ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ বন্ধের ঘোষণা ইরানের
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তারা। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে আবারও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তেহরান। ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না বলে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দেওয়ার পর তেহরান এই পদক্ষেপ নিল।
যুক্তরাজ্যের একটি সামুদ্রিক সংস্থা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় একটি ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর জাহাজ থেকে গুলি চালানো হয়েছে। একটি ভারতীয় পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজও এই জলপথে আক্রান্ত হয়েছে।
ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া যৌথ সামরিক কমান্ডের বরাতে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার তেহরান প্রণালিটিকে তার পূর্ববর্তী অবস্থায় (বন্ধ) ফিরিয়ে নিয়েছে এবং এটি এখন সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি ইরান থেকে যাওয়া এবং ইরানের দিকে আসা জাহাজগুলো চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত না করে, তবে এই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খতিবজাদেহ এবং আইআরজিসির নৌ কমান্ড এই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন।
শনিবার ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, তবে পারমাণবিক ইস্যু এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে এখনও মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
গত সপ্তাহের আলোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু আমাদের মধ্যে এখনও বড় দূরত্ব রয়ে গেছে। কিছু বিষয়ে আমরা অনড়... তাদেরও কিছু রেড লাইন (চরম সীমা) আছে। তবে এই অমীমাংসিত ইস্যুগুলো মাত্র একটি বা দুটি হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের খুব ভালো আলোচনা চলছে। তবে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়ে কোনো ধরনের ব্ল্যাকমেইল বা জিম্মি করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধের মিত্র ইসরায়েলের প্রশংসা করে বলেন, অন্য মিত্ররা সংঘাত ও চাপের মুহূর্তে তাদের প্রকৃত স্বরূপ প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন বাকি আছে। তবে শনিবারের আলোচনার অবস্থা নিয়ে কোনো পক্ষই বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
আট সপ্তাহে পা দেওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। সংঘাতটি লেবাননেও ছড়িয়ে পড়েছে। এ যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। সাধারণত বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
তুরস্কের আন্তালিয়ায় একটি কূটনৈতিক ফোরামের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী খতিবজাদেহ বলেন, ইরান সদিচ্ছা নিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত সহজ করার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অবরোধ চাপিয়ে দিতে পারে না।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইআরজিসির নৌ কমান্ড লিখেছে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরান থেকে আসা-যাওয়া জাহাজের চলাচল হুমকির মুখে থাকবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালির অবস্থা আগের মতোই থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হলে তার যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে শুক্রবার প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল তেহরান। এর আগে, ৪ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই পথ বন্ধ করে দিয়েছিল।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার জানিয়েছে, ওমানের উত্তর-পূর্বে ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি ট্যাঙ্কারকে আইআরজিসির দুটি গানবোট ধাওয়া করে গুলি চালায়। জাহাজের ক্যাপ্টেন জানিয়েছেন, এর আগে রেডিওতে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। তবে ট্যাঙ্কার ও ক্রুরা নিরাপদ আছেন এবং কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত করছে।
ইরানের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এল, যার আগের দিন ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে তেহরানের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন অবরোধ পুরোদমে বহাল থাকবে। ট্রাম্প তখন জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া ইরানের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতি—যা বুধবার শেষ হওয়ার কথা, তা আর নাও বাড়ানো হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও এর সময় এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। শনিবার মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উভয় পক্ষের মাঝে একটি চুক্তি হতে পারে।
শনিবার সকালে প্রণালিটি সামান্য সময়ের জন্য খোলা থাকার সময় অন্তত আটটি তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কার এই পথ অতিক্রম করেছিল। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এদিকে, লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী রবিবার জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে লড়াই চলাকালীন তাদের একজন সেনা নিহত এবং আরও নয়জন আহত হয়েছেন।
১ দিন আগে
হরমুজ প্রণালির মাইন অপসারণে রণতরী পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
যুদ্ধবিরতি ও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ‘সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ’ আলোচনার প্রেক্ষাপটে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি মাইনমুক্ত করার কাজ শুরু করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মাইন অপসারণের প্রস্তুতি হিসেবে দুটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার (যুদ্ধজাহাজ) এই সংকটপূর্ণ জলপথ অতিক্রম করেছে, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম।
