হত্যা মামলা
সাথী হত্যা: সাবেক স্বামীসহ ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড
সিলেটের জাফলংয়ে প্রায় ১৫ বছর আগে পোশাককর্মী রুনা আক্তার সাথী (১৯) হত্যার ঘটনায় তার সাবেক স্বামীসহ দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক শেখ নাজমুন নাহার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি পলাতক ছিলেন বলে জানিয়েছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. কবীর হোসেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: গাজীপুরের জয়দেবপুর বুরুলিয়া গ্রামের নাজমুল হাসান খান (২৩) এবং তার বন্ধু শেরপুর জেলার শ্রীবরদী লংপাড়া হাওলাচর গ্রামের সুজন মিয়া (২০)।
মামলার নথি অনুযায়ী, ময়মনসিংহের নান্দাইল আসারগাঁও এলাকার নাজমুল হকের মেয়ে রুনা আক্তার সাথী গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সেখানে বাসের সহকারী নাজমুল হাসান খানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং বিয়ে হয়। এরপর তাদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। পরবর্তীতে ওই সন্তানকে নাজমুল তার বন্ধু সুজন মিয়ার ফুফুর কাছে দত্তক দেন।
এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। সন্তানকে ফিরে পেতে সাথী একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের পরও নাজমুল গার্মেন্টেসে যাওয়া-আসার পথে সাথীকে বিরক্ত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ছেলের সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে ২০১০ সালের ১২ মে সাথীকে সিলেটে নিয়ে যান তিনি।
পরদিন দুপুরে তাকে জাফলংয়ের সোনাটিলা ফরেস্ট এলাকায় নির্জন স্থানে নিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর ১৫ মে নিহতের বাবা গোয়াইনঘাট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
তদন্তে পুলিশ পরিদর্শক শহীদুল্লাহ নাজমুল হাসান খানকে গ্রেপ্তার করেন। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে নাজমুল জামিনে মুক্তি পান। মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আল আসলাম মুমিন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন ফারহানা হাবিব চৌধুরী।
২ দিন আগে
লালমনিরহাটে হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে আফাজ উদ্দিন (৪৬) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে মো. হবিবর রহমান ওরফে গোদা (৪০) নামে একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক এস এম শফিকুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হবিবর রহমান পাটগ্রাম উপজেলার উফারমারা (প্রধানপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৯ মার্চ রাতে পাটগ্রাম উপজেলার রহমানপুর এলাকায় আফাজ উদ্দিন স্থানীয় বাজার থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কাঁচা রাস্তায় ওঁৎ পেতে ছিলেন আসামি হবিবর রহমান। এ সময় আকস্মিকভাবে তিনি হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে আফাজ উদ্দিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. রমজান আলী বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ মামলাটি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) অ্যাডভোকেট শামসুল আলম মিলন সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, এই ন্যায়বিচার সমাজে অপরাধপ্রবণতা কমাতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।
৩ দিন আগে
রাজধানীতে শিক্ষিকা হত্যা মামলার আরও ২ আসামি গ্রেপ্তার
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভিন (৫৬) নিহতের ঘটনায় সরাসরি জড়িত দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন মো. খোকন (৩৫) ও মো. রাজিব মাতুব্বর (৩৬)। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, রনজিলার লুণ্ঠিত ব্যাগ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। রাজিবের কাছ থেকে ৬২২টি ইয়াবা ট্যাবলেটও উদ্ধার করা হয়।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
ডিবি জানায়, গত ২৯ আগস্ট সকালে রনজিলা তার স্বামী মো. আব্দুল মতিনের সঙ্গে রিকশায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পূর্বপ্রান্তে ১২ নম্বর গেট পার হয়ে খেজুরবাগানমুখী সড়কে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা খোকন ও রাজিব তাদের অনুসরণ করতে থাকে।
খেজুরবাগানের সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা খোকন রনজিলার হাতে থাকা ব্যাগ ধরে সজোরে টান দেন। এতে ভারসাম্য হারিয়ে রিকশা থেকে পাকা সড়কে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান রনজিলা। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আব্দুল মতিন শেরেবাংলা নগর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
ঘটনার পর থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবির তেজগাঁও বিভাগ ছায়াতদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, তথ্য সংগ্রহ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। পরে ঢাকা, সাভার ও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে খোকন ও রাজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি জানায়, খোকনকে মিরপুরের মনিপুর পশ্চিমপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মোটরসাইকেলের পেছনে বসে রনজিলার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার কথা জানান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুরের বড়বাগ এলাকা থেকে ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়। ব্যাগের মধ্যে রনজিলার কাপড়, একটি টিকিটের অংশ, চশমার কেস ও কিছু ওষুধ ছিল।
