খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সার, ডাল ও ভোজ্যতেল আমদানিসংক্রান্ত ১ হাজার ২৭৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ৬টি ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বুধবার (২৪ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৮তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকে ৩০ হাজার টন ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সার আমদানির সুপারিশ।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের উত্থাপিত এ প্রস্তাবের ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ২৬৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। প্রতি টন সার ৭১৩ ডলার দরে আমদানি করা হবে।
এছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবের আওতায় কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে ৩০ হাজার টন ব্যাগজাত দানাদার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রতি টন ইউরিয়া সারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৪০ দশমিক ৭৫ ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ষোড়শ লটের আওতায় এ ক্রয়ে ব্যয় হবে মোট ১৯৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।
খাদ্য মজুত জোরদারের লক্ষ্যে স্থানীয় উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনারও সুপারিশ করেছে কমিটি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এ প্রস্তাবটি চট্টগ্রামের মেসার্স পায়েল অটোমেটিক ফুড প্রসেসিং মিলসকে দেওয়া হয়েছে। প্রতি কেজি ডালের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮১ টাকা ৪৭ পয়সা। এতে মোট ব্যয় হবে ৮১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
এ ছাড়াও আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আরও সাড়ে ১২ হাজার টন মসুর ডাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
অস্ট্রেলিয়ার এমসিজি ইন্টারন্যাশনাল পিটিওয়াই লিমিটেডকে এ সরবরাহ কার্যাদেশ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ডালগুলো তানজানিয়া, মালাউই অথবা অস্ট্রেলিয়া থেকে সরবরাহ করা হবে। প্রতি কেজি ডালের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৪ টাকা ৮৬ পয়সা।
খাদ্যপণ্যের আরেকটি বড় ক্রয় হিসেবে জাতীয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে দুই লিটারের পিইটি বোতলে প্যাকেজ করা ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন তেল কেনার সুপারিশ করেছে কমিটি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এ প্রস্তাবটি শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে দেওয়া হয়েছে। প্রতি লিটার তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮৩ টাকা ৯৫ পয়সা। এতে ব্যয় হবে ৩৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আরও ২ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এ জন্য ২৭৭ কোটি ১৭ লাখ টাকার কার্যাদেশ এমসিজি ইন্টারন্যাশনাল পিটিওয়াই লিমিটেডকে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এসব তেল তানজানিয়া থেকে আমদানি করা হবে, যার প্রতি লিটারের আমদানি মূল্য ধরা হয়েছে ১৬৪ টাকা ৭৭ পয়সা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কৃষি উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের স্থিতিশীল মজুত বজায় রাখতেই এসব ক্রয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।