শেরপুর
বাদলের মৃত্যু: শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পাশাপাশি এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ইসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই আসনে এখন নতুন করে নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করা হবে।
আসনটিতে নির্বাচন স্থগিতের ব্যাপারে গণবিজ্ঞপ্তি জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৭-এর ১ উপধারা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার পর এবং ভোটগ্রহণের আগে কোনো বৈধ প্রার্থী মারা গেলে সেই আসনের নির্বাচনি কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল বা স্থগিত করতে হয়।
আইন অনুযায়ী, মৃত প্রার্থীকে অবশ্যই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ‘বৈধ প্রার্থী’ হিসেবে স্বীকৃত হতে হবে। প্রার্থীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেবেন। পরে কমিশন নতুন তফসিল ঘোষণা করবে।
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. নুরুজ্জামান বাদল কিডনি জটিলতায় গতকাল (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ময়মনসিংহের স্বদেশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নুরুজ্জামান স্ত্রী ও এক সন্তান রেখে মারা গেছেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা শাখার সেক্রেটারি এবং শ্রীবরদীর তাতিহাটি আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। আজ ৪ ফেব্রয়ারি দুপুরে শেরপুর জেলা শহরের শহিদ দারোগ আলী পৌরপার্ক মাঠে প্রথম এবং বিকেল ৫টার দিকে দ্বিতীয় জানাজা শেষে শ্রীবরদীর পোড়াগর এলাকায় পারিবারিক কবস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
বাদলের মৃত্যুর সংবাদে তার নির্বাচনি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সেখানকার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল এবং জামায়াত ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতারা তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানও বাদলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
১৬ ঘণ্টা আগে
শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী বাদল মারা গেছেন
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. নুরুজ্জামান বাদল মৃত্যুবরণ করেছেন।
কিডনি জটিলতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ময়মনসিংহের স্বদেশ হাসপাতালে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাদল দীর্ঘদিন যাবত কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। গতকাল (মঙ্গলবার) শবে বরাতের রাত ১০টার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে শ্রীবরদী উপজেলা হাসাপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে নেওয়া হলে রাত দেড়টার দিকে স্বদেশ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। বাদলের মৃত্যুর সংবাদে তার নির্বাচনি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল এবং জামায়াত, বিএনপি, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতারা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
১৯ ঘণ্টা আগে
শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যা মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা গ্রেপ্তার
শেরপুরে ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিম হত্যা মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে তাকে ঝিনাইগাতী বাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার মাহমুদুল হাসান রুবেল (২৮) ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-সম্পাদক।
এদিকে, রুবেলকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় গতকাল (সোমবার) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মামুন অর-রশীদ মামুন ও সদস্যসচিব নিয়ামুল হাসান আনন্দ। বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াতে ইসলামী দায়েরকৃত মিথ্যা ও বানোয়ট মামলা প্রত্যাহারসহ অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রুবেলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বপ্রাপ্ত দ্বিতীয় কর্মকর্তা মো. আবুল হাশিম স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রুবেলকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, রুবেল জামায়াত নেতা রেজাউল হত্যা মামলার একজন এজাহারভুক্ত আসামি। আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) তাকে আাদলতে সোপর্দ করা হবে।
এদিকে, উচ্চ আদালত থেকে গতকাল (সোমবার) রেজাউল হত্যা মামলার প্রধান আসামি বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল সহ ৪০ আসামির ৬ সপ্তাহের আগাম জামিনের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী নিহতের স্ত্রী মারজিয়া ও জেলা জামায়াত নেতারা।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শেরপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আসামিদের হাইকোর্টে আগাম জামিনের প্রতিবাদ জানিয়ে বাদী মারজিয়া কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেছেন, রেজাউল হত্যাকাণ্ডে পরিবার ও এলাকাবাসী এখনো গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে। অথচ হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত আসামিদের হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে অবিলম্বে উচ্চ আদালতে আপিল করে জামিন বাতিলের দাবি জানান।