পরে মিরপুর-১-এর কো-অপারেটিভ মার্কেট এলাকা থেকে রনজিলার মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, সাভারের বিরুলিয়া এলাকা থেকে রাজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় রাজিব মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভাষানটেকের দেওয়ানপাড়া এলাকা থেকে ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। ডিবি জানায়, মোটরসাইকেলটি রাজিবের নিজের, ভাড়া করা নয়।
এছাড়া খোকনের পরনে থাকা শার্ট, হাতে থাকা ঘড়ি ও মাথায় থাকা ক্যাপও উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবি জানায়, রনজিলার ব্যাগ, মোবাইল ফোন, কাপড়, ওষুধ ও টিকিটের অংশ গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, রনজিলার স্বামী ঘটনার সময় ছিনতাইকারীকে অল্প সময়ের জন্য দেখেছিলেন। পরে তিনি মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার দুজন শুধু এ ঘটনায় জড়িত, নাকি তারা নিয়মিত ছিনতাইকারী দলের সদস্য এবং ঢাকার অন্য কোনো ঘটনায়ও জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ডিবি আরও জানায়, রাজিবের বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতি, চুরি, মারামারি ও দ্রুত বিচার আইনে করা মামলাসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে। খোকনের বিরুদ্ধে মাদক আইনে তিনটি মামলা রয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন ছিনতাই ও রনজিলা নিহতের ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে ডিবি। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
৩ দিন আগে
ফরিদপুরে শিশু পার্কের কর্মচারী হত্যা মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন
ফরিদপুর শিশু পার্কের অস্থায়ী কর্মচারী হাসান শেখকে (৩৫) পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যার দায়ে ৪ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শরীফ উদ্দীন এ রায় দেন।
এছাড়া একই মামলার অপর ধারায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: শাহজাহান মাতুব্বর (৩৬), ফারুক শেখ (৩৫), চান্দু শেখ (২২) ও ফরিদা বেগম (৩০)। তাদের মধ্যে ফরিদা বেগম পলাতক রয়েছেন। আসামিরা সবাই জেলার সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের বাসিন্দা।
রায় ঘোষণার সময় চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বিচারক। পরে সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামিকে পুলিশি পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসান ফরিদপুর শিশু পার্কে অস্থায়ী চাকরির পাশাপাশি কৃষিকাজ করতেন। ২০১৮ সালের ৯ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশী শাহজাহান কাকা ডেকেছেন বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। পরে তিনি সারা রাত বাড়িতে না ফেরায় সকালে তাকে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে হাসানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বিষয়টি স্থানীয় থানায় জানিয়ে একটি জিডি করা হয়। নিখোঁজের চার দিন পর ঝাউখোলা এলাকার একটি আখখেত থেকে হাসানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ইমান উদ্দিন কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ঘটনার চার-পাঁচ মাস আগে হাসানের সঙ্গে প্রতিবেশী কয়েকজন যুবকের গণ্ডগোল হয়। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে শালিসি বৈঠক বসে। সেখানে হাসানকে মারধরের ঘটনায় তাদের শাস্তি দেওয়া হয়। ওই ক্ষোভ থেকেই সেদিন রাতে হাসানকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে তার মরদেহ গুম করা হয়।
স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শাহ মো. আজিজুর রহমান বিকু জানান, হাসান শেখ নৃশংস হত্যাকাণ্ড মামলার ঘটনায় দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে বিজ্ঞ বিচারক আজ এ রায় দেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
৩ দিন আগে
কুমিল্লায় বোন-ভাতিজা হত্যা মামলার মূল আসামি গ্রেপ্তার
কুমিল্লার মুরাদনগরে জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল আসামি মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন: আবু মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম ও পালিত কন্যা ইতি।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নিহত খালেদা আক্তার ও তার ভাই মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়ার পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গেল সোমবার সন্ধ্যায় খালেদা আক্তার ও তার ভাতিজা মনজুরুল আলম তুতুর ওপর হামলা চালান আবু মিয়া। একপর্যায়ে দা দিয়ে কুপিয়ে তাদের হত্যা করেন তিনি।
