আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করতে দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ আহ্বান জানান।
জামায়াত আমির বলেন, পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশের আগ পর্যন্ত কেউ ভোটকেন্দ্র ছাড়বেন না।
তিনি আরও বলেন, মহান রাব্বুল ইজ্জত তাঁর একান্ত মেহেরবানীতে মজলুমদেরকে বিজয় দান করলে মিছিল নয়, স্লোগান নয়, উচ্ছ্বাসও নয়—আমরা সবাই সিজদায় পড়ব। মন ভরে আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় করব এবং জাতির সেবার জন্য মহান রবের একান্ত সাহায্য কামনা করব।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গতকাল থেকেই আপনারা সকল গুজবকে পরাজিত করেছেন এবং ভোটকেন্দ্র দখলের অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রকে প্রতিরোধ করেছেন। আজ সকাল থেকেই আপনারা উৎসবের মতো করে ভোট দিয়েছেন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে বিভোর হয়ে।
‘কিন্তু আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে লক্ষ করছি, দেশের বিভিন্ন জায়গায় জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় পোলিং এজেন্টদের ওপর হামলা করে জখম করা হচ্ছে। নারীদের হেনস্তা করা হচ্ছে। বেশ কিছু জায়গায় কেন্দ্র দখলের অপচেষ্টাও চালানো হচ্ছে।
‘আমরা দেশবাসীকে অনুরোধ করব, যেভাবে আপনারা এখন পর্যন্ত ভোট চুরি ও কেন্দ্র দখলের অপচেষ্টাকে প্রতিরোধ করেছেন, সেভাবেই ফলাফল আসার আগ পর্যন্ত আপনারা আপনাদের ভোটকে রক্ষা করুন। আপনার মূল্যবান ভোটটি যাতে কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে, সে জন্য আপনারা ভোটকেন্দ্রগুলোর পাহারাদার হয়ে যান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করুন।’
আজ (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকৃত গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জাতীয় সংস্কারের জন্য শক্তিশালী জনমত পাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সকাল সড়ে ৭টায় শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ৪২ হাজার ৬৫৯টি। এতে প্রায় ১০ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং আরও প্রায় ১০ লাখ কর্মকর্তা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করেন।
সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধানের কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাবের বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে মতামত জানাতে গণভোটেও অংশ নেন ভোটাররা।