বিশ্ব
ওমানে পরোক্ষ বৈঠকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, যোগ দিয়েছেন মার্কিন সেনা কর্মকর্তা
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত ঠিক করতে ওমানে পরোক্ষ আলোচনা শুরু করেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ ধরনের আলোচনায় প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানের রাজধানী মাসকাটে বহুল প্রতীক্ষিত এই আলোচনা শুরু হয়। এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভবিষ্যতের কূটনৈতিক পথ নির্ধারণ।
আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার, নৌবাহিনী অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার উপস্থিত ছিলেন। ইউনিফর্ম পরে বৈঠকে হাজির হন তিনি। এ বিষয়টি কূটনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বৈঠকে তার অবস্থান মার্কিন সেনাবাহিনীর শক্তি ও গুরুত্বের ইঙ্গিত দিয়েছে বলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
মাসকাটে যখন বৈঠক চলছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও অন্যান্য যুদ্ধজাহাজগুলো আরব সাগরে ইরানের উপকূলে অবস্থান করছিল।
বৈঠকের ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘খুব ভালো’ আলোচনা হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহের শুরুতে আরও কয়েকটি আলোচনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো চুক্তি করতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে এর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান চুক্তি করতে খুবই আগ্রহী মনে হচ্ছে এবং তাদের আগ্রহী হওয়া উচিত।’ তিনি এ-ও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরান আগের আলোচনার অপেক্ষাকৃত আরও বেশি কিছু করতে ইচ্ছুক। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।
তেহরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করতে যুক্তরাষ্ট্র কত সময় অপেক্ষা করতে ইচ্ছুক—সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের সময়ের অভাব নেই। ভেনেজুয়েলার বিষয়টিই দেখুন, তাদের ব্যাপারে আমরা কিন্তু কম সময় অপেক্ষা করিনি! এ ক্ষেত্রেও (ইরান) আমাদের কোনো তাড়া নেই।
গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার আগে ক্যারিবীয় সাগরে মাসের পর মাস ধরে শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানকে ট্রাম্পের হুমকি
ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি করতে বাধ্য করতে একাধিকবার শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর আগে ইরানে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভে হাজারো মানুষ নিহত এবং আরও অসংখ্য মানুষ গ্রেপ্তার হন। সে সময় আন্দোলনকারীদের ওপর তেহরানের কঠোর দমন-পীড়নের মাঝেই ইরানের সীমান্তবর্তী উপকূলে বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র।
এসবের পরিপ্রেক্ষিতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হতে পারে এবং সেই যুদ্ধে তারা নিজেরাও জড়িয়ে পড়তে পারে।
ওইসব দেশগুলোর আশঙ্কা অমূলক নয়। শুক্রবার ওমানে বৈঠক শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগে ইউএসএস লিঙ্কনের কাছাকাছি চলে যাওয়া একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করে মার্কিন বাহিনী। একই সময়ে হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজের গতিরোধের চেষ্টা চালায় ইরান।
পরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা লক্ষ করেছি যে পারমাণবিক আলোচনা এবং মূল বিষয়গুলোর সমাধান অবশ্যই শান্ত, উত্তেজনাহীন ও হুমকিমুক্ত পরিবেশে হওয়া প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো সংলাপের পূর্বশর্ত হলো হুমকি এবং চাপ থেকে বিরত থাকা।’
প্রথম পর্বের এই আলোচনা শেষ হয়েছে জানিয়ে আরাগচি বলেন, কূটনীতিকরা নিজ নিজ দেশে ফিরে যাবেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
১২ ঘণ্টা আগে
যুদ্ধবিরতির মাঝেও কেন হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল?
গেল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) গাজার শিফা হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় ২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ পৌঁছানোর পর হাসপাতালটির এক পরিচালক এমন একটি প্রশ্ন করেছিলেন যা গত কয়েকমাস ধরে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলজুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
শিফা হাসপাতালের মুহাম্মদ আবু সেলমিয়া এক ফেসবুকে পোস্টে প্রশ্ন করেছেন— কোথায় যুদ্ধবিরতি? কোথায় মধ্যস্ততাকারীরা?
