যুদ্ধবিরতি ও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ‘সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ’ আলোচনার প্রেক্ষাপটে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি মাইনমুক্ত করার কাজ শুরু করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মাইন অপসারণের প্রস্তুতি হিসেবে দুটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার (যুদ্ধজাহাজ) এই সংকটপূর্ণ জলপথ অতিক্রম করেছে, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম।
তবে তেহরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির যৌথ সামরিক কমান্ড তাদের জলসীমায় মার্কিন রণতরী প্রবেশের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা প্রণালি পরিষ্কার করছি। চুক্তি হোক বা না হোক, এতে আমার কিছু যায় আসে না।’
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার পরে জানান, ‘আজ আমরা একটি নতুন যাতায়াত পথ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছি এবং খুব শিগগিরই সামুদ্রিক বাণিজ্য শিল্পের জন্য এই নিরাপদ পথটি উন্মুক্ত করব।’
তিনি আরও বলেন, আগামী দিনগুলোতে আন্ডারওয়াটার ড্রোনসহ অতিরিক্ত মার্কিন বাহিনী এই অভিযানে যোগ দেবে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়াই যুদ্ধে ইরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত সুবিধা হিসেবে কাজ করেছে। বিশ্বের মোট বাণিজ্যিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে যুদ্ধবিরতির পর থেকে মাত্র ১২টি জাহাজ এই পথে চলাচল করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
এদিকে, পাকিস্তানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কলিবফের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা নিয়ে আলোচনা চললেও তা নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে দুপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে দুই সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টা ধরে এই আলোচনা চলে। তবে শেষ পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে কোনো ‘সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি’ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে প্রথম প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘দুই বা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে’ আলোচনা ভেস্তে গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে তিনি জানান, আলোচনায় হরমুজ প্রণালীসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়েছে, তবে পরমাণু অস্ত্রের বিষয়ে তিনি কিছু উল্লেখ করেননি।
যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রাথমিকভাবে যে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কী ঘটবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি ভ্যান্স। তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, ‘উভয় পক্ষের জন্যই যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা অপরিহার্য।’ তিনি আরও জানান,সামনের দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংলাপ আয়োজনে ইসলামাবাদ সহযোগিতা চালিয়ে যাবে।