তবে তেহরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির যৌথ সামরিক কমান্ড তাদের জলসীমায় মার্কিন রণতরী প্রবেশের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা প্রণালি পরিষ্কার করছি। চুক্তি হোক বা না হোক, এতে আমার কিছু যায় আসে না।’
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার পরে জানান, ‘আজ আমরা একটি নতুন যাতায়াত পথ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছি এবং খুব শিগগিরই সামুদ্রিক বাণিজ্য শিল্পের জন্য এই নিরাপদ পথটি উন্মুক্ত করব।’
তিনি আরও বলেন, আগামী দিনগুলোতে আন্ডারওয়াটার ড্রোনসহ অতিরিক্ত মার্কিন বাহিনী এই অভিযানে যোগ দেবে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়াই যুদ্ধে ইরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত সুবিধা হিসেবে কাজ করেছে। বিশ্বের মোট বাণিজ্যিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে যুদ্ধবিরতির পর থেকে মাত্র ১২টি জাহাজ এই পথে চলাচল করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
এদিকে, পাকিস্তানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কলিবফের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা নিয়ে আলোচনা চললেও তা নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে দুপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে দুই সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টা ধরে এই আলোচনা চলে। তবে শেষ পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে কোনো ‘সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি’ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে প্রথম প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘দুই বা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে’ আলোচনা ভেস্তে গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে তিনি জানান, আলোচনায় হরমুজ প্রণালীসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়েছে, তবে পরমাণু অস্ত্রের বিষয়ে তিনি কিছু উল্লেখ করেননি।
যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রাথমিকভাবে যে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কী ঘটবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি ভ্যান্স। তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, ‘উভয় পক্ষের জন্যই যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা অপরিহার্য।’ তিনি আরও জানান,সামনের দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংলাপ আয়োজনে ইসলামাবাদ সহযোগিতা চালিয়ে যাবে।
৮ দিন আগে
শান্তি আলোচনার উদ্দেশ্যে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন জেডি ভ্যান্স
ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অস্থিতিশীল যুদ্ধবিরতি রক্ষা এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের পথ প্রশস্ত করতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পৌঁছেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই এ ধরনের প্রথম বৈঠক।
শনিবার (১১ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি আলোচনা বেশকিছু বাধার সম্মুখীন হয়েছে। কারণ, দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি বোমাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে এবং ইরান আলোচনার আগে কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে।
শনিবার ভোরে ইরানের প্রতিনিধিদলটি দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফের নেতৃত্বে ইসলামাবাদে পৌঁছায়। কালিবাফ এক্সে জানিয়েছেন, লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের আটকে থাকা সম্পদ ফেরত দিলেই কেবল আলোচনা সম্ভব।
কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভ্যান্সের সাফল্য কামনা করে বলেন, দেখা যাক কী হয়। ওরা (ইরান) সামরিকভাবে পরাজিত।
আজ (শনিবার) ইসলামাবাদের ব্যস্ত সড়কগুলো জনশূন্য ছিল। কারণ আলোচনার আগে পাকিস্তানের নিরাপত্তাবাহিনী রাস্তাগুলো বন্ধ করে দিয়েছে।
মার্কিন প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়েছে পাকিস্তান
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি মার্কিন প্রতিনিধিদল ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন।
ইসহাক দার আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় মার্কিন প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পক্ষগুলো গঠনমূলকভাবে আলোচনায় বসবে। সেই সঙ্গে সংঘাতের একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা সহজতর করার জন্য পাকিস্তানের আকাঙ্ক্ষা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৩
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ প্রদেশের মাইফাদুন শহরে একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের একটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে রকেট ছোড়ার দাবি করেছে।
ইসলামাবাদে জেডি ভ্যান্সের আগমন
জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার।
পাকিস্তানে রওনা হওয়ার আগে ইরানকে সতর্ক করে ভ্যান্স বলেছিলেন, তারা যেন আমেরিকার সঙ্গে খেলা না করে।
জবাবে কালিবাফ শর্ত দিয়েছেন যে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি না হলে আলোচনা হবে না।
অন্যদিকে, ইরানি প্রতিনিধিদলটির আজ দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
এর আগে, শুক্রবার রাতে তারা সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি ঘটানো।
অত্যাধুনিক মিডিয়া সেন্টার স্থাপন
