গ্রেপ্তার
যশোর থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রী সিলেটে উদ্ধার, যুবক গ্রেপ্তার
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯-এর অভিযানে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ মামলার প্রধান আসামি আব্দুল্লাহ ইফাদকে (২০) সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে অপহৃত স্কুলছাত্রীকেও উদ্ধার করেছে র্যাব।
সোমবার (৩ আগস্ট) র্যাব-৯ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার আব্দুল্লাহ ইফাদ (২০) হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার উত্তর বাজার এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, অপহৃত ছাত্রী যশোর জেলার বাঘারপাড়া থানাধীন চণ্ডীপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রায় এক বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে অভিযুক্ত ইফাদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
গত ৭ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে তারা জানতে পারেন, স্কুলে যাওয়ার পথে চণ্ডীপুর মাদরাসা মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আব্দুল্লাহ ইফাদ ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে যশোরের বাঘারপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলার পর থেকেই র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯-এর সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গত ২ আগস্ট রাত ৮টার দিকে সিলেট নগরীর শাহজালাল মাজার গেইট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে পলাতক আসামি আব্দুল্লাহ ইফাদকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অপহৃত ওই স্কুলছাত্রীকেও উদ্ধার করা হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করে র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার আসামি এবং উদ্ধার ভুক্তভোগীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
১ দিন আগে
যশোরে বিজিবির পোশাক-সরঞ্জাম ও দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৩
যশোরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর পোশাক, হ্যান্ডকাফ, ওয়াকিটকি ও দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ মো. উজ্জ্বল হোসেন (৩০) নামে এক চিহ্নিত দুর্বৃত্তকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তার আরও দুই সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিবার (২ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম। গতকাল (শনিবার) শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ অভিযান পরিচালনা করে ডিবিপুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন: শার্শা উপজেলার গোগা গাজীপাড়া এলাকার মো. উজ্জ্বল হোসেন (৩০), হরিশচন্দনপুর পূর্বপাড়া এলাকার মো. আনারুল ইসলাম (৩২) এবং একই এলাকার মো. তোফাজ্জেল হোসেন (৩০)।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, ষষ্ঠীতলা এলাকার রবীন্দ্রনাথ রাহার বাড়ির তৃতীয় তলার পূর্ব পার্শ্বের ভাড়াটিয়ার বাসায় কয়েকজন দুস্কৃতিকারী অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে। শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে এ তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি দল সেখানে পৌঁছায়। পরে বাড়ির মালিক, নিচতলার ভাড়াটিয়া ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তাদের দরজায় কড়া নাড়া হয়। তখন ঘরের ভেতর থেকে এক ব্যক্তি দরজা খোলেন এবং নিজেকে বিজিবির সদস্য বলে পরিচয় দেন।
পরে বাড়ির মালিকসহ ওই ঘরে প্রবেশ করে আরও দুই ব্যক্তিকে দেখতে পেয়ে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা প্রত্যেকে নিজেদের বিজিবির সদস্য বলে পরিচয় দেন। কিন্তু তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে পারেননি। সে সময় তারা তর্কাতর্কি করে উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকেন।
তাদের কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা স্বীকার করে যে তারা বিজিবির সদস্য নন। তারা বিজিবির সরকারি পোশাক পরে যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করে থাকেন।
পরে তাদের ঘর তল্লাশি করে উজ্জ্বল হোসেনের শোবার ঘরের খাটের নিচে একটি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে এক সেট বিজিবির সরকারি পোশাক, দুটি স্টিলের হ্যান্ডকাফ, দুটি ওয়াকিটকি, একটি স্টিলের চাইনিজ কুড়াল, দুটি স্টিলের কাটারি, একটি লোহা কাটার (গেন্ডার) মেশিন, একটি তালা কাটার মেশিন, একটি হ্যাকসো ব্লেড ও একটি নোস প্লাস জব্দ করা হয়।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তাররা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করার উদ্দেশ্যে এসব সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে বিভিন্ন অপরাধে ৫টি ও তোফাজ্জেল হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। জব্দ করা অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
২ দিন আগে
উত্তরখানে ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ৩
রাজধানীর উত্তরখানের এসটিএস (সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন) এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২ আগস্ট) ডিএনসিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ সকালে এসটিএসে কর্মরত ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর স্থানীয় দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়।
