কঙ্গোয় ইবোলা মহামারিতে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটিতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ইবোলায় নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৩৮১ জন এবং মারা গেছেন ২ হাজার ১১ জন।
দুর্বল সড়ক যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অর্থ পরিশোধ নিয়ে কর্মবিরতির কারণে দেশটির দুর্গম এলাকায় দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) প্রকাশিত দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোয় ইবোলায় নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৮১ জনে। এর মধ্যে মারা গেছেন ২ হাজার ১১ জন। বর্তমানে সেখানে ৭০৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি ও আইসোলেশনে রয়েছেন।
কঙ্গোতে গত ১৫ মে থেকে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। এরপর তিন মাসের মধ্যেই এমন ভয়াবহর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইবোলা প্রাদুর্ভাব শুরুর পর প্রথম ৯ সপ্তাহে ১ হাজার মানুষ মারা যান। পরে মাত্র ৩ সপ্তাহেই ১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই স্বাস্থ্য সংকট ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। এটি ক্রমশ স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
কঙ্গোতে চলমান এই ইবোলা প্রাদুর্ভাব ইতোমধ্যে আফ্রিকার ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা প্রাদুর্ভাবে রূপ নিয়েছে। এর আগে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। ওই সময় ২৮ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান।
এ ব্যাপারে সহায়তা সংস্থাগুলোর কর্মীরা বলছেন, ইবোলা মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েও এর প্রাদুর্ভাব ঠেকানো যাচ্ছে না। রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। দেশটির আক্রান্ত ৫টি প্রদেশজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বাড়ানো হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।
এদিকে, ইবোলা প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে দেশটির বহু স্বাস্থ্যকর্মীর পারিশ্রমিক না পাওয়ার প্রতিবাদে ধর্মঘট করেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের পর্যবেক্ষণে থাকা সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষেরও তালিকা করেছেন। তবে নতুন করে যারা ইবোলা আক্রান্তদের বেশিরভাগই এই তালিকায় ছিলেন না। তবুও তারা ইবোলা আক্রান্ত হয়েছেন। অর্থাৎ, সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে না এসেও মানুষ ইবোলায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এতে বোঝা যায়, রোগটির প্রাদুর্ভাব স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চরে গেছে।
আগের বেশিরভাগ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি আলাদা। কারণ এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বিরল ‘বান্দিবুগিও ভাইরাস’। এ ভাইরাসের অনুমোদিত কোনো টিকা বা চিকিৎসা নেই।
তবে এরই মধ্যে সাম্প্রতিক ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ইতুরি প্রদেশে এ রোগের টিকা ও চিকিৎসা নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে ।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, সম্ভবত ফেব্রুয়ারিতে এবারের ইবোলার প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছিল। অর্থাৎ কঙ্গোর কর্তৃপক্ষ এটি শনাক্ত করার অনেক আগেই দেশটির সবচেয়ে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর একটিতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছিল।
ডব্লিউএইচও আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু আক্রান্ত রোগীকে ভুলভাবে ম্যালেরিয়া ও টাইফয়েডে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। এছাড়া রোগটির শুরুর দিকে ইবোলার আরও প্রচলিত ধরন শনাক্তের জন্য পরীক্ষা করা হচ্ছিল।
ডব্লিউএইচওর আফ্রিকার আঞ্চলিক পরিচালক ডা. মোহামেদ ইয়াকুব জানাবি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা ভাইরাসটি ঠেকাতে এর পেছনে ছুটছি, কিন্তু ভাইরাসটি আমাদের চেয়ে দ্রুত ছুটছে।’
১৯৭৬ সালে কঙ্গোতে ইবোলা নদীর কাছাকাছি এলাকায় প্রথম এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। মধ্য আফ্রিকার এই দেশে এটি ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব। এবারের প্রাদুর্ভাব দেশটিতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব।