প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে ভুয়া গেজেট তৈরি ও প্রতারণার অভিযোগে আরিফ মাঈনুদ্দিন (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানা এলাকা থেকে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ও কক্সবাজার জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আজ (রবিবার) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।
ডিবিপ্রধান বলেন, আমরা কিছু তথ্য ও ডকুমেন্টের ভিত্তিতে জানতে পারি, আরিফ মহউদ্দিন নামের একজন ব্যক্তি বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছেন। তিনি নিজেকে কোনো সময় ড. আরিফ মহিউদ্দিন, কোন সময় শুধু মহিউদ্দিন, কোনো সময় মহিউদ্দিন চৌধুরী নাম ব্যবহার করে এসব প্রতারণা করতেন। গতকাল তাকে কক্সবাজার থেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।
তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার মোবাইল ফোন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, তিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ অ্যাডভাইজর (উপদেষ্টা) হিসেবে পরিচয় দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক শাহাবুদ্দিন জামিলের সিল ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর বায়োগ্রাফি তৈরি করে বিভিন্ন লোকের কাছে পাঠান এবং একটি সরকারি গেজেটে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে পোস্ট করেন, যেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনির সই রয়েছে। আসলে এমন একটি প্রকৃত গেজেট তিনি এডিট করে নিজের নাম বসিয়েছেন। এটা তিনি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরেও পাঠাচ্ছিলেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার আরিফ মহিউদ্দিন ‘গুম কল্যাণ ট্রাস্ট’ নামের একটি সংগঠনের সরকারি সিল ও মনোগ্রাম ব্যবহার করে বিভিন্ন দপ্তরে পাঠাচ্ছিলেন। একজন সরকারি ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাকে এটির সভাপতি ও নিজেকে সদস্যসচিব ঘোষণা করে তিনি এই সংগঠনের নামে বিভিন্নজনের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা বা চাঁদা চাচ্ছিলেন।
তিনি বলেন, এছাড়া তিনি একইভাবে নিজেকে প্রতিমন্ত্রী দাবি করে দুদক বরাবর চিঠি লিখেছেন। তাকে এক হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকেও চিঠি লিখেছেন।
ডিবিপ্রধান আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তির মোবাইল ফোন প্রাথমিকভাবে যাচাই করে আমরা অসংখ্য প্রতারণার তথ্য পেয়েছি। তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছি। এখন জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্য পাচ্ছি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনের আওতায় নেওয়া হবে।
এর আগে আরিফ মহিউদ্দিন কখনও আটক হয়েছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি মামলায় আগেও আটক হয়েছিল। এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ২০২৪ সালে তার নামে চকরিয়া থানায় একটা জিডি করা হয়েছিল। সাইবার মামলায় তার বিরুদ্ধে সাজাও হয়েছে। পাঁচ বছরের সেই সাজা এখন কোন পর্যায়ে আছে, আমরা তা খতিয়ে দেখছি।