হামলার খবর পেয়ে ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে প্রশাসক সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন।
তিনি ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালনরত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
পরে প্রশাসক ও সংসদ সদস্য কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দেখতে যান এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
এ সময় মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, মো. শফিকুল ইসলাম খান ও সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে অসত্য বলে দাবি করেছে ডিএনসিসি।
ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা জাকির হোসেন ইউএনবিকে বলেন, ‘প্রশাসক বা সংসদ সদস্য নন, হামলার শিকার হয়েছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।’
২ দিন আগে
শিশুকে উত্ত্যক্ত করে টিকটকে ভিডিও, যুবক আটক
ফেনীতে টিকটক ভিডিও বানানোর সময় ছয় বছরের এক মেয়ে শিশুকে উত্যক্ত, হাত ধরে টানাটানি এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মোজাম্মেল হোসেন প্রকাশকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় তাকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় তিন যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
আটক মোজাম্মেল হোসেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মৈশাইল এলাকার মনির হোসেনের ছেলে। তিনি পরিবারের সঙ্গে ফেনী সদর উপজেলার উত্তর সিলোনিয়া মাদানিয়া মাদরাসা-সংলগ্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন পশ্চিম সিলোনিয়া এলাকার মৃত জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে সালমান (২০) এবং যাত্রাসিদ্ধি এলাকার মনির আহাম্মদের ছেলে মাহফুজ (১৯)।
পুলিশ জানায়, গত ২৮ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার গোবিন্দপুরে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে উত্ত্যক্ত করে ওই তিন যুবক। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। পরে সন্ধ্যায় শহরতলীর লালপোল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শিশুটি স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন যুবক তার পথরোধ করেন। তাদের মধ্যে দুজন শিশুটির হাত ধরে টানাটানি ও অশালীন আচরণ করেন। তারা শিশুটিকে শ্লীলতাহানি ও উত্ত্যক্ত করে। অপর একজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে পরে টিকটকে পোস্ট করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পরদিন শিশুটি তার বাবাকে পুরো ঘটনা জানায়। পরে ৩০ জুলাই সকালে স্বজনদের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি দেখে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত করে শিশুটির বাবা ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে শিশুটি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এবং প্রায়ই কান্নাকাটি করছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এ ব্যাপারে ফেনী মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে এক শিশুকে উত্ত্যক্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের নজরে আসে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত মোজাম্মেল হোসেনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন।
ওই মামলায় আটক যুবককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এছাড়া অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
৪ দিন আগে
ধর্ষণ মামলায় বরিশাল জেলা ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি গ্রেপ্তার
ধর্ষণ অভিযোগের মামলায় বরিশাল জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নয়ন সরকার জয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাতে বরিশাল নগরীর কাউনিয়া প্রথম গলির বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম।
জয় বরগুনা জেলার বাসিন্দা নারায়ণ সরকারের ছেলে ও বরিশাল জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি। তিনি বরিশাল নগরীর কাউনিয়া প্রথম গলিতে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন এবং বিএম কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী।
ভুক্তভোগী তরুণী মামলার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, জয়ের সঙ্গে ২০২৪ সালে প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয় তার। এরপর জয় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে। গত ছয় মাস ধরে বিয়ের কথা বললে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে এখন লাপাত্তা রয়েছে সে। তার মা আমাকে বউ হিসেবে মেনে নেবে না বলে জানায় সে। এ ঘটনার বিচার পেতে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তরুণীর অভিযোগ, গ্রেপ্তারের আগে জয় পলাতক অবস্থায় থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন।
৪ দিন আগে
তিন মামলায় ডেভিড ইমন ও সহযোগীরা কারাগারে
