হত্যা মামলা
কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার দায়ে হানিফের মৃত্যুদণ্ড
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় অন্য তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান। মামলার চার আসামির সবাই পলাতক রয়েছেন।
রায়ে আসামিদের অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এসব সম্পত্তি জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে হতাহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৫ মার্চ এ মামলার তদন্ত শুরু হয়। একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত সংস্থা। পরে ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৫, ১৭ ও ৩০ জুলাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে উপস্থিত থেকে তার উসকানিমূলক বক্তব্যকে সমর্থন করেন হানিফ। এছাড়া ২৯ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় আন্দোলনকারীদের ‘জামায়াত’, ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘সাম্প্রদায়িক’ আখ্যা দিয়ে তাদের হত্যা ও নির্যাতনের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা দেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হানিফের নির্দেশে ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সদর উদ্দিন খান, আজগর আলী, আতাউর রহমানসহ দলের অন্য নেতারা সভা করেন। ওই সভায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সভা থেকে কুষ্টিয়া শহরে আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, চার আসামির নির্দেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালান। এতে ছয়জন নিহত হন। তারা হলেন আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, বাবুল ফরাজী ও ইউসুফ শেখ।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে গত ২ নভেম্বর মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।
গত ১০ জুন মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও সাক্ষী ও নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়। এসব সাক্ষ্য ও নথিপত্রের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে।
গত ৭ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর আবারও মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। গত মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২ আদেশ দেন, বৃহস্পতিবার এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।
৫ দিন আগে
সাগর-রুনি হত্যা: টাস্কফোর্স প্রধান ও প্রসিকিউটরকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার অগ্রগতি জানাতে আগামী বছরের ২৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা ও টাস্কফোর্সের প্রধানকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা না দিয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করে আরও এক বছর সময় চায় টাস্কফোর্স। শুনানি শেষে আদালত ছয় মাস সময় মঞ্জুর করেন।
একই সঙ্গে মামলার তদন্তে জব্দ করা সিডি ও অন্যান্য নথি পর্যালোচনার অগ্রগতি জানাতে আগামী বছরের ২৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা ও টাস্কফোর্সের প্রধানকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা তদন্তের নতুন অগ্রগতির বিষয়ে টাস্কফোর্সকে তথ্য দিয়েছেন।
তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বাসা থেকে জব্দ করা বিপুলসংখ্যক সিডি ও ডিজিটাল আলামত পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডের সূত্র খোঁজার চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় জিয়াউল আহসান ও একজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার কথাও শুনানিতে উঠে এসেছে।
তবে এসব তথ্য এখনও আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি, তদন্তের মাধ্যমে সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে।
সাগর-রুনির পরিবারের আইনজীবী শিশির মনির জানান, তদন্তে মোট ৩০০টি সিডি পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৯০টির বিশ্লেষণ শেষ হয়েছে। বাকি ২১০টি সিডি এখনও পর্যালোচনা করা হয়নি।
সিডিগুলো বিশ্লেষণ করে কার্যকর কোনো সূত্র পাওয়া গেলে তা আদালতে উপস্থাপনের প্রত্যাশা করেন তিনি।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরদিন ১২ ফেব্রুয়ারি শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান।
প্রথমে থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি)। দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করেও কোনো আসামিকে শনাক্ত করতে না পারায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।
দেশি-বিদেশি পরীক্ষাগারে আলামতের ডিএনএ পরীক্ষা করা হলেও আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে সাগর ও রুনির ডিএনএর মিল পাওয়া যায়নি বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনেও তদন্ত শেষ না হওয়া এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর উচ্চপর্যায়ের চার সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।
পরবর্তীতে মামলার তদন্তে পরিবর্তন আসে। নতুন করে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
টাস্কফোর্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ৯০ জন সাক্ষীকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং ২৪ জনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
গত ৩০ আগস্ট প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান, জিয়াউল আহসানের বাসায় অভিযানে বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত জব্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে জিওলোকেশন-সংক্রান্ত তথ্য, খুদে বার্তা ও কল ডিটেইলস রেকর্ডের (সিডিআর) মুদ্রিত কপি রয়েছে। এগুলো পর্যালোচনা করে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সূত্র খোঁজা হচ্ছে।
৭ দিন আগে
যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
জামালপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত জনি (৩৫) জামালপুর সদর উপজেলার লাহিড়ীকান্দা গ্রামের বাসিন্দা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ফজলুল হক জানান, ২০১৪ সালের শেষের দিকে একই উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের মেয়ে তমাকে বিয়ে করেন জনি। চার মাস পর জনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কেনার জন্য আড়াই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করলে তমার পরিবার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে।
এরপর ২০১৫ সালের ১৯ মার্চ বেলা ১১টার দিকে জনি তার স্ত্রীকে মারধর করেন। একপর্যায়ে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যান জনি।
২০ মার্চ জামালপুর সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয় এবং তমার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
ময়নাতদন্তে হত্যার বিষয়টি প্রমাণিত হলে জনিসহ চারজনকে আসামি করে জামালপুর সদর থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের মা উম্মে কুলছুম। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে আসামিদের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
ফজলুল হক বলেন, এ মামলার আসামিদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ার খালাস দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জনির অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ সম্পন্ন হয়। ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক জনির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।
৭ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে স্ত্রী-ছেলে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্ত্রী ও ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার ছয় বছর পর হারেজ (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ এ রায় ঘোষণা করেন
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবুল কালাম আজাদ জাকির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত হারেজ ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার গুলহরি (দুর্গাপুর) এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভোলাইল গেদ্দার বাজার এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৮ জুলাই রাতে হারেজ তার ছেলে সোহাগ (১৬) ও স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে (৩৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় ফতুল্লা থানা পুলিশ তাকে আটক করে।
নিহত মনোয়ারা বেগমের মেয়ে বিথি (১৩) ও বড় ভাই মজিবুর রহমান ওরফে মজিদ (৪০) অভিযোগ দায়ের করলে ৯ জুলাই ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা রুজু হয়। তদন্ত শেষে ওই বছরের ২০ নভেম্বর পুলিশ আদালতে হারেজের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
৮ দিন আগে
ফরিদপুরে ইজিবাইকচালক হত্যা মামলায় অজ্ঞান পার্টির ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
ফরিদপুরে চেতনানাশক দিয়ে ইজিবাইকচালককে অজ্ঞান করে রাস্তার পাশে ফেলে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা ১১টায় পিবিআই ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংস্থাটির পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।
গ্রেপ্তার মুরাদ শেখ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদাহ ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা। এর আগে এ ঘটনায় গ্যারেজ মালিক কামাল ও ছিনতাইকারী সুমন আহমেদ নামে আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১৪ অক্টোবর রাতে ফরিদপুর শহরের ফলপট্টি এলাকা থেকে মুরাদ শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালতে পাঠানো হলে তিনি ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই আরও জানায়, ২০২২ সালের ১৬ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাঁচ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে ২০০ টাকা ভাড়ায় তালমা যাওয়ার কথা বলে একটি ইজিবাইক ভাড়া করে।
ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের বাখুন্ডা এলাকায় পৌঁছালে চক্রের সদস্যরা রুমালের মধ্যে চেতনানাশক মিশিয়ে চালক বিশ্বনাথ সরকারকে অজ্ঞান করেন। সে সময় তাকে অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে ইজিবাইকটি নিয়ে পালিয়ে যান তারা।
পরে স্থানীয়রা বিশ্বনাথকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে পরদিন সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে রবি কুমার সরকার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা ও ছিনতাইয়ের মামলা করেন।
মামলার তিন মাস পর তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। একটি গ্যারেজ থেকে ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকের হুটের সূত্র ধরে দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তদন্তের পর একে একে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
১৮ দিন আগে
ময়মনসিংহে হত্যা মামলায় বাবা-ছেলেসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন
ময়মনসিংহের ত্রিশালে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সোহেল হত্যা মামলায় চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা দায়রা জজ আদালতের চতুর্থ অতিরিক্ত বিচারক ফারজানা আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আব্দুল সাত্তার বেপারী, তার দুই ছেলে আলমগীর হোসেন আলম বেপারী ও রনি বেপারী এবং আশিকুর রহমান আশিক। আব্দুল সাত্তার রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ত্রিশালের কাঁঠিহারী ইউনিয়নের বাগাদাড়িয়া গ্রামের সোহেলের পরিবারের সঙ্গে আব্দুল সাত্তারের পরিবারের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। তার জেরে ২০১১ সালের ২৮ মে ধান নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আসামিদের সঙ্গে সোহেলের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সোহেলের ওপর হামলা চালান।
