শেরপুরে ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিম হত্যা মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে তাকে ঝিনাইগাতী বাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার মাহমুদুল হাসান রুবেল (২৮) ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-সম্পাদক।
এদিকে, রুবেলকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় গতকাল (সোমবার) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মামুন অর-রশীদ মামুন ও সদস্যসচিব নিয়ামুল হাসান আনন্দ। বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াতে ইসলামী দায়েরকৃত মিথ্যা ও বানোয়ট মামলা প্রত্যাহারসহ অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রুবেলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বপ্রাপ্ত দ্বিতীয় কর্মকর্তা মো. আবুল হাশিম স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রুবেলকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, রুবেল জামায়াত নেতা রেজাউল হত্যা মামলার একজন এজাহারভুক্ত আসামি। আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) তাকে আাদলতে সোপর্দ করা হবে।
এদিকে, উচ্চ আদালত থেকে গতকাল (সোমবার) রেজাউল হত্যা মামলার প্রধান আসামি বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল সহ ৪০ আসামির ৬ সপ্তাহের আগাম জামিনের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী নিহতের স্ত্রী মারজিয়া ও জেলা জামায়াত নেতারা।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শেরপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আসামিদের হাইকোর্টে আগাম জামিনের প্রতিবাদ জানিয়ে বাদী মারজিয়া কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেছেন, রেজাউল হত্যাকাণ্ডে পরিবার ও এলাকাবাসী এখনো গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে। অথচ হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত আসামিদের হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে অবিলম্বে উচ্চ আদালতে আপিল করে জামিন বাতিলের দাবি জানান।
এ সময় জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান বলেছেন, আগাম জামিনে ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে জামিনে থাকা এসব আসামি ভোটে প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনকালে বাদী মারজিয়ার পাশে বসা ছিলেন নিহত রেজাউলের বাবা মাওলানা আব্দুল আজিজ, ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের ঝিনাইগাতী উপজেলার মিনি স্টেডিয়ামে ২৮ জানুয়ারি প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মারজিয়া বাদী হয়ে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল সহ ২৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০/৫০০ জনকে আসামি করে শনিবার ঝিনাইগাতী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।