এ ঘটনায় নিহতদের স্বজন নাসিম হায়দার সুজন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মুরাদনগর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর বাদশা মিয়া বাজার এলাকা থেকে আবু মিয়ার স্ত্রী হনুফা বেগম ও পালিত কন্যা ইতিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকায় একটি ট্রেন থেকে মামলার মূল আসামি আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার তিনজনকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
৩ দিন আগে
রাঙ্গামাটিতে প্রৌঢ়কে হত্যা মামলায় ছেলে-ভাইপোর মৃত্যুদণ্ড
রাঙ্গামাটির সাজেকে শান্তি লাল চাকমা (৫৬) নামে এক প্রৌঢ়কে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে তার ছেলে সোহেল চাকমা (২২) ও ভাইপো আলোময় চাকমাকে (৩২) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন রাঙ্গামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালত। একই সঙ্গে উভয় আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙ্গামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আহসান তারেক এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রাতে সাজেক থানার উত্তর ভাইবোনছড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে শান্তি লাল চাকমাকে ডেকে বের করে নিয়ে যান আসামিরা। পরে তাকে গামছা দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে এবং ধারালো দা দিয়ে জবাই করে নৃশংসভাবে হত্যা করেন তারা। হত্যা নিশ্চিত করার পর তারা নিহতের মরদেহ পাশের গঙ্গারাম নদীতে ফেলে দেন। ঘটনার নয় দিন পর কাচালং নদী থেকে পুলিশ শান্তি লাল চাকমার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।
রায়ে উল্লেখ করা হয়, আসামি আলোময় চাকমা বর্তমানে পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার বা তার আত্মসমর্পণের পর এ রায় কার্যকর হবে। অন্যদিকে, কারাগারে আটক থাকা আসামি সোহেল চাকমাকে সাজা পরোয়ানাসহ জেলা হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৪ দিন আগে
তিন সপ্তাহ পরও উদঘাটন হয়নি বীনা রাণী হত্যার রহস্য
কুমিল্লার চান্দিনায় ঘরে ঢুকে বীনা রাণী রায় (৫৮) নামের এক গৃহকর্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। কারা, কী কারণে ও কী উদ্দেশ্যে ওই নারীকে হত্যা করেছে, তা এখনও অজানা। মামলা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় হতাশা বাড়ছে নিহতের স্বজনদের।
গত ১৭ আগস্ট সন্ধ্যার পর উপজেলার বরকইট গ্রামে নিজ ঘরে ধর্মীয় আচার হিসেবে মালা জপছিলেন বীনা রাণী রায়। ওই সময় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ঘরে প্রবেশ করে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছোট ছেলে তাপস কুমার রায় বলেন, ‘কারা ও কেন আমার মাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। এ কারণে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেছি। কিন্তু প্রায় তিন সপ্তাহ হয়ে গেলেও এখনও মায়ের হত্যার রহস্য জানতে পারিনি। আদৌ জানতে পারব কি না, সেটাও বুঝতে পারছি না।’
স্বামী দিলীপ কুমার রায় জানান, তিনি অবসরপ্রাপ্ত ডাকঘর কর্মী। তাদের তিন ছেলে দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত থাকায় বাড়িতে শুধু তারা দুজনই থাকতেন। ঘটনার দিন রাত পৌনে ৮টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে যান। এ সময় তার স্ত্রী ঘরে বসে মালা জপছিলেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে লোকমুখে জানতে পারেন, তার স্ত্রীকে কে বা কারা পিটিয়ে আহত করেছে। খবর পেয়ে দ্রুত বাড়িতে ফিরে তিনি দেখতে পান, তার স্ত্রীর মাথা ফেটে রক্ত বের হচ্ছে এবং তিনি অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আমার স্ত্রী ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দিয়েছিল। সাধারণত পরিচিত ব্যক্তি ছাড়া রাতে সে দরজা খুলত না। কিন্তু হামলার পর ঘরের দরজা স্বাভাবিকভাবেই খোলা ছিল। দরজা বা অন্য কোথাও ভাঙচুরের চিহ্নও পাওয়া যায়নি। এ কারণে আমার ধারণা, পরিচিত কেউই তাকে হত্যা করেছে।’
নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বলছেন, ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাদের দাবি, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত কি না, হামলাকারীরা কীভাবে ঘরে প্রবেশ করল, হত্যার পেছনে কোনো পূর্বশত্রুতা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হোক।
কুমিল্লা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র সরকার বলেন, হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে না পারা এবং হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়া প্রশাসনের জন্য অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। সেই সঙ্গে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে তিনি অনতিবিলম্বে প্রকৃত হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘এ ঘটনা নিয়ে আমরা কাজ করছি, মামলাটির তদন্তের স্বার্থে এই মুহুর্তে বিস্তারিত কিছুই বলা যাচ্ছে না।’
১০ দিন আগে
এসআই আলতাফ পিটিয়ে হত্যা মামলার আরও ৮ আসামি গ্রেপ্তার
ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আরও আট আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
তাদের মধ্যে র্যাব-১০ মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা থেকে চারজনকে এবং র্যাব-৪ সাভারের আমিনবাজার এলাকা থেকে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন: আলাউদ্দিন, আপন, জিহাদ, ইমরান, নূর মোহাম্মদ রুদ্র, রাকিব মিয়া, সাব্বির আহমেদ ও মো. ওয়াসিম।