ভারতের পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোর সীমান্তে আটক চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন ও তার ৩ সহযোগীকে ফটিকছড়ি থানার তিনটি পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলাগুলোর মধ্যে দুটি অস্ত্র আইনের এবং একটি হত্যা মামলা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ সায়মা আফরিন হিমার আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সেশন জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের ফটিকছড়ি থানার তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে দুটি অস্ত্র মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ডেভিড। একটি মামলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে দায়ের করা হয়েছিল এবং অপরটি আজ বৃহস্পতিবার দায়ের করা হয়।
তিনি আরও বলেন, অপর মামলাটি একটি হত্যা মামলা। ওই মামলার অন্য এক আসামির আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ডেভিড ইমনের নাম উঠে আসে। এ কারণে তাকে এজাহারবহির্ভূত সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী আরও বলেন, শুনানির সময় ডেভিড ইমনের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়া এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোনো মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ওসি (প্রসিকিউশন) হাবিবুর রহমান বলেন, ডেভিড ইমনকে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রবিবার তাকে রিমান্ডে নিতে আদালতে আবেদন করা হবে।
এদিকে, বুধবার রাতে মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি ভারতীয় আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে জেলা পুলিশ।
পুলিশের দাবি, শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর পরামর্শে তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ওপারে তাকে গ্রহণ করার জন্য লোকজনও প্রস্তুত ছিল।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
তিনি বলেন, পুলিশের তৎপরতার খবর পেয়ে ডেভিড ইমন দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করেন। বুধবার সকাল ৬টার দিকে তার সীমান্ত পার হওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগেই যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। তার কাছ থেকে ভারতের আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আরও তথ্য জানানো হবে।
গতকাল বুধবার ভোরে যশোরে যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার হন ডেভিড ইমন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তিনি চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
৫ দিন আগে
রংপুরে বিয়ের নাটক সাজিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ মামলার আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার
রংপুরের কাউনিয়ায় ভুয়া বিয়ের নাটক সাজিয়ে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত পলাতক আসামি আজমাইন আব্দুল্লাহ উৎসকে (২৬) প্রায় দুই মাস পর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে তাকে ধর্ষণ আইনের ধারার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রংপুর আদালতে পাঠায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) হারাগাছ থানা পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হারাগাছ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার আজমাইন আব্দুল্লাহ উৎস কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর এলাকার সারাই জাগরণ পাগড়া গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বরাত দিয়ে এসআই রুহুল আমীন জানান, অভিযুক্ত আজমাইন বিবাহিত। বিয়ের বিষয়টি গোপন করে তিনি ১৮ বছরের এক কলেজছাত্রীকে হারাগাছ থেকে রংপুরে কলেজে যাওয়া-আসার পথে প্রেমের প্রস্তাব দেন। মেয়েটি শুরুতে প্রথমে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তবে, পরবর্তী সময়ে আজমাইন ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসআপে কথাকপনের মাধ্যমে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
গত বছরের ২ ডিসেম্বর আজমাইন মেয়েটিকে বিয়ের কথা বলে রংপুরে আদালতের পাশে লেকের পাড়ে নিয়ে যান। সেখানে তিনি স্ট্যাম্পে সই নিয়ে মেয়েটিকে জানান যে তাদের দুইজনের বিয়ে হয়েছে। পরে ওইদিন হারাগাছ ধুমগড়া এলাকায় এক ব্যক্তির বাড়িতে মেয়েটিকে নিয়ে স্ত্রী পরিচয়ে সারা রাত অবস্থান করেন আজমাইন। এরপর বিভিন্ন স্থানে মেয়েটিকে নিয়ে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে মেয়েটির বিয়ের কাবিননামার কাগজ দেখতে চাইলে বিভিন্ন টালবাহানা করতে থাকেন আসামি। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে গত ২৪ এপ্রিল ভুক্তভোগী সাক্ষীদের নিয়ে আজমাইনের বাড়িতে যান। সেখানে ভুক্তভোগীকে জানান যে তিনি বিবাহিত, মেয়েটিকে বিয়ে করতে পারবেন না। প্রতারণা করে মিথ্যা বিয়ের নাটক সাজিয়ে তার সঙ্গে যৌনমিলন করেছেন বলে মেয়েটিকে জানানো হয়। তখন ভুক্তভোগী তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রতিবাদ করেন। এ সময় আজমাইন তাকে টাকার বিনিময়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন এবং এ বিষয়ে তাকে বিরক্ত করলে গোপনে ধারণ করা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক চৌহান বলেন, এ ব্যাপারে গত ৬ মে মেয়েটি বাদী হয়ে রংপুর আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে ১২ মে আজমাইন আব্দুল্লাহ উৎসের বিরুদ্ধে হারাগাছ থানায় ধর্ষণ মামলা হয়। মামলা হওয়ার পর আজমাইনকে গ্রেপ্তারে মাঠে নামে পুলিশ, কিন্তু তিনি গা ঢাকা দেন। প্রায় দুই মাস চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে সোমবার র্যাব-১-এর সহায়তায় ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে হারাগাছ থানায় নিয়ে এসে আজ (বুধবার) দুপুরে তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রংপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