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা প্রচার করতে আসা দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য জিন্নাহ কনভেনশন সেন্টারে উচ্চগতির ইন্টারনেটসহ একটি অত্যাধুনিক মিডিয়া সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান থেকে আসা সাংবাদিক ও কর্মকর্তাদের জন্য ‘ভিসা-অন-অ্যারাইভাল’ সুবিধাও ঘোষণা করেছে পাকিস্তান।
যুদ্ধ বন্ধের এই আলোচনার আগে ইসলামাবাদের রাস্তাঘাট পুরোপুরি জনশূন্য। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের বাড়ির ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়ায় শহরটিতে অনেকটা কারফিউর মতো পরিবেশ বিরাজ করছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, সংঘাতটি একটি কঠিন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। কারণ পক্ষগুলো লড়াইয়ের সাময়িক বিরতি থেকে একটি আরও স্থায়ী সমাধানের দিকে এগোচ্ছে। তিনি এই সময়টিকে ‘হয় জয়, না হয় পরাজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
৯ দিন আগে
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব, এখনও মেলেনি সাড়া
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি খসড়া প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (৫ এপ্রিল) মধ্যরাতে এই প্রস্তাবটি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মধ্যপ্রাচ্যের দুজন কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।
তারা জানান, মিসর, পাকিস্তান এবং তুরস্কের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের পক্ষ থেকে দেওয়া এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, সাময়িকভাবে লড়াই বন্ধ করা, যাতে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করা যায়। তবে কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত এর জবাব দেয়নি।
এদিকে, অঞ্চলজুড়ে এখনও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। তেহরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, রিভল্যুশনারি গার্ডের গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মজিদ খাদেমি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো এক হামলায় নিহত হয়েছেন। রবিবার থেকে ইরানজুড়ে বিমান হামলায় ২৫ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের হাইফা শহরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাত শুরু হয়। এ যুদ্ধ ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংঘাতের ফলে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। বেসামরিক এলাকায় হামলার কারণে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়েও গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাব গৃহীত হবে কি না, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। কারণ, উভয় পক্ষই তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং নিজেদের অনড় অবস্থানে অটল রয়েছে।
১৪ দিন আগে
ইরানের ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারের দাবি ট্রাম্পের
ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে নিখোঁজ এক সেনাসদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার হুঁশিয়ারি দিয়ে তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছেন ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় রবিবার (৫ এপ্রিল) সামাজিকযোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, উদ্ধারকৃত বৈমানিক আহত হলেও তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই উদ্ধার অভিযানে বেশ কিছু বিমান অংশ নিয়েছিল। উদ্ধারের আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ওই বৈমানিকের অবস্থানের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়েছে।
ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, এই সাহসী যোদ্ধা ইরানের দুর্গম পাহাড়ে শত্রুবেষ্টনীতে আটকা পড়েছিলেন। আমাদের শত্রুরা তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল। এমনকি তারা তার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।
গত শুক্রবার এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর মার্কিন বাহিনী এই রুদ্ধশ্বাস তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অন্যদিকে, ইরানও ঘোষণা দিয়েছিল যে, কোনো শত্রু পাইলটকে ধরিয়ে দিতে পারলে পুরস্কার দেওয়া হবে। এর আগে, ওই বিমানের দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ষষ্ঠ সপ্তাহে গড়িয়ে যাওয়া এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই ছিল ইরানি ভূখণ্ডে বিধ্বস্ত হওয়া প্রথম মার্কিন যুদ্ধবিমান।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ধ্বংস করে দিয়েছে এবং খুব দ্রুত এই যুদ্ধ শেষ করবে। কিন্তু এর দুই দিন পরেই তেহরান দুটি মার্কিন সামরিক বিমান ভূপাতিত করে। এটি প্রমাণ দেয় যে, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও ইরানের সামরিক বাহিনী এখনও পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে।
বিধ্বস্ত হওয়া অন্য বিমানটি ছিল মার্কিন এ-১০ অ্যাটাক এয়ারক্রাফট। তবে ওই বিমানের ক্রুদের অবস্থা বা সেটি ঠিক কোথায় বিধ্বস্ত হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
১৫ দিন আগে
যুদ্ধবিরতিতে ইরানকে ট্রাম্প প্রশাসনের ১৫ দফা প্রস্তাব
যুদ্ধবিরতিতে ইরানকে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে ডোনিাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইতোমধ্যে মোতায়েন প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনার সঙ্গে আরও অন্তত ১ হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে এ প্রস্তাবের রূপরেখা সম্পর্কে অবগত একজন ব্যক্তি এ তথ্য জানান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তি জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের কাছে প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাবও দিয়েছে পাকিস্তান।
ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে প্রস্তাবটি পৌঁছানোর খবর প্রথম প্রকাশ করে নিউইয়র্ক টাইমস।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে আরও দুটি নৌ ইউনিট মোতায়েনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে পেন্টাগন। এর ফলে প্রায় ৫ হাজার মেরিন ও হাজারো নৌসেনা ওই অঞ্চলে যুক্ত হবে। এসব পদক্ষেপকে ট্রাম্পের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নমনীয়তা নিশ্চিতের কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওই ব্যক্তি।
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে ট্রাম্পকে উৎসাহিত করা ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বিস্মিত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে, মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ শেষ করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। একই সময়ে ইরান কড়া ভাষায় নিজেদের অবস্থান জানায়।
একদিকে ওয়াশিংটন হামলা অব্যাহত রাখায় তেহরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য ইসরায়েল ও অঞ্চলটির বিভিন্ন স্থাপনা। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে তেহরান। আবার হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর জন্য দেওয়া নিজের নির্ধারিত সময়সীমাও পিছিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ব্যাহত করেছে, জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকি তৈরি করেছে।
আলোচনার পথে বড় চ্যালেঞ্জ
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনও জটিল।
ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কার হাতে আলোচনা করার ক্ষমতা রয়েছে বা কে আলোচনা করতে আগ্রহী হবেন—তাও স্পষ্ট নয়; বিশেষ করে ইসরায়েল যখন দেশটির নেতাদের হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের গভীর সন্দেহ রয়েছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনার মাঝপথেই যুক্তরাষ্ট্র দুইবার হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলাটি চলমান যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়।
মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা মোতায়েন
যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত তিনজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের অন্তত ১ হাজার সেনা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হবে।
এই ডিভিশনকে মার্কিন সেনাবাহিনীর ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স ফোর্স’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যারা খুব অল্প সময়ের নোটিশে মোতায়েন হতে পারে। গত সপ্তাহে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, নৌবাহিনীর কয়েকটি জাহাজে থাকা হাজারো নৌসেনাও ওই অঞ্চলে যাচ্ছে।
নৌ ইউনিটগুলো সাধারণত মার্কিন দূতাবাস রক্ষা, বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া এবং দুর্যোগকালীন সহায়তার জন্য প্রশিক্ষিত হলেও, ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সেনারা শত্রুভাবাপন্ন বা বিরোধপূর্ণ এলাকায় প্যারাস্যুটের মাধ্যমে নেমে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও বিমানঘাঁটি দখল করতে পারদর্শী।
এ অঞ্চলে নৌসেনা মোতায়েন নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ইরানের তেল নেটওয়ার্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ দখলের চেষ্টা করতে পারে। এর আগে, পারস্য উপসাগরের এই দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র বোমা হামলা চালালেও তেল স্থাপনা অক্ষত রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।
অন্যদিকে, তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র স্থলবাহিনী নামানোর চেষ্টা করলে উপসাগরে মাইন বিছিয়ে দেবে তারা।
নিউইয়র্কভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সুফান সেন্টার এক বিশ্লেষণে লিখেছে, আলোচনা চলাকালীন ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলার হুমকি স্থগিত রেখেছেন। তবে এটি নৌসেনাদের পৌঁছানোর জন্য সময়ক্ষেপণের একটি কৌশল হতে পারে। সংস্থাটি অবশ্য এও উল্লেখ করেছে যে, ট্রাম্প হয়তো সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার একটি পথ খুঁজছেন।
২৬ দিন আগে
ইরান চুক্তিতে আগ্রহী বলে দাবি ট্রাম্পের, কূটনৈতিক আলোচনার সময়সীমা বৃদ্ধি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ শেষ করতে একটি চুক্তির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ইরান। এছাড়া, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য তেহরানকে দেওয়া সময়সীমা আরও পাঁচ দিন বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ মার্চ) ট্রাম্প দাবি করেন, চুক্তির ব্যাপারে ইরানের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলছে ওয়াশিংটন। হরমুজ প্রণালি না খুললে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করা যুদ্ধ নিরসনের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তন। তেলের দাম কমাতে এবং শেয়ার বাজারে চাঞ্চল্য সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে এটি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হুমকির পর ট্রাম্পের এ বার্তা কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
ওই হুমকির ফলে ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পানীয় জল সরবরাহকারী লোনা পানি শোধনাগারগুলো অকেজো হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি চুক্তি করতে চায়। তিনি দাবি করেন, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার রবিবার ইরানের একজন নেতার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি সেই নেতার নাম প্রকাশ না করলেও জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।
তবে ইরান আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে ভুয়া খবর ব্যবহার করা হচ্ছে।
চুক্তি হলে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছাড়বে ইরান!