এর আগে এ মামলার প্রধান আসামি জহিরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান।
গত ৫ আগস্ট আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় ৫৮ বছর বয়সী এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সেদিন রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
একটি অটোরিকশা গ্যারেজের মালিককে একটি প্রাইভেটকারের চালক ও তার সহযোগীরা মারধর করছিলেন। আলতাফ হোসেন এর প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়।
র্যাব জানায়, গ্যারেজে একটি অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধ গ্যারেজ মালিককে মারধর করা হচ্ছিল। বিষয়টি দেখে আলতাফ প্রতিবাদ করলে তাকে মারধরকারীদের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে আসামিরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। আলতাফ নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিলেও হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
জীবন বাঁচাতে আলতাফ তার ছেলে আরিফুলের মালিকানাধীন একটি পোশাক কারখানায় গিয়ে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা তার পিছু নিয়ে সেখানে যায় এবং আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে আনে। পরে তারা কারখানার ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
এরপর দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে আলতাফ ও তার ছেলে আরিফুলকে এলোপাতাড়ি মারধর করে তারা। এ সময় কারখানার যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয়রা আহত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে ঢাকার শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলতাফকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
র্যাব-১০ জানায়, গোয়েন্দা নজরদারি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানার আওতাধীন লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা থেকে মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১০-এর অধিনায়ক আসাদুজ্জামান বলেন, আপন কিশোর গ্যাংয়ের একজন দলনেতা এবং মাদক সরবরাহকারী। বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে।
তিনি জানান, হামলার সময় আপন স্টিলের পাইপ দিয়ে এসআই আলতাফের মাথায় আঘাত করে। আর জিহাদ ছুরি দিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন। ঘটনার সময় সব আসামিই মাদকাসক্ত ছিল।
তিনি আরও বলেন, বৃদ্ধ গ্যারেজ মালিককে মারধর করতে দেখে আলতাফ মানবিকতার পরিচয় দিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। এতে আসামিরা ক্ষুব্ধ হয়ে তার ওপর হামলা চালায়।
১২ দিন আগে
সাংবাদিক উৎস হত্যা: একজনের মৃত্যুদণ্ড, দুজনের যাবজ্জীবন
রংপুরে সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান হত্যা মামলায় এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে এ মামলায় মূল অভিযুক্তকে খালাস দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান খান এ রায় দেন।
রায়ে রুবেল ওরফে হেকরমকে মৃত্যুদণ্ড এবং এলিন ও শুভ কুমারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
এ মামলায় মূল অভিযুক্ত চিহ্নিত মাদককারবারি জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল হাদী বেলাল ও বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ। রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছে নিহত সাংবাদিক উৎস রহমানের পরিবার।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রংপুরের স্থানীয় দৈনিক যুগের আলো কার্যালয়ে যান সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান। এরপর রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে নগরীর ধর্মদাস এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের মা নুরজাহান বেগম নুরী রংপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় পুলিশ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। পরে আদালত ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
১০ বছর ৯ মাসের বেশি সময় ধরে মামলাটির বিচারকার্য চলে। এ সময় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয়পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আজ (বুধবার) রায় ঘোষণা করেন আদালত।
এদিকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন দাবি করে মামলার বাদী নুর জাহান বেগম জানান, এই রায়ে তারা সন্তুষ্ট না হওয়ায় উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তারা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হাদী বেলাল ও বাদীপক্ষের আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ বলেন, মামলার মূল অভিযুক্ত জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদি তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে সাংবাদিক উৎস রহমানকে হত্যা করিয়েছে। অথচ আদালত হত্যাকাণ্ডের সেই মাস্টার মাইন্ডকেই বেকসুর খালাস দিয়েছেন। এ রায়ে আমরা আইনজীবীসহ নিহতের পরিবার সংক্ষুব্ধ। এ মামলার বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। এভাবে হত্যার পর মূলহোতা পার পেয়ে গেলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