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৫৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বুধবার নিহত হন ২৪ জন এবং শনিবার ৩০ জন। একই সময়ে গাজায় চারজন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, উত্তর গাজায় যুদ্ধবিরতি রেখার কাছে রাতভর ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে’ তাদের এক সেনা গুরুতর আহত হন।
এসবের ফলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজার পুনর্গঠন শুরু করা থেকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্যান্য দিকগুলি স্থবির হয়ে পড়েছে। গাজা ও মিসরের মধ্যে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং খোলার ফলে আরও অগ্রগতির আশা করা হয়েছিল। তবে সোমবার ৫০ জনেরও কম লোককে ক্রসিংটি দিয়ে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হয়। ফলে এখন সেটি নিয়েও অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে।
জিম্মিরা মুক্তি পেলেও থমকে আছে অন্যান্য বিষয়
দীর্ঘদিনের স্থবির আলোচনার পর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গত অক্টোবর মাসে সম্মত হয় ইসরায়েল ও হামাস। তখন ট্রাম্প বলেছিলেন, এটি শক্তিশালী, টেকসই ও চিরস্থায়ী শান্তি নিশিত করবে।
চুক্তির শুরুতে হামাস ইসরায়েলের হাতে আটক হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বন্দি এবং নিহতদের দেহাবশেষ ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তাদের হাতে থাকা সকল জিম্মিকে মুক্তি দেয়। কিন্তু চুক্তিতে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার মতো বড় বিষয়গুলো এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমাও দেয়নি।
এদিকে, জিম্মিদের দেহাবশেষ ফেরত পাঠানোর কাজ চুক্তিতে ৭২ ঘণ্টা সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার কথা থাকলেও তা শেষ হতে অনেক সময় গড়িয়ে যায়। হামাস ইসরায়েলকে গত সপ্তাহেই তাদের শেষ জিম্মির মৃতদেহ ফেরত দেয়। তবে ইসরায়েল দাবি করছে, হামাস যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন করে সমস্ত দেহাবশেষ এখনো ফেরত দেয়নি। অপরদিকে, হামাসের দাবি, তারা যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের কারণে সমস্ত মরদেহ শনাক্ত করতে পারেনি। তবে তাদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলায়েল।
যুদ্ধবিরতিতে ধ্বংসাবশেষ অপসারণ ও অবকাঠামো পুনর্বাসনের সরঞ্জামসহ মানবিক সহায়তা দ্রুত প্রবেশের কথাও ছিল। তবে জাতিসংঘ ও মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, শুল্ক ছাড়পত্র ও অন্যান্য বিষয়ে বিলম্বের কারণে গাজার ২০ লাখ মানুষের কাছে সহায়তা প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। অন্যদিকে, গাজায় সহায়তা তদারককারী ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা কোগাট এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে।
অভিযোগ সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতি বহাল
ট্রাম্পের প্রচেষ্টায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এই যুদ্ধে ৭১ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়।
দুই পক্ষই বলছে, চুক্তি এখনও কার্যকর এবং উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি শব্দটি ব্যবহার করছে। তবে ইসরায়েলের অভিযোগ, হামাস যুদ্ধবিরতি রেখার বাইরে তৎপরতা চালাচ্ছে, (ইসরায়েলি) সেনাদের হুমকি দিচ্ছে এবং মাঝে মাঝে গুলিও ছুঁড়ছে। অপরদিকে, হামাস অভিযোগ করছে, ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধবিরতি রেখা থেকে অনেক দূরের আবাসিক এলাকাগুলোতে গুলিবর্ষণ ও হামলা চালাচ্ছে।
ফিলিস্তিনিরা যুক্তরাষ্ট্র ও আরবের মধ্যস্থতাকারীদের আহ্বান জানিয়েছেন, ইসরায়েল যেন প্রাণঘাতী হামলা বন্ধ করে। বুধবারের হামলায় নিহতদের মধ্যে ২টি নকজাতকসহ ৫ শিশু ছিল। এসব ঘটনাকে ইসরায়েলের ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে হামাস।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ৮টি আরব ও মুসলিম দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে চুক্তি কার্যকরের পরও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানায় যাতে যুদ্ধবিরতি টিকে থাকে।
