চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী নিহত এবং ১০৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
মিরসরাই ট্র্যাজেডির ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে শনিবার (১১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সচেতন করা গেলে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি সুশৃঙ্খল জাতি গঠনও সম্ভব। কিন্তু মিরসরাই ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি না থাকায় প্রতিবছর অসংখ্য শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে, আহত হচ্ছে এবং অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী নিহত এবং ১০৯ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
সংগঠনটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৭ জন শিক্ষার্থী নিহত ও ২২ জন আহত হন। ফেব্রুয়ারিতে ৩৯টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন নিহত ও ১১ জন আহত হন। মার্চে ৫৯টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত ও একজন আহত হন। এপ্রিলে ৫১টি দুর্ঘটনায় ৫৬ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হন। মে মাসে ৬১টি দুর্ঘটনায় ৭৩ জন নিহত ও ২৩ জন আহত হন। জুনে ৫৩টি দুর্ঘটনায় ৬০ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হন।
বিবৃতিতে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থী বহনকারী একটি মিনিট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে শিক্ষার্থীসহ ৪৫ জন নিহত হন। দেশের ইতিহাসে একক সড়ক দুর্ঘটনায় সর্বাধিক প্রাণহানির ওই ঘটনার পরও শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সরকার কার্যকর সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেনি। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সচেতনতা গড়ে ওঠেনি এবং প্রতিবছরই সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য শিক্ষার্থী প্রাণ হারাচ্ছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি কমাতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি পাঁচ দফা সুপারিশ তুলে ধরেছে। সেগুলো হলো—
১. পাঠ্যবইয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা।
২. প্রতি মাসে অন্তত একবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমনরুমে সকল শিক্ষার্থীকে নিয়ে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা।
৩. জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রতিটি পারাপারস্থল, বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে জেব্রা ক্রসিং আঁকা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা।
৪. জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে ‘রোড সেফটি গার্ড’ নিয়োগ দিয়ে লাল পতাকার মাধ্যমে যানবাহন থামিয়ে পারাপারের ব্যবস্থা করা।
৫. প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-শিক্ষকদের সমন্বয়ে সড়ক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা।