের ছোড়া বিস্ফোরকবাহী ড্রোন’ শনাক্ত করা হয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও এরপর থেকে ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা নিহত করার পর ২ মার্চ পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট ও ড্রোন ছোড়ে। এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। মার্চের শুরুতে ইসরায়েলি বাহিনী পুনরায় দক্ষিণ লেবাননে প্রবেশ করে এবং সেখানে গ্রাম ধ্বংসের পাশাপাশি প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা দখলে রাখে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে ২ হাজার ৭৯৫ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে ১৭ জন সেনা ও একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া উত্তর ইসরায়েলে নিহত হয়েছেন আরও দুই বেসামরিক ব্যক্তি।
২ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘বেপরোয়া সামরিক অভিযানের’ অভিযোগ ইরানের
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন যে, যখনই কোনো কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ আসে, যুক্তরাষ্ট্র তখনই একটি ‘বেপরোয়া সামরিক অভিযানের’ পথ বেছে নেয়।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেছেন, ইরানিরা ‘কখনোই কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না’।
এমন সময়ে তিনি এই মন্তব্য করলেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই হামলার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র আরও কয়েকটি ইরানি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
তবে এসব সংঘর্ষের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল রয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য হলো ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তা বন্ধে আলোচনার পথ তৈরি করা।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাব দেওয়ার কথা রয়েছে। ইতালি সফরকালে তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই আশা করি, এটি একটি গুরুতর প্রস্তাব হবে।’
ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপক বেড়ে গেছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায় দুই হাজার জাহাজকে মুক্ত করতে একটি সামরিক অভিযান শুরু করলেও পরে তা স্থগিত করা হয়। ফেব্রুয়ারি থেকে এসব জাহাজ ওই এলাকায় আটকে রয়েছে।
এছাড়া, তেহরানকে মার্কিন শর্ত মেনে নিতে চাপ দিতে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান।
শুক্রবার (৮ মে) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ওমান উপসাগরে ইরানের একটি বন্দরে ঢোকার চেষ্টা করা ইরানি পতাকাবাহী খালি দুটি তেলবাহী ট্যাংকার অচল করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজ দুটি চলমান মার্কিন অবরোধ লঙ্ঘন করছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার্কিন বাহিনী ‘নির্ভুল অস্ত্র’ ব্যবহার করে ট্যাংকার দুটির ধোঁয়ার চিমনিতে আঘাত হানে, যাতে সেগুলো ইরানে প্রবেশ করতে না পারে।
সেন্টকমের তথ্য অনুসারে, মার্কিন বাহিনী বর্তমানে ৭০টিরও বেশি ট্যাংকারকে ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হতে বাধা দিচ্ছে।
পরে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র জানায়, আগামী সপ্তাহে ইসরায়েল-লেবানন বৈঠকের নতুন দফা আয়োজন করতে তারা প্রস্তুত রয়েছে। এর লক্ষ্য লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘর্ষ বন্ধ করা।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, আগামী ১৪ ও ১৫ মে অনুষ্ঠিতব্য ‘নিবিড়’ আলোচনার উদ্দেশ্য হবে ‘ইসরায়েলের জন্য স্থায়ী নিরাপত্তা এবং লেবাননের জন্য সার্বভৌমত্ব ও পুনর্গঠন নিশ্চিত করা।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে, যেকোনো শান্তিচুক্তির জন্য হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি নিরস্ত্র হতে হবে। তবে শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীটি এই আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। গত মাসে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছিল। একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি হলেও তা বারবার লঙ্ঘিত হয়েছে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘর্ষে।
এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার ওয়াশিংটনে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
কাতারের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, সব পক্ষ যেন আলোচনায় অংশ নিয়ে ‘সংকটের মূল কারণ’সমাধান এবং ‘স্থায়ী শান্তি’প্রতিষ্ঠায় কাজ করে।
ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার আগে বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ হয়, যার জন্য দুই দেশই একে অপরকে দায়ী করেছে।
সেন্টকম অভিযোগ করে, ইরান তাদের তিনটি যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষায়, এটি ছিল ‘উসকানিবিহীন হামলা’।
পাশাপাশি, ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ড দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসরমান একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ও আরেকটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং উপকূলীয় কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলা করেছে।
