গ্রেপ্তার
শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যা মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা গ্রেপ্তার
শেরপুরে ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিম হত্যা মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে তাকে ঝিনাইগাতী বাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার মাহমুদুল হাসান রুবেল (২৮) ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-সম্পাদক।
এদিকে, রুবেলকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় গতকাল (সোমবার) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মামুন অর-রশীদ মামুন ও সদস্যসচিব নিয়ামুল হাসান আনন্দ। বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াতে ইসলামী দায়েরকৃত মিথ্যা ও বানোয়ট মামলা প্রত্যাহারসহ অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রুবেলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বপ্রাপ্ত দ্বিতীয় কর্মকর্তা মো. আবুল হাশিম স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রুবেলকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, রুবেল জামায়াত নেতা রেজাউল হত্যা মামলার একজন এজাহারভুক্ত আসামি। আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) তাকে আাদলতে সোপর্দ করা হবে।
এদিকে, উচ্চ আদালত থেকে গতকাল (সোমবার) রেজাউল হত্যা মামলার প্রধান আসামি বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল সহ ৪০ আসামির ৬ সপ্তাহের আগাম জামিনের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী নিহতের স্ত্রী মারজিয়া ও জেলা জামায়াত নেতারা।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শেরপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আসামিদের হাইকোর্টে আগাম জামিনের প্রতিবাদ জানিয়ে বাদী মারজিয়া কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেছেন, রেজাউল হত্যাকাণ্ডে পরিবার ও এলাকাবাসী এখনো গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে। অথচ হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত আসামিদের হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে অবিলম্বে উচ্চ আদালতে আপিল করে জামিন বাতিলের দাবি জানান।
এ সময় জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান বলেছেন, আগাম জামিনে ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে জামিনে থাকা এসব আসামি ভোটে প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনকালে বাদী মারজিয়ার পাশে বসা ছিলেন নিহত রেজাউলের বাবা মাওলানা আব্দুল আজিজ, ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের ঝিনাইগাতী উপজেলার মিনি স্টেডিয়ামে ২৮ জানুয়ারি প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মারজিয়া বাদী হয়ে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল সহ ২৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০/৫০০ জনকে আসামি করে শনিবার ঝিনাইগাতী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
১ দিন আগে
গাইবান্ধায় বিএনপিকর্মীকে গ্রেপ্তার, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মোটরসাইলে অগ্নিসংযোগ
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় মামলার আসামি এক বিএনপিকর্মীকে গ্রেপ্তারের পর গভীর রাতে গাইবান্ধা-৫ আসনের (সাঘাটা-ফুলছড়ি) বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুরজামান নিশাতের সমর্থকদের সাতটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের নুরুজামান হাজী বাদী হয়ে ১৮ জনের বিরুদ্ধে সাঘাটা থানায় মামলা করেন। মামলার পর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ফয়সাল নামের এক বিএনপিকর্মীকে গ্রেপ্তার করে।
স্থানীয়রা জানান, গ্রেপ্তারের পর গতকাল (মঙ্গলাবার) গভীর রাতে ফয়সালের লোকজন কচুয়া ইউনিয়নের নুরুজামান হাজীর বাড়িতে রাখা সাতটি মোটরসাইকলে অগ্নিসংযোগ করে।
এ ঘটনায় নাহিদুরজামান নিশাত বলেন, ‘আমার জনপ্রিয়তা ঠেকাতে প্রতিপক্ষের লোকজন এ ধরনের হামলা করছেন।’
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ফয়সাল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
৭ দিন আগে
রাজবাড়ীর আদালত চত্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৫
রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মো. শাহিন শেখ (৩৩) আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার সময় দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে পুলিশ গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শামসুল হক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— সাজ্জাদ হোসাইন (২১), পরশ আলী শেখ ওরফে শান্ত (২০), জনি শেখ (১৬), তৌফিক আহম্মেদ তাহিম (১৭) এবং মুনজিল শেখ (১৭) নামের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা প্রত্যেকেই ছাত্রলীগের কর্মী ও সমর্থক।
পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মামলাসহ একাধিক মামলার আসামী রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. শাহিন শেখকে গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) কাতার পালিয়ে যাওয়ার সময় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভিবাসন থেকে অভিবাসন পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মামলার হাজিরা থাকায় পুলিশ কারাগার থেকে শাহিন শেখকে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে আদালতে নিয়ে যায়। শুনানি শেষে আদালত থেকে বের করে কারাভ্যানে তোলার সময় দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থকরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। পুলিশ ছাত্রলীগ নেতা শাহিনকে নিয়ে দ্রুত আদালত চত্বর ত্যাগ করে কারা ভ্যানে তুলে তৎপর হলে নেতা-কর্মীরা দ্রুত সটকে পড়েন।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনার পর গতকাল সন্ধ্যায় রাজবাড়ী সদর উপজেলার চরলক্ষ্মীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাজ্জাদ হোসাইন (২১), পরশ আলী শেখ ওরফে শান্ত (২০), জনি শেখ (১৬), তৌফিক আহম্মেদ তাহিম (১৭) এবং মুনজিল শেখ (১৭) নামের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা প্রত্যেকেই ছাত্রলীগের কর্মী ও সমর্থক।