এ সময় জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান বলেছেন, আগাম জামিনে ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে জামিনে থাকা এসব আসামি ভোটে প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনকালে বাদী মারজিয়ার পাশে বসা ছিলেন নিহত রেজাউলের বাবা মাওলানা আব্দুল আজিজ, ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের ঝিনাইগাতী উপজেলার মিনি স্টেডিয়ামে ২৮ জানুয়ারি প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মারজিয়া বাদী হয়ে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল সহ ২৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০/৫০০ জনকে আসামি করে শনিবার ঝিনাইগাতী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
১ দিন আগে
শেরপুরের সহিংসতায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে: অন্তর্বর্তী সরকার
শেরপুরে সংঘটিত সাম্প্রতিক সহিংসতায় জামায়াতে ইসলামীর এক রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক বিবৃতির মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সরকার জানিয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সরকার এ কথা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সহিংসতার ফলে প্রাণহানি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং অত্যন্ত দুঃখজনক। জাতীয় নির্বাচন আর মাত্র দুই সপ্তাহ দূরে থাকাকালে সরকার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামসহ সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রদর্শন এবং তাদের সমর্থকদের মধ্যে সংযম নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণহানির কোনো স্থান নেই।
শেরপুরে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে সরকার বলেছে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে জেলার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এছাড়া সব রাজনৈতিক দল, নেতা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত সকলের প্রতি শান্তি বজায় রাখা, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক উপায়ে ভোটারদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, শান্ত পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক আচরণের ওপরই জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
৬ দিন আগে
শেরপুরে শাপলা তুলতে গিয়ে বিলে ডুবে দুই শিশু নিহত
শেরপুর সদর উপজেলায় শাপলা ফুল তুলতে গিয়ে বিলের পানিতে ডুবে ফাহিমা আক্তার নুন (৯) ও জেমি (৮) নামে দুই শিশু নিহত হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার গাজিরখামার ইউনিয়নের চকপাড়া এলাকার বলেশ্বর বিল থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফাহিমা আক্তার নুন চকপাড়া এলাকার মাসেক আলীর মেয়ে এবং জেমি একই এলাকার জয়নুদ্দিনের মেয়ে।
আরও পড়ুন: ভোলায় পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু
নিহতের স্বজনরা জানান, গতকাল (শুক্রবার) সকাল ১০টার দিকে ফাহিমা ও জেমি বাড়ির পাশের বলেশ্বর বিলে শাপলা তুলতে যায়। এরপর তারা আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির পর একপর্যায়ে বিকেলে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, শাপলা তুলতে তুলতে তারা বিলের মাঝখানের গর্তে পড়ে যায়। সেখানে পানি বেশি থাকায় ডুবে গিয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুবায়দুল আলম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
১৫৮ দিন আগে
শেরপুরে নিখোঁজের চার দিন পর স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে নিখোঁজের চার দিন পর বাড়ির পাশের একটি ডোবার কচুরিপানার নিচ থেকে মাইমুনা খাতুন (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নালিতাবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভালুকাকুড়া গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মাইমুনা ওই গ্রামের মফিজুল ইসলামের মেয়ে। সে স্থানীয় কালাপাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
নিহতের পরিবার জানিয়েছে, গত শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে সহপাঠীদের সঙ্গে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় মাইমুনা। এরপর খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পেয়ে নালিতাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে মঙ্গলবার বিকেলে বাড়ির পাশের ডোবার মতো কচুরিপানা ভর্তি নিচু জমির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে যান। সেখানে বিবস্ত্র অবস্থায় একটি অর্ধগলিত লাশ দেখতে পেয়ে তারা চিৎকার করতে থাকেন।