হরমোজগান প্রদেশের মিনাব উপকূলের কাছে হামলার শিকার হওয়া একটি মালবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায় বলে জানান দক্ষিণাঞ্চলীয় ওই প্রদেশের কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাদমেহর।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহরকে তিনি বলেন, ‘আহত ১০ নাবিককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং অন্য নাবিকদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানতে স্থানীয় এবং উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাতে ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র একাধিক ছোট নৌযান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করেছে এবং এতে ‘ইরানি হামলাকারীদের ব্যাপক ক্ষতি’ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আজ যেমন আমরা তাদের আবারও গুঁড়িয়ে দিয়েছি, ভবিষ্যতেও যদি তারা দ্রুত চুক্তিতে স্বাক্ষর না করে, তাহলে আরও কঠোর ও আরও সহিংসভাবে তাদের ওপর আঘাত হানা হবে।’
৩ দিন আগে
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ফের যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, ২ ‘মাদক কারবারি’ নিহত
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারকারী সন্দেহে আরও একটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলা। এ ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ডের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাগরের বুকে নৌকাসদৃশ একটি কালো বস্তুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটছে এবং সেখান থেকে আগুনের কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে।
সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, হামলার পরপরই জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধারে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম চালাতে মার্কিন কোস্ট গার্ডকে জানানো হয়।
এর আগে, গত বুধবার হোয়াইট হাউস থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নতুন সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল অনুমোদন করেছেন। এই কৌশলের আওতায় পশ্চিম গোলার্ধ থেকে মাদক কার্টেল বা অপরাধী চক্র নির্মূল করাকে প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বর থেকে লাতিন আমেরিকার জলসীমা, বিশেষ করে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর এবং ক্যারিবীয় সাগরে কথিত মাদক পাচারকারী নৌযানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। এই ধারাবাহিক অভিযানে এ পর্যন্ত অন্তত ১৯৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তবে ধ্বংস করা এসব নৌকায় আসলেও কোনো মাদক ছিল কি না, সে বিষয়ে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ দেওয়া হয়নি। গত কয়েক সপ্তাহে এ ধরনের হামলার পরিমাণ আরও বেড়েছে।
একই সঙ্গে ট্রাম্প ওই অঞ্চলের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা অপরাধী চক্রগুলো দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন। তিনি মাদক পাচারকারী এবং আন্তঃদেশীয় গোষ্ঠীগুলোকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘অগ্রহণযোগ্য হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।
এদিকে, কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই সাগরে এভাবে নৌকা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মী ও সমালোচকরা।
৩ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় বাস-তেলবাহী ট্যাঙ্কার সংঘর্ষে নিহত অন্তত ১৬
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে তেলবাহী ট্যাঙ্কার ট্রাকের সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (৬ মে) দুপুরে দক্ষিণ সুমাত্রা প্রদেশের নর্থ মুসি রাওয়াস জেলার ট্রান্স-সুমাত্রা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে মুগোনো নামে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, অন্তত ২০ আরোহী নিয়ে চলা আন্তঃনগর বাসটি দক্ষিণ সুমাত্রার লুবুকলিংগাউ শহর থেকে জাম্বি শহরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, সংঘর্ষের আগে বাসটি থেকে আগুনের স্ফুলিঙ্গ বের হচ্ছিল। এতে চালক বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বাসটিকে সড়কের ডান পাশে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা ট্যাঙ্কারটির সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ এড়ানোর সময় পাননি তিনি।
মুগোনো বলেন, ‘সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটিতে আগুন ধরে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা গোটা বাসে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে দুটি যানবাহনই আগুনে পুড়ে গেছে। এ সময় অনেক যাত্রী ভেতরে আটকা পড়েন।’
নিহতদের মধ্যে বাসচালক, ১৩ জন যাত্রী এবং ট্যাঙ্কারের চালক ও তার সহকারী রয়েছেন। তারা সবাই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন।
দুর্ঘটনার পর বাসের চার যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন এবং একজন সামান্য আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের তালিকা এখনও যাচাই করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করতে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।