উল্লেখ্য, শাহিন শেখ রাজবাড়ী জেলা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০২২ সালের মার্চ মাসে তিনি রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ, হত্যাচেষ্টাসহ চারটি মামলা রয়েছে।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার জিয়াউর রহমান আজ (সোমবার) সকালে জানান, আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে রবিবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের পাঁচ কর্মী ও সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট সদর থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
৯ দিন আগে
চালক-সহকারীর হাত-পা বেঁধে ধানবোঝাই ট্রাক ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৬
নওগাঁয় ধানবোঝাই একটি ট্রাক ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতি হওয়া ট্রাকটি উদ্ধার করার পাশাপাশি ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার জব্দ করা হয়েছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তাররা হলেন— গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের রফিকুলের ছেলে আরিফুল ইসলাম আরিফ (৩০), বড় বাতাইল গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে রফিকুল ইসলাম অপু (৩১), একই উপজেলার রাজা মিয়ার ছেলে সাজিদুল ইসলাম সবুজ (২৩), পলুপাড়া গ্রামের হাসেন আলীর ছেলে গোলাপ (২৪), সদুল্যাপুর উপজেলার বলিদহ গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে লাভলু (২৮) এবং বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরকাকাটা চানপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন শরীফের ছেলে রাকিব হোসেন শরীফ (২৭)।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২২ জানুয়ারি দিনাজপুর জেলার বদরগঞ্জ থেকে একটি ট্রাক ২৫০ বস্তা (৫০০ মন) ধান নিয়ে নওগাঁয় আসছিল। এরপর রাত দেড়টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের ফাঁকা রাস্তায় ট্রাকটি পৌছাঁলে সামনে ব্যারিকেড দেয় ডাকাতদল। পরে ট্রাকের চালক মারুফ ও সহকারী শামীমকে মারধর করে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে তারা ধানবোঝাই ট্রাকটি নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলা হলে ডাকাতদের গ্রেপ্তার ও লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধারে মাঠে নামে পুলিশ। একপর্যায়ে শিবগঞ্জ থানার মোকামতলা তদন্তকেন্দ্রে একটি ট্রাক ও সন্দেহজনক আরিফুল ইসলাম আরিফকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি তাকে নিয়ে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গোলাপ ও লাভলুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের সঙ্গে নিয়ে দলের সর্দার সামিউল ইসলামকে ধরতে গাজিপুরে অভিযান চালানো হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান।
পরবর্তী সময়ে আশুলিয়া, সাভার, কামরাঙ্গীরচর এলাকায় দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে শরীফ, অপু ও সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ট্রাক জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় অন্য ডাকাতদলটির অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং ডাকাতির মালামাল উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার তারিকুল।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
১০ দিন আগে
চট্টগ্রামে র্যাব কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর মামলা, গ্রেপ্তার তিন
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহতের ঘটনার দুই দিন পর মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে র্যাবের এক কর্মকতা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলাটি করেন। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সীতাকুণ্ড সার্কেল) শাকিলা ইয়াসমিন সূচনা।
মামলায় ২৯ জনের মধ্যে জঙ্গল সলিমপুরের বাসিন্দা ইয়াসিনকে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও মামলায় ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন— জাহিদ, ইউনুস ও আরিফ। এর মধ্যে দুইজন এজাহারভুক্ত এবং একজন তদন্তে প্রাপ্ত আসামি বলে জানান শাকিলা ইয়াসমিন সূচনা।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
১৩ দিন আগে
ইভ্যালির রাসেল ও শামীমা ফের গ্রেপ্তার
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামিমা নাসরিনকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মধ্যরাতে রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ধানমণ্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ডিবি পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি থানায় অবহিত করেছে।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে ধানমণ্ডি, কাফরুল এবং সাভার থানায় দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় এই দম্পতির বিরুদ্ধে ৩৯১টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র ধানমণ্ডি থানাতেই তাদের বিরুদ্ধে শতাধিক পরোয়ানা ঝুলছিল।
এ ছাড়াও সোমবার (১৯ জানুয়ারি) অন্য একটি প্রতারণা মামলায় ঢাকার একটি আদালত তাদের ১৫ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার সময় তারা পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।
এর আগে, ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুরের বাসভবন থেকে এই দম্পতিকে প্রথমবার গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব। দীর্ঘ কারাবাসের পর ২০২২ সালের এপ্রিলে শামীমা নাসরিন এবং ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মোহাম্মদ রাসেল জামিনে মুক্তি পান।
১৫ দিন আগে
নড়াইলে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৪
নড়াইলের লোহাগড়ায় আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত থেকে আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল পর্যন্ত উপজেলার দিঘলিয়া ও আগ্রাহাটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— লোহাগড়া উপজেলার তোফায়েল মণ্ডল (২৫), মো. রাসেল বিশ্বাস (১৯), সাতক্ষীরা শ্যামনগরের ইসমাইল হোসেন ওরফে পিন্টু (৫০) এবং একই গ্রামের আমিনুর গাজী (৪৫)।
পুলিশ জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার দিঘলিয়া এলাকার তোফায়েল মণ্ডলের বাড়িতে রাতে অভিযান চালায় ওই উপজেলার সেনা ক্যাম্প ও থানা পুলিশের একটি যৌথ দল। তার দেওয়া স্বীকারোক্তিতে বসতঘরের ওয়ারড্রোব থেকে একটি চাইনিজ পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। পরে অভিযুক্ত তোফায়েলকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলার আগ্রাহাটি এলাকার ছোটন মোল্যার মাছের ঘেরে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। এ সময় পিন্টুসহ আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘেরের বিভিন্ন স্থান থেকে ১টি এয়ারগান, ৮০০টি গুলি, মাদক, চাপাতি, দা, রামদাসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে যৌথবাহিনী।