রায় নিয়ে সাংবাদিক সমাজেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকদের মতে এই রায় সন্তোষজনক নয়।
১৭ দিন আগে
৫ হাজার পোস্টার, লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা; অবশেষে সিআইডির জালে নূরী হত্যা মামলার ৩ আসামি
জামালপুরের ইসলামপুরে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের চালক আবু বকর নূরী হত্যা মামলার রহস্য দীর্ঘ আট বছর পর উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি।
গ্রেপ্তাররা হলেন: ইসলামপুর উপজেলার আগুনেরচর গ্রামের আক্তার আলীর ছেলে জালাল মিয়া (৪২), উসমান শেখের ছেলে মো. নূর ইসলাম (৩২) এবং মৃত আছান আলীর ছেলে মো. মোজাম্মেল হক (৪৮)।
সিআইডি জামালপুর ইউনিটের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান সোমবার (৩১ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, প্রায় আট বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা মামলাটির রহস্য উদঘাটনে সিসিটিভি ফুটেজ, বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত, ফরেনসিক যাচাই এবং বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক তদন্ত চালানো হয়। একাধিক অভিযানের পর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপরজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আজ সোমবার রিমান্ড শুনানি শেষে আদালত জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
যেভাবে হত্যা করা হয়
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২ জুলাই দুপুরে আবু বকর নূরী স্ত্রী মোছা. তাহমিনা বেগমের সঙ্গে খাবার খেয়ে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল নিয়ে বকশীগঞ্জ বাজারের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু সেদিন রাতে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ শুরু করেন।
পরে ইসলামপুর থানার চুংরাপাড়া গ্রামের পুবেরবন্দ এলাকায় একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তাহমিনা বেগম। সেখানে তিনি মরদেহটি তার স্বামী আবু বকর নূরীর বলে শনাক্ত করেন।
তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে সংঘবদ্ধ একটি অপরাধীচক্র মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নূরীকে কৌশলে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। পরে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
এ ঘটনায় নূরীর স্ত্রী বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর ইসলামপুর থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে অধিকতর তদন্তের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় পুলিশ সদরদপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ১৯ আগস্ট মামলাটির তদন্তভার সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজ থেকে ৫ হাজার পোস্টার
সিআইডি তদন্তভার গ্রহণের পর মামলার বিভিন্ন দিক নতুনভাবে পর্যালোচনা শুরু করে। দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ায় জড়িতদের শনাক্তে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল বলে জানান তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
তদন্তের একপর্যায়ে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নূরীর মোটরসাইকেলে থাকা তিন অজ্ঞাত ব্যক্তির ছবি সংগ্রহ করা হয়। তবে ঘটনার দীর্ঘ সময় পর ওই ছবি থেকে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
পরে বিভিন্ন মাধ্যমে ছবিগুলো প্রচার করা হয়। এ জন্য জামালপুরসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান, হাটবাজার ও জনসমাগমস্থলে প্রায় ৫ হাজার পোস্টার লাগানো হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের ছবি প্রচার করে তথ্যদাতার জন্য এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
এ প্রচারণার পর বিভিন্ন সূত্র থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। পরে আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সহায়তায় সেসব তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করে সিআইডি।
তদন্তের একপর্যায়ে সিআইডি নিশ্চিত হয় যে জালাল মিয়া, নূর ইসলাম ও মোজাম্মেল হক হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
তিনজনকে যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়
সিআইডি জানায়, গত ২৬ আগস্ট জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানার নাপিতের চর এলাকা থেকে জালাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং তার অপর দুই সহযোগী নূর ইসলাম ও মোজাম্মেল হকের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।
জালালের দেওয়া তথ্য এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ গোয়েন্দা সহায়তা নিয়ে পরদিন ২৭ আগস্ট গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে নূর ইসলাম এবং গাজীপুর কলেজ রোড এলাকা থেকে মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং ছিনিয়ে নেওয়া মোটরসাইকেল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে সিআইডি।
গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ছিনিয়ে নেওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
১৯ দিন আগে