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, কোনো চুক্তি হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে, যা দেশটির বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তেহরান অতীতে এ ধরনের দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে এসেছে এবং শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তাদের অধিকার বলে দাবি করে আসছে।
প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও ফিউশন এনার্জি গবেষক অধ্যাপক রবার্ট গোল্ডস্টন জানান, ইরান ইতোমধ্যে ৯টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক মানের ইউরেনিয়াম উৎপাদনের ৯৯ শতাংশ সেন্ট্রিফিউজের কাজ সম্পন্ন করেছে। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ইরানের কাছে ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিল।
এদিকে, তুরস্ক ও মিসর জানিয়েছে যে তারা যুদ্ধরত পক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলেছে। এটি এই অঞ্চলের শক্তিশালী দেশগুলোর পক্ষ থেকে সমন্বিত মধ্যস্থতার প্রথম পদক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এ যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে কাঁপিয়ে দিয়েছে, তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত আকাশপথগুলোকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।
ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ না সরায়, তবে তিনি দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেবেন। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেলের পাঁচভাগের একভাগ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। ওয়াশিংটন সময় সোমবার রাতে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা।
ট্রাম্প বলেন, পাঁচ দিনের এই সময়সীমা বৃদ্ধি চলমান বৈঠক ও আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভরশীল।
পরবর্তীতে টেনেসি অঙ্গরাজ্যে এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, তার প্রশাসন তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা করছে।
ট্রাম্প বলেন, তারা শান্তি চায়। তারা একমত হয়েছে যে, ‘তাদের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না, ইত্যাদি ইত্যাদি... তবে দেখা যাক কী হয়।’ তিনি আরও জানান, এই সপ্তাহেই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর খুব ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। এর কৃতিত্ব তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র উড়িয়ে দেওয়ার হুমকির ওপর দিয়েছেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার বিষয়ে অবগত আছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিস্তারিত না জানিয়ে সোমবার তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য জানত যে এমন কিছু ঘটছে।
আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার সম্ভাবনা
এর আগে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, তিনি তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে অতীতেও তুরস্ক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে।
সোমবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তবে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। অবশ্য রবিবার তুর্কি কর্মকর্তারা জানান, যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ফিদান কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান, মিসর এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পাশাপাশি মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।
মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি জানিয়েছেন, তার দেশ উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে ইরানকে সুস্পষ্ট বার্তা পাঠিয়েছে। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা সব পক্ষের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মিসরীয় কর্মকর্তা জানান, জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা এড়ানোর লক্ষ্যে মিসর, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বার্তা আদান-প্রদান করেছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের একজন কূটনীতিকও নিশ্চিত করেছেন যে, মিসর ও তুরস্ক উত্তেজনা প্রশমনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, আপাতত মনে হচ্ছে, তারা জ্বালানি বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হয়েছে।
ট্রাম্প পিছু হটেছেন বলে দাবি ইরানের
ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনের পর ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স ও তাসনিম যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে পিছু হটেছেন বলে উল্লেখ করেছে।
তাসনিম নিউজ জানায়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কিছু মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তেহরানে বার্তা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ইরানের স্পষ্ট জবাব হলো, প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রতিরক্ষা চালিয়ে যাবে। এ ধরনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালিয়ে হরমুজ প্রণালিকে যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফেরানো যাবে না বা জ্বালানি বাজারেও শান্তি আসবে না বলে জানিয়েছে তেহরান।
ইরানের আধাসামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ড হুমকি দিয়েছে যে, ট্রাম্প হামলা চালালে তারা মার্কিন ঘাঁটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কেন্দ্র এবং আমেরিকানদের অংশীদারত্ব থাকা অর্থনৈতিক, শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালাবে।
