গ্রেপ্তার
৩ মোটরসাইকেলসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তিনটি চোরাই মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ।
এর আগে গতকাল (বুধবার) রাতে সদর উপজেলার রানীহাটি-বৈলতলা এলাকা থেকে তিনজন এবং শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন শিবগঞ্জ উপজেলার হাউসনগরের আব্দুস সালাম, দাদনচক এলাকার সোহেল রানা, আসিফ, তারাপুর-মুন্নাপাড়ার মোহাম্মদ আলী, শ্যামপুর সাহাপাড়ার ইমন রেজা ও কয়লাদিয়াড় গ্রামের আশিক।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের একটি দল বুধবার রাতে রানীহাটি-বৈলতলা এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে আব্দুস সালাম, সোহেল রানা ও আসিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদ আলী, ইমন রেজা ও আশিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেল চুরি ও ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত। তারা মোটরসাইকেল চুরির পর জেলার বাইরে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল বিক্রি করতে না পারলে এর পার্টস খুলে বিক্রি করেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আগেও মোটরসাইকেল চুরির মামলা হয়েছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।
২ দিন আগে
ঝিনাইদহে বন্দুকসহ ‘সন্ত্রাসী’ আবু সাইদ গ্রেপ্তার
ঝিনাইদহে হরিণাকুণ্ডু এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত আবু সাইদকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় তার হেফাজত থেকে একটি ওয়ান শুটার গান জব্দ করা হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঝিনাইদহ সদর থানায় আবু সাইদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি নতুন মামলা হয়েছে।
এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) রাত ১২টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহিষকুণ্ডু মাঠপাড়ার একটি ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আবু সাইদ হরিণাকুণ্ডু উপজেলার পারদখলপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহিষকুণ্ডু মাঠপাড়ায় বাসা ভাড়া নিয়ে আত্মগোপনে বসবাস করছিলেন।
ঝিনাইদহ গোয়েন্দা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহিষকুণ্ডু এলাকায় এক চিহ্নিত সন্ত্রাসী অবৈধ অস্ত্রসহ অবস্থান করছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার গভীর রাতে ডিবি পুলিশের একটি দল ওই ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালায়। স্থানটি ঘেরাও করে তল্লাশি চালানোর একপর্যায়ে আবু সাইদের কাছ থেকে একটি অবৈধ ওয়ান শুটার গান উদ্ধার করা হয়। পরে সেটি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিনাইদহ জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম জানান, ‘গ্রেপ্তার আবু সাইদ এলাকার একজন দুর্ধর্ষ ও পরিচিত সন্ত্রাসী। তিনি হরিণাকুণ্ডু অঞ্চলে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলে বিভিন্ন অপরাধ চেইন নিয়ন্ত্রণ করতেন। পুলিশের রেকর্ডে তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও একাধিক অস্ত্র মামলাসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের তথ্য রয়েছে। তার হেফাজত থেকে ১টি ওয়ান শুটার গান উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার আবু সাইদের বিরুদ্ধে আজ (বুধবার) ঝিনাইদহ সদর থানায় অস্ত্র আইনে একটি নতুন মামলা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বুধবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
৩ দিন আগে
রাজধানীতে শিক্ষিকা হত্যা মামলার আরও ২ আসামি গ্রেপ্তার
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভিন (৫৬) নিহতের ঘটনায় সরাসরি জড়িত দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন মো. খোকন (৩৫) ও মো. রাজিব মাতুব্বর (৩৬)। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, রনজিলার লুণ্ঠিত ব্যাগ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। রাজিবের কাছ থেকে ৬২২টি ইয়াবা ট্যাবলেটও উদ্ধার করা হয়।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
ডিবি জানায়, গত ২৯ আগস্ট সকালে রনজিলা তার স্বামী মো. আব্দুল মতিনের সঙ্গে রিকশায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পূর্বপ্রান্তে ১২ নম্বর গেট পার হয়ে খেজুরবাগানমুখী সড়কে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা খোকন ও রাজিব তাদের অনুসরণ করতে থাকে।
খেজুরবাগানের সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা খোকন রনজিলার হাতে থাকা ব্যাগ ধরে সজোরে টান দেন। এতে ভারসাম্য হারিয়ে রিকশা থেকে পাকা সড়কে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান রনজিলা। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আব্দুল মতিন শেরেবাংলা নগর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
ঘটনার পর থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবির তেজগাঁও বিভাগ ছায়াতদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, তথ্য সংগ্রহ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। পরে ঢাকা, সাভার ও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে খোকন ও রাজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি জানায়, খোকনকে মিরপুরের মনিপুর পশ্চিমপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মোটরসাইকেলের পেছনে বসে রনজিলার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার কথা জানান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুরের বড়বাগ এলাকা থেকে ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়। ব্যাগের মধ্যে রনজিলার কাপড়, একটি টিকিটের অংশ, চশমার কেস ও কিছু ওষুধ ছিল।
পরে মিরপুর-১-এর কো-অপারেটিভ মার্কেট এলাকা থেকে রনজিলার মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, সাভারের বিরুলিয়া এলাকা থেকে রাজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় রাজিব মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভাষানটেকের দেওয়ানপাড়া এলাকা থেকে ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। ডিবি জানায়, মোটরসাইকেলটি রাজিবের নিজের, ভাড়া করা নয়।