এরপর বুধবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, তারা হামাসের হামলার জবাব দিচ্ছে মাত্র এবং কেবল তাদের সেনাবাহিনীর সুরক্ষায় পদক্ষেপ নিচ্ছে। হামাসের কর্মকাণ্ড যুদ্ধবিরতিকে ক্ষুণ্ন করলেও ইসরায়েল তা বজায় রাখতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি বলেন, হামাস আগের মতো প্রতারণামূলক কৌশল ব্যবহার করে পুনরায় অস্ত্র সংগ্রহ ও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ ও যেকোনো নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে হয়।
অগ্রগতির ইঙ্গিত
ইসরায়েলে শেষ জিম্মির মরদেহ ফেরত পাওয়া, সীমিতভাবে রাফাহ ক্রসিং খোলা এবং গাজা শাসন ও পুনর্গঠন তদারকির জন্য একটি ফিলিস্তিনি কমিটি গঠনের ঘোষণা—এসব কার্যক্রম সহিংসতার মাঝেও যুদ্ধবিরতির চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
গত মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, এখন সময় এসেছে যুদ্ধবিরতি থেকে নিরস্ত্রীকরণ, টেকনোক্র্যাটিক শাসন এবং পুনর্গঠনের দিকে অগ্রসর হওয়ার।
এর জন্য ইসরায়েল ও হামাসকে এমন সব বড় ইস্যুতে সমাধানে আসতে হবে যেগুলোতে তারা তীব্রভাবে বিভক্ত। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েল পুরোপুরি গাজা থেকে সরে যাবে কি না এবং হামাস অস্ত্র ত্যাগ করবে কি না সেসব বিষয়।
তবে রাজনৈতিক নেতারা এখনও যুদ্ধবিরতির কথা বললেও যুদ্ধ থেকে সরে না যাওয়ায় গাজায় হতাশা বাড়ছে।
গত শনিবার সকালে নামাজের সময় গাজা শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আতাল্লাহ আবু হাদাইয়েদ বাইরে ছুটে যান এবং দেখেন তার চাচাতো ভাইরা মাটিতে পড়ে আছে এবং চারপাশে আগুন জ্বলছে।
শরণার্থী শিবির থেকে তিনি বলেন, আমরা জানি না আমরা যুদ্ধে আছি না শান্তিতে।
১ দিন আগে
গর্ভবতী অবস্থায় নারী কাঁচা দুধ পান করায় নবজাতকের মৃত্যু!
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোতে এক নকজাতকের মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গর্ভাবস্থায় ওই নারী অপরিশোধিত কাঁচা দুধ পান করেছিলেন। তা থেকে সংক্রমণেই নবজাতক শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
শিশুটির মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে চলতি সপ্তাহজুড়ে মানুষকে পাস্তুরিত নয় এমন দুগ্ধজাত পণ্য খাওয়া থেকে এড়িয়ে চলতে সতর্ক করেছেন নিউ মেক্সিকোর কর্মকর্তারা।
সাম্প্রতি ‘মেক আমেরিকা হেলদি অ্যাগেইন’ নামে স্থানীয় পর্যায়ে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আন্দোলন শুরু করেছেন স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র। ওই আন্দোলনের প্রভাবে কাঁচা দুধের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কাঁচা দুধের বিক্রিও বেড়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারা গোপনীয়তা রক্ষার উদ্দেশ্যে মৃত নবজাতক ও তার পরিবারের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। অবশ্য এখন পর্যন্ত শিশুটির মৃত্যুর সঠিক কারণ শনাক্ত করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। তবে অপাস্তুরিত দুধই শিশুটির রোগে সংক্রমিত হওয়ার সবচেয়ে সম্ভাব্য উৎস ছিল বলেও উল্লেখ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে এক কর্মকর্তা বলেছেন, তদন্তের সময় সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ ধারণা করা হচ্ছে। শিশুটির শরীরে সংক্রমণের সময় এবং গর্ভাবস্থায় তার মা কাঁচা দুধ পান করেছিলেন এমন তদন্তে উঠে এসেছে।
কাঁচা দুধে লিস্টেরিয়াসহ বেশ কয়েকটি রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু থাকে। এটি এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া যা মায়ের গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব, অকাল প্রসব অথবা নবজাতকের মধ্যে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
২ দিন আগে
ই-বর্জ্য আমদানি নিষিদ্ধ করল মালয়েশিয়া
ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই–বর্জ্য আমদানির ওপর তাৎক্ষণিক ও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মালয়েশিয়া। এ বিষয়ে দেশটির সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা, মালয়েশিয়াকে আর বিশ্ব বর্জ্যের ‘ভাগাড়’ হতে দেবে না।
স্থানীয় সময় বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সকল ই-বর্জ্য তাৎক্ষণিক ও কার্যকরভাবে ‘সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা’ বিভাগের অধীনে পুনরায় শ্রেণিবদ্ধ করা হবে। এর ফলে পরিবেশ বিভাগ যে নির্দিষ্ট কিছু ই-বর্জ্য আমদানিতে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা রাখত, তা বাতিল করা হলো।
দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান আজাম বাকী বলেন, ‘ই-বর্জ্য আর অনুমোদিত নয়।’ অবৈধ আমদানি ঠেকাতে তিনি ‘দৃঢ় ও সমন্বিত আইন প্রয়োগমুলক ব্যবস্থা’ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
বিপুল পরিমাণ আমদানিকৃত ই-বর্জ্য নিয়ে এর আগেও সমস্যায় পড়েছে মালয়েশিয়া। এসব বর্জ্যের মধ্যে অধিকাংশই অবৈধ এবং মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন্দর থেকে সন্দেহজনক শত শত কন্টেইনার ই-বর্জ্য জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ। পরে সেগুলো আবার রপ্তানিকারক দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য নোটিশ দিয়েছে তারা।
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দূর্নীতির অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে মূলত এই নিষেদ্ধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গত সপ্তাহে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ই-বর্জ্য তদারকি নিয়ে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত অভিযোগে পরিবেশ বিভাগের মহাপরিচালক ও উপ-মহাপরিচালকে আটক করে রিমান্ডে নেয় দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশন। এছাড়া তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ব্যাংক হিসাব এবং নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে।
এদিকে, বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ই-বর্জ্য চোরাচালান রোধে সরকার আরও জোরালো পদক্ষেপ নেবে।
পোস্টে আরও বলা হয়, ‘মালয়েশিয়া বিশ্বের বর্জ্যের ভাগাড় নয়। ই-বর্জ্য শুধু আবর্জনা নয়, এটি পরিবেশ, মানুষের স্বাস্থ্য ও জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি।’
২ দিন আগে
‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ ফুরাচ্ছে, বাড়ছে অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক প্রতিযোগিতার আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্য দিয়ে অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে বিদ্যমান অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির অবসান হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের দুই বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডারের ওপর আর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকছে না। ফলে নিয়ন্ত্রণহীন একটি নতুন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার পথ খুলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সীমাহীন অস্ত্র প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নিউ স্টার্ট (New START) চুক্তির অবসান হলে নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমনকি নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা নতুন মাত্রায় পৌঁছাতে পারে, যেখানে চীনের অস্ত্র ভাণ্ডারও যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এ ব্যাপারে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ওয়াশিংটন সম্মত হলে আরও এক বছরের জন্য চুক্তির বিধিনিষেধ মেনে চলতে তিনি প্রস্তুত। তবে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে এখনও সুস্পষ্ট অবস্থান নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গেল সোমবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর সীমা বজায় রাখতে চান বলে বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। সেইসঙ্গে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় চীনকেও তিনি অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী। তবে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের সময়সীমা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার তুলনামূলক ছোট হলেও ক্রমেই এর পরিসর বাড়ছে। তবে নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপে বরাবরই আপত্তি জানিয়ে আসছে বেইজিং।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো সীমা না থাকলে বিশ্ব আরও ‘বিপজ্জনক’ হয়ে উঠবে।
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণপন্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়ার অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে, যা বিদ্যমান বৈশ্বিক অস্থিরতার পাশাপাশি পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়াবে।
২ দিন আগে
মা, ভাইবোনদের বাঁচাতে সমুদ্রে ৪ ঘণ্টা সাঁতরাল কিশোর