এর আগে, কালিবাফ বলেছিলেন, ইরান এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন অবকাঠামোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে, যার মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর পানীয় জলের জন্য জরুরি লোনা পানি শোধনাগারও রয়েছে।
রেভল্যুশনারি গার্ডের ঘনিষ্ঠ ফারস নিউজ এজেন্সি এ ধরনের স্থাপনার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও রয়েছে। ইরান ইসরায়েলের ডিমোনা শহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, যা দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের কাছে অবস্থিত। তবে স্থাপনাটির কোনো ক্ষতি হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও যুদ্ধজাহাজ এবং নৌসেনা মোতায়েন করার প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতিরক্ষা কাউন্সিল যেকোনো স্থল অভিযানের বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেছে, এর ফলে সমস্ত প্রবেশপথে মাইন বিছিয়ে দেওয়া হবে।
ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তার নেই, তবে তিনি সম্ভাবনাটি পুরোপুরি উড়িয়েও দেননি। অপরদিকে, ইসরায়েল ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তাদের স্থল সেনা এ যুদ্ধে অংশ নিতে পারে।
তেহরান ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা
ইসরায়েল সোমবার তেহরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। তারা দাবি করেছে, অবকাঠামো লক্ষ্য করে এ হামলা চালাচ্ছে তারা।
শহরের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে ঠিক কোথায় আঘাত হানা হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।
ইসরায়েল লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গেও লড়াই করছে। হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে শত শত রকেট ছুড়েছে। সম্প্রতি ইসরায়েল বৈরুতের আবাসিক ভবন এবং দক্ষিণ লেবাননের লিটানি নদীর ওপরের সেতুগুলোতে বোমা হামলা চালিয়েছে।
লেবাননের সেনাপ্রধান জোসেফ আউন সেতুগুলোতে হামলাকে স্থল আক্রমণের পূর্বাভাস বলে অভিহিত করেছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির কথা বিবেচনা করলেও ইসরায়েল ইরান ও লেবাননে হামলা চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, সামনে আরও হামলা আসছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলে ইরানি হামলায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা এবং ১০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
২৭ দিন আগে
গভীর হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য সংকট, কমতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ
ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ যে তাদের হাতেই ছিল, তা নিয়ে খুব কম মানুষের মনেই সন্দেহ ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। দাবার চাল এখন চলে যাচ্ছে তেহরানের দিকে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৫ মার্চ) ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, যুদ্ধের সমাপ্তি এখন আমাদের হাতে। তার দাবি, পারস্য উপসাগর থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করা এবং হামলার ফলে হওয়া সমস্ত ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
দ্য গার্ডিয়ানের কলামিস্ট জেসন বার্ক এক প্রতিবেদনে বলেছেন, তিন সপ্তাহ আগেও তেহরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে এতটা আত্মবিশ্বাসী দেখা যায়নি। এ যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ইসরায়েলের একটি আকস্মিক হামলার মাধ্যমে, যাতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এরপর ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী যে বিনা বাধায় বিচরণ করতে পারে এবং গোয়েন্দা তথ্যের বিশাল ভাণ্ডার ব্যবহার করে হাজারো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে, তা প্রমাণ করতে তারা বেশি সময়ও নেয়নি।
ইরানও ইসরায়েলের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তবে এর বেশিরভাগই ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করা হয়েছে। ইরানের হামলায় ইসরায়েলে এখন পর্যন্ত ১২ জন নিহত হয়েছেন। গত বছর এ দুই দেশের মধ্যে হওয়া স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধের তুলনায় এবার নিহতের সংখ্যা এখনও অনেক কম।
তেহরানের হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলো তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তারা এখনও তাদের বাসিন্দা এবং অবকাঠামোগুলোকে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পেরেছে। যদিও তাদের কাছে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী মিসাইলের মজুদ শেষ হয়ে যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে শান্তি, বিলাসিতা ও সম্পদের মরূদ্যান হিসেবে তাদের যে পরিচিতি ছিল, তা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রতিদিনই ইরানে হামলার মাধ্যমে তাদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করছে। কিন্তু দিন যত গড়াচ্ছে ততই মনে হচ্ছে, যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধের স্থায়িত্ব নিয়ে একাধিক সময়সীমা দিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করার পরেই কেবল এই যুদ্ধ শেষ হবে।
অন্যদিকে, অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের পরিকল্পনার চেয়ে অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে আটকা পড়তে যাচ্ছে।
যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সামনে এসেছে মূলত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে। এ পথটি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে, যার ফলে তেলের দাম আকাশ ছুঁয়েছে, পেট্রোল পাম্পগুলোতেও দাম হু হু করে বাড়ছে। এ কারণে এই যুদ্ধ শেষ করার জন্য অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