পরে নিহতের চাচা আলী হোসেনসহ পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি মাইমুনার বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে নালিতাবাড়ী থানার পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নেতার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
নিহত মাইমুনার আরেক চাচা শুক্কুর আলী বলেন, আমরা বুঝতে পারছি না এটি হত্যাকাণ্ড নাকি দুর্ঘটনা। সেটি পুলিশি তদন্তের পর জানা যাবে। হত্যাকাণ্ড হলে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি পুলিশ ঘটনাটির প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর কারণ জানা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার তদন্তকাজ চলছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তকাজ শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
১৬১ দিন আগে
শেরপুরে এনসিপির সমন্বয় কমিটি থেকে ১৫ জনের একযোগে পদত্যাগ
শেরপুরের নকলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমন্বয় কমিটির ১৫ জন সদস্য একযোগে পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে ৩২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি থেকে পদত্যাগ করা ব্যক্তিরা পুরো উপজেলা কমিটিকেও প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পদত্যাগের বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়।
পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন ৫ জন যুগ্ম সমন্বয়কারী এবং ১০ জন সদস্য।
যুগ্ম সমন্বয়কারীরা হলেন— মো. মমিনুল ইসলাম আরব, মনিরুল ইসলাম মনির, সিরাজুল ইসলাম সোহাগ, রাশিদুল জামান রাসেল ও জসীম উদ্দীন।
সাধারণ সদস্যরা হলেন— মো. দেলোয়ার হোসেন, সোহেল রানা, জাহাঙ্গীর আলম, সোহাগ মোল্লা, আলামিন মিয়া, রতন মিয়া, নাজমুল হাসান, সুমন মিয়া, আরিফ মিয়া ও সাদেকুল ইসলাম শান্ত।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এনসিপি’র নকলা উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী হুমায়ুন কবির আকাশ একজন অযোগ্য, অনাদর্শিক ও সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। এ প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ আত্মবিশ্লেষণ শেষে তারা স্বেচ্ছায় ও সম্মিলিতভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন এবং পুরো উপজেলা কমিটিকেও প্রত্যাখ্যান করেছেন। পাশাপাশি দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
আরও পড়ুন: শরীয়তপুরে এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারীর পদত্যাগের ঘোষণা
পদত্যাগের বিষয়ে যুগ্ম সমন্বয়কারী মো. মমিনুল ইসলাম আরব বলেন, ‘প্রধান সমন্বয়কারী হুমায়ুন কবির আকাশের বিরুদ্ধে শহীদ পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতাও প্রশ্নবিদ্ধ। একজন অযোগ্য ব্যক্তির নেতৃত্বে কাজ করা সম্ভব নয় বলেই আমরা সবাই পদত্যাগ করেছি।’
প্রসঙ্গত, গত ১০ আগস্ট কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের স্বাক্ষরে নকলা উপজেলা কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে হুমায়ুন কবির আকাশকে প্রধান সমন্বয়কারী, ১০ জনকে যুগ্ম সমন্বয়কারী ও ২১ জনকে সদস্য করে মোট ৩২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
তবে কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই কমিটি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রথম দিন থেকেই পদত্যাগের গুঞ্জন চলছিল, যা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নিল।
১৬৮ দিন আগে
এবার ২১ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ঠেলে দিল বিএসএফ
ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশইন থামছেই না। এবার শেরপুরে নালিতাবাড়ীর নাকুগাঁও সীমান্ত দিয়ে রাতের আাঁধারে ২১ জনকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাত ১টার দিকে নাকুগাঁও সীমান্ত এলাকার ১৪১৬ নম্বর সীমানা পিলারের মাঝখানের ৩ নম্বর সীমান্ত গেইট দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়।
পুশইন করা সবাই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক। তাদের মধ্যে ৫ জন বয়স্ক পুরুষ, ৫ জন নারী ও ১১টি শিশু রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন ৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদি হাসান।
তিনি জানিয়েছেন, পুশইন হওয়া আটককৃতদের নাকুগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাখা হয়েছে। প্রথমকিভাবে তারা রোহিঙ্গা নাগরিক বলে জানা গেছে। তাদের বিষয়ে আরও যাচাই-বাছাই এবং পরবর্তী কার্যক্রমের প্রক্রিয়া চলছে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ভারতের মেঘালয়ের কিল্লাপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা গতকাল গভীর রাতে ২১ জন রোহিঙ্গাকে পুশইন করেন। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের হাতিপাগার বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের আটক করে নাকুগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাখেন।