দেশটির জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থার প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ঘন কালো ধোঁয়া ও আগুনের শিখা উঠছে। সড়কে বাস ও ট্যাঙ্কারের পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে। আর দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
উদ্ধারকর্মী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার এবং ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চালান। কয়েকজন যাত্রী যানবাহনের ভেতরে আটকা পড়ে থাকায় উদ্ধারকাজ জটিল হয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কিছুক্ষণ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
আজ (বৃহস্পতিবার) নর্থ মুসি রাওয়াস ট্রাফিক পুলিশের প্রধান মুহাম্মদ করিম জানান, লুবুকলিংগাউয়ের সিতি আইশাহ হাসপাতালে ১৬টি মরদেহ শনাক্তের জন্য রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, দক্ষিণ সুমাত্রা পুলিশের ডিজাস্টার ভিকটিম আইডেন্টিফিকেশন (ডিভিআই) দল এখন পর্যন্ত পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তাদের মধ্যে বাসচালক, বাসের দুই কর্মী, ট্যাঙ্কারচালক এবং একজন যাত্রী রয়েছেন। বাকি ১১ জনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
সব মরদেহই মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে, ফলে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য প্রাদেশিক রাজধানী পালেমবাংয়ের ভায়ানগকারা পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, পুলিশ আগের প্রাথমিক তথ্য থেকে সরে এসে বলেছে, বাসটি সড়কের একটি গর্ত এড়াতে গিয়ে বিপরীত লেনে চলে গিয়েছিল। এতে সংঘর্ষ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিম্নমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
গত সপ্তাহেও রাজধানী জাকার্তার বাইরে একটি স্টেশনের কাছে বিকল হয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্যাক্সিকে ধাক্কা দেওয়ার পর দূরপাল্লার একটি ট্রেনের সঙ্গে একটি কমিউটার ট্রেনের সংঘর্ষে হয়। ওই ঘটনায় নারী যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত বগিতে থাকা অন্তত ১৫ নারী যাত্রী নিহত হন।
৫ দিন আগে
ইরানের একটি শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডে ৮ জন নিহত
ইরানের রাজধানীর কাছে একটি শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডে ৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জন।
মঙ্গলবার (৫ মে) তেহরান প্রদেশের আন্দিশেহ শহরের আরঘাভান শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে আজ (বুধবার) দেশটির জরুরি সেবা বিভাগ নিশ্চিত করেছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি জানিয়েছে, আগুন লাগার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।
টেলিভিশনে প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, দমকলকর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন এবং বহুতল ভবনটি থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে।
তবে ঘটনাটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
৬ দিন আগে
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ফের নৌযানে মার্কিন বাহিনীর হামলা, নিহত ৩
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পরিবহনের সন্দেহে ফের একটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এ ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ মে) এ ঘটনা ঘটে। এর এক দিন আগে ক্যারিবীয় সাগরে আরেকটি সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌকায় হামলা চালিয়ে ২ জনকে হত্যা করে মার্কিন বাহিনী।
সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নৌযান ধ্বংসে গত সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে লাতিন আমেরিকার জলসীমায় ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এতে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৯১ জন নিহত হয়েছেন।
ইরান যুদ্ধ চলমান থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এসব হামলা আবারও বেড়েছে, যা দেখায় যে পশ্চিম গোলার্ধে কথিত ‘মাদক সন্ত্রাস’ প্রশাসনের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের পরও থেমে নেই। তবে নৌযানে মাদক ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো প্রমাণ দেয়নি মার্কিন সামরিক বাহিনী।
তবে মঙ্গলবার (৫ মে) এ হামলা নিয়ে ইউএস সাউদার্ন কমান্ড আবারও উল্লেখ করে, পরিচিত পাচার রুটে থাকা সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। তারা এক্সে একটি ভিডিও-ও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায়, একটি নৌযান চলার সময় হঠাৎ বড় বিস্ফোরণ হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, লাতিন আমেরিকার সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ‘সশস্ত্র সংঘাতে’ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের প্রবাহ ও অতিরিক্ত মাত্রায় মৃত্যুর ঘটনা ঠেকাতে এসব হামলা প্রয়োজনীয়।
এদিকে, এসব নৌযান হামলার সামগ্রিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা।
৬ দিন আগে