জেরুজালেমের হিব্রু ইউনিভার্সিটির সামরিক ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড্যানি ওরবাখ অবশ্য দাবি করেছেন, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র এখনও যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করছে। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণ হাতে থাকার মানে হলো, আপনিই এজেন্ডা ঠিক করছেন। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী যন্ত্র ফুরিয়ে আসছে। তাই তেহরানের সামনে একমাত্র পথ ছিল হামলা বাড়িয়ে দেওয়া এবং আশা করা যে, কোনোভাবে এটি থেমে যাবে। এ কারণেই তারা উপসাগরীয় দেশগুলোতে আক্রমণ করেছে এবং তারপর হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে।
কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, তেহরানকে চাপে ফেলতে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের পথে থাকা মার্কিন নৌসেনাদের ইরানের প্রধান তেল রপ্তানিকেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের নির্দেশ দিতে পারেন। তবে তারা যদি তা করেও, সেখানে পৌঁছাতে তাদের অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগবে।
ট্রাম্প খার্গ দ্বীপের তেল স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার নির্দেশও দিতে পারেন, যা বহু বছরের জন্য ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে পারে। শনিবার ট্রাম্প বলেছেন, এখন পর্যন্ত সেখানে কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা করা হয়েছে এবং এটি ছিল একটি সৌজন্যমূলক সিদ্ধান্ত।
ওরবাখ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সত্যি সত্যিই সেখানে হামলা চালাবে কি না, এখন সেই সিদ্ধান্তের ওপর অনেকটা নির্ভর করছে ইরানের অর্থনীতির ভাগ্য। যদি কোনো অচলাবস্থা তৈরিও হয়, তবে সেই লড়াইটা সমানে সমান নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
৩৫ দিন আগে
হরমুজে ট্রাম্পের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘোষণার পর হামলা বাড়ানোর হুমকি তেহরানের
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘোষণার পর ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে তারা মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো মার্কিন স্থাপনাতে হামলার মাধ্যমে চলমান যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেবে। যুদ্ধের শুরু থেকেই তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি প্রায় সব ধরনের সামুদ্রিক চলাচলের জন্য বন্ধ করে রেখেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৪ মার্চ) তেহরান এ হামলার হুঁশিয়ারি দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও অন্যান্য অবকাঠামোতেও হামলা চালাচ্ছে ইরান। শনিবারও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান।
শিল্প ও বাণিজ্য সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম জ্বালানি জাহাজ সরবরাহ কেন্দ্র আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ আমিরাতে বেশ কিছু তেল বোঝাই কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। টেলিভিশনের ফুটেজে সেখান থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা গেছে।
ইরানের একজন সামরিক মুখপাত্র আরব আমিরাতের জনগণকে বন্দর, ডক এবং মার্কিন ঘাঁটি থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী ওই এলাকাগুলো থেকেই ইরানের দ্বীপগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ শনিবার রাতে বলেন, সন্ত্রাসী আগ্রাসনের মুখে নিজেদের রক্ষা করার অধিকার দেশটির রয়েছে। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, আরব আমিরাত এই চাপিয়ে দেওয়া আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার রাখে, তবে আমরা এখনও যুক্তি ও বুদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি এবং সংযম বজায় রেখে ইরান ও এই অঞ্চলের জন্য একটি সমাধানের পথ খুঁজছি।
গত শুক্রবার ইরানের প্রধান তেল রপ্তানিকেন্দ্র খার্গ দ্বীপে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। শনিবারও ইরানে দফায় দফায় হামলা অব্যাহত রেখেছে মার্কিন বাহিনী।
শনিবার রাতে এনবিসি নিউজকে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন হামলায় ওই দ্বীপের বেশিরভাগ অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, তবে আমরা ‘মজা করার জন্য’ আরও কয়েকবার সেখানে হামলা চালাতে পারি। তিনি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে প্রস্তুত নয় যুক্তরাষ্ট্র। কারণ শর্তগুলো এখনও যথেষ্ট ভালো নয়।
এদিকে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানও তেরানকে লক্ষ্য করে বেশ কিছু হামলা চালিয়েছে। আধা-সরকারি ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইসফাহানের একটি রেফ্রিজারেটর ও হিটার কারখানায় বিমান হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সক্ষমতা এবং শাসকগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
শনিবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, অনেক দেশ বিশেষ করে যারা ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রচেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে যাতে প্রণালিটি উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখা যায়।
অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়ার চেষ্টায় ট্রাম্প আরও বলেন, আশা করি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং অন্যরা যারা এই কৃত্রিম বাধার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তারা ওই এলাকায় যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এখনও কোনো সুসংগত কৌশল উপস্থাপন করতে পারেনি। সাধারণত বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