এ বিষয়ে ওসি আব্দুর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দিঘলিয়া এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় চারজনকে আটক করা হয়। পরে নিয়মিত মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ওসি।
২০ দিন আগে
খুলনায় অপহৃত স্কুলছাত্রী সিলেটে উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার
সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমার কায়স্তরাইল এলাকা থেকে অপহৃত এক স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র্যাব। এ সময় অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে র্যাবের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করেছে বলে জানান র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া উইং) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।
গ্রেপ্তার সোহাগ মিয়া (২৯) সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার ছনখাইর এলাকার বাসিন্দা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ওই ছাত্রী স্কুলে যাওয়ার পর সে আর বাড়ি ফেরেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর মেয়েটির পরিবার জানতে পারে, অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জন যুবক তাকে খুলনা শহরের খানজাহান আলী থানাধীন ফুলবাড়ি গেইট বাসস্ট্যান্ড থেকে জোর করে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে খুলনার খানজাহান আলী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা করেন। মামলার সূত্র ধরে র্যাবের একটি দল তাকে উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্র্রী খুলনার খানজাহান আলী থানাধীন একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।
২০ দিন আগে
যশোরে সন্ত্রাসী গোল্ডেন সাব্বির আটক, অস্ত্র ও ককটেল উদ্ধার
যশোরে আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাব্বির হোসেন ওরফে গোল্ডেন সাব্বিরকে আটক করেছে র্যাব-৬ যশোরের সদস্যরা। অভিযানে তার ব্যবহৃত ফ্ল্যাট থেকে একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন ও ১৫টি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের একটি চারতলা ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় র্যাব। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র্যাব-৬ যশোরের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফজলে রাব্বি।
আটক সাব্বির যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে গোল্ডেন সাব্বির ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন এবং সেখান থেকেই তিনি তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ও পরিচালনা করতেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে র্যাব সদস্যরা ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে তাকে আটক করেন। এ সময় ফ্ল্যাটের রান্নাঘর কার্নিশের ওপর বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ১৫টি ককটেল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়াও ঘরের মধ্যে থেকে একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, গোল্ডেন সাব্বিরের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক ও বিস্ফোরকসহ মোট ১০টি মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে যশোরের অপরাধ জগতের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। এর আগেও ২০২০ সালে তাকে অস্ত্র, গুলি ও মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় তার সঙ্গে আরও দুই সহযোগীকেও আটক করা হয়েছিল।
র্যাবের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, আটক সাব্বিরের বিরুদ্ধে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা অস্ত্র ও ককটেল ব্যবহার করে যেকোনো সময় গুরুতর সহিংসতা ঘটানোর প্রস্তুতি ছিল তার। তাকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দিয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
২১ দিন আগে
পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই: ময়মনসিংহে গ্রেপ্তার ৭
ময়মনসিংহ সদরের দিঘারকান্দা এলাকায় মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার পথে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আসামির বাবাসহ ৭ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতভর যৌথ বাহিনীর অভিযানে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে, ওইদিন বিকেলে দিগারকান্দা ফিশারি মোড় এলাকায় মামলার আসামি স্থানীয় আরিফুল ইসলামকে ধরতে গেলে তার পরিবারের লোকজন এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করেন। এ সময় হামলাকারীরা পাঁচ পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে জখম করে আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যান।
অভিযানে পুলিশের দলটির নেতৃত্বে ছিলেন ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ। আহত হয়ে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, কয়েকদিন আগে রাসেল নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে দিঘারকান্দা এলাকার সাগর আলীর ছেলে আরিফুল ইসলামসহ কয়েকজনের নামে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা হয়। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে আমার নেতৃত্বে পুলিশের পাঁচ সদস্যের একটি দল দিগারকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে নিয়ে আসার সময় আরিফুলের বাবা সাগর আলীর নেতৃত্বে এলাকাবাসী লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে গুরুতর জখম করে হাতকড়া পরিহিত আরিফুলকে ছিনিয়ে নিয়ে যান তারা।
খবর পেয়ে পুলিশ, র্যাব ও সেনা সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল পৌঁছে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমকে) হাসপাতালে ভর্তি করান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল রাতেই আরিফুলের বাবা সাগর আলীসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান তিনি।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ মমেক হাসপাতালের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ওসি আরও জানান, পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ আরিফুল ইসলামকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এছাড়া রাতভর অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
২১ দিন আগে