এছাড়া খোকনের পরনে থাকা শার্ট, হাতে থাকা ঘড়ি ও মাথায় থাকা ক্যাপও উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবি জানায়, রনজিলার ব্যাগ, মোবাইল ফোন, কাপড়, ওষুধ ও টিকিটের অংশ গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, রনজিলার স্বামী ঘটনার সময় ছিনতাইকারীকে অল্প সময়ের জন্য দেখেছিলেন। পরে তিনি মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার দুজন শুধু এ ঘটনায় জড়িত, নাকি তারা নিয়মিত ছিনতাইকারী দলের সদস্য এবং ঢাকার অন্য কোনো ঘটনায়ও জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ডিবি আরও জানায়, রাজিবের বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতি, চুরি, মারামারি ও দ্রুত বিচার আইনে করা মামলাসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে। খোকনের বিরুদ্ধে মাদক আইনে তিনটি মামলা রয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন ছিনতাই ও রনজিলা নিহতের ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে ডিবি। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
৩ দিন আগে
কুমিল্লায় বোন-ভাতিজা হত্যা মামলার মূল আসামি গ্রেপ্তার
কুমিল্লার মুরাদনগরে জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন: আবু মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম ও পালিত কন্যা ইতি।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নিহত খালেদা আক্তার ও তার ভাই মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়ার পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গেল সোমবার সন্ধ্যায় খালেদা আক্তার ও তার ভাতিজা মনজুরুল আলম তুতুর ওপর হামলা চালান আবু মিয়া। একপর্যায়ে দা দিয়ে কুপিয়ে তাদের হত্যা করেন তিনি।
এ ঘটনায় নিহতদের স্বজন নাসিম হায়দার সুজন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মুরাদনগর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর বাদশা মিয়া বাজার এলাকা থেকে আবু মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম ও পালিত কন্যা ইতিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকায় একটি ট্রেন থেকে মামলার মূল আসামি আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার তিনজনকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
৩ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ে জুয়ার আসর থেকে ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার
ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পাশের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে জুয়ার আসর থেকে ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ সময় পুলিশের অভিযানে বাধা দেওয়ার ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল রানা আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পুলিশের পক্ষ থেকে এ ব্যপারে সদর থানায় একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
গেল সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হলপাড়া এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তাররা হলেন: ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শান্তি কুমার রায় (৩৭), কনস্টেবল মো. সোহেল রানা (৩৩), কনস্টেবল আলমগীর কবির (৩৩) এবং সদর ফাঁড়িতে কর্মরত এএসআই মো. শাহাদত জামান (৩৯)।
ওই আসরে থাকা আরও দুই সদস্য অভিযানের সময় পালিয়ে যান। তারা হলেন: পঞ্চগড় জেলা পুলিশের এটিএসআই মো. আতাউর রহমান (৪০) এবং পিবিআই ঠাকুরগাঁওয়ের কনস্টেবল মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮)। তাদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে কার্যালয়ের উত্তর পাশে থাকা একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে পুলিশ সদস্যদের জুয়া খেলার তথ্য পাচ্ছিল পুলিশ। সোমবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পারে সদর থানার টহল দল।
পরে রাত দেড়টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. আলমগীর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই ঘরে অভিযান চালায়। সে সময় ঘরটিতে তাস খেলার সঙ্গে টাকার লেনদেন চলছিল।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা ব্যক্তিরা বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের আটক করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের পেছনে ধাওয়া করে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল রানা আহত হন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে তার ডান হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে তাস, জুয়ার বোর্ডে থাকা নগদ টাকা ও কয়েকটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের পাশে চারটি মোটরসাইকেলও পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. লিখন হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। মঙ্গলবার মামলাটি সদর থানায় নথিভুক্ত করা হয়। এতে ২০২৬ সালের জুয়া প্রতিরোধ আইনের ১৫ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩২৩ ও ৩২৫ ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
মামলাটির তদন্ত করছেন সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুজিত কুমার পাল। তিনি বলেন, অপরাধের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক দুজনকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. খোদাদাদ হোসেন বলেন, আমরা নিয়মিত মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছি। কয়েক দিন ধরে আমাদের পুলিশের কিছু বিপথগামী সদস্য জুয়া খেলার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাচ্ছিলাম। পরে বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। সাধারণ অপরাধীদের বিরুদ্ধে যেভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাদের বিরুদ্ধেও একইভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আটক পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় জুয়া আইনে মামলা করা হয়েছে। তারা বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন। আজ (বুধবার) আসামিদের আদালতে নেওয়ার কথা রয়েছে।
৩ দিন আগে
খুলনা থেকে ‘অপহৃত’ কলেজছাত্রী সিলেটে উদ্ধার, যুবক গ্রেপ্তার
সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে খুলনা থেকে অপহরণের দাবি করা এক কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করেছে র্যাব-৯। এ ঘটনায় খুলনায় হওয়া একটি অপহরণ মামলার প্রধান আসামি ইমরান মোল্ল্যাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে সিলেট কোতোয়ালী থানাধীন আম্বরখানা এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার ইমরান মোল্ল্যা খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার নাসিরপুর গ্রামের বাসিন্দা।
র্যাব জানিয়েছে, খুলনার পাইকগাছা উপজেলার একাদশ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে ইমরান তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে সাড়া না পেয়ে বিভিন্ন সময় তাকে অপহরণের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৮ আগস্ট সকালে ওই শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে কলেজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর ফিরে না এলে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন তারা জানতে পারেন, কলেজের সামনে থেকে তাকে একটি গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে পাইকগাছা থানায় মামলা করেন।
র্যাব জানায়, মামলার পর তারা ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এর ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল (রবিবার) রাতে সিলেট কোতোয়ালী থানাধীন আম্বরখানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মামলার প্রধান পলাতক আসামি ইমরান মোল্ল্যাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার আসামি ও উদ্ধারকৃত শিক্ষার্থীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
৫ দিন আগে
গাজীপুরে খণ্ডিত নারীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত, হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩
গাজীপুরের জয়দেবপুরে ডোবার পানিতে ব্রিফকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় পাওয়া খণ্ডিত ও অর্ধগলিত নারীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সেই সঙ্গে কেন তাকে হত্যা করা হয়েছে, সেই রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নিহত ডলি আক্তারের (৩০) কথিত প্রেমিক মিশন ইসলাম (২২), তার মা বানু আক্তার (৪৩) ও মিশনের বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টন (২৪)।
এ বিষয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি দা, মৃতদেহ প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, নিহতের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি কার্ড), মোবাইল ফোন ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর জয়দেবপুর থানার ভবানীপুর এলাকায় হামজা অ্যাপারেলস লিমিটেডের উত্তর পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশের একটি খাল থেকে ব্রিফকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা খণ্ডিত ও অর্ধগলিত নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের পরিচয় তখন শনাক্ত করা যায়নি।
ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পিবিআই গাজীপুর জেলা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে। ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয় সোর্সের মাধ্যমে তদন্ত চালিয়ে নিহতের পরিচয় এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে পিবিআই।
বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই জানায়, ডলি আক্তার জয়দেবপুরের বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় একা থাকতেন। স্বামীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সোহেল (৪৪) গেল ১২ সেপ্টেম্বর জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী। পিবিআই গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তারের তত্ত্বাবধানে তদন্তটি পরিচালিত হচ্ছে।
তদন্তে মিজানুর রহমান মিল্টনকে ১২ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এবং মিশন ইসলাম ও তার মা বানু আক্তারকে একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গাজীপুর মহানগরের সদর মেট্রো থানার বাহাদুরপুর তুলসীভিটা এলাকার পৃথক ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিশনের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে একটি বটি দা, স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, ডলির এনআইডি কার্ড, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া স্যুটকেস কেনার বিষয়ে তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
৫ দিন আগে
চট্টগ্রামে পরিত্যক্ত কটেজ থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৮
চট্টগ্রামে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জে মহামায়া লেক এলাকায় বন বিভাগের পরিত্যক্ত কটেজ থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন পাঁচলাইশ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক।
উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগী মো. হেলাল উদ্দিন (৩৬) হাটহাজারী এলাকার বাসিন্দা এবং পাঁচলাইশ থানার শুলকবহর রওশন বোর্ডিং সংলগ্ন একটি গাড়ির গ্যারেজ পরিচালনা করেন।
অন্যদিকে মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. আবুল হাশেম (৫২) ছাড়াও ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় আকরাম (৩৪), শান্ত মিয়া (৩২), মঈন উদ্দিন রায়হান (২৯), আমজাদ হোসেন (৩৫), মাহবুব রহমান (২৬), মানিক হোসেন (৩০) ও মো. ফারুককে (৩৪) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আবুল হাশেম ভুক্তভোগী হেলাল উদ্দিনের পূর্বপরিচিত ও ব্যবসায়িক অংশীদার। তিনি ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। এর মধ্যে ৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা হেলাল বিভিন্ন সময়ে পরিশোধ করেন। অবশিষ্ট ৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকা নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। পাওনা টাকা আদায়ের জন্য আবুল হাশেম বেশ কিছুদিন ধরে হেলালকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