৬ দিন আগে
ভারতে পালানোর সময় যশোর থেকে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনসহ গ্রেপ্তার ৪
ভারতে পালানোর প্রস্তুতিকালে চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগীকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। এ সময় তাদের ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারও জব্দ করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৯ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত ৯টি দল তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড (২৫) চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানা এলাকার ৭ নম্বর কাঞ্চনগর ইউনিয়নের কাঞ্চনগর গুরামিয়া হাজী চৌধুরী বাড়ির বাসিন্দা।
গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন: আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫), তিনি ঢাকার শ্যামপুর থানার পোস্তাগোলা এলাকার জুরাইনের পরি মোল্লারবাগের বাসিন্দা; মো. শামিম (২৮), তিনি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ও বর্তমানে ঢাকার মতিঝিল থানার আর কে মিশন রোড এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন এবং মো. সাফায়েত হোসেন (২৮), তিনি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার সাহারপাড় এলাকার বাসিন্দা, তবে বর্তমানে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার গোলাপবাগ পুলিশ কোয়াটারের পেছনে বসবাস করেন।
তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ডেভিড ইমন তার সহযোগীদের নিয়ে যশোর হয়ে ভরতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যাতে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর তদন্ত এগিয়ে নেয়া যায়।
যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মিরাজুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের রিকুইজিশনের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঝিকরগাছা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, আজ সকাল ১০টার দিকে চারজনকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের চট্টগ্রামে নেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি পান। পুলিশের দাবি, তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও, পতেঙ্গা, হাটহাজারী ও রাউজান এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা না দেওয়ায় ওই প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ ঘটনায় ডেভিড ইমনকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করে তাকে গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পুলিশ।
পুলিশের তথ্যমতে, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র ও সংগঠিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত যশোরে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তিনি ও তার সহযোগীরা গ্রেপ্তার হন।
৬ দিন আগে
সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার
সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বসুন্ধরায় নিজ বাসা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
ডিবিপ্রধান আরও জানান, গ্রেপ্তার নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৮ দিন আগে
সিলেটে ১৪ বছর পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
সিলেটে প্রায় ১৪ বছর ধরে পরিচয় গোপন করে আত্মগোপনে থাকা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জৈন্তাপুর মডেল থানার পুলিশ।
বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গোয়াইনঘাট থানার হরুখেল এলাকার খাটারীগাংয়ে পাথর শ্রমিক আব্দুল জলিলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানায় হত্যা মামলা করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এজাহারভুক্ত আসামি জৈন্তাপুর উপজেলার জীবন বক্তারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
রায় ঘোষণার পর থেকেই জীবন বক্তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে নিজের পরিচয় পরিবর্তন করে ‘মো. আল-আমিন’ নামে নতুন পরিচয় গ্রহণ করেন। এমনকি ভোটার তালিকায়ও নাম পরিবর্তন করে বাঘছড়া চা বাগান এলাকায় বসবাস শুরু করেন। ভুয়া পরিচয় ব্যবহারের কারণে দীর্ঘদিন তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লার সার্বিক দিকনির্দেশনায় গতকাল (বুধবার) দিবাগত রাত ২টা ৪০ মিনিটে এসআই (নিরস্ত্র) সজল দাস ফোর্সসহ বাঘছড়া চা বাগান এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন এবং জীবন বক্তার ওরফে আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।
গ্রেপ্তার আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ তথ্য নিশ্চিত করে ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, আইনের হাত থেকে কেউ চিরদিন পালিয়ে থাকতে পারে না। পরিচয় পরিবর্তন করে দীর্ঘ ১৪ বছর আত্মগোপনে থাকলেও পুলিশের ধারাবাহিক গোয়েন্দা তৎপরতা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাজাপ্রাপ্ত এই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। জৈন্তাপুর মডেল থানা অপরাধ দমনে এবং সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
১২ দিন আগে