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে ভেসে যাওয়া মা ও দুই ছোট ভাইবোনকে বাঁচাতে তীব্র ঠান্ডা পানিতে উত্তাল সমুদ্রে চার ঘণ্টা সাঁতরেছে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে পার্থের বাসিন্দা ওই পরিবারটি কায়াক (ছোট নৌকা) এবং প্যাডেলবোর্ড নিয়ে সাগরে নেমেছিল। এর মধ্যে উত্তাল সমুদ্র এবং প্রবল বাতাস তাদের টেনে নিয়ে যেতে শুরু করে। এরপর প্রায় ৪ কিলোমিটার সাঁতার কেটে তীরে পৌঁছায় কিশোর অস্টিন অ্যাপেলবি এবং মা, ভাইবোনদের উদ্ধারের জন্য কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায়।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) অস্টিন বলে, ‘ঢেউগুলো ছিল বিশাল এবং আমার গায়ে কোনো লাইফ জ্যাকেট ছিল না।… আমি শুধু ভাবছিলাম—শুধু সাঁতার কাটতে থাকো, সাঁতার কাটতে থাকো। একসময় আমি তীরে পৌঁছাতে পারি এবং সৈকতে আঘাত করি ও পড়ে যাই।’
সে আরও জানায়, কায়াকে যাওয়ার সময় প্রথমে সে লাইফ জ্যাকেট পরেছিল। কিন্তু সমুদ্র উত্তাল ছিল এবং প্যাডেলবোর্ডটি পানিতে ডুবে যাচ্ছিল, তাই সে সেটি থেকে নেমে পড়ে। এরপর সাঁতার কাটতে সমস্যা হওয়ায় লাইফ জ্যাকেটটিও খুলে ফেলে। তার ভাষ্য, তখন ইতিবাচক চিন্তাভাবনায় মনোযোগী হওয়ার চেষ্টা করে সে।
সেদিন দুপুরের আগেই পরিবারটি তাদের সমুদ্র অভিযানে বেরিয়ে পড়েছিল। অস্টিনের কর্তৃপক্ষকে জানাতে সন্ধ্যা ৬টা বেজে যায় এবং রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মা জোয়ান অ্যাপেলবি (৪৭), ভাই বিউ (১২) এবং বোন গ্রেসকে (৮) উদ্ধার করে একটি হেলিকপ্টার।
পরিবারটি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া রাজ্যের কুইন্ডালুপ থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার সমুদ্রের গভীরে ভেসে গিয়েছিল। প্রায় ১০ ঘণ্টা তারা পানিতে ভেসেছিল।
স্থানীয় পুলিশ পরিদর্শক জেমস ব্র্যাডলি বলেন, ছেলেটির কাজের কেবল প্রশংসাই যথেষ্ট নয়, তার দৃঢ় সংকল্প এবং সাহস তার মা এবং ভাইবোনদের জীবন বাঁচিয়েছে।
জোয়ান অ্যাপেলবি সাংবাদিকদের বলেন, আমি তো ছেলেমেয়েদের সাগরের মাঝখানে রেখে তীরে চলে আসতে পারি না! তাই বড় ছেলেকে পাঠাই।
অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে তিনি বলেন, আমার জীবনে নেওয়া সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে একটি ছিল অস্টিনকে বলা— চেষ্টা করো, তীরে গিয়ে সাহায্য নাও। কারণ আমরা খুব শিগগিরই বড় বিপদে পড়তে পারি।
তিনি আরও বলেন, শুরুতে আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে অস্টিন তীরে পৌঁছাবে, কিন্তু যখন সূর্য অস্ত যেতে শুরু করে এবং তখনও আমাদের কাছে সাহায্য পৌঁছায়নি, তখন ছেলের বিষয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছিল।
জোয়ান অ্যাপেলবি বলেন, যখন আমাদের উদ্ধার করা হয়, তখন আমরা তিনজনই কাঁপছিলাম। তীব্র ঠান্ডায় বিউয়ের পা তো অবশই হয়ে গিয়েছিল। তবে আমার তিনটি বাচ্চা, তিনজনই বেঁচে আছে—এটাই আসল কথা।
৩ দিন আগে
সীমিত পরিসরে খুলল গাজার রাফাহ ক্রসিং
মিসরের সঙ্গে গাজার সীমান্তবর্তী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাফাহ ক্রসিং খুলে দিয়েছে ইসরায়েল। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গাজায় প্রবেশের অন্যতম এই দুয়ার সীমিত পরিসরে খুলে দিয়েছে ইসরায়েল। এটিকে যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টার অন্যতম অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েল ও মিসর উভয় পক্ষ থেকেই রাফাহ ক্রসিং খুলে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা। মিসরের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মিসরীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রথম দিনে এই ক্রসিং দিয়ে গাজা থেকে ৫০ জন ফিলিস্তিনি এবং আরও ৫০ জন ফিলিস্তিনি বাইরে থেকে গাজায় প্রবেশ করতে পারবেন। যুদ্ধবিরতি চুক্তি আলোচনায় যুক্ত কর্মকর্তারা এ কথা জানালেও নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
মিসরের সঙ্গে গাজার একমাত্র সংযোগপথ ও গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার প্রধান এই পথটি খুলে দেওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে খান ইউনিসের বাসিন্দা ঘালিয়া আবু মোস্তফা বলেন, ‘ক্রসিং খুলে দেওয়া একটি ভালো পদক্ষেপ, কিন্তু তারা যাতায়াতের জন্য মানুষের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে, যা একটি সমস্যা।’
গাজায় ত্রাণ পরিষেবা নিয়ন্ত্রণকারী ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা বলেছে, ক্রসিংটি পরীক্ষামূলকভাবে খোলা হয়েছে। ফিলিস্তিনের বাসিন্দারা সোমবার থেকে ক্রসিংটি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে শুরুতে কেবল নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যক মানুষ যাতায়াতের অনুমতি পাবেন।
রাফাহ শহর থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া সুহাইলা আল-আস্তাল বলেন, ‘আমরা চাই বিপুল সংখ্যক মানুষ বাইরে যাওয়ার সুযোগ পাক। ক্রসিংটি স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়া হোক যাতে অসুস্থ রোগীরা বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে আসতে পারে।’ এ সময় নিজের অসুস্থ মেয়ের বিদেশে চিকিৎসা প্রয়োজন জানিয়ে ক্রসিংটি স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ইসরায়েলের এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এল যার আগের দিনই তাদের হামলায় বেশ কয়েকটি শিশুসহ অন্তত ৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এটিই এক দিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানি। ইসরায়লের দাবি, হামাস যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে বলে এই হামলা।
৫ দিন আগে
দুর্নীতির অপরাধে চীনে ফুটবল অঙ্গনে ৭৩ জনকে আজীবন নিষিদ্ধ
চীনের সর্বশেষ দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে ফুটবল-সংশ্লিষ্ট ৭৩ জনকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির শীর্ষ স্তরের নয়টি ক্লাবের পয়েন্ট কাটা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন সাবেক জাতীয় দলের কোচ ও এভারটনের খেলোয়াড় লি থাই এবং চীনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (সিএফএ) সাবেক সভাপতি চেন শুয়ুয়ান।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সিএফএর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিচারের রায়ে যাদের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, তাদের সব ধরনের ফুটবল-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে সিএফএ। চেন শুয়ুয়ান ও লি থাইসহ মোট ৭৩ জন ফুটবল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন।’
২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত জাতীয় দল পরিচালনা করা লি এবং চেন ২০২৪ সালে কোটি কোটি ডলারের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। সে সময় লি থাইয়ের ২০ বছরের কারাদণ্ড হয়, আর চেন শুয়ুয়ানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত।
একই সঙ্গে চীনা সুপার লিগের ৯টি ক্লাবকেও পয়েন্ট কর্তন ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
গত মৌসুমে রানার্সআপ হওয়া সাংহাই শেনহুয়া এবং তিয়ানজিন জিনমেন টাইগার্স সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুই ক্লাবেরই ১০ পয়েন্ট কাটা হয়েছে এবং প্রত্যেককে ১০ লাখ ইউয়ান (প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার ডলার) জরিমানা করা হয়েছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সাংহাই পোর্ট ২০২৬ মৌসুম শুরু করবে পাঁচ পয়েন্ট কর্তন নিয়ে।
সিএফএ জানায়, ‘প্রতিটি ক্লাব যে অনিয়মিত লেনদেনে জড়িত ছিল, তার পরিমাণ, প্রকৃতি, গুরুত্ব এবং সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে পয়েন্ট কর্তন ও আর্থিক দণ্ড দেওয়া হয়েছে।’
বিবৃতিতে দুর্নীতির বিষয়ে ‘শূন্য-সহনশীলতা’ নীতি বজায় রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করে সংস্থাটি।
এর আগে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে একই ধরনের অপরাধে ৪৩ জন কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়কে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল চীন।
৯ দিন আগে
মিয়ানমারভিত্তিক অপরাধচক্রের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল চীন
মিয়ানমারভিত্তিক একটি পারিবারিক অপরাধ চক্রের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। চক্রটির বিরুদ্ধে ১৪ জন চীনা নাগরিককে হত্যা এবং ১০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের প্রতারণা ও জুয়া কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ ছিল।
ওয়েনঝৌ সিটি ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্ট বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে এক বিবৃতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানায়।