শুক্রবার ট্রাম্প বলেছিলেন, খার্গ দ্বীপে অভিযান চালিয়ে মার্কিন বাহিনী সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোকে নিশ্চিহ্ন করেছে। তিনি বলেন, ভদ্রতার খাতিরে আমি দ্বীপের তেল অবকাঠামো ধ্বংস না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে, ইরান বা অন্য কেউ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ যাতায়াতের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করার জন্য কিছু করে, তাহলে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে আমি দেরি করব না।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের নেতাদের ‘উন্মাদ পাপিষ্ঠ’ বলে অভিহিত করেছিলেন। মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইরানের নেতারা মরিয়া হয়ে আত্মগোপন করেছেন। তারা গর্তে ঢুকেছেন।
হেগসেথ আরও দাবি করেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত এবং সম্ভবত ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন। ইরান স্বীকার করেছে যে, যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েলি হামলায় ৫৬ বছর বয়সী খামেনি আঘাত পেয়েছেন। তবে তারা বলছেন, তার আঘাত তত গুরুতর নয়।
ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ হওয়া এখন এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। খার্গ দ্বীপ ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ১৫ মাইল দূরে অবস্থিত এবং এটিই দেশটির তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র। ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় তেলের দাম আকাশ ছুঁয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি এই অঞ্চলে আমেরিকার শেয়ার রয়েছে এমন তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শনিবার প্রতিবেশী দেশগুলোকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনীকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রজেক্ট ডিরেক্টর আলি ভায়েজ বলেন, ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে তেহরান বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করছে। তিনি বলেন, কিছু জ্যেষ্ঠ নেতাকে হারিয়েও, এই সরকার বেশ অক্ষত বলে মনে হচ্ছে।
অপরদিকে, বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের অবিলম্বে ইরাক ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে। রাতে দূতাবাস ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এই সতর্কতা জারি করা হয়।
ইরানে বোমা হামলায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ইসরায়েলে ১৩ জন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মোট ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
লেবাননেও মানবিক সংকট গভীর হচ্ছে। সেখানে ইসরায়েলি হামলায় ৮০০-র বেশি মানুষ নিহত এবং ৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বৈরুত থেকে ওয়াশিংটন সব পক্ষই এখন এক চরম অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে।
বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়া রোধ করতে শিগগরিই এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে চাইবেন ট্রাম্প।
বিশেষজ্ঞরা এই সপ্তাহের শুরুতে দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, খার্গের দিকে পরিচালিত সামরিক পদক্ষেপ তেলের দাম আরও নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করবে, যা ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইতোমধ্যেই বৃদ্ধি পেয়েছে।
চ্যাথাম হাউস থিঙ্কট্যাঙ্কের নীল কুইলিয়াম বলেন, খার্গে হামলার ফলে গত সোমবার আমরা যে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার দেখেছিলাম, তা ১৫০ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারের জন্য এটি অশনি সংকেত।
৩৬ দিন আগে
ইরানে যুদ্ধ সম্প্রসারণে ট্রাম্পকে সিনেটের সমর্থন
মার্কিন সিনেটে ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক অভিযান বন্ধের উদ্দেশ্যে আনা ‘যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাব’ রিপাবলিকানরা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (৪ মার্চ) আনা প্রস্তাবটি ৪৭-৫৩ ভোটে পরাজিত হয়। এর ফলাফল মূলত দলীয় মেরুকরণ অনুযায়ীই এসেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেনটাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল তার দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন।
এ আইনটির লক্ষ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো পরবর্তী মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জন্য কংগ্রেসের পূর্ব অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা। প্রস্তাবের সমর্থকরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধ ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব বজায় রাখা জরুরি; বিশেষ করে যখন কোনো স্পষ্ট যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা তীব্রতর হচ্ছে।
এই ভোটাভুটির ফলে আইনপ্রণেতারা এমন একটি সংঘাতের বিষয়ে প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান জানালেন, যা মার্কিন সেনা সদস্যদের ভাগ্য নির্ধারণ করছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে এবং যার সুদূরপ্রসারী বৈশ্বিক পরিণতি রয়েছে।
রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদেও একই ধরনের প্রস্তাব বৃহস্পতিবার সকালে ভোটের জন্য ওঠার কথা রয়েছে, তবে সেখানেও এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
সিনেটের এই সিদ্ধান্তটি যুদ্ধ বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক বিভাজনকেই প্রতিফলিত করে। সমালোচকরা যেখানে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করছেন, সেখানে সমর্থকরা প্রশাসনের পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বলে রক্ষা করছেন।
৪৬ দিন আগে