আরও পড়ুন: নেত্রকোণা সীমান্তে ৩২ জনকে পুশ ইন বিএসএফের
বিজিবি জানিয়েছে, আটককৃতরা ৬টি পরিবারের সদস্য। তারা ২০১৭ সালে কক্সবাজারের উখিয়া বালুখালী রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প থেকে পালিয়ে ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে যায় এবং সেখানে শ্রমিক হিসেবে হোটেলে ও বাসাবাড়িতে কাজ করতে শুরু করে। এক মাস আগে ভারতীয় পুলিশের অভিযানে অবৈধভাবে ভারতে বসবাসের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা কক্সবাজারের উখিয়া ক্যাম্পে ছিল বলে পরিচয় দেয়। ভারতীয় পুলিশ পরে তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর তাদের মেঘালয়ের ডালু সীমান্তে কিল্লাপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পে আনা হয় এবং মধ্যরাতে রাতে নাকুগাঁও স্থলবন্দর এলাকার ৩ নম্বর সীমান্ত গেইট দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুলাই একইভাবে নালিতাবাড়ী উপজেলার পানিহাতা সীমান্ত দিয়ে শিশুসহ ১০ নারী-পুরুষকে পুশইন করে বিএসএফ।
১৯৪ দিন আগে
শেরপুরে বিদ্যুতায়িত হয়ে প্রাণ গেল আরও একটি বন্যহাতির
শেরপুরে নালিতাবাড়ী উপজেলার কাটাবাড়ী সীমান্তের বিদ্যুতায়িত হয়ে আরও একটি একটি বন্যহাতি নিহত হয়েছে। বনবিভাগের মধুটিলা রেঞ্জের আওতাধীন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে শনিবার (৫ জুলাই) সকালে বনবিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতিটির মরদেহ উদ্ধার করে।
খাদ্যের সন্ধানে পাহাড় থেকে নেমে আসা হাতিটি বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বনবিভাগ।
মধুটিলা রেঞ্জের রেঞ্জার দেওয়ান আলী ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, হাতিটির শুড়ে পোড়া ক্ষতের দাগ রয়েছে। এটির বয়স ১৫ থেকে ২০ বছর হবে। এটি একটি মাদি হাতি। এ ব্যাপারে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিককালে মধুটিলা রেঞ্জের আওতাধীন এলাকায় খাদ্যের সন্ধানে বন্যহাতি লোকালয়ে নেমে আসার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। খেতে ফসল না থাকায় হাতির দল বাড়িঘরেও হানা দিচ্ছে। এতে স্থানীয়ভাবে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। যেখানে বন্যহাতির দেহটি পড়ে ছিল, সেখানে কোনো ধরনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম না থাকলেও হাতিপাগাড় ক্যাম্পের আশপাশে অনেক বসতি ও বাড়িঘর রয়েছে।
আরও পড়ুন: মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব কমাতে দুই পরিকল্পনা সরকারের
এ নিয়ে চার মাসের কম সময়ের ব্যবধানে মধুটিলা রেঞ্জ এলাকায় তিনটি বন্যহাতির মরদেহ উদ্ধার করল বনবিভাগ।
এর আগে গত ২০ মার্চ পূর্ব সমশ্চুড়া গ্রামের লালনেংগড় এলাকায় বিদ্যুতায়িত হয়ে নিহত একটি বন্যহাতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারপর গত ২৯ মে দাওধারা পাহাড় থেকে সদ্যোজাত একটি হাতিশাবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘন ঘন হাতির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন পরিবেশ ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।
নিধারঞ্জন কোচ নামে এক অধিকারকর্মী নিজের ফেসবুক ওয়ালে শনিবার নিহত হাতির মরদেহের ছবি পোস্ট করে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে লিখেছেন, ‘আবারো বন্যহাতির মৃত্যু। এর শেষ কোথায়? হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিসনে সরকারি উদ্যোগ কী? ক্ষতিপূরণ প্রদানই কি যথেষ্ট? হাতি-মানুষের সহাবস্থানের পথ খুঁজতে খুঁজতে এশিয়ান হাতি নাই হয়ে যাবে!’
২১৪ দিন আগে
নিখোঁজের ২০ ঘণ্টা পর শেরপুরে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার
শেরপুরের শ্রীবরদীতে নিখোঁজের ২০ ঘণ্টা পর মাছের খামার থেকে দুই শিশুকন্যার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১৮ জুন) সকাল ৮টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলার বটতলা এলাকার মৃধাবাড়ি এলাকার ওই মাছের খামার থেকে শিশু দুটির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহতরা হলো—উপজেলার তিনানি ছনকান্দা গ্রামের বেতালবাড়ী এলাকার ট্রাকচালক স্বপন মিয়ার মেয়ে স্বপ্না বেগম (৬) এবং সেলিম মিয়ার মেয়ে সকাল বেগম (৭)।
নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুর ১২টার দিকে জামাকাপড় পরে ঘুরতে বের হয় তারা। কিন্ত দুপুর থেকে বিকাল, এরপর বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও বাড়ি ফেরে না স্বপ্না ও সকাল। এরপর তাদের খুঁজতে এলাকায় মাইকিং করা হয়।
আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে পা পিছলে নদীতে পরার ২৯ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার
তবে গতকাল অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাদের পাওয়া যায়নি। পরে আজ (বুধবার) সকালে ওই মাছের পুকুর থেকে বিবস্ত্র অবস্থার তাদের লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার জাহিদ। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
২৩১ দিন আগে