গত সেপ্টেম্বরে দেশটির আদালত ওই ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন মিং গুওপিং ও মিং ঝেনঝেন, যারা প্রতারণা ও জুয়া কার্যক্রমের নেতৃত্বে ছিলেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়। এছাড়া ঝৌ ওয়েইচ্যাং, উ হংমিং ও লুও জিয়ানঝাংওয়ের মতো চক্রটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও এই শাস্তি পেয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ডের আদেশ পাওয়ার পর চক্রটির পক্ষ থেকে আপিল করা হলেও গত নভেম্বরে আদালত তা খারিজ করে দেয়।
২০২৩ সালের নভেম্বরে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধ দমনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওপর চীনের কেন্দ্রীয় সরকার চাপ প্রয়োগ করলে ওই পারিবারিক চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, বিশেষ করে মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও লাওসে ‘স্ক্যাম পার্ক’ শিল্পভিত্তিক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। সেখানে পাচার হওয়া ও স্বেচ্ছায় যুক্ত হওয়া শ্রমিকদের দিয়ে সারা বিশ্বের ভুক্তভোগীদের লক্ষ্য করে ডিজিটাল প্রতারণা চালানো হয়ে থাকে।
এই ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিস্তার রোধে চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে অঞ্চলটির কর্তৃপক্ষের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।
৯ দিন আগে
কলোম্বিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, কংগ্রেস সদস্যসহ নিহত ১৫
কলোম্বিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দেশটির কংগ্রেসের এক সদস্যসহ ১৫ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন।
নর্তে দে সান্তানদের প্রদেশের একটি গ্রামীণ এলাকায় স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান সংস্থা সাতেনা জানায়, প্রদেশের কুরাসিকা এলাকার স্থানীয় কর্মকর্তারা বিমানটি যেখানে বিধ্বস্ত হওয়ার খবর কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর যাত্রীদের অবস্থার মূল্যায়ন করতে একটি উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়।
পরে কলোম্বিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ঘটনাস্থলে বিমানটি শনাক্ত করার পর অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, বিমানটির কোনো আরোহী বেঁচে নেই।’
প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কর্মকর্তারা কিছু জানাননি, তবে এ বিষয়ে তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
সাতেনার বিবৃতিতে বলা হয়, বিমানটি বুধবার বেলা ১১টা ৪২ মিনিটে প্রাদেশিক রাজধানী কুকুতা বিমানবন্দর থেকে পাহাড়ঘেরা পৌর এলাকা ওকানিয়ার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। তবে উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পরই আকাশযান ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সঙ্গে বিমানটির শেষ যোগাযোগ হয়।
সাতেনা জানায়, বিমানটিতে দুজন ক্রু সদস্য ও ১৩ জন যাত্রী ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন কাতাতুম্বো এলাকার প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য দিয়োগেনেস কুইন্তেরো (৩৬)। নিহতদের তালিকায় কংগ্রেসে প্রার্থী সামাজিক নেতা কার্লোস সালসেদোও রয়েছেন।
কুইন্তেরো ছিলেন কলম্বিয়ার ভেনেজুয়েলা সীমান্তঘেঁষা উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দা। যেখানে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তিনি সেখানকারই বাসিন্দা এবং একজন প্রখ্যাত মানবাধিকারকর্মী ছিলেন।
পেশায় আইনজীবী কুইন্তেরো ২০২২ সালে দেশটির প্রতিনিধি পরিষদের ১৬ জন সদস্যের একজন হিসেবে নির্বাচিত হন, যারা কলোম্বিয়ার কয়েক দশক ধরে চলা সশস্ত্র সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ৯০ লাখের বেশি ভুক্তভোগীর প্রতিনিধিত্ব করেন। এই আসনগুলো ২০১৬ সালে কলোম্বিয়া সরকার ও দেশের সবচেয়ে বড় গেরিলা গোষ্ঠী ফার্কের (FARC) মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে সৃষ্টি করা হয়।
কুইন্তেরোর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তার দল ইউ পার্টি জানিয়েছে, তিনি ছিলেন নিজ অঞ্চলের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সেবার প্রতি দৃঢ় দায়িত্ববোধসম্পন্ন এক নেতা।
কলোম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, ‘এই মৃত্যুগুলো আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। তাদের পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। তাদের আত্মা শান্তি পাক।’
৯ দিন আগে