স্থানীয়রা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ৩০ মে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল সালাম বেপারী ২০১১ সালের ২ জুন ত্রিশাল থানায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত চার আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করলেন।
১৯ দিন আগে
নীলফামারীর হত্যা মামলার ৩ আসামি সিলেটে গ্রেপ্তার
নীলফামারীর ডোমারে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা মামলার পলাতক তিন আসামিকে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এসআরবি-৯-এর মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।
এর আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রাতে সিলেটের জালালাবাদ থানার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা বাজার এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন নীলফামারীর ডোমার থানার হংসরাজ গ্রামের মৃত চাঁদ মিয়ার ছেলে মো. আবুল হোসেন (৪০) ও তার স্ত্রী মোসা. আমেনা বেগম (৩৫) এবং তাদের ছেলে মো. হৃদয় ইসলাম (১৯)।
এসআরবি জানায়, ডোমারের হংসরাজ গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেনের (৪০) সঙ্গে তার ভাই-বোন ও ভাতিজাদের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ৫ জুন সকালে দেলোয়ারের আবাদি জমির আইল কেটে নিজেদের সীমানায় নেওয়ার চেষ্টা করেন আসামিরা।
এ সময় তাদের বাধা দিলে এক নম্বর আসামি আবুল হোসেনের নির্দেশ ও নেতৃত্বে অন্য আসামিরা দেশীয় অস্ত্র ও কোদাল দিয়ে দেলোয়ারের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপরও হামলা চালানো হয়।
স্থানীয়রা দেলোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রীকে প্রথমে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দেলোয়ারকে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গত ১৪ জুন তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় দেলোয়ারের স্ত্রী বাদী হয়ে ডোমার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে ছিলেন।
পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তারদের ডোমার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-৯।
২০ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সাহেব আলী হত্যা মামলায় ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক নাদিরা সুলতানা আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেল হোসেন (৭৩), আইন উদ্দিন (৬৮) ও তার ভাই আকতার হোসেন (৪৩), সাবু (৪১), সোহাগ (৩৮), শরিফুল ইসলাম (৪৩), বিপুল (৩৪), বদর উদ্দিন (৬৮), আফসার শেখ (৬৫), সুমিন (৩৮), সেলিম (৪১) ও আবু (৩৭)।
এছাড়া জুলু (৩৮) ও তার ভাই রাহুলকে (৩৪) দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডসহ পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন সাতজন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তার ও জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ২০১৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সাহেব আলীকে হত্যা করা হয়। পরে কুমারখালী উপজেলার চর-চাপড়া গ্রামে একটি কলাবাগানের পাশে তার মরদেহ ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই আহম্মদ আলী ওরফে আকম আলী কুমারখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক কাজী কামাল হোসেন ২০১৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ (মঙ্গলবার) এ মামলার রায় হলো। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মনির হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
২১ দিন আগে
দর্শনা ইমিগ্রেশন দিয়ে দেশত্যাগের সময় হত্যা মামলার আসামি আটক
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দেশত্যাগের সময় হত্যা মামলার আসামি মো. মাহবুব আলমকে (৪৯) আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে তাকে আটক করা হয়।
দর্শনা ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাহবুব আলম কুষ্টিয়া সদর উপজেলার যুগিয়া দরগাপাড়া এলাকার আনসার শেখের ছেলে। তিনি একটি হত্যা মামলার আসামি এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা।
দর্শনা ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) তুহিন মিয়া জানান, কুষ্টিয়া সদর থানায় করা একটি মামলায় তার দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
২৫ দিন আগে
কৃষক হত্যা মামলায় ৩ ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড
ময়মনসিংহের নান্দাইলে জমি নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে কৃষককে হত্যার দায়ে তিন ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাদের বাবাসহ আরও ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সেই সঙ্গে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সামছুদ্দিন আহাম্মেদ এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন নান্দাইলের চর লক্ষীদিয়া এলাকার আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে মোজাম্মেল হক স্বপন মিয়া (৪৬), আপন মিয়া (৪৩) ও রিপন মিয়া (৪১)।
অন্যদিকে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আবু বকর সিদ্দিক (৭১) ও তার আরেক ছেলে কাঞ্চন মিয়া (৩৬), রুবেল (২৯), পারভেজ (৩১), মোফাজ্জল হোসেন (৫৬), কাশিদ (৫৯), আল-আমিন (৩১), সুমন মিয়া (৩৬), নয়ন মিয়া (২৯) ও আসাদুল (২৯)।
আসামিদের মধ্যে রিপন মিয়া ও আসাদুল পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নান্দাইলের চর ভেলামারীর হযরত আলীর ছেলে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবির সঙ্গে আবু বকর সিদ্দিকসহ অন্য আসামিদের জমি নিয়ে পূর্ববিরোধ ছিল।
২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি চর ভেলামারী চৌরাস্তা খেয়াঘাটে একটি কাপড়ের দোকানে বসে ছিলেন শফিকুল। এ সময় আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন।
ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে নান্দাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী আনোয়ার আজিজ টুটুল এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম আমানউল্লাহ বাদল।
২৭ দিন আগে