এর ধারাবাহিকতায় গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে আবুল হাশেমসহ কয়েকজন শুলকবহর রওশন বোর্ডিংয়ের সামনে যান। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে হেলাল উদ্দিনকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর সকালে হেলালের মোবাইল নম্বর থেকে স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে ফোনে করে অপহরণকারীরা ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। টাকা না দিলে হেলালকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর আবার ফোন করে এক লাখ টাকা পাঠাতে বলা হয়।
এ ঘটনায় জেসমিন আক্তার ওই দিনই দণ্ডবিধির ৩৬৫, ৩৮৫, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় মামলা করলে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ তদন্তে নামে। পরে পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের সহায়তায় গতকাল (বুধবার) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আকবরশাহ থানার উত্তর কাট্টলী এলাকা থেকে শান্ত মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচলাইশের মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আবুল হাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আকবরশাহ থানার লতিফপুর এলাকা থেকে আকরামকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার হেফাজত থেকে হেলাল উদ্দিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার শান্ত ও আকরামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, হেলালকে জোরারগঞ্জের মহামায়া লেক এলাকায় রাখা হয়েছে। এরপর আজ (বৃহস্পতিবার) ভোরে মীরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় ওই এলাকায় বন বিভাগের একটি পরিত্যক্ত কটেজে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মঈন উদ্দিন রায়হান, আমজাদ হোসেন, মাহবুব রহমান, মানিক হোসেন ও ফারুককে গ্রেপ্তার এবং হেলাল উদ্দিনকে উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ব্যবসায়িক পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে হেলালকে অপহরণের কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। আবুল হাশেম ও আকরাম মিলে শান্ত মিয়াকে এক লাখ টাকা দিয়ে অন্যদের ভাড়া করে অপহরণে সম্পৃক্ত করেন বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
৯ দিন আগে
হানিট্র্যাপে ফেলে শিক্ষককে জিম্মি, গ্রেপ্তার ৪
নওগাঁয় এক স্কুলশিক্ষককে বাসায় ডেকে নিয়ে জিম্মি করে মারধরের ভয় দেখিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া, ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক সই এবং ২ লাখ টাকার চেক হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা পুলিশ মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন: নওগাঁ সদর উপজেলার কোমাইগাড়ি এলাকার চামেলী আক্তার মিলি (৪৫), আত্রাই উপজেলার বেড়াহাসন এলাকার রাকিব হাসান (২৯), বদলগাছী উপজেলার নিহনপুর এলাকার সোহরাব হোসেন (২৬) এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার নাঈম হোসেন (২৫)।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী শিক্ষক জয়পুরহাটের আক্কেলপুর এলাকার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। চামেলী আক্তার মিলির সঙ্গে আগে থেকেই তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল। সেই সুবাদে গত ২৫ আগস্ট বিকেলে জরুরি কথা আছে বলে তাকে নওগাঁ শহরের নিজের বাসায় ডেকে নেন মিলি।
শিক্ষক বাসায় পৌঁছালে সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা চক্রটির অন্য সদস্যরা তাকে ঘেরাও করে মারধরের ভয় দেখান। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা নগদ ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে জিম্মি করে ৩০০ টাকার একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক সই এবং ২ লাখ টাকার একটি চেকে সই করিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষক থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ। টানা এক সপ্তাহের অভিযানে চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে শিক্ষকের জোরপূর্বক সই নেওয়া ফাঁকা স্ট্যাম্প ও ২ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আন্তঃউপজেলা-ভিত্তিক একটি সক্রিয় প্রতারকচক্রের সদস্য। তারা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে টার্গেট করা ব্যক্তিদের নির্জন স্থানে ডেকে আনতেন। এরপর ছবি তোলা, মারধরের হুমকি কিংবা সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চক্রটির সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৯ দিন আগে
খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী আরমান গ্রেপ্তার
খুলনার দৌলতপুর থানা এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী আরমান ওরফে আরমিন ওরফে দিপুকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দৌলতপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-৬ খুলনার এক সংবাদ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ । এর আগে গতকাল (রবিবার) রাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থেকে আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আরমান দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশার বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, একাধিক হত্যা মামলার আসামি আরমান গত কয়েকদিনের পুলিশের তৎপরতার কারণে খুলনা ছেড়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে অবস্থান করছিলেন। রবিবার রাতে উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে খুলনার দৌলতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে ভৈরব নদ থেকে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ঘাউরা রাজিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই মামলার এজাহারনামায় আরমান দুই নম্বর আসামি।
এদিকে এলাকাবাসী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আরমান একসময় দৌলতপুর থানা এলাকার আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনী হুমার সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে নিজেই বাহিনী গঠন করে প্রধান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। দৌলতপুর থানায় একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
১২ দিন আগে